সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২২:১৬
ট্রাম্পের সমালোচক ইলহান ওমরের বাড়িতে মার্কিন কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। এ ঘটনাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে ‘নজিরবিহীন পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছে ওমরের দপ্তর। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) ওয়াশিংটন ডিসির আশপাশে ওমরের বাড়িতে এ তল্লাশি চালানো হয়। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়বে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এই তল্লাশির ঘটনা ঘটল। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন দুজনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ভোরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তারা ওমরের বাড়িতে তল্লাশি চালান। অন্যদিকে ফক্স নিউজ অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, ওমরের বাবা মারা যাওয়ার আগে তিনি শিশু থাকাকালে অভিবাসন-সংক্রান্ত যেসব নথি জমা দিয়েছিলেন, সেগুলোয় জালিয়াতির অভিযোগের সঙ্গে এই তল্লাশির সম্পর্ক রয়েছে। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ইলহান ওমর শিশু শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে তিনি দেশটির নাগরিকত্ব পান। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের যে নির্বাচনী এলাকায় মিনিয়াপোলিস শহর রয়েছে, তিনি সেই এলাকার প্রতিনিধি। অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক আক্রমণের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য তিনি। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তল্লাশির নিন্দা জানান ওমর। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করতে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করছে। ওমর লেখেন, ‘আমি ঠিক আছি। ভুলে গেলে চলবে না, রাজনৈতিক শত্রুদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা এটি।’ তিনি আরো লেখেন, ‘গত ১০ বছর ধরে ট্রাম্প ভিত্তিহীন মিথ্যা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন। রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখানোর সেই প্রচারণায় এটি সর্বশেষ পদক্ষেপ।’ আল-জাজিরা।
ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ
ফিলিস্তিনের সমর্থনে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও আয়ারল্যান্ডের রাজধানী লন্ডন, বার্লিন ও ডাবলিনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন হাজারো মানুষ। গত ১০ অক্টোবর শনিবার আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে গাজায় ইসরাইলি হামলা বন্ধ, ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ এবং দেশটির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানানো হয়। লন্ডনে বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন অভিযোগে ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লন্ডনে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাছ দিয়ে মিছিল করেন। তাদের হাতে ছিল ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ ও ‘ফিলিস্তিন মুক্ত করো’ লেখা প্ল্যাকার্ড। ফিলিস্তিন সলিডারিটি ক্যাম্পেইনের পরিচালক অ্যাইমি শালান এএফপিকে বলেন, ‘গাজায় চলমান গণহত্যার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা আজ এখানে এসেছি।’ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনায় পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি ইসরাইলের ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান। লন্ডনের বিক্ষোভের আয়োজক প্যালেস্টাইন কোয়ালিশনের দাবি, মিছিলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ অংশ নেন। তবে এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এএফপির প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারীর নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করে কয়েক হাজার মানুষের কথা বলা হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২৩ বছর বয়সী সাম্প্রতিক স্নাতক হিবো হাসান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চললেও এর প্রভাব তাদের জীবনেও পড়ছে। তার ভাষায়, পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং এ নিয়ে সবার উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। কসোভো থেকে আসা ৩২ বছর বয়সী এক অভিবাসী, যিনি নিজের নাম কোবে বলে জানিয়েছেন, বলেন, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া ২০ জনের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে ব্রিটেনে নিষিদ্ধ সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিক্ষোভের শর্ত ভঙ্গ, পুলিশের ওপর হামলা, নাৎসি স্যালুট প্রদর্শন এবং ভিক্টোরিয়া এমব্যাংকমেন্টে অবস্থিত ব্যাটল অব ব্রিটেন স্মৃতিসৌধে উঠে ক্ষতিসাধনের অভিযোগেও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব অভিযোগের তদন্ত চলছে। জার্মানির রাজধানী বার্লিনেও ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেন কয়েক হাজার মানুষ। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ইউনাইটেড ফর প্যালেস্টাইন আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষ যোগ দেন। চ্যান্সেলর কার্যালয় ও পার্লামেন্টের মধ্যবর্তী একটি চত্বর থেকে মিছিল শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলে জার্মানির অস্ত্র রপ্তানি এবং দেশটিকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিবাদ জানান। আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনেও ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আইরিশ প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। তবে সেখানে কত মানুষ অংশ নিয়েছেন, সে বিষয়ে এএফপির প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট সংখ্যা দেওয়া হয়নি। দ্য টেলিগ্রাফ, এএফপি নিউজ।
যুদ্ধের ধাক্কায় সংকুচিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি : আইএমএফ
ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার অর্থনীতি শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসে এ তথ্য উঠে এসেছে। ছয় মাস আগেও সংস্থাটি এ অঞ্চলে ১ দশমিক ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। যুদ্ধের প্রভাবে এবার সেই পূর্বাভাস থেকে সরে এসে অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে তেল উৎপাদন, জাহাজ চলাচল ও রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘসময় ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে চাপ আরও বেড়েছে। চলতি বছর ইরাক, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনের অর্থনীতি দুই অঙ্কের হারে সংকুচিত হতে পারে। তবে তেল উৎপাদন ও বাণিজ্যপথ স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সালে দেশগুলোয় জোরালো অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে আশা করছে সংস্থাটি। আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ বছর ইরানের অর্থনীতি ৭ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। সৌদি আরবের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কমতে পারে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে এ বছর একমাত্র ওমানের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। দেশটির অর্থনীতি ২ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে চলতি বছরের অর্থনৈতিক মন্দার পর ২০২৭ সালে এ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা দেখছে সংস্থাটি। এক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়া জরুরি বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। আল-জাজিরা।
ভারতে আজান শুনতে পেয়েই মসজিদের মাইক বাজেয়াপ্ত, ইমাম গ্রেপ্তার
উত্তরপ্রদেশের বিজনৌর জেলায় আজানের আওয়াজ মসজিদের লাউডস্পিকার দিয়ে সম্প্রচারিত হতে শোনার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মাইক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একটি হিন্দি প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং এবং পুলিশ সুপার (এসপি) কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই গত ১০ অক্টোবর শনিবার ‘সমাধান দিবস’ নামের একটি গণঅভিযোগ নিষ্পত্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় মকবরা এলাকার একটি মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি শুনতে পান। এরপর পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশকে ঘটনাস্থলে তলব করেন। পুলিশ মসজিদটিতে লাগানো লাউড স্পিকারটি বাজেয়াপ্ত করে এবং মুহাম্মদ ফাইজানকে হেফাজতে নেয়। পুলিশের অভিযোগ, লাউডস্পিকারটির আওয়াজ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি ছিল। সাব-ইন্সপেক্টর সৌরভ কুমার একটি অভিযোগ দায়ের করেন এবং তার ভিত্তিতে মুহাম্মদ ফাইজানের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ফাইজানকে শান্তিভঙ্গের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তীতে তাকে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, মসজিদটিতে শব্দের ডেসিবেল মাত্রা কত ছিল বা কোনো কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তা মেপে দেখেছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। লাউডস্পিকার ব্যবহারের নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রে অবহেলার অভিযোগে এসপি বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। এসপি বিষ্ণোই জানান, ধর্মীয় স্থানগুলোয় নির্ধারিত মাত্রার বেশি জোরে লাউডস্পিকার বাজাতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন যে, ধর্মীয় নেতাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছে এবং নিজ নিজ এলাকায় শব্দবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করে বিট কনস্টেবলদের কাছ থেকে মুচলেকা বা হলফনামা নেওয়ার জন্য সব থানার ওসি-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এর পরও যদি কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) এবং বিট কনস্টেবল উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিয়াসত ডেইলি।
যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে পুনরায় চালু সিরিয়ার ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদ
সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদ সংস্কার শেষে পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল মসজিদটি। বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দেশটির মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-গারিব বলেন, উমাইয়া আমল থেকেই এই মসজিদটি আলেপ্পোর ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। আল-গারিব বলেন, দীর্ঘ দিনের কঠিন সময় ও ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হওয়ার পর আমরা আলেপ্পোকে তার সেই গ্র্যান্ড মসজিদ ফিরিয়ে দিচ্ছি। এই মসজিদ বিপ্লবীদের আশ্রয়স্থল এবং স্বাধীনতা ও মর্যাদার সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, মানুষ আলেপ্পো ও এর ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে রক্ষা করতে কাজ করেছে। তারা মসজিদটিকে আরও ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়েছে এবং এটিকে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তুলেছে। আল-গারিব জানান, সংস্কার কাজ পরিচালনার সময় মসজিদটির ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ও সুযোগ-সুবিধাগুলো অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে, যাতে এর কক্ষগুলোয় আবারও আজানের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হতে পারে। সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ওসামা আল-রিফাই বলেন, আলেপ্পোর ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে মুসলিমদের হৃদয়ে শহরটির একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। তিনি বলেন, মসজিদটি তার হারানো জৌলুস ফিরে পেয়েছে এবং ধর্মীয় ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আবু আল-খায়ের শুকরি আলেপ্পোর উমাইয়া মসজিদকে দামেস্কের উমাইয়া মসজিদের সমতুল্য হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই মসজিদটি জ্ঞানচর্চা ও সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসের ধারক। শুকরি বলেন, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের চেয়ে মানুষের পুনর্গঠন বা উন্নয়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষই হলো সভ্যতা, অগ্রগতি ও ভবিষ্যতের ভিত্তি। তিনি বলেন, সিরিয়ার জনগণ ধ্বংসপ্রাপ্ত সবকিছু পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আলেপ্পোর মুফতি ইব্রাহিম শাশো বলেন, মসজিদটি পুনরায় খুলে দেওয়ার অর্থ হলো এই ঐতিহাসিক মসজিদে প্রাণের সঞ্চার হওয়া। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর টিকে থাকার ও ঘুরে দাঁড়ানোর ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখবে। আলেপ্পোর উমাইয়া মসজিদটি শহরের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি শহরের জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংস্কার ও পুনর্বাসন কাজের পর এর পুনরায় খুলে দেওয়া আলেপ্পোর ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে মসজিদটির হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সানা।
স্কুলে হিজাব পরায় বাধা দেওয়ায় বিক্ষোভে উত্তাল আজারবাইজান
স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে মধ্য এশিয়ার দেশ আজারবাইজানে। নতুন পোশাকবিধির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে সরাসরি হিজাব নিষিদ্ধ করা না হলেও কয়েকটি স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ চলছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের মন্ত্রিসভা সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের পোশাকবিধিতে সংশোধনী অনুমোদন করে। সরকারের ভাষ্য, নতুন নিয়মের লক্ষ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক নিশ্চিত করা। তবে বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর রাজধানী বাকুসহ বিভিন্ন এলাকায় হিজাব পরা ছাত্রীদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক জাহরা হাসানোভা আল-জাজিরাকে বলেন, স্কুলে হিজাব পরে আসতে পারবেন না বলে তাকে জানানো হয়েছে। এতে তিনি কষ্ট পেয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, হিজাব পরা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। ভবিষ্যতে এটি খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলেও তা নিজের ইচ্ছাতেই নেওয়া উচিত।
দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম। আজারবাইজানের সংবিধানে রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্কে একদিকে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখার যুক্তি; অন্যদিকে হিজাব পরার স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকার— দুটি বিষয়ই সামনে এসেছে। এদিকে নতুন বিধিনিষেধের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেছেন কারাবন্দি সাংবাদিক পোলাদ আসলানোভ। ২০২০ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার স্ত্রী গুলমিরা আসলানোভা ফেসবুকে প্রকাশিত এক বার্তায় জানান, সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রতিবাদে আসলানোভ অনশনকে নিজের প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। দেশটিতে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিঘ্ন ঘটার খবরও ছড়িয়েছে। তবে ওপেন অবজারভেটরি অব নেটওয়ার্ক ইন্টারফেরেন্স এবং নেটব্লকসের তথ্য দিয়ে ব্যাপক ইন্টারনেট বন্ধের খবর নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত। আজারবাইজানের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী তুরস্কেও। গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলে আজারবাইজানের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ করেন প্রতিবাদকারীরা। তারা হিজাব পরা মুসলিম নারীদের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং বাকুর কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। কেউ কেউ এ পরিস্থিতির সঙ্গে তুরস্কের ১৯৯৭ সালের ‘উত্তরাধুনিক অভ্যুত্থান’-পরবর্তী সময়ে হিজাব পরা নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ ও সরকারি চাকরিতে কাজের ক্ষেত্রে আরোপিত বিধিনিষেধের তুলনা করেন। আল-জাজিরা।
সৌদিতে হামলার শঙ্কার মধ্যেও বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
আগের দিনের দরবৃদ্ধির পর বিশ্ববাজারে কিছুটা কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সৌদি আরবে হামলার কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা ঘিরে বাজারে তেলের দামে ওঠানামা চলছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে ১০৬ দশমিক ০৪ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯৩ দশমিক ২৭ ডলারে নেমে আসে। এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ২ ডলার বেড়েছিল। ওই দিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৬৫ ডলারে স্থির হয়, যা ১৫ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ সমাপনী দর। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে হামলার কারণে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দাম বাড়ার চাপ তৈরি করছে। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি করছে। এই দুই বিপরীতমুখী প্রভাবের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। আল-জাজিরা।
ইলন মাস্কের পোস্টেই আম্বানির সাম্রাজ্য টালমাটাল
ভারতের ইন্টারনেট বাজারে একপ্রকার অদৃশ্য লড়াই চলছে। একদিকে ইলন মাস্ক; অন্যদিকে মুকেশ আম্বানি। মাস্ক বলেছেন, ভারতে স্টারলিংকের দাম হবে সাশ্রয়ী। তার এমন মন্তব্যে ভারতে দীর্ঘদিন একচেটিয়া ব্যবসা করা আম্বানির রিলায়েন্স জিও বিপদে পড়তে যাচ্ছে। এছাড়া ঘোষণাটি এমন সময়ে এলো, যখন কয়েকদিনের মধ্যেই জিও’র মূল প্রতিষ্ঠান দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও ছাড়ছে। গত ১০ অক্টোবর শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক লেখেন, ভারতে স্টারলিংক বেশি দামি হলে কেউ কিনবে না। তাই স্পেসএক্সকে দাম সাশ্রয়ী রাখতেই হবে। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা সবসময় সাধারণ মানুষের উপকার করে। মানুষ বেছে নেওয়ার সুযোগ বেশি পায়। তার ভাষ্য, আম্বানির মুনাফা কমবে, কিন্তু ব্যবসা বন্ধ হবে না। মাস্ক অবশ্য ভারতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দাম জানাননি। দেশটিতে মোবাইল ডেটার দাম প্রতি গিগাবাইট প্রায় ৭ দশমিক ৭৪ রুপি, যা বিশ্বের সবচেয়ে কমগুলোর একটি। কম দামে ডেটা দেওয়ার কৌশলেই ভারতে জিও বড় হয়েছে। কেনিয়ার মতো বাজারে একই পথে হেঁটে মাস্কও স্থানীয় টেলিকম কোম্পানিগুলোকে চাপে ফেলেছেন। এখন স্পেসএক্স নিজেই মোবাইল অপারেটর হিসেবে নামছে। শুরুটা হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সাম্প্রতিক কয়েকটি পোস্টে মাস্ক সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ও আম্বানিকে অভিযুক্ত করেছেন। রয়টার্স।
কেপি সরকার বরখাস্তে রণক্ষেত্র পেশোয়ার
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশের নির্বাচিত সরকারকে কার্যত বরখাস্ত করে গভর্নর শাসন জারির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক বিদ্রোহের ডাক দিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তাহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই)। কেন্দ্রীয় সরকারের এ পদক্ষেপকে ‘সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত’ এবং ‘পরিকল্পিত বেসামরিক-সামরিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দলটির শীর্ষনেতৃত্ব। কোটি কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক রায়কে নস্যাৎ করে দিয়ে গঠিত এ আজ্ঞাবহ শাসনকে রাজপথে প্রতিরোধের মাধ্যমে প্রতিহত করার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিটিআই। দলটির পক্ষ থেকে এক কড়া বিবৃতিতে জানানো হয়, অনির্বাচিত ও গণবিচ্ছিন্ন কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে এবং ইমরান খানের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা নস্যাৎ করতেই এই ফ্যাসিবাদী পথ বেছে নিয়েছে। পিটিআই মহাসচিব ওমর আইয়ুব খান এবং কেন্দ্রীয় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খাইবার পাখতুনখোয়ায় জনগণের নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছিল পিটিআই। অথচ কোনো সাংবিধানিক নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদকে পাশ কাটিয়ে প্রদেশের শাসনভার অনির্বাচিত প্রতিনিধির ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, যা গণতন্ত্রের মুখে এক নির্লজ্জ চপেটাঘাত। পিটিআই নেতৃত্ব সাফ জানিয়েছে, এই অসাংবিধানিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তারা কেবল সুপ্রিম কোর্টেই আইনি লড়াই চালাবে না, বরং পেশোয়ার থেকে ইসলামাবাদ পর্যন্ত সর্বাত্মক গণআন্দোলন গড়ে তুলবে। দলের পক্ষ থেকে অবিলম্বে গভর্নর শাসন প্রত্যাহার এবং নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা পুনর্বহালের জোর দাবি জানানো হয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশে কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা গভর্নর শাসন কার্যকর হওয়ার পরপরই বিরোধীদল পাকিস্তান তাহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই)-এর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ও প্রভাবশালী নেতা সোহেল আফ্রিদি এবং পিটিআইয়ের প্রাদেশিক সভাপতি জুনায়েদ আকবরসহ অন্তত ৮ জন শীর্ষনেতাকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। প্রাদেশিক শাসনভার কেড়ে নেওয়ার পরপরই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও দলীয় শীর্ষনেতাদের এ ধরপাকড়কে ঘিরে পুরো খাইবার পাখতুনখোয়াজুড়ে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এদিকে নেতাদের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ার, মার্দান, সোয়াতসহ বিভিন্ন শহরের রাজপথে নেমে আসেন হাজার হাজার পিটিআই সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। দলটির পক্ষ থেকে এ অভিযানকে ‘গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক’ এবং ‘পরিকল্পিত বেসামরিক-সামরিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে দিয়ে চাপিয়ে দেয়া এ গভর্নর শাসন ও বেআইনি গ্রেফতারির বিরুদ্ধে তারা রাজপথে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং একই সাথে উচ্চ আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ জানাবে। ডন অনলাইন ও জং নিউজ।
ইসরাইলগামী ফ্লাইটে মুসলিম দেশের পাইলটদের নিষিদ্ধ করছে এয়ার ফ্রান্স
ইসরাইলের নির্দেশ মেনে দেশটিগামী ফ্লাইটে ৩১টি দেশের নাগরিক পাইলট ও কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখছে ফরাসি বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স। এ তালিকায় আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া, ইরান ও পাকিস্তানের নাগরিকরাও রয়েছেন। এমনকি এসব দেশের নাগরিকত্ব থাকা ফরাসি নাগরিকদেরও নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে। মিডলইস্ট আই ১১ অক্টোবর জানায়, অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ইসরাইলের নির্দেশের পর এয়ার ফ্রান্স সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জানিয়েছে, তারা আর ইসরাইলগামী ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবেন না। কর্মীদের দ্বিতীয় কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকলে তা জানাতেও নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। এ নির্দেশ না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞায় সরাসরি কোনো ধর্মের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মুসলিম পাইলট ও কেবিন ক্রুরাও এর ফলে ইসরাইলগামী ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ হারাচ্ছেন। এ সিদ্ধান্তের কারণে ফ্রান্সে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এয়ার ফ্রান্স। মিডিয়াপার্টের অনুসন্ধান নিয়ে বিমান সংস্থাটি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। ইসরাইলি সম্প্রচারমাধ্যম এন১২ জানিয়েছে, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এ নির্দেশ জারি করে। নির্দেশ অনুযায়ী, ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই— এমন কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকা পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা ইসরাইলের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবেন না। ওই দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলেও একই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটি ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের টার্মিনালে আছড়ে ফেলার চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে ফ্লাইদুবাইয়ের এক ওমানি সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীদের কাছে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি একাই এ কাজ করেছেন। তবে ইসরাইল ও আমিরাতের দেয়া তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। প্রকাশিত তথ্যের বাইরে ওই পাইলট সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায়নি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেয়ার আগে তিনি ওমান এয়ার ও রয়্যাল এয়ার মারোকসহ কয়েকটি বিমান সংস্থায় কাজ করেছেন। ইসরাইলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, দেশটির বিমান পরিবহন খাতে কর্মরত প্রায় ২ হাজার ৫০০ পাইলট ও কেবিন ক্রুর পরিচয় ও অতীত যাচাই করছে অন্তত একটি ইসরাইলি বিমান সংস্থা। মিডলইস্ট আই এয়ার ফ্রান্সের কাছে এ বিষয়ে বক্তব্য চাইলেও প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পায়নি। মিডল ইস্ট আই।
দিল্লিতে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ১২ সাংবাদিক আটক
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে অন্তত ১২ সাংবাদিককে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। গত ১১ অক্টোবর রোববার টানার দ্বিতীয় দিনের মতো চলা বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের সময় তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) ডাকা বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আটক সাংবাদিকদের মধ্যে হিন্দুস্তান টাইমসের সহযোগী সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান’-এর একজন প্রতিবেদকও রয়েছেন। হিন্দুস্তানের ২৭ বছর বয়সী প্রতিবেদক আশিস সিং জানান, বেলা আড়াইটার দিকে আরকে আশ্রম মার্গ এলাকায় বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করার সময় পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় তাকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং তিনি আহত হন বলে অভিযোগ করেন তিনি। গলায় সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি বলে দাবি তার। আশিস বলেন, তিনি ক্যামেরায় আটকের ঘটনাগুলো ধারণ করছিলেন। তখন পুলিশ তাকে ধাক্কা দিতে শুরু করে এবং ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বারবার নিজেকে হিন্দুস্তানের প্রতিবেদক হিসেবে পরিচয় দেওয়া ও পরিচয়পত্র দেখানোর পরও পুলিশ তার কথা শোনেনি বলে জানান আশিস। পরে এক আলোকচিত্রীর সঙ্গে তাকে জোর করে একটি বাসে তোলা হয়। আশিসের দাবি, তিনি বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে দূরে ছিলেন এবং পুলিশের কাজে কোনো বাধাও সৃষ্টি করছিলেন না। প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাসে থাকার পর সেটি মন্দির মার্গ এলাকায় পৌঁছালে তিনি ও অন্য সাংবাদিক বাস থেকে নেমে যান। পুলিশ তাদের ফোন কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলতে পারে, এমন আশঙ্কাও করেছিলেন বলে জানান তিনি। একটি জাতীয় সংবাদ সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আলোকচিত্রীও আটকের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের আটকের ছবি তোলার সময় পুলিশ তাকে ধাক্কা দিয়ে বাসে তোলে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলার আশঙ্কায় নিজের মেমোরি কার্ড লুকিয়ে রাখেন বলেও জানান ওই আলোকচিত্রী। আটক সাংবাদিকদের মধ্যে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস হিন্দি’র তিন প্রতিবেদক, ‘দ্য হিন্দু’র একজন প্রতিবেদক এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন ক্যামেরাপারসন রয়েছেন। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, তাদের তিন সাংবাদিক শাশ্বত, সিয়া ও বিজয়কে কনট প্লেস এলাকা থেকে আটক করে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আটকস্থল থেকে স্টেডিয়ামটির দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। এদিকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ‘দ্য হিন্দু’র এক নারী প্রতিবেদককেও সাময়িকভাবে আটক করা হয়। তাকে ধাক্কা দিয়ে একটি বাসে তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের আটকের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা। হিন্দুস্তান টাইমস।
সুদানে আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত ৪১ জন নিহত
সুদানের ইথিওপিয়া সীমান্তবর্তী ব্লু নাইল অঞ্চলে আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার আবু শান্দি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি শিবিরে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি ল’ইয়ার্সের দাবি, হামলাটি চালিয়েছে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তর (ওচা) জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নিহত ও আহত ব্যক্তিদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এক বিবৃতিতে ওচা বলেছে, হামলার খবর শুনে তারা মর্মাহত। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই অঞ্চলে ধারাবাহিক হামলা চলছে। এসব ঘটনায় হাজারো বেসামরিক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। আরও অনেকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে ২০২৩ সাল থেকে ক্ষমতার লড়াই চলছে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং এক কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সুদানের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সেনাবাহিনীর হাতে। অন্যদিকে আরএসএফের প্রধান ঘাঁটি পশ্চিমাঞ্চলের দারফুরে। দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকাও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। চলমান সংঘাতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিবিসি।
‘সংবিধান হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ’: রাহুল গান্ধী
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গত ১২ অক্টোবর সোমবার সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে বিরোধীদের প্রতিবাদ পদযাত্রায় অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংবিধান ও গণতন্ত্রের ‘হত্যাকারীদের’ বিরুদ্ধে প্রত্যেকেই রুখে দাঁড়াবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী এই কর্মসূচিতে সমর্থন জানানো ‘লাখ লাখ’ মানুষ, বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতারা এবং কংগ্রেস ও তাদের সহযোগী দলগুলোর কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ সরকারকে আমাদের দেখানো প্রয়োজন ছিল যে ভারতের মানুষকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। আপনারা আমাদের পরাজিত করতে পারবেন না, হুমকি দিতে পারবেন না, ভয় দেখাতে পারবেন না। আমাদের ওপর জোর খাটানো আমরা মেনে নেব না।’ কেন্দ্রীয় সরকারকে লক্ষ করে তিনি এসব কথা বলেন। সপ্তাহান্তে প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা চালানোর জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে গুণ্ডা পাঠানোর অভিযোগও তোলেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘পরশু যারা তরুণদের মারধর করছিল, সেই আরএসএসের কাপুরুষরা কোথায় ছিল, তা আমি ভাবছিলাম। তারা কোথায় ছিল? কারণ আমি তাদের কাউকে দেখিনি।’ রাহুল আরো বলেন, ‘আপনারা আপনাদের ছোট ছোট গেরুয়া স্কার্ফ পরে বাইরে বেরিয়ে এসে দেখুন, কী হয়। কারণ আপনারা মূলত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মতোই দাদাগিরি করেন। আপনারা সামনে দাঁড়িয়ে মোকাবিলা করতে পারেন না। লড়াই করার জন্য শুধু ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারেন।’ রাহুল গান্ধী জোর দিয়ে বলেন, এখানে আলাদা আলাদা কোনো প্রতিবাদ হচ্ছে না; বরং সবাই একসঙ্গে একটি আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধানের এই হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে, আমাদের গণতন্ত্রের এই হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রত্যেকেই রুখে দাঁড়াবেন। আর আমরা পিছিয়ে যাব না।’ এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, ‘নাগরিক সমাজের যেসব সংগঠন এখানে এসেছে এবং আমাদের সমর্থন জানিয়েছে, তাদের সবাইকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আপনাদের সমর্থনকে আমরা মূল্য দিই, আপনাদের সবাইকে আমরা ভালোবাসি। ভারতের ধারণা, সংবিধানের আদর্শ এবং আমাদের গণতন্ত্র রক্ষায় রাজপথে নেমে আসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’ রাহুল আরো বলেন, ‘রাজপথে নেমে আসা প্রত্যেক মানুষের জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত। সবাইকে ধন্যবাদ।’ এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ পদযাত্রায় অংশ নিতে সবার প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস জন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের মর্যাদা থেকে বাদ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে জানান, তারা এই ‘খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত’ মেনে নেবেন না। দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।
জাপান সাগরে উত্তর কোরিয়ার জোড়া ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
কোরীয় উপদ্বীপে মার্কিন আধিপত্য ও যৌথ সামরিক মহড়ার তীব্র বিরোধিতার মাঝে আবারও শক্তি প্রদর্শন করেছে উত্তর কোরিয়া। পূর্ব উপকূল থেকে জাপান সাগরের দিকে অন্তত দুটি স্বল্পপাল্লার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে পিয়ংইয়ং। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও কোস্টগার্ডের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো এ চাঞ্চল্যকর সামরিক পরীক্ষার খবর নিশ্চিত করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের এই আকস্মিক পদক্ষেপে পুরো এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে চরম নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জাপানি প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে জানা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ ঘাঁটি থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং তা সর্বোচ্চ উচ্চতা অতিক্রম করে জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) বাইরে সমুদ্রে গিয়ে পতিত হয়। ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরপরই টোকিওতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয় এবং সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক বিমানগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে এই পরীক্ষার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের প্রকাশ্য লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, তারা সিউলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে পিয়ংইয়ংয়ের যেকোনো পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর কড়া নজরদারি বজায় রেখেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পিয়ংইয়ংয়ের ওপর আরোপিত দীর্ঘদিনের কঠোর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা ক্রমাগত বৃদ্ধি করে চলেছে। মূলত ওয়াশিংটন, সিউল ও টোকিওর সমন্বিত সামরিক জোটকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিতেই উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে এমন নিখুঁত ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাস।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান