ছড়া কবিতা
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১৬
তবেই মানুষ
আমিনুল ইসলাম কাইয়ূম
দিনটি হোক খুশি ভরা,
দিনটি হোক ভালো
এমন দিন প্রতিদিন
ছড়িয়ে যাক আলো॥
সেদিন আনন্দের দিন
পায় মুসলিম তারা
সেই আনন্দ পায় যেন
পাশের ধর্মের যারা॥
সব বিভেদ আজ ভুলে
কাঁধে কাঁধ লাগও
দুঃখ দ্বেষ কষ্ট ক্লেশ
পিছে ফেলে আগাও॥
যাহা করেছে রান্না রাঁধুনি
ওঠায় যখন দিলে
নিজের পাশে বসতে দিয়ে
গরিব-দুঃখী মিলে॥
কলুষমুক্ত হৃদয় হবে
সালাম জানাও আগে
‘তবেই মানুষ’ বলবে সবে
এই বিশ্বের বাগে॥
এই দিনটি ধারণ করে
আগামী দিন সাজাও
একটি বছর করো পার
খুশির বীণ বাজাও॥
কলিংবেল ক্রিং ক্রিং
শেখ সালমান শাহী
কলিংবেল ক্রিং ক্রিং
হঠাৎ বাজলো
রাত গভীরে কে
অসময়ে এলো।
জাগলো মনেতে ভয়
জীন নাকি ভূত
কাঁপা হলো শুরু
আমার ঊরুত।
বলতে ভয়ে জড়োসড়ো
কেউ বাসায় নাই
উত্তর পর এলো
তোরে তো চাই।
বাঁচতেই দিলাম হাঁক
কেউ ওরে ধরো
আমায় নিতে চায়
খুব করে মারো।
বাংলার বাণী
শহীদুল্লা হক ভূইয়া
যে ভাষা আমায় দিয়েছে অফুরন্ত আশা,
সে আমার মায়ের গর্ভের বাংলা ভাষা।
যার স্পর্শে মোর প্রাণ জেগেছে সাবধান,
সে বিশ্ববাসীর সাড়া আমার বাংলা মায়ের দান।
বাংলা ও বাঙালি পূর্ণমনে স্মরণ হবে আজীবন,
বাংলার বুকে রয়ে গরেছে যে ধ্বংসস্তূপ সে বিশ্বাসপ্রবণ।
প্রেম-প্রীতির পূর্ণ যবে নর-নারী গড়ে আত্মবিশ্বাস,
তা শুধু অবণীর বাংলা জননীর মায়া ঝরানো আশ্বাস।
অপরের দুঃখে যার চোখে এসে যায় অভিমানের উদক,
বাঙালি মায়ের জাত ছাড়া অন্য দেশে তা অপারক।
রমজান
রুনা লাইলা
রমজানেরই চাঁদ উঠেছে
রোজা রাখো মুসলমান,
একটি বছর পরে এলো
পবিত্র মাহে রমজান।
পাড়ায় পাড়ায় পড়ে গেছে
সাহরি খাওয়ার ধুম,
সবার মাঝে এলো ফিরে
নেকির এ মৌসুম।
রমজান এলো রহমত নিয়ে
ক্ষমার দোয়ার খুলে,
ধনী-গরিব মিলে যাবো
সব ভেদাভেদে ভুলে।
শেষ দশকে ইতিকাফে
খুঁজি কদর রাত,
কেঁদে কেঁদে রবের কাছে
করি মুনাজাত॥
হাদির কণ্ঠ (গান)
আবুল খায়ের বুলবুল
আমার রক্ত চুষে খেতে
দেবো না তো আর
হাদির মতো বৈশাখ হয়ে
ভাঙবো তলোয়ার॥
ব্যাংক ডাকাতি ঋণখেলাপি
লুটেরা যতো
হাদির কণ্ঠ সেই শাবলে
করবো তা ক্ষত
ইনসাফ ছাড়া সব পালাবে
মিথ্যা অপবাদ
দূর করিতে প্রস্তুত হাদি
বিপদ বিসম্বাদ
অসহায়ের কপোল চুমে
হারবে হাহাকার॥
হাদির রক্তে আগুন জ্বলে
দেখলে দুর্নীতি
থাকবে না আর এই দেশেতে
শোষণের নীতি
মুষ্টি বদ্ধ স্লোগান তুলে
তাড়াবে চাঁন্দাবাজ
দিতে পুড়িয়ে স্বৈরাচার
হাদির নাহি লাজ
ঐক্য হয়ে ধরবো টুঁটি
কইরে রাহাবার॥
বাংলা বইয়ের ছড়া
শেখ সোহেল রেজা
খুকির সাথে পড়ছে দেখ
ছোট্ট বিড়াল পুষি,
বাংলা বইয়ের ছড়া পড়ে
খুকির বিড়াল খুশি।
বাংলা বইয়ের ছড়া পড়ে
পুষি খুকির সাথে,
সারাবেলা বাংলা বই
থাকে পুষির হাতে।
আমার বাড়ি হাট্টিমাটিম
মজার মজার ছড়া,
এসব ছড়া পড়ে পুষি
খুশিতে দিশেহারা।
সোনার স্বপ্ন ভাসে
আসাদুজ্জামান আসাদ
শিশিরভেজা সবুজ ঘাসে মণি-মুক্তা হাসে
সুভাসিত ফুলের সুবাস হিম বাতাসে ভাসে
সকালবেলা সোনালি রোদ শিশু মায়ের কোলে
সোনামণির হাসির ঝিলিক প্রাণটা উঠে দোলে।
হাসনাহেনা শিউলি জবা পাপড়ি শুধু মেলে
সুভাসিত মুগ্ধ সুবাস ভাসে ফুলে ফুলে
কৃষক-চাষি সবার চোখ সোনার স্বপ্ন ভাসে
সোনাবরণ পাকা ধান যে সবার ঘরে আসে।
পরিযায়ী পাখি
রাহেলা আক্তার
শীতের মৌসুমে ধেয়ে আসে
পরিযায়ী পাখি,
এমন দৃশ্য দেখে শীতে
জুড়ায় সবার আঁখি।
সবুজ-শ্যামল শস্যে ভরা
সোনার বাংলাদেশে,
সূর্যিমামা রোজ সকালে
জাগে হেসে হেসে।
রবির ছটায় উষ্ণ পেয়ে
পরিযায়ী গায় গান,
নিরবধি ছুটে আসে
ঝর্ণার কলতান।
জলে-স্থলে ঘুরে তারা
উড়ে ডানা মেলে,
শস্যদানা, টেংরা, পুঁটি
খাবে এসব পেলে।
সাইবেরিয়ার পাদদেশে
বরফ মোড়া বাসা,
বাংলাদেশের পরশ পেতে
পরিযায়ীর আসা।
নতুন বইয়ের ঘ্রাণ
নার্গিস আক্তার
বছর শেষে নতুন বছর
নতুন বইয়ের ঘ্রাণ
খোকা খোকা স্কুলে যাবে
লেখাপড়া হলো প্রাণ।
নতুন বইয়ের নতুন ছড়া
পড়তে অনেক মজা
গল্প কবিতা ছড়া পাঠ
সবল তরতাজা।
বই পেয়ে খোকা খুকু
নাচছে ধিন তাতা ধিন
বই পড়লে জ্ঞান বাড়বে
জীবন গড়বে রঙিন।
মামাবাড়ি মানে হলো
শাহীন খান
মামাবাড়ি মানে হলো সুখে ক্ষণ ঠাসা
নানা-নানি খালাদের মধু ভালোবাসা
হইচইপূর্ণ মায়াবিনী সুর
জীবনটা হয়ে পড়ে দারুণ মধুর!
মামাবাড়ি মানে হলো গলা ছেড়ে গান
কী যে ভালো লাগা আহা ভরে যায় প্রাণ
মধুমাসে আম-জাম-লিচুরই স্বাদ
বেড়ে চলে সহসা বায়নার সাধ!
মামাবাড়ি মানে হলো খেজুরের রস
আচমকা করে ফেলে হৃদয়কে বশ
পিঠাপুলি পিকনিক রসনা বিলাস
মিটে যায় এ মনের সমস্ত আশ!
মায়ের ভাষা
সাইদুল ইসলাম সাইদ
বাংলা ভাষা মায়ের ভাষা
রক্তঝরা প্রাণে,
পেয়েছি আজ সেই ভাষাটি
ভাইদের অবদানে।
মায়ের ভাষা মধুর ভাষা
তাই বাঙালি জ্বলছে,
প্রতিবাদের বজ্রকণ্ঠে
রাজপথে তাই লড়ছে।
প্রাণের ভয়ে হয়নি তারা
কাপুরুষদের ছাত্র
বীরের বেশে লড়াই করে
রেহাই দেয়নি মাত্র।
বুক পেতেছে গুলি চালাও
প্রাণপাখি যাক চলে
তবু আমার মায়ের ভাষা
যাইবে না বিফলে।