ময়লার স্তূপে পানি সরছে না টঙ্গিবাড়ীর গোয়ালবাড়ী খালের
৩০ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৮
মমিন বিশ্বাস, মুন্সীগঞ্জ : সরকার যখন পুরনো খাল উদ্ধার এবং নতুন খাল খননের ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ই টঙ্গিবাড়িী উপজেলার প্রাণকেন্দ্র গোয়ালবাড়ীর খালটি ময়লার স্তুপে ভরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত ২৫ জুলাই শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ পরিচর্যার অভাবে গোয়ালবাড়ীর খালটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় কিছু অসচেতন মানুষ প্রতিদিন খালে গৃহস্থালির বর্জ্য, প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য আবর্জনা ফেলায় খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়। এতে করে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খালটি একসময় পরিষ্কার ছিল এবং বর্ষার পানি সহজেই নিষ্কাশন হতো। কিন্তু বর্তমানে ময়লার স্তূপ জমে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এছাড়া জমে থাকা নোংরা পানিতে মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
টঙ্গিবাড়ী শহরে টুটুল নামে একজন ব্যবসায়ী জানান, টঙ্গিবাড়ী বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের দোকানের বর্জ্য ও ময়লা খালে ফেলার কারণে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। খালটি যদি ভরাট হয়ে যায়, তাহলে টঙ্গিবাড়ী শহরের এবং বাজারের পানি নিষ্কাশনের আর কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এই টঙ্গিবাড়ী বাজার তলিয়ে যেতে পারে। অবিলম্বে খালটি পূর্ণ উদ্ধার করার দাবিও জানান ব্যবসায়ীরা।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত খালটি পরিষ্কার করে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। একইসঙ্গে খালে ময়লা ফেলা বন্ধে কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পরিবেশ রক্ষায় খাল পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ধরনের স্লোগান দিয়ে থাকলেও গোয়ালবাড়ীর খালের ক্ষেত্রে এর উল্টা চিত্রই দেখা গেল সাধারণ ব্যবসায়ীদের মতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সম্মিলিত উদ্যোগেই গোয়ালবাড়ীর খালকে আগের পরিচ্ছন্ন অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না আমি পরিদর্শক পাঠিয়ে দেখব। পরে ব্যবস্থা নিব। টঙ্গিবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওয়াজেদ ওয়াসী হকের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।