অপতৎপরতায় লিপ্ত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নেতাকর্মীদের দিচ্ছে উসকানি


২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৭

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন থাকা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও দলটি বসে নেই। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দলটির নেতাকর্মীরা নানা অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে পালিয়ে গেলেও ষড়যন্ত্র বন্ধ করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ব্যবহার করে তিনি নেতাকর্মীদের নানা উসকানি দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু শেখ হাসিনাই নয়, আওয়ামী লীগের পলাতক মন্ত্রী-এমপিরাও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের নানা উসকানি দিচ্ছেন। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের লোকেরা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও নাগরিক সমাজের কথা বলার অধিকার ছিল না। সরকারের তৃতীয় সারির কারো সমালোচনা করলেও মিথ্যা মামলায় জেলে যেতে হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও আওয়ামী লীগের শাসনামলে গণতান্ত্রিক চর্চা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই নন, মানবাধিকার সংগঠনের কর্মকর্তাদের জেলে যেতে হয়েছে সত্য কথা বলার জন্য। আর এখন (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে শীর্ষ রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বললেও কাউকে জেলে যেতে হচ্ছে না। পতিত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়তই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। তারা সামাজিক বিভিন্ন মাধ্যমে উসকানি দিচ্ছে। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে গুজব ছড়াচ্ছে। নিজেদের গোপন করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগানোর কাজেও ব্যস্ত রয়েছে এ গোষ্ঠীটি। এরা সম্প্রতি ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের প্যারোল নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, কিন্তু স্ত্রী-সন্তান রেখে তাদের না জানিয়ে গোপনে আরেকটি বিয়ে করে স্ত্রী-সন্তানকে যে মৃত্যুর দিকে ঢেলে দিয়েছিল, তা নিয়ে কোনো কথা বলেনি। এভাবে প্রতিনিয়তই এরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার এজেন্ডা নিয়ে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ২৩ ডিসেম্বর দিল্লির প্রেস ক্লাবে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনার একটি অডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়, যা দুই দেশের পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি (বন্দিবিনিময় চুক্তি) বিনিময় নীতির লঙ্ঘন। কিন্তু ভারত নীতি উপেক্ষা করে হাসিনাকে সাপোর্ট করছে আর মুখে বলছে, তারা প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে চায়। অবশ্য বাংলাদেশ সরকার ভারতের এমন কাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, হাসিনার বক্তব্য প্রচার দু’দেশের সম্পর্কের জন্য বিপজ্জনক এবং উদ্বেগের।