পাথরঘাটায় ‘মাসোয়ারায়’ সাগরে মাছ ধরতে হয় জেলেদের
৩০ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৫
পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা : বরগুনার পাথরঘাটায় সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের কাছ থেকে ট্রলারপ্রতি নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের নৌ পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে ভুক্তভোগী জেলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, চরদুয়ানী ইউনিয়নের বাড়ানি খাল দিয়ে প্রতিদিন চলাচলকারী শত শত মাছ ধরার ট্রলার, স্টিল বডির ট্রলার, ছোট জাহাজসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা আদায় করা হয়। ভুক্তভোগী জেলেদের দাবি, নির্ধারিত টাকা পরিশোধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি নৌযান আটক করে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়েও টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী জেলে জাকির হোসেন জানান, দীর্ঘদিন যাবত নৌ পুলিশের কিছু সদস্য মাছ ধরার ট্রলার এবং পণ্য বহন করা ছোট জাহাজ থেকে নিয়মিত ১ থেকে ৩ হাজার টাকা মাসোয়ারা নিয়ে থাকেন। যারা টাকা দিতে অস্বীকার করে তাদের বিভিন্ন মামলার ভয় দেখানো হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জেলে বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছি। প্রতিবার সাগরে যাওয়ার আগে ট্রলারপ্রতি এক হাজার টাকা করে দিতে হয়। আমার ট্রলারটি ছোট হলেও কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। বরং বলা হয়, প্রতিবার মাছ ধরতে গেলে এক হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। তাই বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছি। শুধু আমি নই, আমার মতো অনেক জেলেই বছরের পর বছর নৌ পুলিশকে এভাবে টাকা দিয়ে আসছেন। তিনি আরও দাবি করেন, আদায় করা এই অর্থের বেশিরভাগই নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই কবিরের মাধ্যমে লেনদেন হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই কবিরের বক্তব্য জানতে চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে জেলেদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়ে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে আর কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গজনভীর মিয়া বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জেলেদের কাছ থেকে টাকা লেনদেনের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ জেলেদের কাছ থেকে নৌ পুলিশের লেনদেনের যে বিষয়টি উপস্থাপন করব এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।