জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের চেতনাই নির্বাচনের প্রকৃত পথনির্দেশক
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪০
॥ সরদার আবদুর রহমান ॥
একটি স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটানোর পর বাংলাদেশের মানুষ বহুল প্রত্যাশিত রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক তথা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এ অভিযাত্রার প্রাথমিক সূচনা ঘটবে। বলাইবাহুল্য চব্বিশের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের চেতনাই এ নির্বাচনের প্রকৃত পথনির্দেশক হিসেবে বিরাজমান থাকবে।
এ কথা এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই যে, ২০০৮ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নতুন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠেছে, যারা নিজেদের ভোট দেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকেছে। শুধু তাই নয়, তাদের চোখের সামনে জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত দিনগুলোয় নিষ্ঠুর ঘটনাবলি সংঘটিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের অনেককেই চরমভাবে এ নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হয়েছে। যে পটভূমিতে এ গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়, তার বিশাল ও বিস্তৃত বিবরণ ইতোমধ্যে সংরক্ষিত হয়েছে।
জুলাই সনদের পটভূমি
আগস্ট-পরিবর্তনের পর থেকেই দেশজুড়ে আলোচনায় আসে রাজনৈতিক দলসমূহের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ‘সনদ’ প্রণয়ন করা, যার আলোকে আগামীর বাংলাদেশ পরিচালিত হবে। এটি সংবিধানের অন্তর্গত না হলেও তা হবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ম্যাগনা কার্টা। এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই সনদ’ স্বীকৃতি পাবে এবং তার সাহায্যে দেশের নীতি-কৌশল প্রণীত ও বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা যায়। এ সনদের মুখবন্ধ পাঠে জানা যায়, দীর্ঘ ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়। এর ফলে ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার কিছু দোসর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। এভাবে দীর্ঘকালীন দমনমূলক ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। জনগণের বিজয়ের ফল হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য জনআকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ৬টি কমিশনের সুপারিশ বিবেচনা ও গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য গঠন করে প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধানকে সহ-সভাপতি এবং নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধানগণ এবং জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন ও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের একজন সদস্যকে সদস্য করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে। সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে পাঁচটি কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ১৬৬টি সুপারিশ রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে কমিশন কয়েক দফায় ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ৭২টি বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকসমূহের আলোচনায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের সর্বসম্মত এবং বৃহত্তর ঐকমত্য ও কয়েকটি ভিন্নমতসহ মোট ৮৪টি সুপারিশসংবলিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
এ কথা স্বীকার করতে হবে যে, চব্বিশের জুলাই-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের এ নির্বাচনী রাজনীতির মূল পথনির্দেশক, যার মূল আকাক্সক্ষা হলো ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান। এ চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র সংস্কার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করাই এ নির্বাচনের প্রধান লক্ষ্য। তরুণ প্রজন্ম এবং সর্বস্তরের জনতা একটি সহিংসতামুক্ত, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে। এ অভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য হলো সহিংসতা ও দমন-পীড়নের রাজনীতি বন্ধ করা। এটি শুধু সরকার বদল নয়, বরং নাগরিকের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার লড়াই। রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাইয়ের চেতনা বা ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করতে হবে। সংক্ষেপে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে এ নির্বাচন পুরনো দিনের ভোট জালিয়াতি বা সংঘাতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন গণতান্ত্রিক ধারার সূচনা করার অন্যতম মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এ সনদের প্রতি জাতির সম্মতি আদায়ের লক্ষ্যে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের সাথে গণভোটের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। এর পক্ষে যদি ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়, তাহলে এর আলোকে আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত হবে বলে আশা করা যায়।
এবারের চ্যালেঞ্জগুলো
এক রক্তক্ষয়ী ও প্রাণঘাতী লড়াইয়ের ফসল হলো জুলাই অভ্যুত্থান ও আগস্ট বিপ্লব। অতীতে বাংলাদেশের মানুষের বহু অভিজ্ঞতা সঞ্চিত থাকলেও এটি ছিল ‘অন্যরকম’ এক অভিজ্ঞতা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ বিপ্লবের শহীদদের কবরের মাটি শুকানোর আগেই এবং চিরতরে পঙ্গুত্ববরণকারী ও আহতদের কান্নার রেশ কাটতে না কাটতেই একটি বড় দলের আশীর্বাদপুষ্টরা তাদের ১৭ বছরের বঞ্চনার তাড়না ও লোভের ক্ষুধা মেটাতে চাঁদাবাজি ও দখলের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে নিজেদেরই এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর হামলা করেছে। দেশজুড়ে এ তাণ্ডবে তাদেরই কমপক্ষে দেড়শ’ কর্মী-সমর্থক নিহত হয়। চাঁদাবাজি ও জবরদখলের অভিযোগ ধামাচাপা দিতে অথবা মুখ রক্ষা করার স্বার্থে দলটি তাদের কিছু লোককে নামকাওয়াস্তে দল থেকে বহিষ্কার করে, কারো করো বিরুদ্ধে কারণ দর্শাও নোটিস জারি করা হয়। তাতে তাদের চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, পলাতক আওয়ামীদের রেখে যাওয়া ভগ্নদশার অর্থনীতি, জুলুমবাজির রাজনীতি, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতি মেরামত করতে এবং সেগুলোকে যার যার সঠিক জায়গায় প্রতিস্থাপন করতে নিশ্চয়ই অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। বলতে গেলে এবারের নির্বাচনে একসাথে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। একটি হলো পলাতক আওয়ামীদের রেখে যাওয়া নির্বাচনী অপকৌশলের মডেল যা এখনো কেউ কেউ অনুসরণ করতে চায়। একই সঙ্গে রয়ে গেছে তাদের দুষ্কৃতদুষ্ট কর্মী-সমর্থক ও প্রশাসনের অভ্যন্তরে বহাল থাকা বাহিনী। যারা ইতিবাচক কিছু করে নিজেদের অপরাধবোধ খানিকটা কমাতে পারতো। কিন্তু তারা সেটি না করে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড করার প্রতিই ঝোঁক অব্যাহত রাখে।
জুলাই-আগস্ট চেতনার পাঠ কী ছিল? কেবলই কি একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান? নাকি আরো বড় কিছু! আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন দেশ পেলাম। কিন্তু সেই স্বাধীনতার স্বাদ পেলাম না। কখনো একদলীয় শাসন, কখনো স্বৈরশাসন, কখনো ফ্যাসিবাদী শাসন- এভাবে একেকটা প্রজন্ম অতিক্রান্ত হয়ে যাবে আর প্রজন্ম চেয়ে চেয়ে দেখবে, সেটা তো হতে পারে না। এটি মনে রাখতে হবে যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা ছিল না। ছিল না সরকারের নিয়ন্ত্রণে চারটি পত্রিকা রেখে বাকিগুলো নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে বাকস্বাধীনতা হরণ করা। এমনকি সংবিধানে যে চারটি মূলনীতি সংযোজন করা হয়েছিল, তাও মুক্তিযুদ্ধের আগে বা পরে আলোচনায় ছিল না। পরে সেগুলো ভারতকে খুশি করার এবং ভারতের পছন্দ মোতাবেক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে নিয়ে এগুলো সংবিধানে স্থান দেয়া হয়। এটি ছিল মুজিব-রেজিমের সংক্ষিপ্তসার। আর তার কন্যা শেখ হাসিনা তৈরি করে রেখে যায় গণতন্ত্রের কঙ্কাল দিয়ে গড়ে তোলা জুলুমতন্ত্রের সৌধ।
আশাবাদের ইশতেহার
এ নির্বাচন সামনে রেখে বড় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন দলকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী জোট গঠন করে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। অতঃপর তারা স্ব স্ব ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এ ইশতেহার বা মেনিফেস্টো মূলত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে সেই সব বিষয় উল্লেখ করা হয়, যেগুলো নির্বাচনে দলটি বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসীন হলে কার্যকর ও বাস্তবায়ন করবে। এবারের নির্বাচন সামনে রেখে যে সকল বিষয় সামনে আনা হয়েছে, সেগুলোর দিকে একবার চোখ বুলানো যাক।
জামায়াতের ইশতেহার : গত ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। এতে উল্লিখিত বিষয়গুলো ৮টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলোর শিরোনামে রয়েছে- ১. জুলাই বিপ্লবের আকাক্সক্ষায় বৈষম্যহীন সমাজ তৈরি, ২. শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ, ৩. আত্মনির্ভরতার পথে নিজ পায়ে দাঁড়ানোর প্রত্যয়, ৪. টেকসই অর্থনীতি উন্নয়ন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান, ৫. স্বনির্ভর কৃষি ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, ৬. জনজীবনের মৌলিক মানোন্নয়ন, ৭. সমন্বিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ৮. যুবকদের নেতৃত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র। জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহার অনুযায়ী জুলাই-চেতনাকেন্দ্রিক মোটাদাগে যে বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হয়, সেগুলো হলো-
১. মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও লক্ষ্য (সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার) রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠার কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।
২. শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
৩. আধুনিক ও টেকসই ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির চর্চা চালু করা হবে।
৪. জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরে আধুনিক ও টেকসই ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রয়োগ করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা হবে।
৫. জুলাই বিপ্লবে শহীদ এবং জুলাইযোদ্ধাদের জন্য প্রতি মাসে অনুদান ও ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
৬. জুলাই বিপ্লবে শহীদের পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ এবং কর্মযোদ্ধা হিসেবে তাদের পুনর্বাসন করা হবে। আহত ও পঙ্গু জুলাইযোদ্ধাদের চিকিৎসার খরচ সরকারি কোষাগার থেকে নির্বাহ করা হবে। এছাড়া আরো কিছু বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিএনপির ইশতেহার
নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিও তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, সমাজের সর্বস্তরে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রের প্রত্যেক স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করে একটি প্রকৃত ‘জনকল্যাণমূলক সরকার’ গঠন করা হবে এবং একইসঙ্গে গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে রাষ্ট্র সংস্কার অংশে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হবেÑ ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ। তারেক রহমান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে। ১৯৭৫ সালে সিপাহি-জনতার বিপ্লব ও ১৯৯০ সালে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রক্তার্জিত সেই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং বিপ্লব ও অভ্যুত্থানে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত সেই গণতন্ত্র আবার রক্ষা ও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছে ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করে মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা ও এর স্মৃতি সংরক্ষণ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের নিজ নিজ এলাকায় তাদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে। গণঅভ্যুত্থানে ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যেসব গণতন্ত্রকামী ব্যক্তি পঙ্গু হয়েছেন, চোখ হারিয়েছেন তাদেরও স্বীকৃতি, সুচিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে সহায়তা প্রদান করা হবে। শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সার্বিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে। (দি নিউজ, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।)
জাতির কাছে প্রত্যাশা
এ নির্বাচনের প্রতি পুরো জাতি অনেক প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছে। এবারের নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, এ নির্বাচনের পর জাতীয় ও স্থানীয় সকল ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের নিয়মিত অনুশীলন চলতে থাকবে বলে জাতি প্রত্যাশা করে। জুলাই চেতনার পক্ষের লোকেরা হ্যাঁ ভোট দিয়ে কার্যত ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি সার্বভৌম বাংলাদেশের পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চায়। বিপরীতে ‘না’ ভোটের পক্ষে থাকা মানে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে না দাঁড়ানো। এ বিষয়ে সজাগ থাকা অতি জরুরি। একথাও মনে রাখতে হবে যে, যে বা যারাই ক্ষমতায় আসুক তাদের পক্ষে জুলাই চেতনাকে উপেক্ষা করে কোনো নীতি পলিসি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে না।
নির্বাচনে যারাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করবেন, তারা যদি সত্যিই দেশকে ভালোবাসেন এবং জনগণের প্রতি মমত্ব অনুভব করেন, তাহলে তারা বিজিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি নির্বাচনপূর্ব এবং নির্বাচনকালীন ঈর্ষা-বিদ্বেষ, এতে পরস্পরকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি ভুলে প্রকৃত অর্থেই দেশে প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হবেন বলে আশা পোষণ করি।