সংকটের শঙ্কা নেই

সিলেটে উদ্বৃত্ত থাকবে ৩৭ হাজার কুরবানির পশু


১৫ মে ২০২৬ ২১:২৭

আবদুল বাছেত মিলন, সিলেট : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিলেটে কুরবানিযোগ্য পশুর কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছে বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। চলতি বছর সিলেট বিভাগে কুরবানির পশুর চাহিদা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমলেও স্থানীয় খামারিদের কাছে চাহিদার চেয়ে প্রায় ৩৭ হাজার পশু বেশি মজুদ রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এবার সিলেট বিভাগের চার জেলায় (সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ) কুরবানির পশুর মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৭টি। এর বিপরীতে স্থানীয় খামারি ও গৃহপালিত পশুর মজুদ রয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৫১৫টি। অর্থাৎ স্থানীয় উৎপাদন থেকেই চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৭ হাজার ৩৮টি পশু উদ্বৃত্ত থাকছে।
প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৬টি ষাঁড়, ৩২ হাজার ৩৬৮টি বলদ, ৩৭ হাজার ৩৯২টি গাভি ছাড়াও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মহিষ, ছাগল ও ভেড়া রয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে সিলেটের অনেকে প্রবাসী, যারা বড় গরু কুরবানি দিতে পছন্দ করেন। স্থানীয়ভাবে বড় গরুর সরবরাহ কিছুটা কম থাকলেও খামারি ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বড় আকারের গরু সিলেটে আসবে। ফলে বাজারে বৈচিত্র্য ও পর্যাপ্ততা বজায় থাকবে।
সিলেট জেলায় এবার মোট ৬২টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে মহানগর এলাকায় রয়েছে ১২টি হাট। দক্ষিণ সুরমার পারাইরচক ট্রাক টার্মিনাল, মাছিমপুর কয়েদীর মাঠ এবং টিলাগড় পয়েন্টের মতো প্রধান স্থানগুলোয় প্রস্তুতির পর্যায়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী দল কাজ করবে।
সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের পরিচালক ডা. মারুফ হাসান জানান, ‘প্রাথমিক হিসাবে সিলেটে পশুর কোনো ঘাটতি নেই। খামারিদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ আছে এবং বাইরের জেলা থেকেও পশু আসবে। আশা করছি, ক্রেতারা তাদের সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পশু কিনতে পারবেন।’
তবে খামারিরা জানিয়েছেন, গো-খাদ্যের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় পশুর দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে।