সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ ফ্যাসিস্টদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা
৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:১৭
সোনার বাংলা রিপোর্ট : বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। বিগত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, নিপীড়ন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচারের লক্ষ্যে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ব্যাপক আইনি প্রক্রিয়া চালু করেছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীদের বিচারিক প্রক্রিয়া, ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন, সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের অবস্থানসহ সার্বিক পরিস্থিতির নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল বাড়ছে। বিচারকাজের ধীরগতিতে সাথে সাথে বাড়ছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিচার যে ট্রাইব্যুনালে শুরু হয়েছে, এটি তারই গড়া। ২০২৪ গণঅভুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবি গণদাবিতে পরিণত হয়। এমনই প্রেক্ষাপটে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যা এবং ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনের সাড়ে ১৫ বছরের রাজনৈতিক নিপীড়নের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।
সাবেক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার ও শাস্তি কার্যকর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ও দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সরকারের জন্য একটি প্রধান আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এছাড়া আরো গুরুত্বপূর্ণ মামলার অভিযোগ গঠন ও সাক্ষী গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে জুলাই-আগস্ট গণহত্যা, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং গোপন বন্দিশালা আয়নাঘর পরিচালনার অভিযোগে শত শত মামলা করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ, ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্ট, সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) এবং ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। কেবল ব্যক্তির বিচার নয়, অপরাধে সহায়ক রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দায় নির্ধারণে আইন সংশোধনপূর্বক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর মানবতাবিরোধী অপরাধে ভূমিকার বিচারিক পর্যালোচনার পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলীয় নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের বেআইনিভাবে আটকে রেখে নির্যাতনের জন্য ব্যবহৃত হয় গোপন বন্দিশালা, যা সংক্ষেপে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত গুম সংক্রান্ত স্বাধীন তদন্ত কমিশনকে দেশে বিদ্যমান যেকোনো গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনের পূর্ণ আইনি ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
গত ১ আগস্ট শনিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ও প্রসিকিউশন দল রাজধানীর উত্তরার র্যাব-১ সদর দফতরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলের কথিত ‘আয়নাঘর’ বা গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেন।
এ সময় তার সাথে ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি ও প্রসিকিউটররা এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর কচুক্ষেত, আগারগাঁও ও উত্তরার গোপন বন্দিশালাগুলো পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের পর তাজুল ইসলাম নির্যাতনের ভয়াবহতা তুলে ধরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সেখানে ৩ ফিট বাই ৩ ফিট ও ২ ফিট বাই ২ ফিটের চরম অমানবিক সেল রয়েছে। বন্দিদের চোখ বেঁধে রাখা হতো এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। পরবর্তীতে একটি স্থান পরিদর্শনের বিষয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তদন্ত দল একটি বন্দিশালায় প্রবেশের পর টাইমারযুক্ত বোমা ও বিস্ফোরক খুঁজে পায়। এটি তদন্তকারীদের ওপর হামলা বা হত্যার ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিগত সরকারের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে ভিন্নমত দমনে গুম ও গোপন নির্যাতনকে কীভাবে একটি কালচারে পরিণত করা হয়েছিল, তা এই গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন না করলে বিশ্বাস করা কঠিন হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস এবং কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যচিত্র ও তদন্ত প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। তিনি তার এ প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে মিলগুলো তুলে ধরেছেন। শত শত গুমের অভিযোগ বিশ্লেষণ করে নাবিলা ইদ্রিস ও কমিশন সদস্যরা জানান, মুক্তি পাওয়া ভুক্তভোগীদের বিবরণ ও দেওয়া নকশার সঙ্গে সরেজমিন দেখা আয়নাঘরের কাঠামোর হুবহু মিল পাওয়া গেছে।
দীর্ঘ ৮ বছর গুম থাকা ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাসেম আরমানের তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালানোর বর্ণনা দিয়ে ড. নাবিলা ইদ্রিস জানান, নির্দিষ্ট ওই আয়নাঘরে প্রবেশের পর একটি বিশেষ স্থাপত্যরীতির (যেমন কয়েকটি সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে আবার নিচে নামার অবকাঠামো) অস্তিত্ব পাওয়া যায়, যা ভুক্তভোগীর দেওয়া বর্ণনার সাথে মিলে যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আয়নাঘরের দায়িত্বে থাকা একাধিক সেনা কর্মকর্তা তদন্তকালে পূর্ণ সহযোগিতা করেননি এবং গোপন বন্দিশালার অস্তিত্ব বিলীন বা পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে দেয়ালে বন্দিদের লিখে রাখা নাম, তারিখ ও আকুতিগুলো মুছে ফেলা হয়েছিল।
ডিজিএফআই-এর সিটিআইবি শাখা পরিচালিত ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন গোপন বন্দিশালাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০টি গোপন কক্ষের সন্ধান পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর : বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ‘বলপূর্বক গুম থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষা-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে’ স্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনার কাজও চলছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এখন প্রশ্নÑ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অপরাধী প্রত্যপর্ণ চুক্তিগুলোর দিকে নজর বিশ্লেষণ করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারত-বাংলাদেশ অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি (২০১৩) : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ও পরোয়ানার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ভারত সরকারের কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠিয়েছে।
পালিয়ে থাকা প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি ও কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভারতকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন অক্ষুণ্ন রাখতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বা পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে আশ্রয় দেওয়া দুই দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নীতিমালার পরিপন্থী। চুক্তির প্রতি সম্মান না দেখনোর কারণে কারাবন্দি ও বিদেশে পালিয়ে থাকা অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে সরকার বসে নেই বলে দাবি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র। সূত্রে প্রকাশ, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করে যারা হত্যা ও গুমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল, তাদের বিচারের আওতায় আনতে দ্বিমুখী প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। দেশের ভেতরে কারাবন্দি আসামিদের মধ্যে আছেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিভিন্ন গোয়েন্দাপ্রধান ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়মিত হাজির করে রিমান্ড ও বিচারিক শুনানি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আইনি আলোচনার মাধ্যমে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের জন্য ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) এবং সিআইডি পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি (MLAT) অনুসরণ করছে।
র্যাব ও পুলিশের প্রধান হিসেবে কর্মরত অবস্থায় গুম, হত্যা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। ইন্টার পোলের রেড নোটিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পুলিশ সম্প্রতি দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছিলো। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন। জামিনের শর্ত হিসেবে তার পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। প্রত্যাবাসন নথি প্রেরণ বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত সকল বিচারিক কাগজপত্র ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে।
আইসিটি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তি চিফ প্রসিকিউটর নিশ্চিত করেছেন যে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা মাত্রই শাপলা চত্বরের গণহত্যা ও ‘আয়নাঘর’ পরিচালনা সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালের মামলায় অবিলম্বে গ্রেপ্তার দেখিয়ে হাজির করা হবে।
বিচারিক প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জ : আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনালের এই ঐতিহাসিক বিচার বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তবে আসামি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ক্ষেত্রে কিছু আইনি বিলম্বের সৃষ্টি হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ চ্যালেঞ্জ মোকবিলা সরকারকে কয়েকটি কাজ করতে হবে। তা হলো-
১. কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো : ভারত ও আমিরাতসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা।
২. স্বচ্ছতা বজায় রাখা : বিশ্বমানের আইন বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা।
৩. ভিকটিম ও সাক্ষীদের সুরক্ষা : সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হওয়া।
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, শেখ হাসিনা, বেনজীর আহমেদসহ সকল চিহ্নিত গণহত্যাকারী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীকে আইনের মুখোমুখি করে উপযুক্ত শাস্তি কার্যকর করার গণদাবি পূরণের এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের ধীরগতিতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বাড়ছে আতঙ্ক। কারণ পালিয়ে থাকা আসামি ও তার দোসররা প্রতিনিয়ত তাদের হুমকি দিচ্ছে এবং হয়রানি করছে। অনেক বর্ণচোরা আসামি রং বদলের ক্ষমতাসীনদের সাথে মিশে জুলাইযোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ করার দুঃসাহসও দেখাচ্ছে।