ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলায় প্রতিবাদ , মন্তব্য প্রত্যাহার প্রতিমন্ত্রীরকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলায় প্রতিবাদ সাদা দলের, মন্তব্য প্রত্যাহার প্রতিমন্ত্রীর
৩০ মে ২০২৬ ১০:৫৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করে করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। সংগঠনটি মন্তব্যটিকে “চরম অবমাননাকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এদিকে বিতর্কের মুখে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
শুক্রবার সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টারের সাথে তুলনা করে যে চরম অবমাননাকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সংগঠন সাদা দল তার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছে।” তারা বলেন, গবেষণা ও প্রকাশনায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষস্থানে রয়েছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন এশিয়া র্যাংকিং অনুযায়ী এটি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গবেষণা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে প্রায় ৫৬টি সক্রিয় ও বিশেষায়িত গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র এবং সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র অন্যতম।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্কোপাস এবং ওয়েব অব সায়েন্স ইনডেক্সড জার্নালে অসংখ্য গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে দু’টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে তুলনা করেছেন তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে সাদা দলের নেতারা বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এই বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, জন্ম এবং বিকাশের ইতিহাসের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত।”
সরকারের একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য “অত্যন্ত লজ্জাজনক” বলেও মন্তব্য করেন সাদা দলের নেতারা। তারা বলেন, “এমন একটি ঐতিহ্যবাহী ও জাতীয় আবেগ জড়ানো প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে একজন দায়িত্বশীল প্রতিমন্ত্রীর মুখে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলো কোচিং সেন্টার’ এই ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” তারা আরও বলেন, “তার এই মন্তব্য কোনো সুস্থ বা ইতিহাস সচেতন মানুষের হতে পারে না; বরং এটি একজন চরম অর্বাচীন ব্যক্তির অজ্ঞতাপ্রসূত প্রলাপ বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।” বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, “এই অবিবেচনাপ্রসূত মন্তব্যের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সর্বোপরি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস ও অবদানকে চরমভাবে অপমান করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল অবিলম্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের এই অবমাননাকর মন্তব্য অতি দ্রুত প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানাচ্ছে অন্যথায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।” এদিকে শুক্রবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আমার কিছু মন্তব্য নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি, আমার বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তার ভুল ব্যাখ্যাও করা হয়েছে।” প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এগুলো সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত চিন্তা ও মতামত; এগুলো কোনোভাবেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়।”
তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বেশি গবেষণানির্ভর ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা। তিনি বলেন, “আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করা ছিল না; বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরা ছিল।” ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়া, রাজনৈতিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতার অভাবের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে প্লেজারিজমের মতো অনৈতিক একাডেমিক চর্চারও সমালোচনা করেন। পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, “তারপরও আমার আংশিক বক্তব্যটি যেহেতু কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করেছে, অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়েছেন, আমার অনেক প্রিয়জন ও শুভাকাঙ্ক্ষী মর্মাহত হয়েছেন সেজন্য আমার এই বক্তব্যটি আমি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং আশা করি এরপর এ বিষয়ে আর কোনো বিতর্ক ও ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলায় প্রতিবাদ সাদা দলের মন্তব্য প্রত্যাহার প্রতিমন্ত্রীর