খুনি ও সহায়তাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন
১ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৩
স্টাফ রিপোর্টার : ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের সাহসী বীর শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বানে টানা আন্দোলনে রয়েছেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ। রাজধানীর শাহবাগে হাদি চত্বরে গত ২৯ ডিসেম্বর সোমবার পর্যন্ত টানা অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এভাবে সারা দেশে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। তীব্র শীতের কারণে ৩০ ডিসেম্বরের কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর দুপুরে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।
শরীফ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রচার চালাচ্ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছু পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেল থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে গত ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান তিনি। তার ইন্তেকালের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা দেশ। তার খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকাসহ সারা দেশ। গত কয়েকদিন ধরে চার দফা দাবিতে হাদি চত্বরে আন্দোলন চলছে। এরই মধ্যে ২৮ ডিসেম্বর চারটি দাবিতে ঘোষণা করা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে- ১. খুনি, খুনের পরিকল্পনাকারী, খুনের সহায়তাকারী, পলায়নে সহযোগী, আশ্রয়দাতাসহ পুরো খুনি চক্রের আগামী ২৪ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে। ২. বাংলাদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয়র ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে। ৩. ভারত তার অভ্যন্তরে আশ্রয় নেওয়া সব খুনিকে ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে হবে। ৪. সিভিল মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসরদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
দুর্বৃত্তের গুলিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত জুলাইযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে গত ২৯ ডিসেম্বর সোমবার চতুর্থ দিনের মতো শাহবাগ অবরোধ করে বিচারের দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। মঞ্চের নেতারা বলছেন, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। গত ২৯ ডিসেম্বর সোমবার দুপুর ২টা থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। এরপর ওই এলাকায় যানচলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে। বিকেল ৪টায় অস্থায়ী মঞ্চ থেকে অবস্থান কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমরা আমাদের লড়াই কোনোভাবেই থামাব না। যদি অসংখ্য হাদি জীবন দিতে হয় এ হত্যার বিচার আদায়ের জন্য, আমরা সেই জীবন দিতেও প্রস্তুত। এ লড়াই চলছে, চলবে।’ তিনি আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের কেউ ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে অংশ নেবে না। ‘আমরা যতদিন পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির মতো হয়ে উঠতে না পারি, ততদিন পর্যন্ত কেউ ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হব না। শহীদ হাদি কখনোই ইনকিলাব মঞ্চ থেকে প্রার্থী হননি। আমরা কোনো সহানুভূতির রাজনীতি করব না- এটার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘ওসমান হাদি রাজনীতি করতে আসেননি। তিনি এসেছিলেন বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতির রূপরেখা বিনির্মাণ করতে। আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, সেই পথ দেখাবে ইনকিলাব মঞ্চ।’
গত ২৯ ডিসেম্বর সোমবার মধ্যরাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত শাহবাগে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। যানচলাচল ছিল ধীরগতির, ডাইভারশনের মাধ্যমে যানবাহন চলাচল করছিল। এ সময় বিক্ষুব্ধদের মুখে শোনা যায়, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘তুমি কে, আমি কে হাদি হাদি’, ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি লড়াই করে’, ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’ এমন নানা স্লোগান। এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর রোববার রাত পৌনে ১০টায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের চার দফা দাবি ঘোষণা করেন।
গত ২৬ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ শাহবাগে অবস্থান নেয়। পরদিন রাতেও কনকনে শীতে তারা শাহবাগে রাতযাপন করেন। গত ২৭ ডিসেম্বর শনিবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অবরোধ চলার পর ২৮ ডিসেম্বর বিভাগীয় শহর ও বিভিন্ন জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিক্ষুব্ধ জনতা। ২৯ ডিসেম্বরও মধ্যরাত পর্যন্ত আন্দোলন চলে।
সারা দেশে আন্দোলন
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারা দেশের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। বিভাগীয় শহরগুলোয় সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার শাহবাগ, চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ, রাজশাহীর তালাইমারী, সিলেটের চৌহাট্টা, খুলনার শিববাড়ী মোড় ও বরিশালের নথুল্লাবাদে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায়, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে, কুমিল্লার পূবালী চত্বরে সড়ক অবরোধ করা হয়। এতে রাজশাহী-ঢাকা, বরিশাল-ঢাকা, ময়মনসিংহ-ঢাকা ও চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিচারে সহযোগিতায় বিশেষ আইনজীবী নিয়োগ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা করেছে। গত ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করা হলেও বিষয়টি গত ২৯ ডিসেম্বর সোমবার জানা যায়। এদিকে শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারকাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল সমমর্যাদায় একজন স্পেশাল প্রসিকিউটর অ্যাডভাইজার নিয়োগ দিয়েছে সরকার। প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজীকে এ পদে নিয়োগ দিয়ে ২৯ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের পাশে ‘পিস্তল’সহ যুবক আটক
শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি থেকে ‘পিস্তল’সহ আটক হয়েছে এক যুবক। তার নাম আরাফাত জামান (৩৯)। তার বিরুদ্ধে আগেরও একটি মামলা আছে। ছয় মাস আগে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা এলাকায় মেজর পরিচয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নানা ‘কমান্ড’ দিচ্ছিলেন এ যুবক। তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সে সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় আটক করে থানায় নেওয়া হয় এবং তার নামে পরিচয় গোপন, প্রতারণার অভিযোগসহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা দেওয়া হয়। গত ২৯ ডিসেম্বর সোমবার রাত সোয়া ৮টায় আরাফাত শাহবাগ থেকে আটক হওয়ার পরে পুরোনো মামলা খতিয়ে দেখে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম। তবে তার কাছে থেকে উদ্ধার করা পিস্তলটি খেলনা বলে জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৪ দফা দাবি তুলে ধরে ‘মঞ্চ-২৪’ প্ল্যাটফর্মের
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল খুনিকে গ্রেপ্তার ও ২৫ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে ‘মঞ্চ-২৪’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম। শহীদ হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ইনকিলাব মঞ্চ। গত ২৯ ডিসেম্বর সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। মঞ্চ-২৪ এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাদের ভাই শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে যে ধরনের নমনীয় সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরা মনে করি আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মুগ্ধের চেতনার বিপরীতে গিয়ে এ সরকার আধিপত্যবাদ এবং আগ্রাসনের ভেতরে ঢুকে গেছে। সেজন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ অবস্থানকে আমরা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত মনে করি না। ফাহিম ফারুকী আরও বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার এ মহাবিপ্লব সবচেয়ে বেশি সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিকভাবে ধারণ করেছিলেন শরীফ ওসমান হাদি। তার ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার থেকে শুরু করে আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম ছিল। এ কার্যক্রমটা যদি আরও দীর্ঘমেয়াদি করা যেত তাহলে আমরা মনে করি বাংলাদেশে আধিপত্যবাদের কোনো আস্তানা গেড়ে বসতে পারত না। দিল্লির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি ছিল যে, শরীফ ওসমান হাদি বাঙালি মুসলমানের সংস্কৃতিকে ধারণ করে সত্য এবং ইনসাফের পক্ষে লড়াই করে গেছেন। তিনি বলেন, শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার ও খুনি ফয়সালকে যদি গ্রেপ্তার করা না হয়, তাহলে অপরাধী চক্র মনে করবে যে সব নেতাকে যদি হত্যাও করা হয়, তাতে এ সরকার তাদের বিপরীতে কোনো পদক্ষেপ নেবে না। সেজন্য প্রত্যেক জুলাইয়ের নেতৃবৃন্দ এখন হুমকির মুখে।
এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যা মামলায় আরেক আসামি আমিনুল ইসলাম রাজু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের খাস কামরায় তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালকে সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে সহায়তার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আদালতের পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে পালাতে আর্থিক সহায়তা করেছিলেন বলে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন আমিনুল ইসলাম রাজু। তবে বিস্তারিত জানা যায়নি। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আমিনুল ইসলাম রাজুকে আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আমিনুল ইসলাম রাজু স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতে ইচ্ছুক বিধায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন।
গত ২৪ ডিসেম্বর বুধবার আমিনুল ইসলাম রাজুকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ওই দিন দুপুরে আমিনুল ইসলাম রাজুকে রাজধানীর মিরপুর-১১ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির ও মা হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, তার বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও তার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে প্রত্যেককে বিভিন্ন তারিখে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ফয়সালকে সীমান্তে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী কবিরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিভিন্ন তারিখে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।