গণভোট প্রশ্নে সংসদে বিতর্ক, উল্টোপথে হাঁটছে বিএনপি


১৬ জুলাই ২০২৬ ০৯:৩৭

সংসদ প্রতিবেদক : গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করার ওয়াদা দিয়ে ত্রয়োদশ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বৈতরণী পাড়ি দিয়ে এখন উল্টো পথে হাঁটছে বিএনপি। রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেছিলেন, জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন অর্থাৎ বাজেট অধিবেশনেই বিষয়টির মীমাংসা হবে। কিন্তু না তা তো হলোই না বরং সরকার ওয়াদা ভঙ্গ করে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জনই নিজ দল ও জোটের, বিরোধীদলের জন্য বাকি রেখেছে ৫টি। স্বাভাবিকভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারি দল। অতএব ফলাফল কী বলে তা বুঝতে আইনস্টাইন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তার চেয়ে বড় কথা গণভোটের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ জুলাই বিপ্লবের পক্ষের সবাই এক সাথে নিয়েছে। জাতির কাছে দেয়া জুলাই সনদ নামের ওয়াদাপত্রে সবাই স্বাক্ষরও করেছে। কিন্তু সংসদে এসে বলছে অন্য কথা। তারা যুক্তি দিচ্ছে, গণভোটের রায় অনুযায়ী যদি সংস্কার পরিষদ গঠন করতেই হয়, তবে সেই বিধানটি আগে বর্তমান সংবিধানে সংশোধনীর মাধ্যমে ‘ধারণ’ বা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কিন্তু রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, তারা গণভোটের মাধ্যমে যে রায় দিয়েছে তারপরও আর কারো এর ওপর ক্ষমতা খাটানো মানে জনগণের ক্ষমতাকে অস্বীকার ও অবজ্ঞা করা। জাতীয় সংসদে বিষয়টি বারবার প্রধান বিরোধীদলের পক্ষ থেকে উত্থাপন করলেও সরকারি দল গণভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত উপেক্ষা করছে। অথচ নির্বাচনের আগে তাদের শীর্ষনেতা বর্তমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে রায় দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখিত বিষয়টি ছাড়া জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রাণবন্ত আলোচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরা হলোÑ
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বৈরাচারমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক সংসদীয় সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন।
সংসদের কার্যদিবসগুলোয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বৈদেশিক কূটনীতি এবং জনগুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে সংসদ নেতা তারেক রহমানের গৃহীত পদক্ষেপ ও বক্তব্যগুলো ছিল এই অধিবেশনের মূল আকর্ষণ। নিচে তাঁর আলোচিত ভূমিকাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো :
প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরে নিয়মিত অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি : অধিবেশনের অন্যতম আলোচিত দিক ছিল ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব’। সংসদ নেতা তারেক রহমান নিয়মিত অধিবেশনে উপস্থিত থেকে সংসদ সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন জটিল ও জরুরি প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্যের রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে তিনি মিয়ানমারের জান্তা সরকারসহ সব পক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক ফ্রন্ট জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নতুন কূটনৈতিক রূপরেখা : বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার কথা অধিবেশনে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং’-এর অন্যান্য প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসনের বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী কড়া অবস্থান : অধিবেশনের ২৪তম কার্যদিবসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং গণহত্যার বিচার সংক্রান্ত এক বিশেষ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন রোধে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংসদ নেতা।
বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা : অধিবেশনে দেওয়া সমাপনী ও গুরুত্বপূর্ণ বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তিনি বিরোধীদলসহ দেশের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন, যা তার রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও উদারতার পরিচয় দেয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংসদ নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকা ছিল এক নতুন বাংলাদেশের সূচনার বার্তা। তিনি সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদকে কার্যকর করে তোলার পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেশের সংকট নিরসন ও মানুষের ভোটাধিকারের মর্যাদা রক্ষায় তাঁর এই সংসদীয় নেতৃত্ব বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ (দ্বিতীয় অধিবেশন) : গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে সংসদীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিরোধীদল (১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ও জামায়াত জোট) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের আলোচিত বক্তব্যসমূহ তুলে ধরা হলোÑ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান গত ২১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তিনি সরকারের আর্থিক নীতির ব্যবচ্ছেদ করেন।
ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তাঁর দীর্ঘ বক্তৃতায় বলেন, ‘এই বাজেট মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ওপর করের বোঝা চাপানোর একটি আইনি দলিল। এটি সামগ্রিকভাবে ঋণনির্ভর, যা দেশকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে ফেলবে।’ তবে কেবল নেতিবাচক সমালোচনা না করে তিনি করের পরিধি বৃদ্ধি এবং আইটি খাতে যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ বরাদ্দ রাখার জন্য একটি সমান্তরাল বিকল্প বাজেট রূপরেখা সংসদের সামনে পেশ করেন। বিরোধীদলীয় উপনেতা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গত ২৮ জুন রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে সংসদে একটি জরুরি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন তিনি। কুমিল্লা-১১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন করার চিন্তা একটি ভুল কূটনৈতিক পথ। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়কে কার্যকরের মাধ্যমে তাদের সম্মানজনক ও দ্রুত স্বদেশে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক চাপ জোরদার করতে হবে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় কোনো প্রকার শৈথিল্য সহ্য করা হবে না।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গত ৪ জুলাই সংসদের কার্যদিবসগুলোয় কোরাম সংকট দূর করা এবং সংসদীয় বিল পাসের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারি দলের চিফ হুইপের সাথে সমন্বয় সভা করেন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম গত ৪ জুলাই সংসদের লবিতে এক ব্রিফিংয়ে এবং অধিবেশন কক্ষে বলেন, ‘সংসদ বর্জন বা অহেতুক হট্টগোল করে জনগণের ট্যাক্সের পয়সা নষ্ট করার দিন শেষ। আমরা সরকারি দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সাথে একমত হয়েছি যে, জনগুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের সময় উভয় পক্ষের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। যুক্তির টেবিলে আমরা সরকারকে চ্যালেঞ্জ করব, রাজপথে বা কোরাম সংকটে নয়।’
বিরোধীদলীয় হুইপ : জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান গত ৭ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিচার এবং বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে আইনমন্ত্রীর প্রতি সম্পূরক প্রশ্ন ছুড়ে দেন। বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান সংসদে দাঁড়িয়ে জোর গলায় বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের সাথে কোনো আপস হতে পারে না। তবে আমরা সরকারকে সতর্ক করতে চাই, বিচারের নামে যেন কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা নতুন কোনো স্বৈরাচারী আইনের অপপ্রয়োগ না হয়। প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
অধিবেশনের সমাপনীতে বিরোধীদলীয় নেতা গত ১৩ জুলাই সোমবার ডা. শফিকুর রহমান সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংস্কারমুখী কিছু উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সরকারের অন্ধ বিরোধী নই, আমরা এই সংসদে জনগণের পাহারাদার। সংসদ নেতা যে জবাবদিহিমূলক সংসদীয় সংস্কৃতির কথা বলছেন, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখতে চাই।’
ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদল অতীতে দেখা যাওয়া সংসদীয় অস্থিতিশীলতা বা কথায় কথায় ‘ওয়াকআউট’ এবং ফ্যাসিস্ট আমলের গৃহপালিত বিরোধীদলের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ তথ্য ও যুক্তিভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে দেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে শক্তিশালী করছে বলে মন্তব্য করেছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিশেষভাবে আলোচিত সংরক্ষিত এমপিদের দায়িত্ব পুরো বাংলাদেশ
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের কাজের পরিধি ও নির্বাচনী এলাকা নিয়ে বিরোধীদল সমালোচনা করেছে। বিরোধীদলের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের নীতিগত অবস্থান এবং সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। গত সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সরকারের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সরকারি দলের একজন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় দুটি সংসদীয় আসনকে তার ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় যাওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এমন প্রচার চালানো হচ্ছে যে, নির্বাচিত মূল এমপি সেখানে বড় বিষয় নন, বরং সংরক্ষিত আসনের এমপিই সেখানকার সব কাজ পরিচালনা করবেন। একই বিষয়ে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর আগের বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে দাবি করে আখতার হোসেন প্রশ্ন তোলেন, এই অতিরিক্ত দায়িত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি এবং এর আওতা আসলে কতটুকু। শুধুমাত্র বিরোধীদলের জেতা আসনগুলোতেই কেন এই ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি জানতে চান এর মাধ্যমে দেশে কোনো ভিন্ন একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে কি না। এই সামগ্রিক বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় সদস্যের এই গুরুতর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাঁড়িয়ে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্পষ্ট করেন। মন্ত্রী জানান, উত্থাপিত বিষয়টি আজ পয়েন্ট অব অর্ডার না হলেও এর একটি জরুরি এবং সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এই মহান জাতীয় সংসদ ৩০০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এবং এর অতিরিক্ত আরও ৫০ জন সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য নিয়ে সংসদ গঠিত হবে। ৩০০ আসনের ক্ষেত্রে ডিলিমিটেশন অ্যাক্ট বা সীমানা নির্ধারণ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট আঞ্চলিক এলাকা বা সীমানা প্রযোজ্য হলেও সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে তা খাটবে না। সংরক্ষিত আসনে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের নির্বাচনী এলাকা বা লিমিটেড এরিয়া হচ্ছে সমগ্র বাংলাদেশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য যদি নিজের বক্তব্য দিয়ে নিজেকে নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় সীমাবদ্ধ বা লিমিটেড করে ফেলেন, তবে তা মোটেও সঠিক নয়। তাদের বলা উচিত যে তারা সমগ্র বাংলাদেশের জন্য নির্বাচিত। আইন ও বিধি অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে যে সমস্ত সরকারি বরাদ্দ পান, তা তারা বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে উপ-বরাদ্দ দিতে পারেন। দেশের যেকোনো অঞ্চলেই তারা এই বরাদ্দ বণ্টন করতে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং সমগ্র বাংলাদেশের সমস্ত অধিক্ষেত্রে তারা তাদের সংসদীয় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সুনির্দিষ্ট কোনো এলাকা বা দায়িত্বের যে কথা বলা হচ্ছে, তা সংবিধান বা আইন অনুযায়ী তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।