বেড়েই চলছে নিত্যপণ্যমূল্য, অস্বস্তিতে ভোক্তা
১২ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৩৩
স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নিত্যপণ্যমূল্য বেড়েই চলছে। গত কয়েকদিনে বেশি বেড়েছে আলু, পেঁয়াজ ও ফার্মের মুরগির ডিমের মূল্য। কয়েক মাস ধরে সবজির মূল্য আকাশছোঁয়া। কাঁচামরিচের মূল্য দুইশ’ টাকার বেশি ওঠার পর এখন কমতির দিকে। সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু সবজির মূল্যও কমছে। ভোক্তারা বলছেন, বাজারের ব্যাগ আগের মতোই আছে, পণ্যও আছে, শুধু কমেছে পণ্যের পরিমাণ। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, টানা বৃষ্টি, উৎপাদন এলাকায় ফসলের ক্ষতি, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং পরিবহন সমস্যার কারণে বাজারে মূল্য বাড়ছে। বাজার বিশ্লেষকদের প্রশ্ন- সরবরাহে সামান্য ঘাটতি হলেই খুচরা পর্যায়ে দাম এত দ্রুত বাড়ে কেন, আর সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমতে এত সময় লাগে কেন? এসবের নেপথ্যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত বলে মনে করছেন ভোক্তারা।
বাজারের অস্থিরতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ এখন পেঁয়াজ। সপ্তাহখানেক আগেও ৫০-৫৫ টাকার মধ্যে থাকা দেশি পেঁয়াজ এখন রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ৬০-৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারেও দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, মোকাম পর্যায়ে দাম বাড়ায় তার প্রভাব দ্রুতই খুচরা বাজারে পড়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকা, স্থানীয় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধির কারণ বলছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
পেঁয়াজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডিমের দাম। ১৩০-১৩৫ টাকা ডজনের ফার্মের মুরগির ডিম উঠে গেছে ১৫০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে দাম আরও বেশি। ব্রয়লার মুরগির দামও এক সপ্তাহে কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে ১৭০-১৮০ টাকায় উঠেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩০০-৩৩০ টাকায় এবং দেশি মুরগি ৫৫০-৬০০ টাকা কেজি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
রাজধানীর বাজারে বেগুন ১০০-১২০ টাকা, শসা ১০০-১৩০ টাকা, গাজর ১২০-১৮০ টাকা, টমেটো ১৪০-২০০ টাকা, বরবটি প্রায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং করলা ৮০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের বাজার আরও অস্থির। বাজারভেদে ১৪০ থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। তবে কাঁচামরিচের মূল্য এখন কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এই ঊর্ধ্বগতির ছোঁয়া লেগেছে আলুর দামেও। ২০ থেকে ২৫ টাকা যে আলু পাওয়া যেত, তা এখন ৩০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী ভোক্তারা বলছেন, উৎপাদক থেকে পাইকার, পাইকার থেকে আড়তদার, এরপর খুচরা বিক্রেতা- প্রতিটি স্তরে মূল্য সংযোজনের সঙ্গে কোথাও কোথাও অস্বাভাবিক মুনাফার সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, সেটি সরকার গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে না। তারা বলছেন, পণ্যের সংকট যতটা, তার চেয়ে বড় সংকট বাজারের স্বচ্ছতায়। একই পণ্য একই দিনে একেক বাজারে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে ‘ন্যায্য বাজারদর’ কোনটা, তাও নিশ্চিত হতে পারছেন না ক্রেতারা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাজারে এখন সবচেয়ে বড় সংকট পণ্যের নয়Ñ ক্রয়ক্ষমতার। ডিমে ১৫ টাকা, সবজিতে ২০-৩০ টাকা বাড়তি দাম হয়তো একদিনের হিসাবে খুব বড় মনে হয় না; কিন্তু মাসের বাজারে প্রতিটি পণ্যের এই বাড়তি খরচ যোগ হয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সরকারি সংস্থাগুলোর নিয়মিত বাজার তদারকি, সরবরাহ শৃঙ্খল পর্যবেক্ষণ, মজুদদারি ও অস্বাভাবিক মুনাফা বন্ধ এবং উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানী পর্যন্ত পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে পারলে ভোক্তারা তুলনামূলক কম মূল্যে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন।