বন্যা ও পরবর্তী পুনর্বাসন : সরকারের ব্যর্থতার চিত্র হতাশাব্যঞ্জক
৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:০৮
সোনার বাংলা রিপোর্ট : এবার বর্ষাকালে মানুষ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের (বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি) জেলাগুলোয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের এক ভয়াবহ রূপ দেখলো। পানি কমলেও ঝুঁকি শেষ হয়নি এবং ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতও শুকায়নি। আবহাওয়া বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রেকর্ড পরিমাণ অতিবৃষ্টি, সমুদ্রের অস্বাভাবিক জোয়ার এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের যৌথ আঘাতে অঞ্চলগুলোয় মানবিক বিপর্যয়কর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এটি সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রাকৃতিক বিপর্যয়। তবে এই ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্য দিয়ে কেবল প্রকৃতির তাণ্ডবই শুধু জনগণ প্রত্যক্ষ করেনি। তারা দেখে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার কঙ্কালসার চিত্র এবং প্রধান বিরোধীদলের জনপ্রতিনিধিত্বমূলক দায়িত্বশীলতার প্রকৃত রূপ। বন্যাকালীন উদ্ধারকাজ, জরুরি ত্রাণ বিতরণ এবং পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সরকারের চরম সমন্বয়হীনতা ও স্থবিরতায় যেখানে প্লাবিত এলাকার দুর্গত মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক সেখানেই জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদীয় ও মাঠপর্যায়ে তাদের রাজনৈতিক ও মানবিক দায়িত্বশীলতার স্বাক্ষর রেখে সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
দুর্যোগের ভয়াবহতা ও সরকারের সমন্বয়হীনতা
২০২৬ সালের দুর্যোগ প্রেক্ষাপট ও ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতা ২০২৬ সালের এই দুর্যোগে দেশের দুটি ভৌগোলিক অঞ্চল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য চট্টগ্রাম (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি) যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলো: আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ব্যাপক পাহাড় ধসের ফলে বান্দরবান ও রাঙামাটির সাথে দেশের বাকি অংশের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও কর্ণফুলী নদীর পানি বিপৎসীমার বহু ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া ও পেকুয়া অঞ্চল দীর্ঘ দিন পানির নিচে তলিয়ে থাকে।
কৃষি ও অর্থনৈতিক ধস : কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় হাজার হাজার একর চিংড়ি ঘের ও লবণের মাঠ ভেসে গিয়ে কোটি কোটি টাকার লোকসান হয়। পাহাড়ি ঢালে জুম চাষ এবং চরের ফসলি জমি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট ও সংলগ্ন এলাকা) সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ধারণক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় এবং অতিবৃষ্টির কারণে সিলেট মহানগরীসহ বিস্তীর্ণ এলাকা একাধিকবার প্লাবিত হয়। কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ অবকাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়, যার ফলে হাজার হাজার পরিবার রাতারাতি গৃহহীন ও নিঃস্ব হয়ে পড়ে। সরকারের উদ্ধার ও পুনর্বাসন তৎপরতায় চরম স্থবিরতা ও জনঅসন্তোষ সংসদে ও সংসদে বাইরে সরকারের পক্ষ থেকে ‘সব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’ বলে দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। উদ্ধার অভিযান থেকে শুরু করে ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক দুর্বলতা প্রকট হয়ে ওঠে।
বিলম্ব ও সমন্বয়হীনতা : পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক ঢলের কারণে হাজার হাজার পরিবার যখন নিজেদের বসতঘরের চালে বা উঁচু স্থানে আটকা পড়েছিল, তখন সরকারি রেসকিউ টিম বা সিভিল ডিফেন্সের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। উদ্ধার সরঞ্জামের অভাব এবং লাল ফিতার দুরভিসন্ধিমূলক আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সংকটের প্রথম ৩-৪ দিন দুর্গম এলাকায় সরকারি কোনো উদ্ধার তৎপরতা পৌঁছায়নি।
অপ্রতুল ত্রাণ ও স্বচ্ছতার অভাব : সরকার যে পরিমাণ ত্রাণ বরাদ্দ করেছিল, তা ক্ষতিগ্রস্ত মোট জনসংখ্যার তুলনায় ছিল অত্যন্ত নগণ্য। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণকৃত ত্রাণের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে। ফলে প্রকৃত দুর্গতরা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়।
স্বাস্থ্য ও পানীয় পানির সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা : বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগের বিস্তার ঘটলেও সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোয় জরুরি ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও স্যালাইনের সংকট দেখা দেয়। বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পানি নেমে যাওয়ার পরও রাস্তাঘাট সংস্কার, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পুনর্নির্মাণ এবং গৃহহীন পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকারি চালচিত্র ছিল অত্যন্ত ধীরগতির। এর ফলে দুর্গত এলাকার জনগণের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও সামাজিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
প্রলয়ঙ্করী বন্যায় বিভিন্ন সরকারি ও বিভাগীয় দপ্তরের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী সর্বমোট কয়েক হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কেবল বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলেই সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১,৪৫৫ কোটি থেকে ১,৫০০ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক আর্থিক ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব : কৃষি খাতে প্রায় ২১,১১৭ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২২ টন ফসল (প্রধানত গ্রীষ্মকালীন সবজি ও আউশ ধান) নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতি দাঁড়িয়েছে কয়েকশত কোটি টাকা। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সংলগ্ন এলাকার চিংড়ি ঘের ও সমন্বিত মৎস্য খামার প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২১০ কোটি ১০ লাখ টাকা। প্রাণিসম্পদ খাতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ক্ষয়ক্ষতি ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অবকাঠামো ও আবাসন : প্রায় ২৬,৫০৬টিরও বেশি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট, প্রায় ৩০ হাজার নলকূপ ও টয়লেট নষ্ট হয়ে বড় অংকের অবকাঠামোগত ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাঁধ নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ২২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ক্ষতি ১৫১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ ক্ষতির পর্যালোচনায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্পকারখানা এবং সিলেট অঞ্চলের ক্ষতি যুক্ত হলে এই মোট অংক আরও বৃদ্ধি পাবে এতে সন্দেহ নেই।
বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ভূমিকা
রাজপথের আন্দোলন থেকে উঠে এসে জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধীদলের মর্যাদা লাভ করার পর জামায়াতে ইসলামী প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার পর দলটির মানবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা কীভাবে দুর্গত মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হতে পারে, সাম্প্রতিক বন্যায় তারা তা প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণ করেছে।
২০২৬ সালের বন্যা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সরকার ও প্রধান বিরোধীদলের তুলনা করলে দেখা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো জরুরি কাজেও দীর্ঘসূত্রতা ভর করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দ্রুত ত্রাণ অপর্যাপ্ত বরাদ্দ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারেনি। জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সমস্যাগুলো তুলে ধরলে সমাধানে যৌথ উদ্যোগ না নিয়ে ডিফেন্সিভ ভূমিকায় জনগণের তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিকভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সবার আগে দুগর্ত এলাকায় পৌঁছে গেছে। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা স্বউদ্যোগে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। পানিবন্দি মানুষের কাছে শুকনো ও রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, ফ্রি মেডিকেল সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছে। সংসদে ত্রাণ কাজে সরকারের দুর্বলতাগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরে দ্রুত সঙ্কট সমাধানের দাবি জানিয়েছে। তাদের তদারকি ও ত্রাণ তৎপরতার ব্যাপক প্রশংসা করেছে সাধারণ জনগণ। জামায়াতে ইসলামীকে পাশে পেয়ে দুর্যোগে তাদের মনোবল বেড়েছে বলে দুর্গতদের অনেকে জানিয়েছেন।
সূত্রে প্রকাশ, জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর সরকারের ওপর নিরবচ্ছিন্ন চাপ সৃষ্টি করে। সংসদের অধিবেশনে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা স্পিকারের মাধ্যমে দুর্গত এলাকাগুলোকে ‘জাতীয় দুর্যোগ এলাকা’ ঘোষণার জোরালো দাবি জানান। বন্যাদুর্গতদের জন্য জরুরি বাজেট বরাদ্দ, কৃষি ঋণ মওকুফ এবং সহজ শর্তে পুনর্বাসন ঋণের জন্য সংসদে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সরকারি ত্রাণ বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য তারা সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখে।
দ্রুত রেসকিউ টিম ও তৃণমূল পর্যায়ে উদ্ধার কাজ বন্যার সংবাদ পাওয়া মাত্রই জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটি এবং স্থানীয় শাখাগুলো সক্রিয় ছিলো এবং এখনো আছে। জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগ ও ছাত্র সংগঠন (বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির)-এর স্বেচ্ছাসেবকরা নিজস্ব বোট ও উদ্ধার সরঞ্জাম নিয়ে বান্দরবান, সাতকানিয়া, চকরিয়া এবং সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যায়। সরকারি টিম পৌঁছানোর আগেই তারা হাজার হাজার মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়।
প্রধান বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী তাদের সম্পূর্ণ ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে নিরপেক্ষ ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। ফুড প্যাক ও শুকনো খাবার- চাল, ডাল, তেল, স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সমৃদ্ধ মানসম্মত ফুড প্যাক ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়। রান্না করা খাদ্য সহায়তা- আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় পানিবন্দি মানুষদের জন্য নিয়মিতভাবে গরম খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।
বিস্তৃত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও স্বাস্থ্যসেবা : বন্যাপরবর্তী মহামারি রুখতে জামায়াতে ইসলামীর ডাক্তারদের সংগঠন (ডক্টরস ফোরাম)-এর মাধ্যমে দুর্গম এলাকাগুলোয় ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন এবং ওষুধ সরবরাহ করেন। লাখ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দুর্গতদের মাঝে বিতরণ করা হয়। গৃহনির্মাণ ও টেকসই পুনর্বাসন কর্মসূচি- ত্রাণ বিতরণের প্রাথমিক পর্যায় শেষ হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী তাদের নিজস্ব অর্থায়ন ও শুভাকাক্সক্ষীদের সহায়তায় বড় মাপের পুনর্বাসন প্রকল্প হাতে নেয়- গৃহনির্মাণ : সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হওয়া ঘরের জন্য টিন ও নির্মাণ সামগ্রী প্রদান। কৃষি ও জীবিকা সহায়তা : ক্ষুদ্র কৃষক ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের নগদ আর্থিক অনুদান এবং বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ। গবাদিপশু বিতরণ : যাদের গবাদিপশু ভেসে গিয়েছে, তাদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ গবাদিপশু ক্রয়ে অনুদান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই বন্যা ও পরবর্তী পরিস্থিতি প্রমাণ করেছে যে, বিরোধী দল হিসেবে সংসদীয় ব্যবস্থার ভেতর থেকে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি মাঠেও জনগণের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব। যখন আমাদের বসতঘর পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল, সরকারি কোনো প্রতিনিধি আমাদের খোঁজে আসেনি। কিন্তু প্রধান বিরোধীদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের উদ্ধার করে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দিয়েছে। সংসদীয় দল হিসেবে তারা সংসদে কথা বলার পাশাপাশি বাস্তবেও আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ কোনো একক রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক দলের পক্ষে মোকাবিলা করা যায় না। সরকার ও বিরোধীদল তথা এটি সমগ্র জাতির জন্য পরীক্ষা। তবে এই পরীক্ষার সংকটময় মুহূর্তে শাসকদলের উদাসীনতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা যেমন জনগণের হতাশাকে বাড়িয়ে দিয়েছে, তেমনি সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রধান বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল, দ্রুত ও নিরপেক্ষ মানবিক ভূমিকা দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ইতিবাচক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও সিলেটের বন্যার এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, জনপ্রতিনিধিত্বের আসল অর্থ শুধু রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা নয়, বরং বিপদের দিনে নিঃস্ব মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভুলত্রুটি দূর করে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় করা। রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের দাবি যেকোনো দুর্যোগে সরকারের দায়িত্ব বিরোধীদলের সাথে সমন্বয় করে সঙ্কট মোকাবিলা করা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের মাইনাস করার কুমতলব কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।