কবি আল মুজাহিদীর ইন্তেকাল
২৫ জুন ২০২৬ ১০:০০
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত ১৯ জুন শুক্রবার দুপুর ২টায় তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের একটি যুগের অবসান হলো।
আল মুজাহিদী দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যাসহ হৃদরোগে ভুগছিলেন। গত এক বছর আগে চিকুনগুনিয়া হওয়ায় তখন থেকেই তিনি একেবারে বিছানায় পড়ে যান। কবি আল মুজাহিদী একসময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
কবি আল মুজাহিদীর অনেকগুলো বই আছে। তার কাব্যগ্রন্থ- হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা, প্রিজন ভ্যান, দিদেলাস ও ল্যাবিরিস্থ, ঈডের হ্যামলেট, প্রাচ্য পৃথিবী, পৃথিবীর ধুলো, সৌর জোনাকি, ভিতা নুওভা, অ্যাকাডেমাসের বাগান, আল মুজাহিদীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, আল মুজাহিদীর প্রেমের কবিতা, সন্ধ্যার বৃষ্টি, কালেরবন্দীতে, পাখির পৃথিবী, আলবাট্রাস, ভঙুর গোলাপ, কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি ও পালকি চলে দুলকি তালে প্রভৃতি।
উপন্যাসসমূহ : প্রথম প্রেম, চাঁদ ও চিরকুট, মিলু এট ও স্যোন্যাটা, লাল বাতির হরিণ, রুপোলি রোদ্দুর, আলোর পাখিটা, ছুটির ছুটি, খোকার আকাশ ও খোকার যুদ্ধ। গল্পগ্রন্থ : প্রপঞ্চের পাখি, বাতাবরণ ও ভরা কটাল মরা কটালের চাঁদ। শিশুসাহিত্য- হালুম হুলুম, তালপাতার সেপাই, শেকল কাটে খাঁচার পাখি, সোনার মাটি রূপোর মাটি ও ইস্টিশানে হুইসেল।
প্রবন্ধগ্রন্থ : সমাজ ও সমাজতত্ত্ব। অনুবাদগ্রন্থ : কাইফি আজমির কবিতা, পৃথিবীর কবিতা, আহমদ ফরাজের কবিতা, ঊর্দূ কবিতা, হিন্দি কবিতা ও হাইনরীশ হাইনের কবিতা। গবেষণাগ্রন্থ : কালান্তরের যাত্রী।
জীবন ও কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার, জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার, বাসাসপ কাব্যরত্ন পদক ও একুশে পদক পেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার শোক
কবি আল মুজাহিদীর ইন্তেকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তর আমীর মো. সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির সভাপতি আবেদুর রহমান ও সেক্রেটারি ইবরাহীম বাহারী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
শোক বিবৃতিতে তারা কবি আল মুজাহিদীর রুহের মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, কবি আল মুজাহিদীর ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের একটি যুগের অবসান হলো। কবি আল মুজাহিদী দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তরুণ কবি সাহিত্যিকদের ব্যাপকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দান করেছেন। তার আন্তরিক নির্দেশনা এবং যত্নে এদেশের সহিত্যাঙ্গন পেয়েছে অনেক কীর্তিমান কবি, সাহিত্যিক ও লেখক। কবি আল মুজাহিদী অমর হয়ে থাকবেন তার সৃষ্টি মাঝে।
পৃথক বিবৃতিতে কবি মোশাররফ হোসেন খান শোক প্রকাশ করে বলেছেন, কবি আল মুজাহিদী শুধু একজন কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যাঙ্গনের বটবৃক্ষ। তার আন্তরিক স্পর্শে আমরা উজ্জীবিত হলাম। আমরা আমাদের একজন অভিভাবক হারালাম।
জানাজা ও দাফন
গত ২০ জুন শনিবার কবি আল মুজাহিদীর চারটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর ডা. শফিকুর রহমান রাজধানীর উত্তরায়, সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এমদাদ উদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ, মাওলানা মাসুম বিল্লাহ জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ডা. খলিলুর রহমান মাদানী ইমামতি করেন।
বায়তুল মোকাররমে জানাজার আগে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাহিত্য সংস্কৃতি সম্পাদক এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, কবিতা বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ প্রমুখ।
কবি কফিনের সাথে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্তানে গিয়ে কবি পরিবারের সাথে দাফনে শেষ পর্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখেন কবি আবদুল হাই শিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, কবিতা বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির সভাপতি আবেদুর রহমান, সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি মাহবুব মুকুল, বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির সেক্রেটারি ইবরাহীম বাহারী, দেশীয় সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক, লেখক ও গবেষক ড. মো. মনোয়ার হোসেন, কথাসাহিত্যিক হারুন ইবনে শাহাদাত, কবি সুলতান মাহমুদ, কবি ও সম্পাদক সীমান্ত আকরাম, কবি আবিদ আজম, ইয়াকুব বিশ্বাস প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।