‘সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়’

গ্যাঁড়াকলে এনটিআরসিএ শিক্ষকরা


২৫ আগস্ট ২০২৬ ২২:২০

॥ আবু জায়েদ আনসারী ॥
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি ফাজিল মাদরাসায় বাংলা প্রভাষক পদে নিয়োগ পান আজাদুল ইসলাম আজাদ। বাড়ি রংপুরের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে। স্বপ্ন ধরা দিয়েছিল শিক্ষকতা করার জন্য প্রভাষক পদে নিয়োগ পেয়ে। বেকারত্বের হতাশাও কেটেছিল তার। তবে তা সময়ের ফোঁড়ে বিষাদে পরিণত হয়েছে। নিয়মের গ্যাঁড়াকলে চাকরি ছেড়ে তার সম্মানের কিছুটা ব্যত্যয় ঘটে। কারণ বাড়ি থেকে অনেক দূরের কর্মস্থল, অসুস্থ বাবা এবং পরিবারের অভিভাবকত্বের ঘাটতি পূরণ করতে হবে তাকে। এখন আফসোসে দিন কাটছে তার স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করে।
আজাদ এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে ২০২৩ সালে প্রভাষক পদে নিয়োগ পান মৌলভীবাজার সদরের উত্তর মুলাইম মল্লিক সড়াই ফাজিল মাদরাসায়। সেসময় এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বদলির সুযোগ রাখা হয়েছিল। যদিও সেই কার্যক্রম সেসময় পর্যন্ত চালু করা হয়নি। আবার কবে নাগাদ চালু করা হবে, তারও স্পষ্ট ধারণা দেয়া হয়নি, বরং একটি সময় সেই নিয়ম বাতিলও করা হয়। ফলে তার স্বপ্নের ইতি টানতে হয়। নতুন করে আবেদন করে বাড়ির নিকটবর্তী একটি স্কুলে যোগ দিতে হয়। সরকারের বা এনএনটিআরসিএ’এর নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যা তার জীবনে ‘সময়ের এক ফোঁড়’ অসময়ের দশ ফোঁড়’।
আজাদের মতো জীবনের তিক্ততার গল্প আছে আরও অনেকের। যারা দূরবর্তী কর্মস্থল ও বেতনকাঠামোর কারণে এ পেশায় যোগ দেননি। যারা মেধাবীও বটে। এমন একজন রংপুরের আল আমিন। তিনি এনটিআরসিএ’র চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। যোগদান করার জন্য সিলেট সদরের একটি প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু দূরত্বসহ নানা সমস্যা থাকায় তিনি যোগদান করেননি।
স্কুলশিক্ষক শহিদুজ্জামান সুমন। শিক্ষকতা করছেন গাজীপুরের কাপাসিয়ার একটি স্কুলে। রংপুরের পীরগঞ্জের এ তরুণ শিক্ষক সম্প্রতি বিয়েও করেছেন। শিক্ষকতা করে যে বেতন পান, তাতে তার সাংসারিক ব্যয় মেটানো যে কঠিন, তা কথা বলে কিছুটা আঁচ করা যায়। সম্প্রতি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির নিয়ম চালু করা হয়েছে। গত ২১ আগস্ট থেকে এনটিআরসিএ অনলাইনে শিক্ষকদের বদলির আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। এতে সুমনের কষ্ট ঘোচাতে আশার আলো দেখলেও কিছুটা হতাশার ছাপও স্পষ্ট। কারণ শিক্ষকদের বদলির যোগ্যতার শর্ত হিসেবে তিনি কিছুটা পিছিয়ে আছেন। কবে নাগাদ তিনি সেসব শর্ত পূরণ করতে পারবেন, তা বলার সুযোগ নেই কারণ তার মতো আরও দুজন শিক্ষক রয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানে, যারা বদলির শর্ত পূরণে তার চেয়ে এগিয়ে।
সুমনের মতো গল্প আছে ভোলার একটি স্কুলের শিক্ষক নাজমার। চাকরিতে যোগ দেয়ার প্রায় আট বছর। লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী উপজেলা পাটগ্রামের বাসিন্দা তিনি। বিয়ে হয়েছে বেরসরকারি এক মাদরাসা শিক্ষকের সাথে। কিন্তু তাদের অবস্থান দুই মেরুতে। একজন থাকেন রংপুরে, আরেকজন ভোলায়। দুই সন্তানের জননী এ নারী শিক্ষকের সংগ্রামী জীবনে স্বস্তি কবে আসবে, তাও নিশ্চিত নয়। তবে বদলির নিয়ম চালু হওয়ায় কিছুটা আশাবাদী হলেও পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া কবে নাগাদ শেষ হবে, তা বলা মুশকিল। সম্প্রতি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেয়ার সরকারি উদ্যোগে বেশ মুষড়ে পড়েছিলেন এমন দূরবর্তী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকরা। কেননা তাদের কোনোকালে বদলির সুযোগ হতো না। এখন তারা কিছুটা আশার আলো দেখছেন। এই প্রক্রিয়াটি যত সহজ ও শিক্ষকবান্ধব হবে, ততবেশি মেধাবীরা এ পেশায় আগ্রহী হবেন, যা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের (MPO School and College) শিক্ষকদের অনলাইন বদলি প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (DSHE – Directorate of Secondary and Higher Education) কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত (২১ আগস্ট শুক্রবার) থেকে অনলাইনে বদলির ফরম পূরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা আগামী (২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত বহাল থাকবে। আগ্রহী এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা টেলিটকের নির্ধারিত পোর্টালে (Ngttdshe.teletalk.com.bd) ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিজ নিজ আবেদন সম্পন্ন করতে পারছেন (Non-Govt MPO Teacher Transfer Notification 2026) ২০২৬)।
এ আবেদন প্রক্রিয়ায় বেশকিছু শর্ত ও ও নির্দেশনাবলী রয়েছে। পছন্দের ক্রমানুসারে আবেদন (Institute Preference) : একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দের ক্রমানুসারে বাছাই করার সুযোগ পাবেন। সফটওয়্যার অটোমেশনের মাধ্যমে আবেদন যাচাই শেষে বদলির চূড়ান্ত আদেশ জারি হবে।
নিজ জেলা ও বিভাগ পছন্দ (Home District & Division Choice) : শিক্ষককে অবশ্যই তার চাকরির আবেদনে উল্লিখিত নিজ জেলায় পদ খালি থাকা সাপেক্ষে আবেদন করতে হবে। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে।
স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল কোটা (Spouse District Category) : স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা তাদের কর্মস্থলে (শুধুমাত্র সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলে) বদলির সুযোগ থাকবে। তথ্য ভুল প্রদান করলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক উভয়েই দায়ী থাকবেন।
চাকরির ন্যূনতম সময়সীমা (Service Duration Criteria) : চাকরিতে প্রথম যোগদানের পর অন্তত ২ বছর পূর্ণ হলে তবেই প্রথম বদলির আবেদন করা যাবে। একইভাবে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর পুনরায় বদলি হতে হলে ন্যূনতম ২ বছর নিয়োজিত থাকতে হবে।
আবেদনে অযোগ্যতা (Eligibility Restrictions) : কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি আবেদন করতে পারবেন না।
অন্যান্য নিয়ম (General Rules) : বদলি কোনো অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না। ইচ্ছাকৃত ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসব শর্তের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্তযুক্ত রয়েছে যে, একজন শিক্ষক গোটা চাকরি জীবনে তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন। এনটিআরসিএ’র এই উদ্যোগটি শিক্ষকদের জীবনে স্বস্তিদায়ক হবে। তবে শিক্ষক নিয়োগের সময় ও বদলির ক্ষেত্র আরও সহজ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে বেশি ফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের মতো পদে নিয়োগও এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং লিখিত পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি আগস্টে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের সাথে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠকের পর যে আলোচনা সামনে আসছে তাতে এ প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ সংশয় তৈরি হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় স্বচ্ছতার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। যদিও ব্যাপক সমালোচনা ও আন্দোলনের মুখে সরকার সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে আপাতত মনে হচ্ছে। তবে সরকার যদি এই প্রক্রিয়াটি মাঝপথে পরিবর্তন করে, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের মতো পদে স্বাভাবিকভাবেই প্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। যারা দীর্ঘসময় ধরে প্রস্তুতি নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তারা একটি নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোর ওপর আস্থা রেখেই পরীক্ষা দিয়েছেন, যা পণ্ডশ্রম হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে দক্ষ প্রশাসক ও নেতৃত্বের জন্য প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগে তার প্রয়োজন আরও বেশি। একজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান কেবল প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন, বরং তার নেতৃত্বে শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ, পরীক্ষার মান, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সম্পর্ক- সবকিছুই প্রভাবিত হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ না হলে একটি প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অদক্ষ বা পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগের ফলে প্রতিষ্ঠানের পুরো পরিবেশকে দুর্বল করে দিতে পারে।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নতুন সচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন রনি রহমান। তিনি পরিকল্পনা বিভাগের উপপ্রধান পদে কর্মরত। গত ২৩ আগস্ট রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ-নূর-এ আলম। সরকার এনটিআরসিএ-তে নতুন সচিব নিয়োগ দিলেও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এবিএম ফজলুল করীম বলেন, এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে বিদ্যমান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বলবৎ রাখতে হবে। পাশাপাশি নতুন ঘোষিত পে-স্কেল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষকদের যেকোনো যৌক্তিক দাবির সাথে আমরা একমত পোষণ করি এবং তাদের পাশে থাকবো।
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি শিক্ষাবিদ প্রফেসর আব্দুর রব বলেন, স্বল্প আয়ের শিক্ষকদের বাসাবাড়ির কাছাকাছি পদায়ন করা উচিত। যাতে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারে। আর উন্নত বিশ্বে দূরবর্তী পদায়নকৃত শিক্ষদের জন্য পরিবহন ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা সুপারিশ করা হয়। শিশুদের জন্যও ভাতার ব্যবস্থা থাকে। মানবিক কারণে আমাদের দেশের শিক্ষকদের বাড়ির কাছাকাছি নিয়োগ দেয়া দরকার। আর শিক্ষকদের দূরবর্তী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাতার সুপারিশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাসাবাড়ির কাছাকাছি নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধা হলো শিক্ষকরা অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কাছে অতিমাত্রায় জড়িত হয়ে পড়ে। এতে করে তারা পড়াশোনায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে না। যার প্রভাব পড়ে পেশায়। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে নজরদারির প্রয়োজন হয়। তারপরও বদলি কিংবা পদায়ন কাছাকাছি হওয়া দরকার।
প্রফেসর আব্দুর রব আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রাজনীতি না করাই ভালো। বরং শিক্ষকদের যেসব সংগঠন আছে, তাদের সাথে আলোচনা করে উভয়ের স্বার্থ বিবেচনা ও মানবিক দিক চিন্তা করে সরকারকে সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার।
শিক্ষাবিদ ড. আহসান হাবীব ইমরোজ বলেন, দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে মেধাবীদের সম্পৃক্ত হওয়া জরুরি। এজন্য এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হলে এতে চাকরিপ্রার্থীরা ফেয়ারলি নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও ভরসা পায়। এছাড়া বিদ্যমান এনটিআরসিএ-কে আরও কার্যকর করার জন্য সচিবনির্ভর না হয়ে দল-মত নির্বিশেষে দেশের শিক্ষাবিদ ও শিক্ষানুরাগী, শিক্ষক প্রতিনিদের একটি কমিটি সমন্বিতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে ঘাটতিগুলো দূর করা যাবে।
এনটিআরসিএ’র বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানেও সরকার কিংবা এনটিআরসিএ কোনো উদ্যোগের কথা জানায়নি। এনটিআরসিএ’র সহকারী পরিচালক, প্রশাসন (আইন ও সমন্বয়) লুৎফর রহমান জানান, অফিসিয়ালি আমরা এ সম্পর্কে এখনো কিছু জানতে পারিনি। তবে সরকার ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সম্ভাবনা নেই বলে জানান এনটিআরসিএ’র এই কর্মকর্তা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক ও কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়ে এখনো কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। অফিসিয়ালি এসব বিষয়ে কথা বলার দায়িত্ব সচিবের। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সদ্য পদায়নকৃত সচিব রনি রহমান এনটিআরসিএ’তে যোগদান করেননি।
এনটিআরসিএ’র বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান না করা হলে একদিকে যেমন শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে না, তেমনি মেধাবীরা এ পেশায় আসবেন না। ফলে বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ কঠিন হয়ে পড়বে। এতে শিক্ষার গুণগতমান বজায় রাখা কঠিন হবে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। এজন্য সরকারকে উদার মানসিকতা ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষার ভিত্তিক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।