নতুন অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট

পাস হচ্ছে ৩০ জুন ১ জুলাই থেকেই কার্যকর


২৫ জুন ২০২৬ ০৯:৪৮

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি মাসের ৭ তারিখে শুরু হয় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন। এই অধিবেশন চলবে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত। রেওয়াজ অনুযায়ী আসছে ৩০ জুন জাতীয় সংসদের স্পিকার বাজেটের ওপর কণ্ঠভোট গ্রহণ করবেন। এরপর অধিকাংশের ভোটে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ কার্যদিবস ৩০ জুন নতুন বাজেট পাস হয়ে যাবে। নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছর শুরু হবে ১ জুলাই থেকে। জাতীয় সংসদ ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাস হতে যাচ্ছে। বাজেট পাসের আগের দিন ২৯ জুন অর্থবিল পাসের মাধ্যমে কর ও শুল্ক-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করা হবে। বিশেষ করে কর অব্যাহতি, উৎসে কর, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কর সুবিধা এবং কয়েকটি পণ্যের শুল্ককাঠামোয় আংশিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব আলোচনায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আসতেও পারে। তবে বাজেটের মূল কাঠামো, আকার কিংবা সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকছে। তবে ব্যাংক হিসাব খুলতে বাধ্যতামূলক কর শনাক্তকরণ নাম্বার (টিআইএন) জমা দেওয়া এবং নির্দিষ্ট আয়ের নিচেও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা নিয়ে সংসদ ও সংসদের বাইরে সমালোচনা ও বির্তক চলছে। এ কারণে ব্যাংক হিসাবে টিআইএন জমা দেওয়া, ক্ষেত্রবিশেষে বাধ্যতামূলক রিটার্ন দাখিলের বিষয়টি শিথিল করা হতে পারে। এছাড়া কিছু অতিপ্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের আমদানি শুল্কে সামান্য রেয়াত দেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (২০২৬ সালের বাজেট অধিবেশন) শুরু হয় ৭ জুন। এটি চলতি সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন। ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রথম বাজেট। ১১ জুন বাজেট উপস্থাপনের পর ১৫ জুন চলতি অর্থবছরের সম্পূক বাজেট পাস এবং ১৬ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হয়।
রাজস্ব আহরণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে সামনে রেখে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেট আলোচনায় সরকারি ও বিরোধীÑ উভয় দলের সংসদ সদস্যরা মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, কৃষি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সংসদ সদস্যদের অনেকে বলেছেন, বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য থাকলেও বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসেবে প্রস্তাবিত বাজেটে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সরকারের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিকÑ উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বাজেট প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।