বিশ্ব কাঁপে বিশ্বকাপে


২৫ জুন ২০২৬ ১০:২৩

॥ তালহা বিন নজরুল ॥
এগিয়ে চলেছে বিশ্বকাপ ফুটবল। একযোগে তিন দেশে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর মেক্সিকোয়। এর আগে মেক্সিকোয় দুবার (১৯৭০ ও ১৯৮৬) এবং যুক্তরাষ্ট্রে একবার (১৯৯৪) বিশ্বকাপ হলেও কানাডায় এবারই প্রথম আসর। নির্বিবাদ, নির্ভেজাল আনন্দে মাতোয়ারা বিশ্ব। সংশয়বাদীদের সংশয় আর নেই। ৪৮ দলের বিশ্বকাপ কেমন হবে, তা নিয়েই সংশয়টা বেশি ছিল। বিশ্বকাপ ফুটবলে এর আগে এত বেশি দলের খেলার সুযোগ ছিল না। এবারই সবচেয়ে বেশি ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে ১২টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে। আবার অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র আর ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে ম্লান হতে পারে ফুটবলানন্দ। জ্বালানি সংকট আর মূল্যস্ফীতির চাপে চিড়েচ্যাপ্টা মানুষকে বিশ্বকাপের খেলা কতটা আকৃষ্ট করতে পারবে, তা নিয়েও সংশয় ছিল।
১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের শুরু। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪৪ আর ১৯৪৮ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসেনি। এবারের আসরটি হচ্ছে ২৩তম। এবারই প্রথম তিন দেশে বিশ্বকাপ হচ্ছে। ২০০২ সালে প্রথম একাধিক দেশে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেবার সহ-আয়োজক ছিল এশিয়ার দুই ধনি দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।
প্রায় শত বছরে বিশ্বের অনেক কিছু যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের অনেক কিছু। বিশেষ করে এবারের আসরটি একদম অন্যরকম। একসময় বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলতো ১৬ দল। এরপর ২৪ দলের খেলা চলে ১৯৯৪ পর্যন্ত। ১৯৯৮ থেকে সাতটি আসর হয়েছে ৩২ দলে। গতবারের চেয়ে ১৬টি দল বেশি অংশ নিচ্ছে এবার। ফিফা অর্থাৎ বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রণ করে যে সংস্থা তার সদস্য সংখ্যা দুই শয়ের বেশি দেশ। অনেক দেশের আপত্তি ছিল এত দল বাড়ানোর। তাদের যুক্তি ছিল এতে খেলার মান কমবে, কমবে আকর্ষণ। তাদের আপত্তি টেকেনি। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে দল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। আর ২০২৩ সালে সিদ্ধান্ত হয় যে, ৪৮ দল ১২ গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রথম পর্বে খেলবে। দল বাড়ার কারণে আমরা দুটি নতুন দেশকে দেখছি ফুটবলের মাঠে। বিশ্বকাপে না খেললে এ দেশ দুটির নাম অজানা থাকতো বেশির ভাগ মানুষের কাছে। দেশ দুটি হলো দ্বীপদেশ কেপ ভার্দে আর কুরাসাও। আয়তনে যেমন ছোট তেমন জনসংখ্যাও অনেক কম। আমাদের রাজধানীর একটি ওয়ার্ডেও ওদের চেয়ে বেশি লোকের বসবাস।
দল বেশি হওয়ায় এবারের বিশ্বকাপের ব্যাপ্তিটাও বেশি। আগে যেখানে একমাসেই শেষ হতো আসর এবার সেখানে খেলা হবে তারচেয়ে বেশি দিন। ১১ জুন বিশ্বকাপের পর্দা উঠেছে মেক্সিকোয়। আর পর্দা নামবে ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। মোট ১৬টি শহরে এবারের চূড়ান্ত পর্বের খেলাগুলো হচ্ছে। এর মধ্যে ১১টি শহরই যুক্তরাষ্ট্রের, তিনটি মেক্সিকোর আর দুটি কানাডার।
কেমন হচ্ছে খেলা
এ প্রতিবেদন লেখার সময় (২৪ জুন দুপুর) পর্যন্ত গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দলের দুটি করে খেলা শেষ হলো। বিশ্ব এ পর্যন্ত খেলা দেখেছে ৪৮টি। এর মধ্যে অনেকগুলো খেলা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে আবার অনেক খেলাই শেষ হয়েছে একপেশেভাবে। অনেক বছর পর এবার এক দিনে অনুষ্ঠিত চারটি খেলাই শেষ হয় অমীমাংসীতভাবে। এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ৭-১ গোলের ব্যবধানে জার্মানি হারিয়েছে বিশ্বকাপে নতুন আসা দল কুরাসাওকে। তবে ওই খেলা দেখে যারা কুরাসাওকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে তাদের জবাব দিয়েছে দলটি পরের ম্যাচে। সেদিন তারা দক্ষিণ আমেরিকার দল ইকুয়েডরকে গোলশুন্য রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট অর্জন করে নেয়। ওই ম্যাচে তাদের গোলরক্ষক একাই ইকুয়েডরের ১৫টি আক্রমণ ঠেকিয়ে রেকর্ডবুকে জায়গা করে নেন। কুরাসাওয়ের পরের খেলা আইভরিকোস্টের সাথে। ওই খেলায় জিততে পারলে তাদের দেখা যেতে পারে দ্বিতীয় রাউন্ডেও।
আরেক নতুন দল কেপ ভার্দেও নজর কেড়েছে সবার। তারা দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের কাছ থেকে দুই পয়েন্ট আদায় করে নিয়েছে। হটভেবারিট স্পেনের সাথে গোলশূন্য ড্র করার পর উরুগুয়ের সাথে ড্র করে ২-২ গোলে। শেষ খেলা তাদের সৌদি আরবের সাথে। ওই খেলায় জিতলে তাদেরও দেখা যাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে।
গ্রুপের দুই খেলাতেই জিতে দ্বিতীয় রউিন্ড বা নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ছয়টি দল। তারা হলো স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, রানার্সআপ ফ্রান্স, সাবেক চ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবং নরওয়ে ও কলম্বিয়া। একমাত্র আই গ্রুপ থেকে দুটি দল ফ্রান্স ও নরওয়ে দুই খেলাতেই জিতে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে। এক জয়, আর এক ড্র নিয়ে অপেক্ষায় আছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, ২০১০-এর চ্যাম্পিয়ন স্পেন, শক্তিশালী নেদারল্যান্ডস, আফ্রিকার দেশ মিশর, আরেক স্বাগতিক কানাডা, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মরক্কো, আইভরিকোস্ট।
দ্বিতীয় রাউন্ডে এবার খেলবে ৩২ দল। বাদ যাবে ১৬ দল। ১২ গ্রুপের শীর্ষ ২টি করে ২৪টি ছাড়াও অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানে থাকা ৮টি গ্রুপের তৃতীয়স্থানে থাকা দলও খেলবে নকআউট পর্বে। এখান থেকে তৃতীয় রাউন্ডে খেলবে ১৬ দল। সেখান থেকে আট দল কোয়ার্টার ফাইনালে। আগামী ২৮ জুন থেকে দ্বিতীয় এবং ৪ জুলাই থেকে তৃতীয় রাউন্ডের খেলা শুরু হবে।
এ বছর কিন্তু গোল হচ্ছে অনেক। গোলের খেলা ফুটবলে যত গোল তত আনন্দ। ১৯৫৮ সালের পর এবারই সবচেয়ে কম খেলায় ১০০ গোলের দেখা পেয়েছে দর্শকরা। আগেই উল্লেখ করেছি জার্মানি-কুরাসাও খেলায় সর্বাধিক আট গোল হয়েছে। এছাড়া সাত গোল হয়েছে কানাডা-কাতার খেলায়। কানাডা ৬-১ গোলে জিতেছে ওই ম্যাচ। বিশ্বকাপে এটিই তাদের প্রথম জয়। প্রথম খেলায় বসনিয়ার সাথে ১-১ গোলে ড্র তরে কানাডা প্রথম পয়েন্ট পায়। এবার ৬টি করে গোল হয়েছে এফ গ্রুপের ২ ম্যাচে। সেগুলো হলো সুইডেন ৫-১ তিউনিসিয়া, নেদারল্যান্ডস ৫-১ সুইডেন। এই গ্রুপের খেলাতেই গোল হয়েছে বেশি। এছাড়া ইংল্যান্ড ৪-২ ঘানা খেলায়ও ৬ গোল হয়েছে। জাপান ও নেদারল্যান্ডস ২-২ গোলে ড্র করে এবং জাপান তিউনিসিয়াকে হারায় ৪-০ গোলে।
পাঁচ গোল করে হয়েছে যেকটি খেলায় : যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ প্যারাগুয়ে, নরওয়ে ৪-১ ইরাক, সুইজারল্যান্ড ৪-১ বসনিয়া এবং নরওয়ে ৩-২ সেনেগাল।
ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে মেসিই সেরা
মেসির বয়স যেন বাড়ছেই না। তার ক্ষুরধার নৈপুণ্যে অবাক বিশ্ব। একসময় আর্জেন্টিনা মানে ছিলেন ম্যারাডোনা। এখন তার জায়গাটা পুরাই দখল করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। গত শতাব্দীতে কে সেরা; পেলে না ম্যারাডোনা, এই অমীমাংসিত বিতর্ক চলেছে বছরের পর বছর। তবে একবিংশ শতাব্দীতে কে সেরা এ নিয়ে বোধ হয় এখন আর বিতর্কের অবকাশ নেই।
মেসির একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ইউরোপ আর লিগের বাইরে ম্লান। মেসির মতো তিনিও টানা ৬টি বিশ্বকাপে খেলার অনন্য রেকর্ড গড়লেও মাঠের নৈপুণ্যে অনেক পিছিয়ে। এবার আরও এগিয়ে যাচ্ছেন মেসি। ৩৮তম জন্মদিনের দুদিন আগে (২৪ জুন ১৯৮৭-তে জন্ম) দুটি গোল করে নিজেকে নিয়ে গেলেন সবার ওপরে। পাঁচ আসরে ১৩ গোল করা মেসি প্রথম দুই খেলাতেই আর্জেন্টিনার পাঁচ গোলের সবকটিই করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এটিও বিরল কৃতিত্ব। প্রথম খেলায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস সিটি স্টেডিয়ামে প্রথম গোলটি করার পর তার যে আনন্দ দেখা যায় তাতে সাবেক এক ফুটবলার বলেন, মনে হচ্ছিল মেসি যেন বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল করলেন। অথচ সেটি ছিল বিশ্বকাপে রেকর্ড সর্বাধিক ২৭তম ম্যাচ। মেসি ম্যাজিক এবার কোথায় থামে তা দেখার অপেক্ষায় সবাই।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলায় পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ না হলে রেকর্ড বই আরো সমৃদ্ধ হতো। বিশ্বকাপে এখন (২৪ জুন পর্যন্ত) সর্বোচ্চ ১৮ গোলের মালিক তিনি। এর আগে ১৬ গোল করে এ রেকর্ডের কৃতিত্ব ছিল জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০০৬ বিশ্বকাপে অভিষেক হয় মেসির। দেশের পক্ষে এরই মধ্যে খেলে ফেলেন ২০০ ম্যাচ। চোটের কারণে এবার তার খেলা নিয়েই সংশয় ছিল। তাই হ্যাটট্রিক শেষে বলেন, আমার ভালো লাগছে এই জয়ে। আমরা সত্যিই ভাগ্যবান যে কঠিন ম্যাচে সহজেই জয় পেয়েছি। এবার আমি যা পাচ্ছি তার সবই বোনাস। আমার ফুটবল ক্যারিয়ারে কোনো অপূর্ণতা নেই। সবই পেয়েছি আমি। এবারও শিরোপা জেতার জন্য আমাদের দল এক হয়ে খেলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মেসির পেছনে ছুটছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবার তিনি দুই খেলায় চার গোল করে উঠে এসেছেন দ্বিতীয়স্থানে। তার গোল সংখ্যা এখন ১৬ অর্থাৎ ক্লোসার সমান। এমবাপ্পের বয়স এবার ২৭। সুস্থ থাকলে তার আরও অন্তত দুটি বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা আছে। তাতে মেসির রেকর্ড অক্ষুণ্ন না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এবার নরওয়ের আর্লিং হালান্ডও তার প্রথম বিশ্বকাপের দুই খেলায় চার গোল করে দর্শকদের নজর কাড়ছেন।
মেসির মতো পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও এবার রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন। প্রথম খেলায় ম্লান থাকলেও দ্বিতীয় খেলায় উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুটি গোল করে প্রমাণ করেছেন একেবারে ফুরিয়ে যাননি তিনি। ভক্তরা অপেক্ষায় আছেন বাকি দিনগুলোয় কী করেন তা দেখার।
কেমন করছে মুসলিম দেশগুলো
এবারের বিশ্বকাপে সর্বাধিক ১৩টি মুসলিমপ্রধান দেশ অংশগ্রহণ করছে। দেশগুলো হলো- এশিয়া থেকে সৌদি আরব, ইরাক, ইরান, কাতার, জর্ডান ও উজবেকিস্তান। আফ্রিকা থেকে মরক্কো, আলজেরিয়া, মিশর, তিউনিসিয়া ও সেনেগাল। ইউরোপ থেকে তুরস্ক ও বসনিয়া হারজেগোভিনা। এশিয়ার আট দেশের মধ্যে ৬টিই মুসলিম। বাকি দুটি হলো জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।
সত্যি বলতে, চলতি আসরে মুসলিম দেশগুলোর বেশিরভাগের অবস্থাই ভাল না। দুই খেলায় কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি জর্ডান, ইরাক, উজবেকিস্তান, তুরস্ক ও তিউনিসিয়া। দুটি খেলাতেই হেরেছে তারা। তুরস্ক ছাড়া বাকিরা প্রতিপক্ষের সঙ্গে তেমন লড়াইই করতে পারেনি। এর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে প্রথম অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে সাড়াজাগানো তুরস্ক এরপরে ২০০৬ আসরেও খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। এরপরে চার আসরে সুযোগই পায়নি। এবারও বাদ পড়তে পড়তে শেষ মুহূর্তে টিকিট পায় তারা। কিন্তু গ্রুপ ডি’তে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ আর প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের। শেষ খেলা তাদের দারুণ খেলতে থাকা স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।
প্রথম খেলায় সৌদি আরব উরুগুয়ের সাথে, বসনিয়া কানাডার সাথে আর কাতার সুইজারল্যান্ডের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে প্রশংসা কুড়ায় সবার। প্রত্যাশা ছিল আরও ভালো কিছুর। কিন্তু বিধিবাম। দ্বিতীয় খেলায় সৌদি আরব স্পেনের কাছে ৪-০, কাতার কানাডার কাছে ৬-১ গোলে আর বসনিয়া ৪-১ গোলে সুইজারল্যান্ডের কাছে হার মেনে সবাইকে হতাশ করে। সৌদি ছাড়া অন্যদেরও বিদায় নিশ্চিত। সৌদি আরব তৃতীয় খেলায় যদি নবাগত কেপ ভার্দেকে হারাতে পারে তবে নকআউট পর্বে খেলার সম্ভাবনা থাকবে।
মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অপরাজিত থেকে ভালো অবস্থানে আছে মরক্কো, মিশর। এক জয় আর এক ড্রতে তাদের সংগ্রহ চার পয়েন্ট করে। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ দশে থাকা মরক্কো ব্রাজিলের সাথে ড্র দিয়ে শুরু করে। পরের খেলায় স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের দ্বারপ্রান্তে। নানা ষড়যন্ত্র মাথায় নিয়ে ইরান জিততে না পারলেও দুই খেলায় দৃঢ়তা দেখিয়েছে বেশ। জি গ্রুপে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের সাথে ড্র করে দুই পয়েন্ট নিয়েই দ্বিতীয় স্থানে আছে। শেষ ম্যাচ তাদের গ্রুপ সেরা আরেক মুসলিম দেশ মিশরের সাথে। এই গ্রুপে কোনো দলেরই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়নি। চার পয়েন্ট পাওয়া মিসর যদি ইরানের কাছে হারে আর বেলজিয়াম যদি নিউজিল্যান্ডকে হারায় তবে মিশর হয়ে যাবে তৃতীয়। দুই মুসলিম দেশ মিশর-ইরানের লড়াই হবে দেখার মতো।
আফ্রিকার দেশ সেনেগাল কঠিন গ্রুপে ফ্রান্স ও নরওয়ের কাছে হেরে পয়েন্ট শূন্য থাকলেও পরের খেলায় ইরাককে হারাতে পারলে নকআউট পর্বে খেলার সম্ভাবনা থাকবে।
কে জিতবে শিরোপা
বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায় সবার মনে; কে হবে চ্যাম্পিয়ন। প্রশ্নটা যত সহজ মনে হয়, উত্তরটাও ঠিক ততই কঠিন। অনেক জ্যোতিষী ছাড়াও নানারকম পশুপাখি দিয়ে মানুষ একটা ধারণা নেয়ার চেষ্টা করে। কারোটা ঠিক হয়, কারোটা কাছাকাছি হয়। ঝড়ে বক মরে জ্যোতিষীর কেরামতি বাড়ে। বিশ্বকাপে যারা খেলার সুযোগ পায় তারা সবাই শক্তিশালী দল। কিন্তু তারপরেও ২২ আসরে চ্যাম্পিয়ন কিন্তু পুরনোদের মধ্য থেকেই বেশি হয়েছে। শিরোপা জিতেছে মাত্র আটটি দেশÑ ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, স্পেন ও উরুগুয়ে। সর্বশেষ নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন সেই ২০১০-এ। এরপর আবার ঘুরেফিরে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি আর আর্জেন্টিনা। আমার ধারণা এবারের আসরেও বিশ্ব নতুন চ্যাম্পিয়ন পাবে না। নেদারল্যান্ডস ১৯৭৪ ও ১৯৭৮ টানা দুবার ফাইনালে খেলেও পারেনি জার্মানি ও আর্জেন্টিনার কাছে হেরে। ক্রোয়েশিয়া ২০১৮তে ফইনালে উঠেও পারেনি। এবার তারা একটু দুর্বল মনে হয়। মরক্কোর সম্ভাবনা দেখা যায় আপাতত। গত আসরেও তারা সেমিফাইনালে খেলেছে।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং রানার্সআপ ফ্রান্স এবারও হট ফেবারিট। জার্মানি-ব্রাজিলকেও উড়িয়ে দিতে পারবেন না। স্পেন এবং ইংল্যান্ডও সামর্থ রাখে শিরোপা জেতার। ইতালিতো এবার মূল আসরে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি। পর্তুগাল ও নরওয়ে চমক দেখালেও দেখাতে পারে। কলম্বিয়া, মিশর, ঘানা হয়তো কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারবে। এশিয়ার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ২০০২ এ সেমিফাইনাল খেলেছে। এবার তাদের চেয়ে জাপানের পারফরমেন্স ভালো। এশিয়ার মধ্যে জাপানই হতে পারে বাজির ঘোড়া।
কেবল গ্রুপ পর্বের দুটি করে খেলা শেষ হলো। আরও একটি করে খেলার পরে সমীকরণ ঠিক হবে নকআউট পর্বে কে কার মুখোমুখি হবে। এখানে ৩২ দল থেকে হবে ১৬ দল। নকআউট পর্ব হচ্ছে বাঁচা-মরার লড়াই। হারলেই বিদায়। নির্দিষ্ট দিনে যে ভালো খেলবে, সেই জিতবে। আর ড্র হলে তো নির্ভর করতে হবে টাইব্রেকারে পেনাল্টি শুটআউটের ওপর। পেনাল্টিতে অনেক সময় ভালো দলও হেরে যায় শুট মিসের কারণে। সুতরাং আগাম এত কিছু না ভেবে আসুন, উপভোগ করতে থাকি বাকি খেলাগুলো। সময়ই বলে দেবে শেষ হাসি কে হাসবে।