সরকারের বাজেট বনাম বিরোধীদলের ছায়া বাজেট

গতানুগতিকতা বনাম কল্যাণমুখী চিন্তা


১১ জুন ২০২৬ ১০:৩০

॥ ফারাহ মাসুম ॥
বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট কেবল একটি সাধারণ আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি মূলত রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন। প্রতি বছর বিভিন্ন দেশে সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও একটি বিকল্প অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে ‘ছায়া বাজেট’ ঘোষণা করে থাকে। বাংলাদেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক্কালে সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট এবং বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত ছায়া বাজেটের মধ্যে বেশকিছু মৌলিক পার্থক্য ও মিল লক্ষ করা যাচ্ছে। রাজস্ব আহরণ, করনীতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং উন্নয়ন ব্যয়ের অগ্রাধিকার সব ক্ষেত্রেই দুই পক্ষের অবস্থানে স্পষ্ট ভিন্নতা রয়েছে।
জ্ঞাত তথ্যানুযায়ী, সরকারিভাবে ঘোষিত বাজেটের আকার যেখানে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, সেখানে বিরোধীদল দাবি করেছে যে ৮ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেই দেশকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। যদিও পূর্ববর্তী সরকারের নির্বিচার ঋণগ্রহণের কারণে বর্তমান বাজেট কাঠামোয় নানামুখী সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
১. বাজেটের আকার ও অর্থনৈতিক দর্শন
সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি : সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে প্রবৃদ্ধি অর্জন, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া। সরকার মূলত রাজস্ব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন : আইএমএফ) পরামর্শ অনুযায়ী আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে।
বিরোধীদলের দৃষ্টিভঙ্গি : অন্যদিকে বিরোধীদলের ছায়া বাজেট রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস, সামাজিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ঢালাও প্রবৃদ্ধির চেয়ে জনগণমুখী ব্যয় বাড়ানো এবং কর কাঠামোয় মৌলিক সংস্কার আনা বেশি প্রয়োজন।
২. রাজস্ব আহরণে ভিন্ন কৌশল
সরকারের পরিকল্পনা : সরকারি বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। এর সিংহভাগ আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে। করজাল সম্প্রসারণ, ভ্যাট আদায় বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল কর ব্যবস্থার উন্নয়নই সরকারের প্রধান কৌশল।
বিরোধীদলের প্রস্তাব : ছায়া বাজেটে করের হার না বাড়িয়ে কর ফাঁকি রোধ, অবৈধ অর্থ পাচার বন্ধ এবং কালো টাকা বৈধকরণের সুযোগ সীমিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদলের মতে, বিদ্যমান মধ্যবিত্ত ও সাধারণ করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে উচ্চ আয়ের গোষ্ঠী এবং অপ্রদর্শিত সম্পদের ওপর কার্যকর করারোপের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব। বিরোধীদলের ছায়া বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা।
মূল পার্থক্য : সরকার মূলত কর প্রশাসনের সক্ষমতা ও পরিধি বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব বাড়াতে চায়; আর বিরোধীদল কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা ও কর বৈষম্য কমানোর মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহের কথা বলছে।
৩. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দুই দৃষ্টিভঙ্গি
দেশে দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি ব্যবস্থা : সরকারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অভ্যন্তরীণ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।
বিরোধীদলের ব্যবস্থা : অন্যদিকে ছায়া বাজেটে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং খাদ্যপণ্যে সব ধরনের কর ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদলের দাবি, মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ শুধু আন্তর্জাতিক বাজার নয়; অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও সিন্ডিকেটও এর জন্য সমান দায়ী।
অর্থনীতিবিদদের মতামত : বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করেন, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় দুই ধরনের পদক্ষেপেরই সমান প্রয়োজন- একদিকে উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা; অন্যদিকে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা।
৪. সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি
সরকারের অবস্থান : সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা সম্প্রসারণ এবং ভাতা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ এখানে দৃশ্যমান। তবে আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণেই এই বরাদ্দ বৃদ্ধির হার তুলনামূলক সীমিত।
বিরোধীদলের অবস্থান : ছায়া বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আরও বড় বরাদ্দের দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবার, শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী এবং শহুরে দরিদ্রদের জন্য সরাসরি নগদ সহায়তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সংকটকালে সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় জিডিপির অনুপাতে আরও বাড়ানো আবশ্যক।
৫. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অগ্রাধিকার
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বাজেট বিশ্লেষকদের তীব্র সমালোচনা রয়েছে।
সরকারি বাজেট : সরকারের বাজেটে এ দুই খাতে মোট বরাদ্দ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো জিডিপির তুলনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিচে রয়ে গেছে। সরকার এখানে প্রধানত দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, ডিজিটাল দক্ষতা এবং হাসপাতালের অবকাঠামো আধুনিকীকরণে জোর দিয়েছে।
ছায়া বাজেট : শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ৩ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও গবেষণা খাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে।
মূল চ্যালেঞ্জ : এখানে বিরোধীদলের অবস্থান তুলনামূলকভাবে অধিক কল্যাণমুখী হলেও অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। সরকারের যুক্তি হলো, রাজস্ব সক্ষমতা ও করের পরিধি না বাড়িয়ে এ ধরনের উচ্চ ব্যয় বাস্তবায়ন করা অসম্ভব।
৬. কর্মসংস্থান ও যুবনীতি
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো যুব কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
সরকার : শিল্পায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে বেসরকারি খাতনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছে।
বিরোধীদল : কর্মসংস্থানকে বাজেটের কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরে যুব কর্মসংস্থানের জন্য একটি পৃথক বিশেষ তহবিল গঠন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার প্রস্তাব দিয়েছে। তারা সরাসরি কর্মসংস্থান কর্মসূচির পক্ষে।
৭. কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা
সরকার : কৃষি ভর্তুকি অব্যাহত রাখা, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সহায়তা বাড়ানোর কথা বলেছে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য (উৎপাদনকেন্দ্রিক)।
বিরোধীদল : কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, কৃষিঋণ সহজীকরণ, ঋণের সুদ হ্রাস এবং কৃষকের জন্য সরাসরি প্রণোদনা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকের পকেটে সরাসরি আয় নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ (আয়কেন্দ্রিক)।
৮. ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত
ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, খেলাপি ঋণের পাহাড় এবং আর্থিক খাতে সুশাসনের প্রশ্ন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।
সরকারি বাজেট : ব্যাংক খাত সংস্কার, ডিজিটাল আর্থিক সেবা জোরদার এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে।
ছায়া বাজেট : ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও প্রভাব সম্পূর্ণ বন্ধ করা, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আর্থিক খাতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৯. বৈদেশিক ঋণ ও উন্নয়ন ব্যয়
সরকার : মেগা ও বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর (সড়ক, রেল, বন্দর, বিদ্যুৎ) ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিপুল উন্নয়ন ব্যয় অব্যাহত রেখেছে। তবে রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর সরকারের এই নির্ভরতা অব্যাহত থাকছে, যা সুদের চাপ বাড়াচ্ছে।
বিরোধীদল : অগ্রাধিকারহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া বড় প্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়ন এবং অপচয় রোধের মাধ্যমে ঋণনির্ভরতা কমানোর কথা বলেছে। তাদের মতে, ব্যয়ের দক্ষতা ও গুণগতমান নিশ্চিত না করলে দেশ ঋণের ফাঁদে পড়বে।
১০. সরকারি বাজেট ও ছায়া বাজেটের খাতভিত্তিক তুলনামূলক চিত্র
খাত সরকারি বাজেট ছায়া বাজেট
শিক্ষা সীমিত বৃদ্ধি (দক্ষতা ও প্রযুক্তিভিত্তিক)- উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি (সামগ্রিক অংশ ও গবেষণা বৃদ্ধি)
স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উন্নয়ন- সেবা সম্প্রসারণ, দরিদ্রদের স্বাস্থ্যবীমা ও ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ
সামাজিক নিরাপত্তা বিদ্যমান কর্মসূচির পরিধি ও আওতা বৃদ্ধি- ব্যাপক সম্প্রসারণ (সুবিধাভোগী ও ভাতার পরিমাণ উভয়ই বৃদ্ধি)
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিকেন্দ্রিক ও যান্ত্রিকীকরণ- কৃষকের আয় বৃদ্ধিকেন্দ্রিক ও সরাসরি প্রণোদনা
অবকাঠামো মেগা ও বড় প্রকল্পকে অগ্রাধিকার- স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন অগ্রাধিকার
কর্মসংস্থান শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর- সরাসরি কর্মসংস্থান সহায়তা ও বিশেষ যুব তহবিল
ঋণ ব্যবস্থাপনা ধারাবাহিক ঋণনির্ভর উন্নয়ননীতি- অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প ছাঁটাই ও ঋণনির্ভরতা কমানোর প্রস্তাব
সার্বিক মূল্যায়ন ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
অর্থনীতির পরিভাষায় স্পষ্ট করে বলা যায়, সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট অপেক্ষাকৃত প্রবৃদ্ধিমুখী, যা আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। অপরদিকে বিরোধীদলের ছায়া বাজেট তুলনামূলকভাবে কল্যাণমুখী, যা সামাজিক সুরক্ষা, সম্পদ পুনর্বণ্টন এবং আয়-বৈষম্য কমানোর দিকে বেশি মনোযোগী।
তবে দুই বাজেটেরই নিজস্ব বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে
১. ছায়া বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ : এই অতিরিক্ত জনকল্যাণমুখী ও উচ্চব্যয়ের অর্থায়নের বাস্তবসম্মত উৎস বা রেভিনিউ কোথা থেকে আসবে, তার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা কিছুটা অভাব রয়েছে।
২. সরকারের বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ : উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিশাল রাজস্ব ঘাটতি এবং ব্যাংকিং খাতের চরম দুর্বলতার মধ্যে ঘোষিত এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রাগুলো বাস্তবে কতটুকু অর্জন করা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয়।
সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট এবং বিরোধীদলের ছায়া বাজেট- উভয়ই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণের লক্ষ্য সামনে রেখেই প্রণীত হয়েছে। একটি দেশের প্রকৃত ও টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য দুই পক্ষের ইতিবাচক ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাবগুলোর একটি সুস্থ সমন্বয় হতে পারে। রাজস্ব আহরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়া, যুব কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিÑ এই মৌলিক জাতীয় ইস্যুগুলোয় রাজনৈতিক মতভেদ অতিক্রম করে একটি সুদৃঢ় ‘জাতীয় ঐকমত্য’ গড়ে তোলা যেতে পারে। তবেই বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী, টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পথে এগিয়ে যেতে পারবে।