সারা দেশে ৪০ লক্ষাধিক ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশা


২৫ আগস্ট ২০২৬ ২২:২১

বেপরোয়া চলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা, সড়ক-মহাসড়কে তীব্র যানজট

লাইসেন্সের আওতায় আনার দাবি
যানজটে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার কর্মঘণ্টা

॥ সাইদুর রহমান রুমী ॥
তীব্র যানজটে রাজধানীজুড়ে যাত্রীদের নাভিশ্বাস বর্তমানে চরমে পৌঁছেছে। কী ব্যস্ততম সড়ক কিংবা এলাকার অলিগলি সব জায়গায়ই ট্রাফিক অব্যবস্থাপনায় যানজটে এক লেজেগোবরে অবস্থা। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী কিংবা সাধারণ নাগরিক সবার কর্মঘণ্টা সড়কেই যেন নিঃশেষ হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশার অসহনীয় দাপটে বর্তমানে শহর কিংবা গ্রাম সব সড়কেই তৈরি হচ্ছে যানজটসহ বিশৃঙ্খল অবস্থা। অটোরিকশার দুর্দমনীয় চালনায় নিরাপদ সড়ক এখন ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুশীল সমাজসহ সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে দাবি উঠছে এদের দ্রুত কঠোর নিয়ন্ত্রণের।
রাজধানী ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মারাত্মক যানজট এবং সড়ক বিশৃঙ্খলার অন্যতম প্রধান নেপথ্য কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। অলিগলি পেরিয়ে এসব দ্রুতগতির থ্রি-হুইলার এখন প্রধান সড়ক বা ভিআইপি মহাসড়কগুলোও দখল করে নিয়েছে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে পুরোপুরি ভেঙে ফেলছে।
ফলে সকালে কর্মক্ষেত্রের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হওয়া মানুষ, শিক্ষার্থীরা শিক্ষা অর্জনের জন্য কিংবা রাজধানীর কর্মজীবীরা তাদের গন্তব্যে বের হয়েই ভয়াবহ যানজটের কবলে পড়ছেন। সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যেন এক মহাযুদ্ধের সমান। ক্ষেত্রবিশেষে ১৫-২০ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টাও লেগে যাচ্ছে। এভাবে রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা গরমে ঘর্মাক্ত-ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে বহু মানুষ হার্ট অ্যাটাক-স্ট্রোকসহ নানাবিধ হাইপারটেনশন সংশ্লিষ্ট রোগে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
সারা দেশে ৪০ লক্ষাধিক ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশা
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঠিক ও সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে বিভিন্ন সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৪০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এর মাঝে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই ৫ থেকে ৬ লাখের বেশি অটোরিকশা রয়েছে এবং প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে।
এতে রাজধানী দিন দিন মানুষের চলাচলের জন্য অকার্যকর হয়ে উঠছে। রাজধানীর এমন কোনো সড়ক নেই, যেখানে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে না। এমনকি বাস, ট্রাক ও প্রাইভেট কারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এসব অটোরিকশা চলছে। পুলিশ বলছে, অটোরিকশার কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। অলিগলি, প্রধান সড়ক, ভিআইপি সড়কসহ যেকোনো সড়কই হোক না কেন, ব্যাটাারিচালিত রিকশা যেন থামানোই যাচ্ছে না। তারা যেন সব নিয়মনীতির ঊর্ধ্বে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অটোরিকশার দাপট
রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট কমানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। একসময় এসব অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের সাথে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ জড়িত ছিল। বর্তমানে তা বিএনপি নেতা-কর্মীদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে চলছে বলে জানা গেছে। নিষিদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রভাব ও বিপুল আর্থিক লেনদেনের জোরে এসব অবৈধ যান দলীয় ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাজপথ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক নেতাদের নামে গ্যারেজ ও লাইন বাণিজ্য পরিচালিত হয়। প্রতিটি অটোরিকশা ও সমস্ত অবৈধ গ্যারেজের বিদ্যুতের লাইন থেকে দিন বা সপ্তাহ হিসাবে নিয়মতান্ত্রিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নেতাদের ছত্রছায়ার কারণে পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না। এছাড়া রাজধানীতে চলাচলকারী বহু অবৈধ অটোরিকশার মালিক দুর্নীতিবাজ পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতা হবার কারণে তারা দোর্দণ্ড প্রতাপে রাস্তা দখল করে ভোগান্তি তৈরি করছে।
যানজটে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার কর্মঘণ্টা
অপ্রশিক্ষিত চালক, ত্রুটিপূর্ণ ব্রেকিং সিস্টেম এবং বেপরোয়া চালনায় এসব অটোরিকশায় দুর্ঘটনা বহুগুণ বেড়ে গেছে। তৈরি হচ্ছে অসহনীয় যানজট। মূলত প্রধান সড়কগুলোয় অটোরিকশার অবাধ চলাচলের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।
ঢাকার যানজটে প্রতি বছর ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যার অর্থনৈতিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। বুয়েটের তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর গাড়ির গড় গতি এখন ঘণ্টায় মাত্র ৪-৫ কিলোমিটার। ঢাকার যানজট এখন শুধু একটি শহুরে সমস্যা নয়, এটি পরিণত হয়েছে জাতীয় অর্থনীতির বিরাট ক্ষতির কারণ। রাজধানীর রাস্তায় প্রতিদিন শত শত ঘণ্টা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে যানজটে। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, ২০০৭ সালে ঢাকার রাস্তায় গাড়ির গড় গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২১ কিলোমিটার। কিন্তু বর্তমানে তা নেমে এসেছে ঘণ্টায় মাত্র ৪ থেকে ৫ কিলোমিটারে, যা মানুষের স্বাভাবিক হাঁটার গতির চেয়েও কম।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, শুধু বিভিন্ন সংস্থার কাজের সময়সূচি মেলালেই এই সমস্যার সমাধান হবে না, অর্থায়নও একই পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সড়ক খনন নীতিমালা রয়েছে। এতে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সেবা সংস্থাগুলোর কাজের সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু শুধু কাজের সমন্বয় করলেই হবে না, অর্থেরও সমন্বয় করতে হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালে ঢাকার সড়কে প্রতিদিন ৮০ লাখের বেশি কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে, যা ২০১৭ সালে ছিল দিনে ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা। বিশ্বের সবচেয়ে যানজটপূর্ণ শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। এই যানজট সৃষ্টি হওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মাঝে নগরীতে রিকশার সংখ্যা বেশি হওয়া একটি প্রধান কারণ। এই রিকশার কারণে সড়কে অন্য দ্রুতগতির যানবাহনগুলো ধীর হয়ে পড়ে, পাশাপাশি এই রিকশাচালকদের নেই কোনো লাইসেন্স অথবা সড়কের আইন সম্পর্কে কোনো ধারণা ফলে তাদের অদক্ষতার কারণে সড়কে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে যুক্ত হয়েছে অবৈধ শত শত অটোরিকশা এগুলোও ব্যাঙের ছাতার মতো প্রতিদিনই বাড়ছে এবং এলাকাকেন্দ্রিক যানজট তৈরি করছে। একটি আধুনিক নগরীতে মোট আয়তনের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ রাস্তা বা সড়ক থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ঢাকায় আছে মাত্র সাত থেকে আট ভাগ। এক গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকায় ১৫ ভাগ যাত্রী দখল করে আছেন মোট সড়কের ৭০ ভাগ। বর্তমানে ঢাকায় কমবেশি ১৫ ভাগ যাত্রী প্রাইভেট গাড়িতে যাতায়াত করেন। এই প্রাইভেট কারের দখলে থাকে ৭০ ভাগেরও বেশি রাস্তা। বাকি ৮৫ ভাগ যাত্রী অন্য কোনো ধরনের গণপরিবহন ব্যবহার করেন। অর্থাৎ তারা গণপরিবহন সড়কের মাত্র ৩০ ভাগ এলাকা ব্যবহারের সুযোগ পায়। পাশাপাশি অবৈধ পার্কিং এবং নানা ধরনের দখলদারদের হাতে রাজধানীর বেশিরভাগ সড়ক। এছাড়া ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় প্রধান সড়কেই পায়ে হেঁটে চলেন নগরবাসী। ফলে যানজটের সঙ্গে তৈরি হয় জনজট। রাজধানীর গণপরিবহনের ৮০ শতাংশই যন্ত্রচালিত এবং দ্রুত গতিসম্পন্ন। অথচ বিগত ১০ বছরে ঢাকার যান চলাচলের গতিবেগ ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার থেকে ৭ কিলোমিটারে নেমে এসেছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে ঘণ্টায় ৩-৪ কিলোমিটারে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী নানা প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুতগতিসম্পন্ন কম সময়ক্ষেপণের নানা যান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা তৈরি হচ্ছে, সেখানে দেশে কর্মঘণ্টা অপচয়ের মাধ্যমে মানুষের সময় এবং অর্থ দুটিই নষ্ট হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে
নগরীর বেসরকারি চাকরিজীবী ফারজানা রহমান বলেন, প্রতিদিন সকালে অফিস পৌঁছাতে তীব্র যানজট ভোগান্তি পার হয়ে আসতে হয়। আর অফিস শেষে যাবার পথেও তীব্র ভোগান্তি। তিনি বলেন, অটোরিকশাগুলো কখনো যাত্রীদের একটু দ্রুত পৌঁছে দিলেও তারা ভীতিকরভাবে জোরে চালায়। আর তাতে সর্বক্ষণেই রিকশায় টেনশনে বসে থাকতে হয়। মালিবাগ এলাকার আব্দুল ওয়াহাব জানান, বর্তমানে অটোরিকশাগুলো নগরীর বিষফোড়া হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। তাদের যন্ত্রণায় রাস্তায় হাঁটতে, চলতে-ফিরতে সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়। এগুলোর নিয়ন্ত্রণহীন চালনায় নগরীতে যানজট লেগেই থাকে। পল্টন থেকে কাজ শেষে মহাখালীর বাসায় ফেরা হামিদ খান বলেন, নগরীতে সারা দিনই প্রতিটি পয়েন্টে যেন যানজট লেগেই আছে। কীভাবে বাইরে আমরা কাজকর্ম করব। নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় যানজটের কবলে পড়া ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল থেকেই মগবাজার, মালিবাগ, কাকরাইল, শান্তিনগর, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও ধানমন্ডিসহ আশপাশের প্রতিটি সড়কে থাকে তীব্র যানজট। বাড্ডা, মহাখালী, গুলশান, তেজগাঁও লিংক রোডসহ আশপাশের সড়কেও যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। সরেজমিন বেশকিছু সড়কে দেখা গেছে, মতিঝিল, গুলিস্তানসহ অনেক এলাকার বেশিরভাগ রাস্তার বড় একটি অংশ সরকারি-বেসরকারি অফিসের স্টাফ বাস দিয়ে বন্ধ। কমলাপুর, মুগদা, বিশ্বরোড এলাকায় লম্বা অংশজুড়ে বড় বড় পিকআপ, ট্রেইলার খালি ট্রাকের পার্কিং অংশের দখলে। আবার কারওয়ান বাজার সোনারগাঁও মোড় থেকে এফডিসি পর্যন্ত সড়কের বেশিরভাগ অংশও ছিল স্টাফ বাসের দখলে। এ সড়কটিতেও রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়। গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন বায়তুল মোকাররম এলাকার পুরো ফুটপাত হকারদের দখলে।
লাইসেন্সসহ নীতিমালায় আনার দাবি
বিশ্লেষকরা মনে করেন, যেহেতু এ খাতে বিপুল জনশক্তি ইতোমধ্যে জড়িত হয়ে গেছে। তাই হঠাৎ করে অটোরিকশা বন্ধ না করে তাদের লাইসেন্স করতে হবে। আর শুধু শুল্ক বা করারোপ করে এর চলাচল পুরোপুরি থামানো যাবে না, এর জন্য প্রয়োজন সঠিক লাইসেন্সিং, চালকের প্রশিক্ষণ, সুনির্দিষ্ট রুট এবং কঠোর নীতিমালা। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সিটি ও নগরে প্রশাসক বসানো হলেও কেন তারা এসব নিয়ন্ত্রন করছে তা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানী থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করতে হলে সবার আগে গ্যারেজগুলো থেকে বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। গ্যারেজ ও কারখানাগুলোয় অভিযান চালাতে হবে। বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে গ্যারেজ ও ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিকদের নামে মামলা নিতে হবে। রিকশা হারিয়ে গেলে থানাগুলো যেন জিডি না নেয় তার নির্দেশনা দিতে হবে। সেইসঙ্গে সড়কগুলোয় অভিযান চালাতে হবে। পর্যায়ক্রমে প্রধান সড়ক এবং অপেক্ষাকৃত বড় সড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করতে হবে। এছাড়া জড়িত পুলিশ সদস্যসহ অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালুর প্রভাবে ঢাকার কয়েকটি সড়কে যানজট কিছুটা কমেছে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (উড়ালসড়ক) ফলে বিমানবন্দরে যাতায়াত সহজ হয়েছে। তবে ঢাকার সামগ্রিক যানজট কমেনি। তিনি বলেন, মেট্রোরেলের সফলতা নির্ভর করবে বহু মাধ্যমভিত্তিক সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর। ব্যক্তিগত গাড়িকে প্রাধান্য না দিয়ে বাস, রেল ও গণপরিবহনকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। পথচারীকে প্রাধান্য দিয়ে হাঁটার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। সাধারণত মেট্রোরেলের প্রধান ব্যবহারকারী হন মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকেরা। এই শ্রেণির লোকদের মেট্রো স্টেশনের আশপাশে বসবাস নিশ্চিত করার জন্য সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। কিন্তু আজও বাংলাদেশে গণপরিবহনের উন্নতিতে সরকারের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।