ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত

যুদ্ধ ও কৌশলে চাপে ট্রাম্প, নরম হচ্ছে হুমকির সুর


৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান ইস্যুতে সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক কৌশলের প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানে পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। একদিকে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি; অন্যদিকে আলোচনার পথ খোলা রাখার বার্তাÑ দুই ধরনের অবস্থানই এখন সামনে আনছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ, সামরিক অভিযানের হুমকি এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষবস্তু করার কথা বলা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি তার অনুকূলে থাকছে না। সব মিলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বিগত কয়েকটি দিন বেশ অস্বস্তিকর ও বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার মধ্য দিয়ে কেটেছে। নিজের তৈরি কিছু সংকট এবং ঘনিষ্ঠ মিত্রদের বিরোধিতার মুখে পড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বেশকিছু বড় ও ছোট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রের জটিলতা, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকি ট্রাম্পের কৌশলে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংকট নিরসনে এখন সামরিক শক্তির পাশাপাশি আলোচনার ওপরও জোর দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সুযোগ রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলছে। একইসাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি ‘ভালো চুক্তিতে’ সই করার জন্য এটিই তেহরানের শেষ সুযোগ। ট্রাম্প বলেন, ইরানের অনুরোধেই আলোচনা চলছে। এই আলোচনায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং বিশেষভাবে কাতারের সমর্থন রয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি দেশও এ বিষয়ে যোগাযোগ করেছে।
তিনি বলেন, আমরা এখনো ইরানের সাথে আলোচনা করছি। এটি ইরানের অনুরোধে হচ্ছে এবং সৌদি আরব, ইউএই ও বিশেষ করে কাতারের সমর্থন রয়েছে। আরও অনেক দেশ যোগাযোগ করেছে। কিন্তু যদি সমঝোতা না হয়, তাহলে একটি ভালো চুক্তিতে সই করার জন্য এটিই তাদের শেষ সুযোগ। তবে তেহরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, তারা মূলত ওমানের মাধ্যমে কিছু বিষয়ে যোগাযোগ করছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি বিশ্লেষণে বলছে, এমনিতেই ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ আইনি ও রাজনৈতিক ঝামেলার মধ্যে রয়েছেন। এর সাথে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি। তেহরানের সাথে নতুন করে আলোচনা এবং মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের হুমকির মধ্যেই ট্রাম্প আবার ইরানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানি কর্মকর্তারা নিজেরাই বৈঠকের অনুরোধ করার পর প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করছে। যদিও মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালীর শিপিং ব্যবস্থা নিয়ে সীমিত আলোচনা ছাড়া বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়নি।
এই ধরনের নানা জটিলতা ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে মার্কিন জনগণের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার নেমে এসেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে, যা আধুনিক মার্কিন ইতিহাসের দ্বিতীয় মেয়াদি প্রেসিডেন্টদের মধ্যে অত্যন্ত কম।
তবে এই কম জনপ্রিয়তা ও জরিপের ফলাফল পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার প্রকৃত জনপ্রিয়তা সর্বকালের সেরা অবস্থানে রয়েছে। সামনেই মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে ভোটাররা প্রধান ভূমিকা পালন করবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের আগের কঠোর বক্তব্যের তুলনায় বর্তমান অবস্থান তুলনামূলকভাবে নরম। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ, মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগ এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাই তাকে কূটনৈতিক পথে বেশি গুরুত্ব দিতে বাধ্য করছে। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছেÑ যুদ্ধের হুমকি দিয়ে শুরু করা ট্রাম্পের কৌশল শেষ পর্যন্ত কি আলোচনার টেবিলেই গিয়ে থামবে, নাকি আবারও কঠোর অবস্থানে ফিরবেন তিনি?