ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট হতে রাজি হননি আইনস্টাইন কারণ..

সোনার বাংলা অনলাইন
৩০ মে ২০২৬ ১৪:৩৬

আইনস্টাইন। ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বায়োকেমিস্ট খাইম ভাইৎসম্যান জন্মগ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন রুশ সাম্রাজ্যে। তার অ্যাসিটোন নামক রাসায়নিক পদার্থ উৎপাদন সংক্রান্ত আবিষ্কার ১৯১০-এর দশকে কৌশলগত সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। খবর বিবিসি বাংলার।

হলোকস্টের ভয়াবহতার পর ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ একটা রেজোলিউশনের মাধ্যমে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনাধীন প্যালেস্টাইনকে দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করার অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে একটা ইহুদিদের জন্য এবং অন্যটা আরবদের।

ইসরাইল ১৯৪৮ সালে নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করে। তবে ফিলিস্তিনিদের এখনো কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র নেই, যদিও ১৪০টারও বেশি দেশ তাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। জায়নবাদের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভাইৎসম্যানকে ১৯৪৯ সালে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও বেছে নেওয়া হয়। তবে এই পদ মূলত আনুষ্ঠানিক ছিল, প্রশাসনিক না। কারণ ইসরাইল একটা সংসদীয় প্রজাতন্ত্র এবং সেখানে সরকারের প্রধান হলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।

৭৭ বছর বয়সে ১৯৫২ সালে ভাইৎসম্যানের মৃত্যু হয়। ফলে ইসরাইলের একজন নতুন প্রেসিডেন্টের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেই সময় প্রেসিডেন্ট হিসেবে এমন বিশিষ্ট ইহুদি ব্যক্তিত্বদের নাম প্রস্তাব করা হয় যারা এই ভূমিকা পালন করতে এবং নবগঠিত দেশে অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে পারেন।

তাই, প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নের সরকার এই পদের জন্য আবারও একজন বিজ্ঞানীকেই আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা বিজ্ঞানী- আলবার্ট আইনস্টাইন।

আমন্ত্রণ ও প্রত্যাখ্যান:

সেই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের দূত ছিলেন আব্বা ইবন। এই বিষয়ে আইনস্টাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।

জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী আইনস্টাইন ১৯৩৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন। সে বছর অ্যাডলফ হিটলার ক্ষমতায় আসেন এবং জার্মানিতে ইহুদিদের ওপর নিপীড়ন শুরু হয়। ডেভিড বেন-গুরিয়নের পক্ষ থেকে আইনস্টাইনকে একটা চিঠি লিখেছিলেন ইবন।

ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ভৌগোলিকভাবে ইসরাইল একটা ছোট দেশ হলেও তা মহত্ত্ব অর্জন করতে পারে। কারণ এই দেশ ইহুদি জনগণের প্রাচীন ও আধুনিক- দু’দিক থেকেই সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধিগত ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তৎকালীন ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ব্যাখ্যা করেন যে, এর জন্য আইনস্টাইনকে তার বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন ত্যাগ করতে হবে না। তবে তাকে নিউ জার্সি ছেড়ে ইসরায়েলে চলে যেতে হবে। সেই সময় প্রিন্সটনের ‘ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আইনস্টাইন এবং তিনি নিউ জার্সিতেই থাকতেন।

বছর ৭৩-এর আইনস্টাইন এই আমন্ত্রণে রাজি হননি। বিনয়ের সঙ্গে ওই চিঠির জবাব দেন এবং আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি যে আপ্লুত সে কথাও উল্লেখ করেন।

যদিও এই ধরনের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না আইনস্টাইন।

জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আইনস্টাইন আর্কাইভ’-এর কিউরেটর এবং এই বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত চিঠিপত্র ও ছবি সংকলনকারী বই- ‘আইনস্টাইনের নোটবুকস’-এর লেখক জিভ রোজেনক্র্যান্টজের মতে, আলবার্ট আইনস্টাইন যুক্তি দিয়েছিলেন ওই পদের জন্য যে দক্ষতার প্রয়োজন, তার সেসবের অভাব রয়েছে।

আইনস্টাইন চিঠির জবাবে লিখেছিলেন, ইসরাইলের সরকারের এই প্রস্তাবে আমি গভীরভাবে অভিভূত এবং একইসঙ্গে তা গ্রহণ করতে না পারায় দুঃখ ও লজ্জাবোধ করছি।

তিনি আরও লেখেন, আমি সারা জীবন বস্তুনিষ্ঠ সমস্যা নিয়ে কাজ করেছি, তাই মানুষের সঙ্গে যথাযথভাবে আচরণ করার কিংবা দপ্তরের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় এবং সহজাত দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা আমার নেই। শুধু এই কারণেই, আমি এত উচ্চ পদের দায়িত্ব গ্রহণের যোগ্য নই।

‘এই পরিস্থিতি আমাকে আরও বেশি পীড়া দেয়, কারণ বিশ্বে নিজের নড়বড়ে অবস্থান নিয়ে যে সময় থেকে পুরোপুরি উপলব্ধি করা শুরু করি, তখন থেকে ইহুদিদের সঙ্গে সম্পর্কই আমার সবচেয়ে শক্তিশালী মানবিক বন্ধন হয়ে উঠেছে।’

আইনস্টাইনকে নিয়ে বেশ কয়েকটা বই লিখেছেন অ্যালিস ক্যালাপ্রিস। এই লেখিকার মতে ডেভিড বেন-গুরিয়ন এই প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন।

এই প্রসঙ্গে তিনি তার বই ‘আইনস্টাইন এনসাইক্লোপিডিয়া’-তে লিখেছেন, বেন-গুরিয়ন উদ্বিগ্ন ছিলেন যে রাজনৈতিক বিষয়ে আইনস্টাইনের দুঃসাহস তাকে (ডেভিড বেন-গুরিয়নকে) নিজের নীতির বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তার চিফ অব স্টাফ আইজ্যাক নাফোনকে (যিনি পরে ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন) বলেছিলেন, উনি (আইনস্টাইন) যদি রাজি হন, তাহলে আমার কী করা উচিত, সে বিষয়ে আমাকে পরামর্শ দিন।

‘এই পদের বিষয়ে তাকে প্রস্তাব দিতেই হতো, কারণ আমি না বলতে পারিনি। কিন্তু উনি যদি এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন, তাহলে আমরা সমস্যায় পড়ব।’

ইসরাইল ও আইনস্টাইন:

তবে এর অর্থ এই নয় যে ইসরাইলের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির প্রতি উদাসীন ছিলেন আইনস্টাইন।

রিও ডি জেনিরোর ফেডারেল ইউনিভার্সিটির ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক এম গেরম্যানের কথায়, আইনস্টাইন জায়নবাদী আন্দোলনের একজন সমর্থক ছিলেন। তিনি ১৯২১ সাল থেকে ভাইৎসম্যানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং জায়নবাদের এমন এক বামপন্থি শাখার প্রতিনিধিত্ব করতেন যা ফিলিস্তিনে আরব ও ইহুদিদের জাতীয় অধিকারসহ দ্বি-জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থন করত।

জায়নবাদ এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন এই অধ্যাপক গেরম্যান।

আইনস্টাইনের লেখা চিঠিপত্র এই বিষয়টি বুঝতে সহায়তা করতে পারে। ১৯৪৭ সালে, ভারতের স্বাধীনতার পর তিনি দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে একটা চিঠি লিখেছিলেন।

তাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি আইনস্টাইন তার বিশ্বাস সম্পর্কে লেখেন, আমি জায়নবাদী আদর্শকে গ্রহণ করেছি, কারণ আমি এর মধ্যে দিয়ে একটা সুস্পষ্ট ভুলকে সংশোধন করার পথ দেখতে পেয়েছিলাম।

পরের বছর ইসরাইল স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তাদের কয়েক দশকের সংগ্রাম ফলপ্রসূ হয়। এই নিয়ে সন্তুষ্টও ছিলেন তারা। তবে ইসরাইলের চরমপন্থি গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেছিলেন।

১৯৪৮ সালের শেষের দিকে তিনি এবং আরো কয়েকজন ইহুদি বুদ্ধিজীবী ইসরাইলি রাজনীতিবিদ মেনাখেম বেগিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সমালোচনা করে নিউইয়র্ক টাইমসকে একটা খোলা চিঠি লেখেন।

মেনাখেম বেগিন ছিলেন ইরগুনের নেতা। ইরগুন হলো এক জায়নবাদী আধাসামরিক সংগঠন যা ইসরাইল প্রতিষ্ঠার আগে ফিলিস্তিনি ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা চালাত।

ওই বছরই ইরগুন জেরুজালেমের কাছে দেইর ইয়াসিন গ্রামে গণহত্যা চালায়। সেখানে পুরুষ, নারী ও শিশুসহ শতাধিক ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়।

এর কিছু সময় পর, মেনাখেম বেগিন ওই সংগঠন থেকেই হারুত (হিব্রু ভাষায় যার অর্থ ‘স্বাধীনতা’) নামে একটা নতুন দল গঠন করেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়, এই দলের নেতা মেনাখেম বেগিনের এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের স্পষ্ট উদ্দেশ্য হলো এই ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া যে, তিনি আসন্ন ইসরাইলি নির্বাচনে মার্কিন সমর্থন পেতে চলেছেন।

ওই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা একেবারে প্রথম অনুচ্ছেদেই হারুত সম্পর্কে নিজেদের মতামত স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। তারা উল্লেখ করেছিলেন, সংগঠন, পদ্ধতি, রাজনৈতিক দর্শন এবং সামাজিক প্রভাবের দিক থেকে এই দলের সঙ্গে নাৎসি ও ফ্যাসিবাদী দলগুলোর বেশ সাদৃশ্য রয়েছে।

এই চিঠি ২০২৪ সালে আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। সেই সময় ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা গাজা ভূখণ্ডে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে হলোকাস্টের সঙ্গে তুলনা করেন। তারপর ব্রাজিলিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু বামপন্থি এই চিঠি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু করেন।

তবে চিঠির বক্তব্য যে প্রসঙ্গ করা হয়েছিল, তার উল্লেখ না করেই উপস্থাপন করা হলে মনে হতেই পারে যে আইনস্টাইন ইসরাইল-বিরোধী ছিলেন।

ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ রিচার্ড ক্রোকেট তার বই ‘আইনস্টাইন অ্যান্ড টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি পলিটিক্স: অ্যা স্যালিউটারি ইনফ্লুয়েন্স’- এর উপসংহারে বলেছেন, আইনস্টাইনকে কখনো ইহুদিবাদ এবং ইসরায়েলের সমালোচক হিসেবে দেখানো হয়েছে, আবার কখনো এর সমর্থক হিসেবে। যে যখন যেমন পেরেছেন, তেমনভাবে নিজেদের অবস্থানের কথা ভেবে বিষয়টাকে ব্যবহার করেছেন।

ক্রোকেটের মতে, রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে আইনস্টাইনের দৃষ্টিভঙ্গির মূল কারণ ছিল বৃহত্তর মূল্যবোধের কাঠামোর প্রতি তার প্রতিশ্রুতি।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সব কিছুর ঊর্ধ্বে, জাতীয়তাবাদের প্রতি তার বিতৃষ্ণা এবং আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রতি তার প্রতিশ্রুতির মতো কারণ ইহুদিবাদ এবং ইসরাইল সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিকে সংজ্ঞায়িত করে এসেছে।

এই আইনস্টাইনকেই ১৯৫২ সালে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

অধ্যাপক গেরম্যান বলেন, সম্ভবত এর উদ্দেশ্য ছিল কয়েক বছর আগে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফলে অস্তিত্ব লাভ করা এক রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বৈধতা দেওয়া।

তিনি ১৯৪৮-১৯৪৯ সালের যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যেখানে ইসরাইল আরব লীগকে পরাজিত করে এবং ভবিষ্যতের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত অর্ধেক অঞ্চল দখল করে।

অধ্যাপক গেরম্যান মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের পদ মূলত প্রতীকী হলেও তা ব্যাপকভাবে রাজনৈতিকও।

তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, আইনস্টাইনকে শুধু ইহুদি হওয়ার জন্যই (প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণের জন্য) আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, এর নেপথ্যে ইহুদিবাদী আন্দোলনের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সংযোগ এবং ইসরাইল প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থনও ছিল।

তিনি আরও বলেন, দেশের ভাবমূর্তি উন্নত করার লক্ষ্যে ওই প্রতীকী পদে ইসরাইলের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য অন্যান্য বিশিষ্ট ইহুদি ব্যক্তিত্বদেরও বারবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

যেমন ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সাইমন পেরেজ সুপরিচিত লেখক আমোস ওজকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

‘বেথ শোলোম’ নামে ইহুদিবাদে বিশ্বাসী বুদ্ধিজীবীদের একটা আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। আইনস্টাইনও এর অংশ ছিলেন। দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে সংখ্যালঘু বলে বিবেচিত হলেও তা জায়নবাদের অন্যান্য ধারা থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন ছিল না।

এর সদস্যদের মধ্যে ছিলেন দার্শনিক ও ইতিহাসবিদ হান্না আরেন্ড, অস্ট্রিয়ান-ইসরাইলি দার্শনিক মার্টিন বুবার এবং ইসরাইলি দার্শনিক- ইতিহাসবিদ গেরশম শোলোমের মতো বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী। জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে কয়েকজনও বেথ শোলমের সদস্য ছিলেন।

কিন্তু অধ্যাপক গেরম্যানের মতে, বর্তমান ইসরাইলি সরকার এই গোষ্ঠীর সদস্যদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। কারণ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের কাছে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সমর্থক এবং ভিন্ন চিন্তাধারার জন্য কোনো স্থান নেই।

তিনি প্রশ্ন করেছেন, আমাদের সময়ের আইনস্টাইন কে ছিলেন? কল্পনা করুন কেউ এই পদ গ্রহণ করছেন। রসায়নে নোবেল বিজয়ী এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের দখলদারিত্ব ও গাজার বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচক আদা ইয়োনাত কি এই পদ গ্রহণ করবেন? আমি তা মনে করি না।

আইনস্টাইন সে বছর প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণ করেননি। সে বছর ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণ করেছিলেন ইতিহাসবিদ আইজ্যাক বেন-জেভি।

যে মেনাখেম বেগিনকে আইনস্টাইন এবং অন্যান্যরা সমালোচনা করেছিলেন সেই ব্যক্তিই ক্রমে ইসরাইলে আরো প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন। তার দল একটা প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছিল।

পরবর্তী দশকগুলোতে হারুত রক্ষণশীলদের প্রধান দল হয়ে ওঠে। বেগিন ১৯৭৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হন এবং তিনি ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন।

পাঁচ বছর পরে, হারুত আরেকটা ডানপন্থি দল ‘লিকুদ’-এর সঙ্গে মিশে যায়। ২০০৬ সাল থেকে দলটির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র: বিবিসি

আইনস্টাইন আন্তর্জাতিক ইতিহাস

সম্পর্কিত খবর