বাজেট অধিবেশন ৭ জুন


৪ জুন ২০২৬ ০৯:৪২

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন বসতে যাচ্ছে আগামী ৭ জুন রোববার। ওই দিন বিকাল ৩টায় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এটি হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন। এ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আগামী ৭ জুন রোববার বিকাল ৩টা থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট) অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
সাধারণত বাজেট অধিবেশন দীর্ঘ হয়। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সংসদ কত দিন চলবে, তা নির্ধারণ করা হবে।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায়ের বিশাল ঘাটতি পূরণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। সরকার প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল এবং উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিলেও বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এটি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনৈতিক বিশ্লেষক এবং গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (ঈচউ) তথ্যঅনুযায়ী, আসন্ন বাজেটের প্রধান ৫টি চ্যালেঞ্জ নিচে তুলে ধরা হলো: ১. অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণভোক্তা খাতের চাপ: দীর্ঘসময় ধরে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় থাকায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ: চাল, ডালসহ ২৮টি নিত্যপণ্যের ওপর নতুন কর আরোপের প্রস্তাবনা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনাই হবে অর্থমন্ত্রীর প্রধান পরীক্ষা। ২. রাজস্ব আহরণে বিশাল ঘাটতি এনবিআরের অক্ষমতা: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (ঘইজ) চলতি অর্থবছরেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা কম আদায় করেছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ ঘাটতি। উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য: ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও নতুন অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা অবাস্তব বলে মনে করা হচ্ছে। ৩. বৈদেশিক রিজার্ভ সংকট ও ডলারের অবমূল্যায়ন রিজার্ভের ওপর চাপ: বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কাক্সিক্ষত পর্যায়ে স্থিতিশীল হচ্ছে না। টাকার মান পতন: মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় আমদানি ব্যয় যেমন ক্যাপিটাল মেশিনারিজ বা শিল্পের কাঁচামাল আমদানির খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ৪. বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধের বাড়তি বোঝাঋণের সুদ: অতীতে নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলোর অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের সময় ঘনিয়ে এসেছে। বাজেটের টাকা অপচয়: নতুন বাজেটের প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকাই চলে যাবে শুধু ঋণের সুদ পরিশোধ করতে, যা উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ কমিয়ে দিচ্ছে। ৫. বিনিয়োগ স্থবিরতা ও কর্মসংস্থানের অভাবে বেসরকারি বিনিয়োগ মন্দা: ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা ও ব্যাংক খাতের তারল্য সংকটের কারণে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি হ্রাস: কলকারখানার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি (Capital Machinery) আমদানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় নিয়ে আসা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজেটে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। তাই আমরা বাজেটে প্রথমেই দরিদ্র, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং গৃহিণীদের অগ্রাধিকার দিয়েছি।