বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মূল্যবৃদ্ধির চাপ জনজীবন ও অর্থনীতিতে


১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৩২

স্টাফ রিপোর্টার : দুষ্ট ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের তৈরি করা কৃত্রিম সংকট দেশ কখন বের হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয়ের চাপ জনজীবন ও অর্থনীতির জন্য ইতোমধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং ডিজেল, অকটেন, কেরোসিন ও পেট্রোলের মূল্য দফায় দফায় বৃদ্ধির ফলে সাধারণ ভোক্তা, কৃষক, পরিবহন খাত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যয় বেড়েছে। যার মূল চাপ সামলাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
জ্বালানি তেলের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি : ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এপ্রিলে ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। জুনে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম আরও পাঁচ টাকা করে বাড়ানো হয়। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর চার ধরনের জ্বালানির দাম আবারও লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়। বর্তমানে অক্টোবর মাসে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩০ সেপ্টেম্বর সরকার অক্টোবর মাসের জন্য এসব দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দেয়।
বিদ্যুতের দাম ও সরবরাহ সংকট
জ্বালানি তেলের পাশাপাশি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিও ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। ৩ জুন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করে। যদিও স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে পরে কিছু সংশোধন আনা হয়, সামগ্রিকভাবে বিদ্যুতের ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে পড়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ঘাটতি সংকটকে আরও জটিল করেছে। জানা গেছে, জ্বালানি সংকটে দেশের ৩৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ ছিল এবং লোডশেডিংয়ের পরিমাণ প্রায় ২,৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল। ফলে উৎপাদন, শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে।
জনজীবন ও অর্থনীতিতে প্রভাব
ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে কৃষিতে সেচ, পণ্য পরিবহন এবং গণপরিবহনের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদরেও পড়েছে। অকটেন ও পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধিতে ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারকারীদের ব্যয় বেড়েছে। কেরোসিনের দাম বৃদ্ধি নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শিল্পকারখানা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র করেছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রয়োজন জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সম্প্রসারণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণে অপচয় কমানো। পাশাপাশি নিম্নআয়ের পরিবার, কৃষক ও গণপরিবহন খাতের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বিবেচনা করা জরুরি। মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত সরবরাহ পরিস্থিতি প্রকাশও প্রয়োজন।
সার্বিকভাবে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ বাস্তব হলেও তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে সরকারের নীতি, ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প জ্বালানি উন্নয়নের ওপর। তাছাড়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের সংকট আরও গভীর হতে পারে।