কসবায় বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত
১৫ মে ২০২৬ ২১:৩০
স্টাফ রিপোর্টার : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের ছোড়া গুলিতে গত ৮ মে শুক্রবার রাতে এক কলেজছাত্রসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গত ৯ মে শনিবার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়ন।
সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় জামায়াতের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত ৯ মে শনিবার এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৮ মে শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুরসালিন এবং একই ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেনকে ভারতীয় রক্ষীবাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আমি নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং দোয়া করছি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদের এই কঠিন শোকে ধৈর্যধারণ করার তাওফিক দান করুন।
তিনি আরও বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি যে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায়ই বিনা কারণে হত্যাকাণ্ড চালায়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোটায় নিয়ে আসার জন্য ভারত বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও হত্যাকাণ্ড ক্রমাগতভাবেই বাড়ছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বাংলাদেশিদের অন্যায় হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া খুবই উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণেই ভারত বারবার বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সবসময়ই প্রতিবেশীদের কাছে বন্ধুসুলভ আচরণ কামনা করে। আমরা আশা প্রকাশ করছি, ভারত সরকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনাকাক্সিক্ষত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করবে এবং মো. মুরসালিন ও নবী হোসেনসহ অদ্যাবধি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।