জিন পাহাড়ের রহস্য
৭ জুন ২০২৬ ১০:৩৭
॥ আব্দুস সাত্তার সুমন ॥
সৌদি আরবের মদিনা নগরী থেকে কিছুটা দূরে এক শান্ত উপত্যকা ওয়াদি আল-জিন। স্থানীয়রা একে ভালোবেসে বলে ‘জিন পাহাড়’। বলা হয়, এখানে নাকি জিনেরা বসবাস করে, আর গাড়ি ইঞ্জিন বন্ধ রেখেও নিজে নিজে চলতে শুরু করে!
আরব দেশের ছোট্ট ছেলে সাঈদ, তার বাবা ইঞ্জিনিয়ার, আর মা শিক্ষক। একদিন বাবা বললেন,
চলো, আজ তোমাকে দেখাব এমন এক জায়গা, যেখানে মানুষ ভাবে জিন গাড়ি চালায়।
সাঈদ চোখ বড় বড় করে বলল,
সত্যি বাবা? তাহলে কি জিন সত্যিই আছে?
বাবা হেসে উত্তর দিলেন, জিন আছে, ওটা আল্লাহর এক সৃষ্টি। কিন্তু জিন পাহাড়ের গাড়ি চলার রহস্যটা অন্য কিছু।
রওনা দিল জিন পাহাড়ের পথে-
গরম দুপুরে তারা পৌঁছাল সেই উপত্যকায়। ধুলা উড়ছে, পাথরগুলো ঝলমল করছে রোদে। চারপাশে নিস্তব্ধতা, শুধু বাতাসের হাহাকার।
বাবা গাড়িটাকে রাস্তার মাঝখানে এনে থামালেন।
দেখো সাঈদ, বাবা বললেন এবার ইঞ্জিন বন্ধ করে নিউট্রালে রাখছি।
আদিল অবাক হয়ে দেখল গাড়িটা ধীরে ধীরে সামনে গড়াতে লাগল!
বাবা! বাবা! দেখো, সত্যিই জিন গাড়ি ঠেলছে!
বাবা হেসে বললেন,
না রে, এটা জিন না। এটা প্রকৃতির এক অপটিক্যাল খেলা।
তারা সত্যের সন্ধান চললেন-
বাবা গাড়ি থেকে নামলেন, একটা পানির বোতল রাস্তার ওপর রাখলেন। বোতলটাও গড়াতে লাগল, কিন্তু এবার বিপরীত দিকে!
দেখো সাঈদ, বাবা বললেন যে রাস্তা চোখে উঁচু মনে হচ্ছে, আসলে সেটা নিচু। চারপাশের পাহাড়ের ঢাল আর দিগন্তের অবস্থান আমাদের চোখকে ভুল দেখাচ্ছে। তাই মনে হচ্ছে গাড়ি উঁচুতে উঠছে, অথচ তা নিচে নামছে।
সাঈদ ভাবল, মানে চোখও কখনো ভুল দেখে?
বাবা মাথা নেড়ে বললেন, হ্যাঁ। তাই মানুষকে শুধু দেখা নয়, বুঝেও চিন্তা করতে হয়।
শিক্ষণীয় বার্তা:
ফেরার পথে মা বললেন, সাঈদ, এই জায়গাটা তোমাকে কী শেখাল?
সাঈদ ধীরে ধীরে বলল, আমি শিখলাম যে বস্তু রহস্যময় মনে হয়, সবসময় তা অলৌকিক না। আল্লাহ আমাদের মস্তিষ্ক দিয়েছেন চিন্তা করার জন্য। আর যে মানুষ জ্ঞানে আলো ছড়ায়, সে-ই অন্ধকারের ভয় দূর করতে পারে।
মা মৃদু হেসে বললেন, একদম ঠিক। তাই জ্ঞানই আসল শক্তি।