বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন
১৬ জুলাই ২০২৬ ১০:১১
॥ জামশেদ মেহদী ॥
বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে। এই পরীক্ষাকে বলা যেতে পারে অগ্নিপরীক্ষা। বিএনপি সরকার শুরু থেকেই বলে আসছে যে, তারা সেই পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাস করে, যেখানে বলা হয়েছে সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারো প্রতি শত্রুতা নয়। এই উক্তিটি করেছিলেন ১৮৬৫ সালে গৃহযুদ্ধে বিক্ষত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক ভাগের নেতৃত্ব দেয় পরাশক্তি আমেরিকা। তার সাথে ছিলো ইংল্যান্ড, ফ্রান্স প্রভৃতি পশ্চিমা দেশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেই জার্মানি বিভক্ত হয়েছিল বলে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি মার্কিন শিবিরে থাকে। অন্যদিকে অপর ভাগে থাকে সাবেক পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন। তার সাথে থাকে প্রধানত পূর্ব ইউরোপীয় দেশসমূহ। বিভক্ত জার্মানির পূর্বাংশ অর্থাৎ পূর্ব জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষে থাকে। পরবর্তীকালে অবশ্য দুই জার্মানিই এক হয়ে এক জার্মানি হয় এবং অখণ্ড জার্মানি মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা শিবিরে থাকে। এসব কারণে বলা হতো দ্বি-মেরুর পৃথিবী। অর্থাৎ দুই পরাশক্তির পৃথিবী। একদিকে আমেরিকা; আরেকদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন।
এ সময় কয়েকটি দেশ একটি জোটনিরপেক্ষ শিবির গঠন করে। মুখে তারা জোটনিরপেক্ষতার কথা বললেও তাদের কার্যকলাপে তারা সোভিয়েতপন্থী হিসেবে চিহ্নিত হয়। জোটনিরপেক্ষ শিবিরে ছিলেন ৩ নেতা। এরা হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, মিশরের প্রেসিডেন্ট জামাল আব্দুন নাসের এবং যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো। এখন অবশ্য যুগোস্লাভিয়া আর এক নেই। যুগোস্লাভিয়া ভেঙে ৭টি দেশ হয়েছে। দেশগুলো হলো স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো বসনিয়া-হার্জেগোভিনা এবং কসোভো।
৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যায় এবং ১৫টি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়। এই ১৫টি রাষ্ট্রের মধ্যে বৃহত্তম হলো রাশিয়া। রাশিয়াকেই এখন সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরসূরি বলা হয়।
৯০-এর দশকের পর থেকে বিগত ৩০ বছরে গণচীন অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং সামরিক দিক দিয়ে অভূতপূর্ব অগ্রগতি লাভ করে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর রাশিয়া তার উত্তরসূরি হলেও সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো পরাশক্তি হতে পারেনি। সেই স্থানটি অধিকার করেছে চীন। অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং সামরিক সক্ষমতার দিক দিয়ে চীন এখন পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি। তদ্বসত্ত্বেও চীনকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা পরাশক্তির (Super Power) মর্যাদা দেয়নি।
চীনের রপ্তানি আয় আমেরিকার রপ্তানি আয়কে ছাড়িয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পণ্যের রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশসমূহকে বিপুল পরিমাণে অর্থনৈতিক সাহায্য, ঋণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা করায় এখন এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক উন্নয়নশীল দেশই চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশটি মার্কিন শিবিরে জড়িয়ে পড়ে। ৫০-দশকের মধ্য ভাগের মধ্যেই পাকিস্তান ৩টি প্রো-আমেরিকান ডিফেন্স প্যাক্টে জড়িয়ে পড়ে। এগুলো হলো সেন্টো বা বাগদাদ চুক্তি, সিয়াটো এবং পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মার্কিনপন্থী বলে পরিচিত হলেও তিনিই সর্বপ্রথম চীনের সাথে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি বেশিদিন সময় পাননি। এক বছরের মাথাতেই তাকে পদত্যাগ করতে হয়।
শেখ মুজিব প্রবল প্রতাপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হলেও তার ৩ বছর ৮ মাস সময় তিনি তার পররাষ্ট্রনীতিকে সম্পূর্ণভাবে ভারতনির্ভর করেছিলেন। তার আমলেই ২৫ বছর মেয়াদি গোলামি চুক্তি হয়। তার আমলেই বাংলাদেশের মরণ ফাঁদ ফারাক্কা বাঁধ চালুর জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৩ বছর ৮ মাস সময়ের মধ্যে একবারও চীন সফরে যাননি।
স্বাধীন বাংলাদেশে বস্তুত চীনের সাথে সম্পর্ক গড়ার জন্য সর্বপ্রথম চেষ্টা করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনিই সর্বপ্রথম চীন সফর করেন। তার অকাল শাহাদাতের পর তার উত্তরসূরি বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২ বার চীন সফর করেন। বস্তুত এই ২ নেতার আমলেই বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
শেখ হাসিনা তার ১৫ বছর ৭ মাস রাজত্বকালে ৪ বার চীন সফর করেন। ৪ বার চীন সফর করলেও রাজনৈতিকভাবে তিনি ভারতের সাথে গাঁটছড়া বাঁধেন। এ কারণে চীন তার ওপর কখনোই আস্থা স্থাপন করতে পারেনি। চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প এবং অবকাঠামো বাস্তবায়িত ও গড়ে উঠেছে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে চীন কখনো শেখ হাসিনাকে আস্থায় নিতে পারেনি। তাই তার সর্বশেষ রাজনৈতিক সফর ৩ দিনের হলেও ২ দিনের মাথাতেই তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়। তিনি আশা করেছিলেন যে, তার সফরকালে চীন বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৫ হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সাহায্য বা এইড দেবে এবং সেভাবেই কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু চীন তাকে ৫ বিলিয়ন বা ৫ হাজার মিলিয়নের স্থলে মাত্র ১ বিলিয়ন চীনা ইউয়ান অর্থাৎ মাত্র ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেয়। চীনের এই শীতল অবস্থানে শেখ হাসিনা অপমানিতবোধ করেন এবং ৩ দিনের সফর সংক্ষিপ্ত করে ২ দিনের মধ্যেই ফিরে আসেন। এটি ছিলো ২০২৪ সালের ৮ ও ৯ জুলাইয়ের ঘটনা।
জুলাই বিপ্লব অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বিতাড়িত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন সফরে যান। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্টি শি জিনপিংয়ের সামনে বঙ্গোপসাগর থেকে চীনের কুনমিং পর্যন্ত ব্যবসা করার অফুরন্ত সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি চীনের প্রেসিডেন্টের কাছে যে ব্যবসার সম্ভাবনা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন সেটি চীন এবং বাংলাদেশে বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তরুণ ছাত্রনেতাদের সামনে দেশের জনগণের প্রত্যাশা মোতাবেক বহুবিধ সংস্কার অপেক্ষমাণ ছিলো বলে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে আর বেশি দূর এগোতে পারেননি।
তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর গত জুন মাসে ৪ দিনের সফরে চীনে যান। তার এই সফর অভিনন্দিত হয় এবং জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধীদল সম্মিলিতভাবে এই সফরকে অভিনন্দিত করে প্রস্তাব পাস করে।
এই সফরকালে চীনের সাথে বাংলাদেশের ১৭টি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন ইকোনমিক করিডোর। লক্ষ করার বিষয় হলো এই যে, বাংলাদেশ নিজ থেকেই অনেকগুলো প্রস্তাব তুলে ধরে। কিন্তু শেষ দিন চীনের গ্রেট হলে সেই দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন টিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন টিম যখন বৈঠকে মিলিত হন, তখন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই করিডোরের প্রস্তাবটি তুলে ধরেন। যেখানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তির প্রধান ব্যক্তিটি স্বয়ং এই করিডোর প্রস্তাব তুলে ধরেন, সেখানে সেই প্রস্তাবটির অসাধারণ গুরুত্ব বুঝতে কারো কোনো কষ্ট হয় না।
প্রস্তাবে চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে এই করিডোর বা সড়ক শুরু হবে এবং বার্মার রাখাইন বা আরাকান প্রদেশ হয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার পর্যন্ত প্রলম্বিত হবে। এ সম্পর্কিত চুক্তি স্বাক্ষতির না হওয়া পর্যন্ত করিডোরের বিস্তারিত রুট জানা সম্ভব হবে না। কেউ কেউ বলেন যে, এই মহাসড়কটির সাথে রেল সংযোগও থাকবে। এই রাস্তাটির বা রুটটির প্রাথমিক বিবরণ ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সংবাদপত্রে এবং ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে প্রকাশিত ও সম্প্রচারিত হয়েছে। তাই আমরা আর সেখানে যাচ্ছি না।
ক্ষমতার করিডোর থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে যে, যদি বিএনপি সরকার চীনা প্রেসিডেন্টের এই করিডোর প্রস্তাবে রাজি না হয়, তাহলে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর সম্প্রসারিত ও আধুনিক করা এবং মংলায় চীনের জন্য বিশেষভাবে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করা, চট্টগ্রাম বন্দর, বে-টার্মিনাল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রভৃতি অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনাময় প্রজেক্টগুলোয় অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় চীনের আগ্রহ কমে যাবে। এখানেই বিএনপির বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির পরীক্ষা। ভারত তার পূর্বমুখী নীতির অধীনে ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড মহাসড়ক, কালাদান, মাল্টিমোডান ট্রানজিট প্রকল্প এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন করিডোরকে ভারত উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন ইরান নিয়ে ব্যস্ত আছেন। কিন্তু তার ডিপস্টেট চীনকে কন্টেইন করা বা মোকাবিলা করার নীতিতে অটল রয়েছে। বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সেতু বন্ধন। বঙ্গোপসাগরে আমেরিকার পা রাখার জায়গা নাই। কারণ বঙ্গোপসাগরের তীরে রয়েছে ভারত, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের হিস্যা। তাই বাংলাদেশ এখন আমেরিকা, চীন ও ভারত সকলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্র। বাংলাদেশের স্ট্র্যাটেজিক লোকেশন সকলের কাছেই আগ্রহের বিষয়। ভারত ছাড়াও এই প্রস্তাব গ্রহণ করলে আমেরিকার এ্যাটিচ্যুড কী হবে, সেটিও বাংলাদেশ সরকার খতিয়ে দেখছে।
এই সরকার আমেরিকা, চীন ও ভারতের মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষার পলিসি অনুসরণ করতে চায়। কিন্তু চীনের করিডোর প্রস্তাব গ্রহণ করলে অপর দুটি পক্ষ নাখোশ হতে পারে। আবার করিডোর প্রস্তাব গ্রহণ না করলে চীন নাখোশ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকারের অবস্থা হয়েছে শ্যাম রাখি না কুল রাখি।
কিন্তু বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক মহল মনে করেন যে, ৩টি বৃহৎ শক্তিকেই খুশি করার পথ নাই বাংলাদেশের। এই করিডোরটি চীনের কাছে যতখানি গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের কাছে। বাংলাদেশের সৌভাগ্য যে, চীনের কাছে যে প্রস্তাবটি তাদের উত্থাপন করার কথা ছিলো, সেটি করেছেন বিশ্বের দ্বিতীয় শক্তিশালী ব্যক্তি স্বয়ং। এটি নিয়ে সময়ক্ষেপণ করা বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী হবে। কালবিলম্ব না করে এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করা উচিত এবং যত দ্রুত কাজ শুরু করা যায় তার জন্য চীনকে অনুরোধ করা উচিত।
মনে রাখতে হবে যে, চীন কিন্তু এই করিডোরের ব্যাপারে ইতোমধ্যেই অনেক দূর এগিয়েছে। তারা কুনমিং থেকে রাখাইনের কিয়াকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত ইতোমধ্যেই একটি মহাসড়ক নির্মাণ করেছে। এখন সেখান থেকে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার পর্যন্ত আসা। বাংলাদেশ যদি এই সুযোগ হারায়, তাহলে চীনের তেমন একটা ক্ষতি হবে না। কারণ মিয়ানমার তথা রাখাইন দিয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করার সুযোগ ইতোমধ্যেই তারা করে রেখেছে।
কিন্তু বাংলাদেশ যদি এই সুযোগ হারায় এবং চীন যদি নাখোশ হয়, তাহলে আবার বাংলাদেশ ভারতের করতলগত হবে কিনা, সেটি নিয়ে শিক্ষিত সচেতন মহল শঙ্কায় আছেন।
E-mail : jamshedmehdi15@gmail.com