ঋণনির্ভর স্বপ্নবিলাসী বাজেট
১১ জুন ২০২৬ ১০:১৬
ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব আদায়ের পথনকশা নেই ॥ মোট বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ॥ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ কোটি টাকা
॥ উসমান ফারুক ॥
অনেক আলোচনার পর জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থের বাজেট প্রস্তাব করেন, যা চলতি বাজেটের চেয়ে প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। বিশাল এই স্বপ্নবিলাসী বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায়ে এক কাল্পনিক লক্ষ্য দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। সরকারের স্বপ্নবিলাসী খরচ জোগাতে জনগণের কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার কর আদায় করতে হবে, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। অথচ চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এখন পর্যন্ত এক লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এখন তার চেয়ে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা বেশি আদায়ের অসম্ভব কাজটি কীভাবে সম্ভব হবে, তার কোনো পরিকল্পনা বা পথনকশা নেই বাজেট বক্তব্যে। বিশাল এই লক্ষ্য অর্জনে মধ্যবিত্তের ওপর সরকারকে নতুন করারোপ করা হয়েছে। বাজেটে ঘাটতি বেড়ে আড়াই লাখ কোটি টাকার ঘর পার করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান মন্দার অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স ছাড়া রপ্তানিসহ কোনো সূচকই ভালো না। অর্থনীতিকে টেনে তোলার চেয়ে কল্পনা ও ঋণনির্ভর বাজেট দিয়েছে সরকার। গত ১৭ বছরের লুটপাটে ক্ষয় হওয়া অর্থনীতি টেনে তোলার বদলে সরকার নির্বাচনি বাসনা পূরণের কাজে হাত দিয়েছে। খরচের টাকা জোগান দিতে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া হয়েছে নানারকম করছাড়। এতে মূল্যস্ফীতি আরো বেড়ে গিয়ে সাধারণ মানুষকে আরো ভোগান্তিতে ফেলবে। সরকারকে বাজেট সংশোধন করতে হবে মাঝপথেই। দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আবার ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেমন আছে অর্থনীতি : ২০২০ সালের করোনা মহামারির পর ২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার, সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অর্থনীতি খাদের কিনারায় চলে যায়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে যেতে হয় পৌনে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পেতে। রপ্তানি না বাড়লেও আমদানিতে লাগাম টানতে হয়। রিজার্ভ ক্ষয় হতে হতে ১৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নামে। এমন অবস্থায় অর্থ সংকটে নাকাল হওয়া আওয়ামী লীগ সরকার কোনোমতে ২০২৪ সালের জুন মাসে বাজেট দেয়। তাতে অর্থনীতির মন্দার অবস্থা প্রকট হয়ে ওঠে।
এমন দুরবস্থার মধ্যে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দেশের হাল ধরে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও সেই সরকার সময় বেশি পায়নি। খাদের কিনারা থেকে অর্থনীতিকে বাঁচানো সম্ভব হলেও সামনের দিকে এগোতে পারেনি। এমন বাস্তবতায় বিএনপি সরকার গঠন করে গত ফেব্রুয়ারিতে। সে মাসেই ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তাতে জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ সংকটে পড়ে যায় পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশও বিদ্যুৎ, জ্বালানির দর বাড়িয়ে দেয়। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার খেসারতে বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতি এখন সর্বোচ্চ।
সরকার এমন সময়ে বাজেট দিয়েছে, যখন অর্থনীতি নানা ধরনের দুর্দমনীয় চ্যালেঞ্জের ভেতরে রয়েছে। ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে থাকা রপ্তানি খাত, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, কর্মসংস্থান না থাকা, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি দেড় দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত না হওয়া, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকার ঘরে গিয়ে তারল্য সংকট তৈরি হওয়া ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আনুপাতিক হারে মজুরি বৃদ্ধি না হওয়ার মতো অনেক সমস্যা রয়েছে দেশের অর্থনীতিতে।
রয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার বাবদ কৃষি খাতে ভর্তুকি জোগানের মতো অনেক খরচ। দেশি ও বিদেশি ঋণের সুদ ব্যয় পরিশোধ করার চাপও রয়েছে। এসবের সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতাও দিন দিন কমছে সরকারের। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়তে শুরু করে, সে ধারা এখনো রয়েছে। আমদানি না বাড়ায় রিজার্ভও স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির একটি মাত্র উপকরণেই স্বস্তিতে আছে দেশ। কিন্তু রপ্তানিসহ অর্থনীতির অন্যসব সূচকই নেতিবাচক, যার প্রতিফলন দেখা যায় জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও। এ অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে টেনে তোলার দুশ্চিন্তার মধ্যেই সরকার ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
বাজেটের আকার বেড়েছে ১৯ শতাংশ
চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) জন্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছিল। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় বাজেট হিসেবে লেখা থাকবে। প্রতি বছরই বাজেটের আকার বাড়ানো হয়। কিন্তু চলতি অর্থবছরেই শুধু আগেরবারের চেয়ে ৭ হাজার কোটি টাকা কম ধরে বাজেট দেওয়া হয়। সেই বাজেটের এখন মাত্র ৫৩ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে ১০ মাসে। এমন বাস্তবতায় সরকার আরো ব্যয় বাড়িয়ে বাজেট দিয়েছে।
এক বছরের মধ্যে প্রায় ১৯ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়ে সরকার বাজেট ঘোষণা করেছে। অতীতে সাধারণত এক বছরে বাজেটের আকার বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে। আর্থিক মন্দার মধ্যে সরকার এত ব্যয় বাড়ানোয় ঘাটতির অঙ্কও বেড়ে গেছে। বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ধরা হয় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ধরা হয়। বর্তমানে গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৯ শতাংশের ঘরে রয়েছে।
বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে বিদেশি ঋণের আশা করছে সরকার সোয়া লাখ কোটি টাকা ও ব্যাংক থেকে নেবে বাকি ঘাটতির এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতির অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ৫৫ শতাংশের বেশি আসবে ব্যাংক খাত থেকে।
অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং সঞ্চয়পত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে। এটি এমন একসময়ে বেসরকারি বিনিয়োগকে সীমিত করতে পারে, যখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বেসরকারি খাতের আরও জোরালো অংশগ্রহণ প্রয়োজন। যদিও বর্তমানে ঋণের চাহিদা কিছুটা কম, তবে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলো অনুকূল পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছে, যা পরবর্তীতে ঋণের চাহিদা বাড়লে ব্যাংক কোথা থেকে টাকা দেবে।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জন্য সরকার ৬৩ হাজার কোটি টাকার বিদেশি ঋণ পাওয়ার আশা করেছিল। কিন্তু ১০ মাসে পেয়েছে মাত্র প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। আর্থিক খাতে সংস্কার না হওয়ায় আগামীতেও খুব বেশি বিদেশি ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই ঋণের পুরোটাই ব্যাংকের কাছে চলে যাবে বলেই ধরা যায়।
উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের মধ্যে শিক্ষা খাতে এক লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয় ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা আর বিদেশি ঋণ ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ কোটি টাকা
বাজেটে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এটি আদায় করতে হবে এনবিআরকে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের গত ১০ মাসে অর্থাৎ জুলাই-এপ্রিল সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের মোট লক্ষ্যমাত্র হচ্ছে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে বিদায়ী অর্থবছরের শেষ দুই মাসে মে ও জুনে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭১ কোটি টাকা আদায় করতে হবে এনবিআরকে। মাসে গড়ে আদায় করতে হবে ৮৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। যেখানে এনবিআরের গড় আদায় হচ্ছে প্রতি মাসে ৩২ হাজার কোটি টাকা করে।
এর আগে কোনো অর্থবছরের পুরো সময়েও এত ঘাটতি দেখা যায়নি। সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছিল গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে। ওই আর্থিক বছরে শুল্ক-কর আদায়ে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। অর্থবছরটিতে রাজস্ব আদায় হয় ৩ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা। অতীতে অর্থবছরের শেষ দিকে এসে রাজস্ব আয় বাড়তে দেখা গেলেও শেষ দুই মাসে পৌনে ২ লাখ কোটি টাকা আদায় করার সক্ষমতা এনবিআরের নেই বলে মনে করেন সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে হলে সংস্কার করতেই হবে। আমরা যে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। সংস্কার করলে কর আদায় পরিস্থিতি উন্নতি হবে। তখন সক্ষমতা অনুযায়ী আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া যেতে পারে। এখন তো বর্তমান লক্ষ্যমাত্রাই পূরণ করতে পারছে না। এই সক্ষমতা দিয়ে বাড়তি কর আদায় কীভাবে সম্ভব।
সেই প্রেক্ষাপটে বিশাল অঙ্কের বাজেট কল্পনাবিলাসী ছাড়া কিছুই না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এই আকারের বাজেটের বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনার সক্ষমতাকেই বারবার প্রশ্ন করবে। অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরির মতে, দেশের রাজস্ব আদায়ের বর্তমান সক্ষমতা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নতুন বাজেটে যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা উচ্চাভিলাষী। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার রাজস্ব আদায় সম্ভব না। পুরো বাজেটের বাস্তবায়নযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাজেটের আকার নয়, বরং এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা।
দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকায় গত দুই অর্থবছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে আসছে। তাতে মূল্যস্ফীতি গত ডিসেম্বর পর্যন্ত কমে আসছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠন করার পর সরকার হাঁটছে উল্টোপথে অর্থাৎ মুদ্রা সম্প্রসারণের দিকে। এতে মূল্যস্ফীতি গত মে মাসে গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে চলে গেছে।
এমন বাস্তবতায় আয়-ব্যয়ের মধ্যকার ভারসাম্যহীনতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে মোস্তফা মুজেরি বলেন, দীর্ঘসময় ধরেই অর্থনীতিতে মন্দা চলছে। মন্দার কারণে রাজস্ব আয় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মন্দা আরও বেড়েছে। রাজস্ব বোর্ড সংস্কার করতে গিয়ে সেখানেও অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে রাজস্ব আয় আরও কমেছে। একদিকে রাজস্ব আয় হ্রাস পেয়েছে; অন্যদিকে সরকারের ব্যয় বেড়েছে। ঘাটতি মেটাতে সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। অর্থনীতিতে বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। যে কারণে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়তে হয়েছে।
রাজনৈতিক সরকারের খরচ বাড়বে মন্তব্য করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, একদিকে আয় কম; অন্যদিকে খরচ বেশি। ফলে ঘাটতি মেটাতে সরকারকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হবে। লুটপাটের কারণে ব্যাংকগুলোর অবস্থাও ভালো নয়, অনেক ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়েছে। সরকারকে মোটা অঙ্কের ঋণের জোগান দিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়বে না। সরকার এখন উভয় সংকটে পড়েছে।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ অর্থনীতিতে
অর্থনীতির এমন মন্দার সময়ে বিএনপি সরকার এসেছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা। অর্থনীতি সাজানোর চেয়ে খরচের পাল্লা বাড়ানোর পরিকল্পনা সাধারণ মানুষকে আরো ভোগাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অর্থনীতির এমন দুরবস্থার সময়ে সরকারকে খরচের পাল্লাটি এমনভাবে ভারসাম্য আনার পরামর্শ দিয়েছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা, যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয়। ধীরে ধীরে নতুন নতুন প্রকল্প চালু করা। কিন্তু সরকার সেই পরামর্শ না শুনে নির্বাচনী বাসনার সব খরচ প্রথম বাজেটেই নিয়ে এসেছে।
এজন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ও প্রকল্প সেভাবেই তৈরি করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, এডিপিতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। বিদেশি ঋণ খাত থেকে নেওয়া হতে পারে অবশিষ্ট ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ প্রথমবারের মতো আটটি নতুন সামাজিক কর্মসূচি। এতে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে এক লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে, যা চলতি অর্থবছরের এক লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা ও আগের অর্থবছরের এক লাখ ৩৬ হাজার ২৬ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। আগামী অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ডে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। সীমিত আয় দিয়ে বড় বাজেটের খরচ সামাল দিতে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাতে সরকারি নির্বাচনী বাসনা ঠিক রাখতে হলে অন্য খাতে বরাদ্দ পাবে না। সহজ কথায়, অর্থনীতিকে টেনে তোলার চেষ্টার চেয়ে আরো বিশৃঙ্খল হওয়ার দিকেই যাবে দেশ। সর্বশেষ যার প্রভাব পড়বে কষ্টে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর।