বুধবার ১২ রবিউল আউয়াল

মহানবী সা.-এর জন্ম ও ওফাত দিবস


২৫ আগস্ট ২০২৬ ২২:৩৪

॥ আবু হামীম ॥
২৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরী বুধবার এ বছর বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত আমাদের প্রিয়নবী ও রাসূল সা.-এর আবির্ভাব ও ওফাত দিবস। এ দিনটি সরকারিভাবে বাংলাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা. হিসেবে পালিত হয়। যদিও ইসলামিক স্কলারদের অধিকাংশের দাবি, ঈদ শব্দ এ দিবসের সাথে যুক্ত করা ঠিক নয়। মিলাদুন্নবী অর্থ নবীর জন্মদিন কিন্তু ইতিহাস বলছে, তিনি এই দিনে ইন্তেকালও করেছেন, তাই মিলাদুন্নবী শব্দটিও বেমানন।
তাই ১২ রবিউল আউয়াল সিরাতুন্নবী সা. বা নবী করিম সা.-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং সেই শিক্ষার আলোকে সারা জীবন চলার শপথের দিন বলে তারা মনে করেন।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উদযাপিত হবে এবং এ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। পত্রপত্রিকা বিশেষ সংখ্যা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। টেলিভিশন ও বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া দিনটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত প্রধান কর্মসূচিগুলো তুলে ধরা হলোÑ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা. ১৪৪৮ হিজরী উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী ‘সিরাতুন্নবী সা. অনুষ্ঠানমালা’ শুরু হয়েছে গত ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা গেছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। পক্ষকালব্যাপী এ আয়োজনের মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর পবিত্র জীবন, কর্ম, আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ, শান্তি, সাম্য, ন্যায় ও সম্প্রীতির শিক্ষা সাধারণ মানুষের মধ্যে তুলে ধরা হবে।
অনুষ্ঠানমালায় ওয়াজ মাহফিল, কিরাত মাহফিল, হামদ-না’ত মাহফিল, সেমিনার, কবিতা পাঠের মাহফিল, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সিরাত স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং ইসলামী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীর আয়োজন থাকছে। পাশাপাশি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলাও অনুষ্ঠিত হবে।
২৫ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বাদ মাগরিব থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখরা ওয়াজ করবেন। এসব আয়োজনে মহানবী সা.-এর আদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে নৈতিকতা, মানবিকতা, সহনশীলতা ও শান্তির চেতনা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ বেতারের যৌথ উদ্যোগে সেমিনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতারও আয়োজন থাকবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে অংশগ্রহণ ও অনুষ্ঠানমালা উপভোগের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির বাণীতে রাসূলুল্লাহ সা.-এর পবিত্র আদর্শ, ইনসাফ, সাম্য ও মানবতার শিক্ষা অনুসরণ করে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে বলেন, পৃথিবীতে সৃষ্টির সেরা মানব বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর আগমন দিবস মর্যাদাবান, গুরুত্ববহ এবং আনন্দের। আল্লাহর প্রতি ঈমান ও মানবতার পথপ্রদর্শনকারী মহানবীর ধরাপৃষ্ঠে আবির্ভাবের দিন আজ। হযরত মুহাম্মদ সা. সারা বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের জন্য আল্লাহর সবচেয়ে বড় উপহার বা এহসান হলেন তিনি। আল্লাহ তায়ালা তাকে দিয়েছেন মহিমান্বিত মর্যাদা। পৃথিবীতে মানুষ ইহজগৎ ও পরজগতের মুক্তির সন্ধান পায় এই দিনে।
তারেক রহমান আরও বলেন, মানুষ ন্যায় ও সৎপথে চলার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত লাভ করে রাসূলের সা. দেখানো পথে। অন্ধকারের যুগ তথা আইয়্যামে জাহেলিয়াতের আমলে আইন, বিচার ও প্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যভিচার-অনাচারের অরাজকতা বিরাজমান ছিল। এই সময় যার আগমন হয়েছিল তিনি হলেন রাহমাতুল্লিল আলামিন। তিনি আইয়্যামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগ দূরীভূত করে ইসলাম কায়েমের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতি বছর ১২ রবিউল আউয়াল ‘সিরাতুন্নবী সা.’ উপলক্ষে বিশেষভাবে পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
আমীরে জামায়াত ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বাণীতে বলেন, রাসূল সা.-এর আনীত জীবনবিধান ও সমাজ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বর্তমান পৃথিবীর অশান্তি, জুলুম ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব।
কর্মসূচি : কেন্দ্র ও মহানগরী শাখা পর্যায়ে আলোচনা সভা, সিরাত সা. মাহফিল, কুরআন তিলাওয়াত ও কিরাত প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা এবং দুস্থ ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জামায়াতে ইসলামীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে।