স্মৃতির পাতায় অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান
১৫ মে ২০২৬ ২১:২৬
॥ তৌহিদুর রহমান ॥
অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান ১৮ ডিসেম্বর ১৯৩৭ (৩ পৌষ, সোমবার ১৩৪৪) সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার চরনরিনা গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস উক্ত থানার চরবেলতৈল গ্রামে। তার পিতা আবু মুহম্মদ গোলাম রব্বানী, মাতা মোছাম্মৎ আসুদা খাতুন, দাদা মুনশী ওয়াহেদ আলী পণ্ডিত, দাদি মোছাম্মৎ রমিছা খাতুন। একসময় বিদ্যাচর্চা ও শিক্ষাদানের কাজে সুখ্যাতি অর্জনের ফলে বনেদি মুনশী পরিবার ‘পণ্ডিত বাড়ি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা লাভের পর নরিনা নিম্ন মাধ্যমিক ইংরেজি স্কুলে পঞ্চম-অষ্টম শ্রেণি এবং ১৯৫৬ সালে পোতাজিয়া হাইস্কুল থেকে মেট্রিক, ১৯৫৮ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে আইএ, ১৯৬০ সালে বিএ পাস করেন। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন।
১৯৬২-৭৭ পর্যন্ত ঢাকা সিদ্ধেশ্বরী কলেজে যথাক্রমে অধ্যাপক, ভাইস-প্রিন্সিপাল ও ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন। উক্ত সময়ে তিনি ঢাকার ফ্রাঙ্কলিন বুক প্রোগ্রামসে নিয়মিত বিভাগে সহকারী সম্পাদক ও প্রথম বাংলা বিশ্বকোষ প্রকল্পে অন্যতম সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭০-৭১ জাতীয় পত্রিকা দৈনিক সংগ্রামের সাহিত্য সম্পাদক, ১৯৭৭-৯৬ দুবাই চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিতে প্রকাশনা বিভাগে সম্পাদক এবং ২০০৩-০৯ তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
সাহিত্যকর্ম : প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে তার কবিতা লেখা শুরুও। ১৯৫৮ সালে অমর কথাশিল্পী মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্নের ওপর লেখা তাঁর প্রথম গবেষণামূলক প্রবন্ধ ‘দৈনিক আজাদ’ পত্রিকায় প্রকাশিত। তিনি বাংলাদেশ ও দুবাই থেকে প্রকাশিত পত্রপত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেন।
প্রকাশিত গ্রন্থ : ১. বাংল সাাহিত্যের ধারা, ২. সাহিত্য চিন্তা, ৩. বাংলাদেশের সাহিত্য, ৪. বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্য, ৫. হাজার বছরের বাংলা কবিতা, ৬. সমকালীন বাংলা সাহিত্য-১ম খণ্ড, ৭. সমকালীন বাংলা সাহিত্য-২য় খণ্ড, ৮. সমকালীন বাংলা সাহিত্য-৩য় খণ্ড, ৯. বাংলা ভাষার উৎপত্তি, বিকাশ ও বিবর্তনের ধারায় ভাষা সংস্কার ও বানান রীতি, ১০. রবীন্দ্রনাথ, ১১. রবীন্দ্রনাথ ও আমাদের সংস্কৃতি, ১২. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ১৩. বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি নজরুল : জীবন ও কাব্য, ১৪. গদ্য শিল্পী নজরুল, ১৫. ফররুখ প্রতিভা, ১৬. কবি ফররুখ আহমদ: জীবন ও সাহিত্য বিষয়ক তথ্যপঞ্জি, ১৭. ফররুখ আহমদের সাত সাগরের মাঝি, ১৮. বাঙালি মুসলিম নবজাগরণে সাহিত্য সংস্কৃতি সংগঠনের ভূমিকা, ১৯. বাংলা ভাষা ও ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, ২০. সাহিত্য কথা, ২১. ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি, ২২. The Freedom of a Writer and other Essayes, ২৩. অমর কথাশিল্পী মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন : জীবন ও সাহিত্য, ২৪. মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্নের আনোয়ারা উপন্যাস, ২৫. কবি মতিউর রহমান মল্লিক, ২৬. নানা প্রসঙ্গ, ২৭. আশির দশকের কবি ও কবিতা ইত্যাদি।
সংস্কৃতিবিষয়ক : ২৮. সংস্কৃতি, ২৯. সমাজ সাহিত্য সংস্কৃতি, ৩০. ঐতিহ্য বাংলা সন ও বাংলা নববর্ষ, ৩১. ঐতিহ্য সভ্যতা সংস্কৃতি, ৩২. আমাদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতি, ৩৩. ইসলামী সংস্কৃতি (পাণ্ডুলিপি)।
শিশুসাহিত্য : ৩৪. মহৎ যাদের জীবনকথা, ৩৫. ছোটদের গল্প, ৩৬. কিশোর গল্প।
ইসলামবিষয়ক : ৩৭. ইবাদত, ৩৮. ইবাদতের মূলভিত্তি ও তার তাৎপর্য, ৩৯. ইসলামের দৃষ্টিতে ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি, ৪০. মহানবী স., ৪১. মহানবী স.-এর আদর্শ সমাজ, ৪২. মানবতার সর্বোত্তম আদর্শ মহানবী স., ৪৩. রাসূলুল্লাহর স. জীবন চরিত ও ইসলামী সমাজের রূপরেখা, ৪৪. মানবাধিকার ও ইসলাম, ৪৫. ইসলামে নারীরমর্যাদা ও অধিকার, ৪৬. মাতা-পিতা ও সন্তানের হক, ৪৭. মুসলিম বীর ও মনীষী, ৪৮. হৃদয়ে কাবা, ৪৯. ইসলাম পরিচিতি, ৫০. পানাহার সম্পর্কিত ইসলামের বিধান, ৫১. আল-কুরআন পরিচিতি।
স্মৃতিকথা: ৫২. স্মৃতির সৈকতে, ৫৩. আরব উপসাগরের তীরে, ৫৪. আমার উপলব্ধি।
কবিতা: ৫৫. নিভৃতে অলিন্দে, ৫৬. সকল প্রশংসা তোমার, ৫৭. করোনাকালের কবিতা, ৫৮. স্মৃতি বিস্মৃতির অন্তরালে, ৫৯. ছোট মণিদের ছড়া-কবিতা, ৬০. গান, ৬১. শাশ্বতবাণী (আল-কুরআনের কতিপয় সূরার কাব্যানুবাদ)।
ভ্রমণকাহিনী: ৬২. ইউরোপ আমেরিকার পথে জনপদে, ৬৩. অনিন্দ্য নগরী ইস্তাম্বুল, ৬৪. হজ্বের সফর, ৬৫. সমুদ্রবক্ষে আট দিন (দক্ষিণ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফর)।
অনুবাদ: ৬৬. ইরান, ৬৭. ইরাক, ৬৮. আমার সাক্ষ্য।
সম্পাদিত গ্রন্থ : ৬৯. ফররুখ আহমদের স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য, ১ম খণ্ড, ৭০. ফররুখ আহমদের স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য, ২য় খণ্ড, ৭১. ফররুখ আহমদের সাহিত্য বিচার, ৭২. মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন রচনাবলী, ১ম খণ্ড, ৭৩. মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন রচনাবলী, ২য় খণ্ড, ৭৪. প্রবাসী কবি কণ্ঠ, ৭৫. ভাষাসৈনিক সংবর্ধনা স্মারক, ৭৬. ব্যারিস্টার কোরবান আলী স্মারকগ্রন্থ, ৭৭. ভাষাসৈনিক আব্দুল গফুর স্মারকগ্রন্থ, ৭৮. বহুমাত্রিক (কথাশিল্পী শাহেদ আলী স্মারকগ্রন্থ) রচনা করেন।
সম্পাদিত পত্রিকা : মাসিক ‘আমার দেশ’ (পাবনা), ফজলুল হক হল বার্ষিকী ১৯৬১-৬২ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), প্রবাসকণ্ঠ, স্বদেশ সংস্কৃতি (সাময়িক পত্রিকা), ফররুখ একাডেমি পত্রিকা (১৯৯৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত), মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন পত্রিকা সফলতার সাথে সম্পাদনা করেন।
পুরস্কার : শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ‘বাংলাদেশ ইসলামিক ইংলিশ স্কুল’, দুবাই কর্তৃক স্বর্ণপদক (১৯৯৬), ‘বাংলাদেশ আধ্যাত্মিক কবিতা পরিষদ’, ঢাকা প্রদত্ত পদক (২০০৪), অনলাইন-২৪ কর্তৃক প্রদত্ত পদক (২০১৫), Centre for National Culture কর্তৃক প্রদত্ত ‘ফররুখ পদক’ (২০১৫), ফররুখ চর্চা পরিষদ, বগুড়া কর্তৃক প্রদত্ত ‘ফররুখ সম্মাননা পদক’ (২০১৫), সুধী সাহিত্য সংঘ কর্তৃক প্রদত্ত ‘নবাব আব্দুল লতিফ পদক’ (২০১৫), ‘নতুন গতি’ সাহিত্য পুরস্কার (কলকাতা ২০১৬), কিশোরকণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার (২০১৮), নর্থ আমেরিকা রাইটার্স ফোরাম পদক (নিউইয়র্ক ২০১৯) এবং ফররুখ গবেষণা ফাউন্ডেশন পুরস্কার (২০২২, মরোণোত্তর) পুরস্কার লাভ করেন।
সফর : পবিত্র হজ ও ওমরা পালন উপলক্ষে চারবার সৌদি আরব গমনসহ এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার আটাশটি দেশ সফর করেন।
মৃত্যু : অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান ৮ এপ্রিল ২০২১ সালে দুপুর ১২টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন [ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন] । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য ভক্ত-অনুরক্ত ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
স্মৃতির পাতায় অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান
স্মৃতির পাতা যতই উল্টাই আজ আর কিছুতেই মনে করতে পারিনে অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমানের সাথে কবে কখন কোথায় আমার প্রথম দেখা হয়েছিল। সাধারণত গবেষকরা মহীরুহ বা অতি নগণ্যদের সাথে হলেও প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিটুকু ধরে রাখার জন্য সন তারিখ টুকে রাখেন, ছবি তুলে রাখেন ইত্যাদি। এক্ষেত্রে অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান ছিলেন একজন অনুসরণীয়, অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। আমি তো অবাক হয়ে যাই যখন দেখি কোনোকালে সম্ভবত আশির দশকে ওনাকে নিয়ে প্রথম লিখেছি। যা সেই সময় সংগ্রামের সাহিত্য পাতায় ছাপা হয়েছিল- তা তিনি সংগ্রহ করে রেখেছেন। তখন তিনি দুবাই থাকতেন। সেই লেখার কথা আমার তো মনেও ছিল না। পরবর্তীতে দেখলাম তাঁর জীবনী গ্রন্থে সেটা সযতনে স্থান পেয়েছে।
আমার মতো অতি ক্ষুদ্র একজন মানুষের কথা তিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্মরণে রেখেছিলেন। সিএমএইচ থেকে জীবনের অন্তিম লগ্নেও তিনি আমাকে কয়েকবার ফোন দিয়েছিলেন। দোয়া করতে বলেছিলেন। অসম্ভব আশাবাদী এই মানুষটি তখনো আশা করছিলেন সেরে উঠবেন। আমার পরম সৌভাগ্য সবসময়ের মতো জীবনের শেষ লগ্নেও আমি এই মহৎপ্রাণ মানুষটির পাশে ছিলাম। আমার মতো তিনিও কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। হোমিওপ্যাথিতে আমার কিছুটা উপকার হওয়ায় তিনি আমাকে সেই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে বললেন। কয়েকবার আমি তাঁকে খিলগাঁওয়ে ডাক্তার আলী আহমদের চেম্বারে নিয়ে গিয়েছি। কিডনিও প্লান্ট হোমিও ওষুধ সারা ঢাকার হোমিও চেম্বার ঘুরে শেষ পর্যন্ত কমলাপুর হোমিও জোন থেকে সংগ্রহ করে রাতে তাঁর বাসায় পৌঁছে দিয়ে এসেছি। জীবনের এতো ঘটনাবহুল স্মৃতি আমার আর তাঁর মধ্যে সংঘটিত হয়েছে, যা এখন আর লিখে কুলানো যাবে না। কী বলবো অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমানের প্রায় অধিকাংশ সাহিত্যকর্মই পুস্তক আকারে প্রথম আমার হাত দিয়ে মুদ্রিত হয়েছে। তাহলে কী পরিমাণ সময় আমার সাথে তাঁর কেটেছে, ভাবতেও বিস্ময় লাগে।
তিনি ছিলেন জীবন যুদ্ধের ময়দানে পোড় খাওয়া একজন মানুষ। সে কারণেই হয়তো অসম্ভব সাশ্রয়ী মানুষ ছিলেন তিনি। একবার বাংলা সাহিত্য পরিষদের এজিএম-এর পূর্বপ্রস্তুতির মিটিংয়ে তিনি উপস্থিত ছিলেন। বার্ষিক খরচের স্টেটমেন্টে আপ্যায়ন বাবদ সম্ভবত ৩৩০ টাকার উল্লেখ ছিল। এই টাকার জন্য খাতা-পত্র তলব করা হলো। ভাউচারে দেখা গেল আমি আর নাসির হেলাল সারারাত আরামবাগে প্রেসে বসে অফিসের কাজ করার সময় রাতে হোটেলে খেয়েছি তার জন্য খরচ হয়েছে তিন দিনে পঁয়ত্রিশ টাকা। গোলাম মোহাম্মদ ভাই কাজ করার সময় খেয়েছেন দশ টাকার। একুনে সারা বছরে আপ্যায়ন বাবদ খরচ হয়েছে ৩৩০ টাকা মাত্র। অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান ও ডা. জামেদ আলীর প্রবল আপত্তির মুখে সেই ভাউচার পাস হলো না। নাসির হেলাল ভাই আর আমি বললাম, তাহলে আমরা অফিস টাইমের বাইরে কাজ করতে পারবো না। এটা বলা আমাদের জন্য বিরাট অপরাধ হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান ছাড়াই মিটিং বাতিল হয়ে গেল। পরবর্তীতে মাহবুবুল হক ভাই, মল্লিক ভাই ও সোলায়মান আহসান ভাইয়ের নরম সুরের কারণে ভাউচার পাস হলো। তবে আনুগত্যের খেলাপের কারণে আমাদের ক্ষমা চাইতে হলো। সেই দিন থেকে বাংলা সাহিত্য পরিষদে আপ্যায়ন খরচের রীতি চালু হলো। এর আগে অবশ্য প্রতিটা মিটিয়ের আপ্যায়ন খরচ কোনো একজন সদস্য নিজ পকেট থেকে অথবা উপস্থিত সবাই সম্মিলিতভাবে দিয়ে দিতেন, ফলে অফিসে কোনো আপ্যায়ন খরচের ভাউচার হতো না। বিশেষ করে মাহবুবুল হক ভাই, অধ্যাপক ফজলে আজিম ভাই, হাসান আবদুল কাইউম সেলিম ভাইসহ অনেকেই এই খরচ বহন করতেন। মূলত অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান সাহেবের বক্তব্য ছিল, যেখানে আমরা ডোনেশন দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাই, সেখানে আপ্যায়ন খরচ আমরা কোথা থেকে দেবো। ওনার বক্তব্যও সঠিক ছিল। তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠতার এই চল্লিশ বিয়াল্লিশ বছরের জীবনে এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। সব কিছু কী আর লেখা যায়? যায় না।
সাধারণত বই ছাপার খরচ নিয়ে ওনার সাথে আমার অনেকবার মতবিরোধ হয়েছে। তিনি চাইতেন সবচেয়ে কম দামের কাগজে সাশ্রয়ীমূল্যে বই ছাপতে। মূলত এসব নিয়েই মতবিরোধ হতো। কিন্তু আমাদের ভালোবাসার ভিত্তি তো ছিল আল্লাহর জন্যে ভালোবাসা। তাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সম্পর্ক কখনো তিক্ততার পর্যায়ে গড়ায়নি। তিনি আমাকে আপন ভাইয়ের মতো আগলে রেখেছিলেন আমৃত্যু। বাংলা সাহিত্য পরিষদের ওপর দিয়ে অনেক সময় প্রবল ঝড় বয়ে গেছে, কিন্তু তিনি সবসময় আমার পাশে ছিলেন। যখনই কোনো সমস্যায় পড়েছি ছুটে গিয়েছি ওনার কাছে। তিনি পাখির মতো ডানা দিয়ে আগলে রাখতেন আমাদের বিশেষ করে আমাকে।
একদম জীবনের শেষ দিকে ফররুখ একাডেমি সাহিত্য পত্রিকা, নজিবুর রহমান সাহিত্যরত্ন পত্রিকা ও ওনার লেখা বেশ কয়েকটা বই ছাপার জন্য দীর্ঘসময় ধরে ওনার বাসায় এক কাপ চা আর ঝালমুড়ি খেয়ে রাত দশটা-এগারোটা পর্যন্ত কাজ করেছি। এর জন্য কখনো রাহা খরচ নেইনি। তাঁর মৃত্যুর পরে নজিবুর রহমান সাহিত্য পত্রিকাটা ছাপিয়ে দিয়েছি। তবে ফররুখ একাডেমি সাহিত্য পত্রিকাটা আর ছাপা হয়নি। ফররুখ একাডেমি সাহিত্য পত্রিকাটাও ছাপার জন্য রেডি ছিল। এছাড়া আরো সাত আটটা বই রেডি ছিল। এর মধ্যে শাহজাদপুর ও ওনার গ্রাম নিয়ে লেখা একটা বই, রবীন্দ্রনাথ, ছোটদের নিয়ে লেখা গল্পের বই, ফররুখ আহমদকে নিয়ে লেখা একটা বই, একটি কবিতার বই ইত্যাদি। হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে সেগুলো বাংলা সাহিত্য পরিষদ থেকে ছাপার কথা ছিল।
অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান সাহেবের ব্যক্তিগত কম্পিউটারে কাজের খবরা-খবর আমি রাখতাম। কত লেখা তিনি মুখে বলেছেন আর আমি তা কম্পোজ করে দিয়েছি। কোনো প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়াই শুধুমাত্র আন্তরিক সম্পর্কের কারণেই আমি এসব কম্পোজ করে দিয়েছি। আমার সাথে কাজ করতে তিনি খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। কারণ আমি কম্পোজ করলে কোনো প্রকার বানান ভুল হতো না। ওনার অধিকাংশ বইয়ের প্রুফও আমি দেখেছি। আমি ওনার প্রথম বই প্রকাশ করেছি ‘ফররুখ প্রতিভা’ নামের একটি বই। তখন সেটা নিউজ প্রিন্ট কাগজে ছাপা হয়েছিল। টিপু সুলতান রোডে অবস্থিত ব্যারিস্টার কোরবান আলী সাহেবের প্রেস থেকে ওটা ছাপা হয়েছিল।
সমন্বয় বলে একটা কথা আছে। কিন্তু এই সমন্বয় করার কাজটা যে কত কঠিন, তা যিনি সমন্বয় করেন অর্থাৎ সমন্বয়কারী ছাড়া আর কারো বোঝার কথা নয়। এলোমেলো, অগোছালো কিছুকে গুছিয়ে আনা, যুগ যুগ ধরে গুছিয়ে রাখা, অপরিপাটিকে পরিপাটি করা, অবিন্যস্তকে বিন্যস্ত করার কাজটাই হচ্ছে একজন সমন্বয়কারী বা সম্পাদকের কাজ। আর কবি ফররুখ আহমদের কাব্যকর্ম ও এই মহান কবি সম্পর্কে একাল সেকালের খ্যাত-অখ্যাত লেখকদের লেখা সংগ্রহ করে সযত্নে আগলে রাখাটা কম পরিশ্রমের কাজ নয়। দুবাই, বাংলাদেশ, আমেরিকা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ৭১-এর পটপরিবর্তন- এই রকম বিভিন্ন টানাপড়েনের মধ্যে অবস্থান করেও তিনি যে সাহিত্যকর্মের সমন্বয় করার কাজে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন এটা একটা বিরল উদাহরণ। এটা যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। তাঁর এই কাজের বিরাট একটা অংশজুড়ে অবস্থান করেছেন কবি ফররুখ আহমদ। ফররুখ আহমদকে নিয়ে এতো গভীরভাবে আর কোনো কবি সাহিত্যিক কাজ করেছেন বলে আমার জানা নেই। ফররুখ আহমদকে নিয়ে এই অবিরাম পথ চলার কৃতিত্বটা বলা যায় অনেকটা এককভাবে শুধু তাঁরই। এই নিবিড় সমন্বয়, সম্পাদনার কাজটা শুধুমাত্র তাঁর সঙ্গেই তুলনীয়। সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষায় বলতে হয়, ‘জাল ফেলা সহজ। কিন্তু পুকুর যদি কণ্টকাকীর্ণ হয়, তখন তা টেনে তুলতে গিয়ে যে নাকানি-চুবানি খেতে হয়, সেটা যে জাল টেনে তোলে, সেই বুঝতে পারে।’ এ জাল টেনে তোলার কাজটাই ছিল অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমানের।
মাঝে মাঝে তিনি বলতেন, মুসলমান ঠিকই আমি আমরা। তবে তা নামে মুসলমান। অর্থাৎ বাপ-দাদা মুসলমান ছিল তাই আমরাও মুসলমান। কিন্তু ইসলামের মর্মার্থ ক’জন বোঝে, বিশেষ করে গ্রামের অশিক্ষিত-অর্ধ শিক্ষিত লোকেরা? তাদের মধ্যে ইসলাম সম্বন্ধে ন্যূনতম জ্ঞানও নেই যা দিয়ে ইসলাম কী ও কেন, বুঝতে পারে। সেজন্য তিনি নিজের গ্রাম অঞ্চলে কয়েকটি মক্তব, মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। নিজ খরচে সেগুলো পরিচালনার ব্যবস্থা করেছেন। এই সকল কাজের ব্যাপক ও বিস্তৃত আলোচনা আমাদের লেখায় আসা দরকার।
যতদূর জানি, কর্মব্যস্ত চাকরি জীবনে বিশেষ করে দুবাই ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে কাজ করার সময় মতিউর রহমান সাহেব ক্ষণিক অবসরের মুহূর্তগুলোও আরাম-আয়েশে কাটাননি। সময়ের বিন্দুমাত্র অপচয় তিনি করেননি। কোনো কারণে সামান্য সময়ের জন্য কলম বন্ধ থাকলেও তাঁর চিন্তার জগৎ কখনো স্তব্ধ হয়ে থাকেনি। অফিস, ঘরে কিংবা বাইরে যেখানে যে অবস্থায়ই ছিলেন অবসরের মুহূর্তগুলো সাংগাঠনিক কাজে ব্যয় করেছেন। একটু অবসর পেলেই ফোনে লেখকদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সহযোগিতার।
আমি ভেবে অবাক হই, তিনি এসব লেখার কাজ করতেন কখন? আমি অনেক বার তাঁর মুখ থেকে শুনেছি, গভীর রাত পর্যন্ত লেখালেখির কাজ করতেন তিনি। রাত বারোটায় ঘুমানোর পর আবার রাত তিনটায় উঠে তাহাজ্জুদ নামাজ ও জিকির-আজকারে মশগুল হতেন। ফজরের নামাজ শেষে লেখালেখি শুরু করতেন। সংসারী মানুষ ছিলেন, তাই কখনো কখনো ব্যাগ হাতে নিয়ে ছুটতে হতো বাজারে। আমি সাক্ষী কয়েকবার আমি তাঁর সাথে কাঁচাবাজারে গিয়েছি। বিশেষ করে মহাখালী কাঁচাবাজারে। ওনার সাথে বাজারে গেলে সাধারণত অনেকেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলবেন। তিনি সবসময় বাজারে গিয়ে সতেজ টাটকা সবজি খুঁজতেন। এক একটা সবজির জন্য তিনি মোটামুটিভাবে চার পাঁচটা দোকান ঘুরতেন। তারপর দামে ও পছন্দে মিললে তবেই তিনি সেটা কিনতেন। আমি তো অনেক সময় তাঁর পিছনে পিছনে বাজারের ব্যাগ টানতে টানতে হয়রান হয়ে যেতাম। তিনি অবশ্য পরে দুঃখ প্রকাশ করে বলতেন, তৌহিদ, তোমাকে মনে হয় একটু কষ্ট দিয়ে ফেললাম। না, না, না, কী যে বলেন- এসব বলে আমি পাশ কাটিয়ে যেতাম।
অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান সাহেবের ‘বাংলা ভাষা ও ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন’ প্রকাশিতব্য পাণ্ডুলিপিটি আমার সামনে প্রথম আসে সংশোধনের জন্যে। তখন তিনি দুবাই থাকতেন। বছরে একবার দেশে আসতেন। পাণ্ডুলিপিটি হাতে পেয়ে মনে করেছিলাম, ভাষা আন্দোলনের ওপর লেখা আর দশটি বইয়ের মতো একটা বই হবে। অন্যান্য বইয়ের মতো ২১ ফেব্রুয়ারি নিয়ে উদ্ভট কিছু তথ্য-উপাত্ত থাকবে এই আর কী। পড়তে গিয়ে অবাক হলাম। ওসবের কোনো কিছুই নয়! ভাষা আন্দোলনের একেবারে নির্ভেজাল খাঁটি সত্য ইতিহাস তিনি ডকুমেন্টসহ তুলে এনেছেন, যা আগে আমরা পাঠ করিনি। অবাক হলাম আরও একবার।
কয়েকদিনেই পাণ্ডুলিপিটি পড়ে প্রায় শেষ করে ফেললাম। ঝরঝরে সাবলীল বর্ণনাভঙ্গি ও ভাষা যথাযথ। ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো একের পর এক উঠে এসেছে। তারই প্রেক্ষিতে ভাষার বিবর্তন, গতিধারা বা উত্থান-পতনের ইতিহাস বইটিতে হয়ে উঠেছে সমান্তরাল। সেই গতিধারায় কোথাও জোয়ার আছে আবার কখনো ভাটা। জোয়ার-ভাটার এই ভেলায় ইতিহাসের এই বিচিত্র প্রবাহে ভাষা আন্দোলনের ঘটনাপঞ্জির নিখুঁত এক রূপরেখা বইটি। এই রূপরেখা কখনো গভীর আবার কখনো জিগজ্যাগ। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন স্বাভাবিক ও অমোঘ গতিসীমার বাইরে কিন্তু ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিস্তৃত নয়।
বইটি পাঠ করে তখন আমি বুঝতে পেরেছি যে, মুহম্মদ মতিউর রহমান একজন যুক্তিবাদী লেখক। যুক্তিই তাঁর হাতিয়ার। যৌক্তিক কিছু না হলে তাঁর কলম কখনো সচল হয় না। কলমের প্রবহমান সচলতা আর ইতিহাসের গতিশীলতা এক হলেই কেবল সত্যাশ্রয়ী হয়ে ওঠেন সত্যসন্ধানী এমন লেখক। আর এভাবেই অসির মতো গতিশীল হয়ে ওঠে একজন সত্যপন্থী লেখকের মসি। তখনই শহীদের রক্তের চেয়ে আল্লাহর পথের সৈনিকের কলম হয়ে ওঠে তীক্ষèধার তলোয়ার। এরপরই আকাশের মেঘপুঞ্জের গহিন অন্ধকার ভেদ করে সত্যের বিদ্যুৎচমকে ঝলসে ওঠে সেই অসি। সেই অসিরই ঝলকানি দেখিয়েছেন মুহম্মদ মতিউর রহমান তার এই মূল্যবান গ্রন্থটিতে। পাতা আরও ওল্টাতেই দেখি, ভাষা আন্দোলনের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে উর্বর হয়ে উঠেছে বইটির পটভূমি। এই পটভূমির ওপর ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় অনিবার্য পরিণতির দিকে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন- তারই অর্থবহ ইঙ্গিত, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিশ্লেষণ- তবে সেই বিশ্লেষণও অতিরঞ্জিত নয়, যৌক্তিক।
স্মৃতিচারণ ও আলোচনার সময় অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান সাহেব বহুবার তাঁর চিরচেনা স্বরূপে যেন জীবন্তভাবেই প্রতিবারেই আমাদের সামনে হাজির হয়েছেন! কখনো একজন বিজ্ঞ-অভিজ্ঞ ঝানু রাজনীতিবিদ মানে পল্টনের বক্তা, আবার কখনো অকৃত্রিম সহৃদয় বন্ধু, আবার কখনো অম্ল-মধুর আবেগঘন মুহূর্তগুলোর মধ্যে সদালাপী সাহিত্যপ্রেমিক একজন আপনজন। এই তিনিই আবার কখনো আবির্ভূত হয়েছেন দুঃখী হৃদয়ের একান্ত সমব্যথী সাথী হিসেবে। আমি সাক্ষী এই মানবদরদী মানুষটি শত শত বললে ভুল হবে হাজার হাজার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাহায্যের হাত নিয়ে। অনেক লেখকই আছেন যারা তাঁর কাছ থেকে কম-বেশি আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন। মহান আল্লাহ তাঁকে এর যাযাহ দান করুন।
যে কারোরই স্মৃতি হোক না কেন, সেই স্মৃতিচারণ নিশ্চয়ই অবিমিশ্র আনন্দের নয়। যিনি এখন আর সামনে নেই- তাঁর এই ‘নেই’-এর সব কিছুতেই বেদনার সুর, বিরহের কাঁটার সুতীক্ষè আঁচড়। সেই আঁচড়ে পেলবতা নেই, আছে অনুভবের রক্তক্ষরণ। সেই বেদনা ও বিরহের স্মৃতির পুষ্প মাড়িয়ে তো আর বসন্তের গান গাওয়া যায় না!
কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায় মানব মনের সেই চিরন্তন আকুতি :
সমস্ত পৃথিবী! চলিতেছি যতদূর
শুনিতেছি একমাত্র মর্মান্তিক সুর
‘যেতে আমি দিব না তোমায়!’ ধরণীর
প্রান্ত হতে নীলাভ্রের সর্ব্বপ্রান্ততীর
ধ্বনিতেছে চিরকাল অনাদ্যন্ত রবে
‘যেতে নাহি দিব! যেতে নাহি দিব।’ সবে
কহে ‘যেতে নাহি দিব!’ তৃণ ক্ষুদ্র অতি
তারেও বাঁধিয়া বক্ষে মাতা বসুমতী
কহিছেন প্রাণপণে ‘যেতে নাহি দিব!’
আয়ুঃক্ষীণ দীপমুখে শিখা নিব’-নিব’
আঁধারের গ্রাস হতে কে টানিছে তারে,
কহিতেছে শতবার ‘যেতে দিব না রে!’
এ অনন্ত চরাচরে স্বর্গমর্ত্ত্য ছেয়ে
সব চেয়ে পুরাতন কথা, সব চেয়ে
গভীর ক্রন্দন ‘যেতে নাহি দিব।’ হায়,
তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়!
চলিতেছে এমনি অনাদিকাল হতে।
প্রলয়-সমুদ্রবাহী সৃজনের স্রোতে
প্রসারিত ব্যগ্রবাহু জ্বলন্ত আঁখিতে
‘দিব না দিব না যেতে’ ডাকিতে ডাকিতে
হুহু করে’ তীব্রবেগে চলে যায় সবে
পূর্ণ করি বিশ্বতট আর্ত্ত কলরবে।
সম্মুখ উর্ম্মিরে ডাকে পশ্চাতের ঢেউ
‘দিব না দিব না যেতে’- নাহি শুনে কেউ,
(যেতে নাহি দিব- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
দৃশ্যত মুহম্মদ মতিউর রহমানের বিগত দিনের স্মৃতি যত মধুময় বা আনন্দঘনই হোক না কেন, পর মুহূর্তেই তা বেদনাবিধুর হয়ে আসে! চোখের কোণে জমে ওঠে বিন্দু বিন্দু অশ্রুসোনা, মনের গহিনে ভেসে ওঠে কালো মেঘের ভেলা। না, আর নয়, স্মৃতির এই রক্তক্ষরণ আর নয়। বেদনার প্রলেপ দিয়েই স্মৃতির নির্যাসটুকু হৃদয়ের নিভৃত কোণে জমিয়ে রাখতে চাই আজীবন! মুহম্মদ মতিউর রহমান তাঁর সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে বাংলার সাহিত্যাকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে টিকে থাকুক, অমর হয়ে থাকুক মননশীল মানুষের হৃদয়ে- এই কামনাই করি। আল্লাহ তাঁকে জান্নাত নসিব করুন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা দিয়েই শেষ করি :
নিশ্চল নিশ্চুপ-
আপনার মনে পুড়িব একাকী গন্ধ-বিধুর ধূপ!
লেখক : কবি, কথাশিল্পী, প্রবন্ধকার ও সংগঠক।