বুদ্ধিমান পাখি
৭ জুন ২০২৬ ১০:৩৫
পাতাবাহার ডেস্ক : পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান হিসেবে গণ্য করা হয় কর্ভিড পরিবারের পাখিদের। যার মধ্যে রয়েছে কাক, দাড়কাক, রুক ইত্যাদি। এই পাখিরা এতটাই বুদ্ধিমান যে, এদের বুদ্ধিমত্তার তুলনা প্রায়ই প্রাইমেট বা বানরজাতীয় প্রাণীদের সাথে করা হয়। কাকের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো- এরা সারা জীবন ধরে বিভিন্ন নতুন শব্দ শিখতে পারে। প্রচলিত একটি ধারণা হলো এটি কেবল তাদের শ্বাসনালি বা ‘সিরিংক্স’-এর গঠনের জন্য হয়; কিন্তু বাস্তবে এটি মূলত তাদের উন্নত মস্তিষ্কের গঠন এবং সিরিংক্সের পেশিগুলোর স্বাধীন নিয়ন্ত্রণের কারণে সম্ভব হয়। বুদ্ধিমত্তার আরেকটি বড় প্রমাণ হলো- এদের হাতিয়ার ব্যবহারের সক্ষমতা, যা সমগ্র প্রাণিজগতের মাত্র ১ শতাংশ প্রাণীর মধ্যে দেখা যায়।
ড. কেইলি সুইফটের গবেষণা অনুযায়ী, যখন কোনো কাক মারা যায়, তখন অন্য কাকেরা অদ্ভুত আচরণ করে যা দেখতে অনেকটা মানুষের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মতো। একটি মৃত কাক দেখে অন্য একটি কাক বিপদ সংকেত দেয় এবং আশপাশের কাকদের জড়ো করে একটি বড় দল গঠন করে। তারা প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় ধরে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে এবং এরপর যে যার মতো চলে যায়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, মৃত কাক দেখলে তাদের মস্তিষ্কের ‘অ্যামিগডালা’ বা আবেগ নিয়ন্ত্রক অংশের বদলে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অংশ উদ্দীপিত হয়। অর্থাৎ তারা মৃতদেহটিকে শোক পালনের চেয়ে মূলত বিপদের সংকেত এবং ভবিষ্যতের জন্য শেখার সুযোগ হিসেবেই বেশি দেখে। গবেষণা চলাকালীন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে কাকদের মৃতদেহের কাছাকাছি এসে কৌতূহল বা আক্রমণাত্মক আচরণ করতেও দেখা গেছে।
কাকেরা মৃতদের জন্য সত্যিই শোক পালন করে কিনা বা তাদের মধ্যে সহানুভূতি কাজ করে কিনা, তা এখনো একটি প্রশ্ন হয়েই আছে। ড. সুইফটের মস্তিষ্কের স্ক্যানিং পরীক্ষায় কাকদেরকে কেবল ‘অপরিচিত’ মৃত কাক দেখানো হয়েছিল, তাই পরিচিত বা দীর্ঘদিনের সঙ্গী মারা গেলে তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রক অংশ উদ্দীপিত হতো কিনা, তা অজানা রয়ে গেছে। তবে অন্যান্য গবেষণায় র্যাভেনদের মধ্যে ‘ইমোশন কনটাজিয়ন’ বা অন্যের আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই কাকদের এ জমায়েতগুলো প্রাথমিকভাবে বিপদের সতর্কতা হিসেবে প্রমাণিত হলেও, এ অত্যন্ত বুদ্ধিমান পাখিদের যে সহানুভূতি অনুভবের সক্ষমতা থাকতে পারে, সেই সম্ভাবনাটি বিজ্ঞানীরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।