আলোচনা না করে ইসির আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কাটছে না ধোঁয়াশা


৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:২৩

॥ আবু জায়েদ আনসারী ॥
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। নির্বাচন কমিশন (ইসি), সরকারের অবস্থান এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তির মধ্যে এমন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে ইসি ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতির কথা জানা গেলেও নির্বাচনকে ঘিরে যেসব সংকটের কথা উঠে এসেছে, তার সমাধান নিয়ে শঙ্কা রয়েছে অংশীজনদের মধ্যে। স্থানীয় নির্বাচনের আরপিও সংশোধনী নিয়ে যেসব বিষয়ে আপত্তি কিংবা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে, তা যদি আমলে না নিয়ে নির্বাচন কমিশন এগোয়, তাহলে পরিস্থিতি জটিলতর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
আসন্ন নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারগুলোয় বসানো সরকারদলীয় প্রশাসক, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাঙ্ক, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী মোতায়েন ইস্যু, প্রতিদ্বন্দ্বীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়গুলো বিশদভাবে আলোচিত হচ্ছে। এসব বিষয়ে দেশের সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের বিধানের মধ্যে বেশকিছু সাংঘর্ষিক অবস্থানও প্রতীয়মান। কারণ আরপিও সংশোধনী প্রস্তাবনায় যেসব বিধান যুক্ত করা হয়েছে, তা নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। ফলে বিদ্যমান ইস্যুগুলো সমাধান না করলে নির্বাচন আয়োজনের জটিলতা দীর্ঘ হতে পারে।
অন্যদিকে বিরোধীদলের চলমান আন্দোলনের মাধ্যমে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা পূরণের যে স্বপ্ন, সে ধাপ পূরণ না হলে নতুন করে আরও সংকট দেখা দিতে পারে স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে যে আন্দোলন বিরোধীদল চালিয়ে যাচ্ছে, তার পরিণতির ওপরও নির্ভর করবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সফলতা। কারণ নির্বাচনের সাথে বড় প্রশ্ন জড়িয়ে আছে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার। বিদ্যমান প্রশাসন ও সরকার যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজন করতে চায়, তাতে কঠোর আপত্তি আছে প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের।
জামায়াতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেসব বিষয় উঠে এসেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যাবে না মর্মে নির্বাচন কমিশন যে বিধানের প্রস্তাব করেছে, তার বিলোপ কিংবা সংশোধন করতে হবে। এছাড়া দলটির বড় অভিযোগ হলো, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার পদে দলীয় কর্মীদের নিয়োগ দিয়ে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ন করেছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে শামসুল আলমকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে জামায়াত তার নিয়োগসহ স্থানীয় সরকারের সর্বস্তরে বসানো দলীয় প্রশাসকদের প্রত্যাহার চেয়েছে। এ নিয়ে ইসির সাথে বৈঠক করেছে এবং সুনির্দিষ্ট দাবিসংবলিত চিঠি দিয়েছে দলটি।
এবারের নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে কিনা? কিংবা তাদের ভোটগুলো যাবে কোন বাক্সে। অভ্যুত্থানের বড় স্টেকহোল্ডার হিসেবে জামায়াত ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের ফ্যাসিবাদী দল নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের যেকোনো পর্যায়ের নেতার স্থানীয় নির্বাচনের বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছে ইসিতে। এজন্য প্রয়োজনে বিধান সংযুক্ত করার প্রস্তাবনাও দিয়েছে দলটি। জুলাইয়ের শক্তি হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকে এবং স্থানীয় নির্বাচন ইস্যুতে একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে আসছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কিন্তু ইসি এই ইস্যুটি কীভাবে মোকাবিলা করবে, তার ওপর নির্ভর করবে স্থানীয় নির্বাচনের পরিবেশ কেমন হবে। তবে সরকারি দল কিংবা ইসি এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে, তা হলো প্রকৃত নির্বাচনের মাধ্যমে তারা প্রতিনিধি নির্বাচন করবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। তারা কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েম করবে না কিংবা জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করবে না। আর এটি বাস্তবায়ন করতে হলে নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সরকারদলীয় নেতা শামসুল আলমের মতো ব্যক্তিকে অতিরিক্ত সচিবের পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। একইসাথে স্থানীয় সরকারের সর্বস্তরের প্রশাসকদের এখনি অপসারণ করতে হবে। কারণ তারা সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে বিধি সংশোধনের প্রস্তাব করেছে চিঠির মাধ্যমে, তা অগ্রহণযোগ্য। এক্ষেত্রে অবশ্যই অংশীজনদের সাথে সরাসরি আলোচনা করতে হবে। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দিয়ে হ্যাঁ অথবা না জবাবের মাধ্যমে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। একইভাবে নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখতে হবে। কারণ বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, এটি নাগরিক মৌলিক অধিকার। যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে পারেন শিক্ষকরা, তাহলে স্থানীয় নির্বাচনে বাধা থাকার কথা না। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কিংবা চেয়ারম্যান নির্বাচনে যে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতার আলোচনার প্রস্তাবনা তুলেছে ইসি, তা-ও নাগরিক মৌলিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক।
গত ১৬ জুলাই সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্ষাকালীন আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর সাথে যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তবে সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন জামায়াত নেতা এডভোকেট জুবায়ের। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে বিভিন্ন সময় মন্ত্রীরা যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচনের সময় বা শিডিউল ঠিক করবে ইসি, আর সরকারের দায়িত্ব হলো ইসিকে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা।
অন্যদিকে এনসিপি অনেক আগেই দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। চলতি বছর জাতীয় নির্বাচনের পর ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টা নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। এই বিষয়টা সরকারের খুব দ্রুত পরিষ্কার করা উচিত। দায়সারা বক্তব্য না দিয়ে নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে চায় তা বলা উচিত; একটা রূপরেখা দেওয়া- এখানে স্থানীয় সরকারের ৫টি কাঠামোয় নির্বাচন, সবগুলোর ব্যাপারে পরিষ্কার একটা বক্তব্য দেওয়া যে আগে এটা, তারপর এটা… এই টাইমলাইনের মধ্যে নির্বাচন করতে চায়। আমরা আশা করবো যে, সরকার এটা পরিষ্কার করবে।’
তিনি দাবি করেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে তড়িঘড়ি করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। প্রজ্ঞাপনে নিয়োগের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখ না থাকায় একে ‘আমৃত্যু নিয়োগ’ বলে মনে হচ্ছে। রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচনে হেরে যাওয়া বা দলীয় প্রার্থীদের এসব পদে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ দেওয়া হয়েছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থীÑ এমন অভিযোগও তোলেন এনসিপির মুখপাত্র।
সম্প্রতি ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। তিনি গত ৩ আগস্ট সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পায়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে গত ২২ জুলাই ইসি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আগস্ট মাসে তফসিল ঘোষণা করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর প্রথম ধাপের ভোট হবে অক্টোবর মাসে।
তিনি বলেছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীর কারণে নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্ট জানান, বিদ্যমান আইনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব। জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্পষ্টতা দূর করতেই কিছু পর্যবেক্ষণসহ সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। সংশোধিত আইন কার্যকর হলে সে অনুযায়ী, নতুবা বিদ্যমান আইনেই সময়মতো ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনী আচরণবিধির পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে এবং তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। একইসাথে স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতা এড়াতে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের ভোটে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিদ্যমান আইনি অস্পষ্টতাও কমিশন দূর করবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আইন সংশোধনে একগুচ্ছ সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেগুলো শিগগিরই স্থানীয় সরকার বিভাগে সেগুলো পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছে। ইসির সুপারিশের মধ্যে রয়েছেÑ সশস্ত্র বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত করা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপি ও ঋণের জামানতদারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা এবং লাভজনক পদে (অফিস অব প্রফিট) থাকা ব্যক্তিদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে না দেওয়ার বিধান যুক্ত করা।
বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের স্থানীয় নির্বাচন থেকে এবারের নির্বাচনের প্রক্রিয়া, মানুষের আকাক্সক্ষায় বিস্তর পার্থক্য থাকবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ফ্যাসিস্ট আমলে জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় নির্বাচনে দলের ওপর জুলুম-নির্যাতন সত্ত্বেও দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে বেশ ভালো ফল করেছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর সর্বপর্যায়ে দলটির কাঠামো শক্তিশালী হয়েছে। নির্বাচনে ভালো ফলের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তুতি হিসেবে দলটি স্থানীয় পর্যায়ের প্রায় সর্বস্তরের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এখানে আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, জাতীয় নির্বাচনে এনসিপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সাথে জামায়াত জোট করলেও স্থানীয় নির্বাচনে জোট করবে না বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ সমঝোতা হতে পারে কিনা তাও স্পষ্ট করা হয়নি। স্থানীয় নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হবে না, সেহেতু জোটবদ্ধতার সমীকরণ মেলানোরও সুযোগ কম। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ১১ দলীয় ঐক্যের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমঝোতা হতে পারে। কারণ সরকারি দল ইতোমধ্যে জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে গাদ্দারি করেছে বলে তাদের অভিযোগ। নতুন করে আর সরকারি দল ও ফ্যাসিস্টদের সুযোগ না দিতে ১১ দলের এমন পদক্ষেপ নেয়া অস্বাভাবিক নয়।
অন্যদিকে বিএনপির মধ্যে থাকা একাধিক গ্রুপ ও কোন্দলে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তারা একক প্রার্থী দিতে পারবে কিনা। অতীত রেকর্ড অনুযায়ী স্থানীয় নির্বাচনে দলটির একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী থেকেছেন একই পদে। তবে ফ্যাসিস্ট আমলে স্থানীয় সরকারের যেসব স্থানে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি ছিল, সেসব স্থানে প্রার্থী বাছাইয়ে সমীকরণ কী হবে, তা দেখার বিষয়। কারণ ইতোমধ্যে বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে। দলটির একাধিক স্থানীয় মিটিংয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের দেয়া বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতৃত্বের পুরোটা পলাতক থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে কম পরিচিত নেতাদের অনেকেই এলাকাতেই অবস্থান করে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছেন। এমতাবস্থায় তারা নির্বাচনের সুযোগ না পেলে কোনদিকে টার্ন নেবে, তা একটি বিবেচ্য বিষয় হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ কিছুটা বেশি। কারণ স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের প্রাধান্য থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কিছুটা প্রভাবিত হয়। যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দৃঢ় অবস্থান নিতে না পারে, তাহলে বিশৃঙ্খলা বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় মোতায়েন করা হলে নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। এজন্য নির্বাচনের আগে চিহ্নিত স্থানীয় সন্ত্রাসী, নির্বাচনে পরোক্ষভাবে সহিংসতা কিংবা অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদকে উসকে দিতে পারে এবং অপরাধের সাথে জড়িত এমন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বনের তাগিদ রয়েছে।