মিত্রদের সঙ্গে আসন সমঝোতায় ব্যস্ত বিএনপি, বঞ্চিত শতাধিক হচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থী


২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:১২

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন প্রার্থীরা। ফলে বিএনপি এককভাবে কত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আর জোটসঙ্গীদের কত আসনে ছাড় দেবে, তা ২৯ ডিসেম্বরের আগে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। দলটি গত ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে চারটি আসন ছেড়েছে। এলডিপির মহাসচিবের চন্য রেখেছে কুমিল্লা-৭ আসন, অবশ্য তাকে নিজ দল ছেড়ে আসতে হয়েছে। জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদাকে তার দল বিলুপ্ত ঘোষণা দিয়ে একটি আসনে মনোনয়ন নিতে হয়েছে। বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়বেন। এছাড়া নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে একটি করে আসন দেওয়ার বিষয়টি অনেকটা চূড়ান্ত। আর গণঅধিকার পরিষদকে আপাতত দুটি আসন ছাড়ার বিষয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত করেছে দলটি।
বিগত দিনে বিএনপির সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া সমমনা দলগুলোর মধ্যে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি বিএনপিতে যোগ দেবেন। ঢাকা-১২ আসনে প্রার্থী হবেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসনে লড়বেন। এ দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের জন্য ঝিনাইদহ-৪ আসন ছাড় দেবে বিএনপি। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ আসনে প্রার্থী হবেন। জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার পিরোজপুর-১ আসনে লড়বেন। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি লড়বেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে। এসব আসনে তাদের সমর্থন জানিয়ে দলীয় কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে না বিএনপি। এছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ কুমিল্লা-৭ আসনে প্রার্থী হবেন। তিনি এরই মধ্যে আজ বিএনপিতে যোগদান করেছেন। গত ২৪ ডিসেম্বর বুধবার গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেন তিনি।
এদিকে সমমনা দল ও জোটকে আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি আলোচনা চালালেও এটি মানতে নারাজ দলটির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বেশ কয়েকটি আসনে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এতে মিত্র দলের নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করলেও বিএনপির শীর্ষনেতারা বলছেন, সব ঠিক হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপির মিত্র হিসেবে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, ১১ দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, বিজেপি, গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, চারদলীয় বাম জোট, লেবার পার্টিসহ প্রায় ৫৭টি দল ও জোট ছিল।
গত অক্টোবরে দলগুলো মোট ২২২টি আসন দাবি করে। এর মধ্যে সাবেক বিএনপি নেতা অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৪০টি আসন চেয়েছে। ১২ দলীয় জোট ২১টি, গণফোরাম ১৫, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ৯, বিজেপি (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি) ৫, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ৬ এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম) ১০টি আসন চেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে চারটি আসনে সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে ঘোষণা করা হয়, নীলফামারী-১ আসনে জমিয়তের মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ আসনে মাওলানা মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব নির্বাচন করবেন। এসব আসনে বিএনপি তাদের কোনো প্রার্থী ঘোষণা না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
এদিকে শতাধিক আসনে বিএনপির পথের কাঁটা বিদ্রোহী প্রার্থী। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপির নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। একাধিক প্রার্থী মনোনয়নের বিধান না রাখায় এবার বিদ্রোহী হিসেবে লড়াই করার সুযোগ পাচ্ছেন বিভিন্ন স্তরের বিএনপির নেতারা। অনেক আসনে স্বতন্ত্র এবং দলীয়ভাবে মনোনয়ন সংগ্রহ করছেন প্রার্থীরা। যদিও বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে বিএনপি। এ বিষয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোটে লড়বেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিএনপি।’
অপরদিকে আসন সমঝোতা ছাড়াও বিএনপি ব্যস্ত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে। গত ২৪ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত দলটি তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার তার দেশে ফেরার কথা।