বর্ষাকালে মালনীছড়া চা বাগানে
৭ জুন ২০২৬ ১০:৩৩
॥ কাজী আবুল কাশেম রতন ॥
বর্ষাকাল, মামার বাড়ি মালনীছড়া চা বাগান সিলেট যেতে হবে। কারণ ঈদের ছুটিতে অফিস বন্ধ থাকবে। তাছাড়া মামা সবসময় সিলেট যাওয়ার কথা বলে। কখনো যাওয়া হয় না। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও যাওয়া হয় না। কাজের চাপ। অবশেষে ঈদের ছুটিটা মামার বাড়ি যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিলো। অনেক মজা হবে। মামার দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে। তাদের নিয়ে সিলেট শহরে ঘুরে বেড়ানো যাবে। বিশেষ করে মালনীছড়া চা বাগান, জাফলং, ছাতকের কমলা বাগান। শাহজালাল ও শাহপরান মাজার দেখা যাবে। দেখতে দেখতে ঈদ চলে এলো। অফিস ঈদের ছুটিতে বন্ধ হয়ে গেল। লম্বা ছুটি। তাই তো দেরি না করে খুব সকালে ট্রেনে করে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হলাম। রাস্তার দু-পাশের গাছপালা, বনবনানী যেন ট্রেনের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজের সমারোহ আর চা বাগান। দেখতে দেখতে কিছু দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে নিলাম। কিছুক্ষণ ট্রেন চলার পর হঠাৎ আকাশে মেঘ জমা হয়ে কালো হয়ে বৃষ্টি আসার মতো অবস্থা। ভাবছি এমন পরিবেশে কিছু লিখা যায় কিনা। ভাবতে ভাবতে আর লিখতে লিখতে বৃষ্টি যেন মুষলধারে শুরু হয়ে গেল। বৃষ্টি আর প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে করতে কখন যে সিলেট এসে পৌঁছলাম টের পাইনি। ট্রেন থেকে নামতেই মামা ছাতা হাতে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে। মামাকে দেখে অবাক হলেও ভাবতে লাগলাম, মামা কী করে জানলো আমি সিলেট আসছি। ভাবতেই মনে পড়লো আমার পাগল মা ছাড়া আর কে বলতে পারে। তার ভাইকে আমার আসার কথা বলে দিয়েছে। যাহোক মামার ছাতার নিচে করে হাঁটতে হাঁটতে স্টেশন থেকে বেরিয়ে রিকশায় চেপে মামা আর আমি মালনীছড়া চা বাগানে পৌঁছালাম। ততক্ষণে মামাতো ভাই-বোন আমাকে স্বাগত জানাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আর আনন্দে আত্মহারা। অবশেষে তাদের হাত ধরে বাসায় প্রবেশ করলাম। মামির সাথে সাক্ষাৎ করলাম। কাপড় ছেড়ে হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে খাবার শেষ করে মামাতো ভাই-বোন নিয়ে পাশের ঘরে আড্ডা আর গল্প করতে শুরু করলাম। আর পরিকল্পনা করতে লাগলাম কীভাবে ঈদের ছুটিতে সবাই সিলেট শহরে ভ্রমণ করবো এমনটাই।
লেখক : ছড়াকার, নবীনগর, বি-বাড়ীয়া।