আলোকে তিমিরে

শিশুদের নিয়ে আমাদের অনেক ভাবতে হবে


১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:১৪

॥ মাহবুবুল হক ॥
একটি শিশু পত্রিকা ১২ বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে পত্রিকাটির কর্তৃপক্ষ ঢাকা মহানগরীর শিশু একাডেমিতে দিনব্যাপী কৃতজ্ঞতা ও আনন্দের একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের সাজানো-গোছানো সুন্দর আয়োজন করেছে। পত্রিকাটির নাম ‘ছোটদের সময়’। এর সম্পাদক হলেন বিশিষ্ট ছড়াকার ও লেখক মামুন সারওয়ার। বয়সে তরুণ। একসময় জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসরের মেধাবী কর্মীও নেতৃস্থানীয় ছিল। পত্রিকাটি শুধু মাসে মাসে একটি সংখ্যায় প্রকাশ করেনি, শিশুদের উপযোগী বেশকিছু গ্রন্থও প্রকাশ করেছে। গত ১২ বছরে ছোটদের সময় পত্রিকা যত উত্তমমানের লেখা প্রকাশিত হয়েছে, তার সারসংক্ষেপ করে ‘সেরা ছোটদের সময়-২০২৫’ নামে একটি দুর্দান্ত স্মারকও প্রকাশ করেছে। অনুষ্ঠানটি ছিল দিনব্যাপী। এদিন সেমিনার, ছড়া-কবিতা পাঠ, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের গল্প বলা, চিত্রাঙ্কনসহ মোট ৭টি পর্বে বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সাথে সাথে দেশবরেণ্য ছয়জন শিশুসাহিত্যিককে ‘ছোটদের সময়’ শিশুসাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয়। গোটা বিষয়টি আমাকে বিপুলভাবে নাড়া দিয়েছে। অনুষ্ঠানে ১০টার মধ্যেই পৌঁছেছিলাম। গিয়ে দেখি, বিভিন্ন স্থানে ছোট ছেলে-মেয়েদের নানারকম প্রতিযোগিতা চলছে। বাবা-মা ও অভিভাবকরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে ওদের আশপাশে রয়েছে। প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান ছাড়াও জমজমাট শীতের মেলা চলছে। গোটা মাঠ ঘিরে সেই মেলা। শীতকালে ভোরে কুয়াশার মাঝে শীতের পিঠা খেতে যেমন মজা লাগে, আমার কাছেও তেমনি মজাই লাগছিল। হলসহ প্রাঙ্গণ জমজমাট ছিল। বর্ণাঢ্য ছিল। অনেক দিন পর শিশুকালের একটা আবহ ও আমেজ অবারিতভাবে পাচ্ছিলাম। গত ১৭ বছর শিশু একাডেমির এ সুন্দর খোলামেলা বা প্রাণখোলা জায়গায় কখনো আসতে পারিনি। দূর থেকে শুধু দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে চেয়ে চেয়ে দেখেছি। অথচ তার আগে শিশুদেরসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠান আমরা এখানে উদযাপন করেছি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানটি ছিল ‘বাংলা ১৪০০ সালে’ জাতীয় উদযাপন কমিটির কিছু অনুষ্ঠান। বছরব্যাপী উদযাপিত অনুষ্ঠানের একটি বড় আয়োজন ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সব ধরনের গানের পরিবেশনা। নজরুল সঙ্গীতের দেশবরেণ্য গায়ক-গায়িকাদের বেশ বড় সমাবেশ ঘটেছিল সেই অনুষ্ঠানে। হল তো দূরের কথা, একাডেমির গোটা জায়গা দর্শক-শ্রোতাদের সমাগমে সমুজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। ইতিহাসবিদ, চলচ্চিত্রকার ও নাট্যকার আরিফুল হক ছিলেন এ অনুষ্ঠানের কেন্দ্রীয় ব্যক্তি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল ভিতরে ও বাইরে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। তার পাশেই আমি বসেছিলাম। টুকটাক আলাপ হচ্ছিল। দুঃখের সাথে তিনি বলছিলেন, আমাদের দেশটাই তো মনে হয় শিশু-কিশোরদের দেশ। শিশু-কিশোররাই তো দেশকে নানাভাবে উচ্চকিত ও উজ্জ্বল করেছে। অথচ দেখুন, আমি শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হয়েও এখন পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করতে পারিনি। এত অল্প সময়ে অনেক কাজ করা যায় না। আমরা তো অন্তর্বর্তী সরকার। যেকোনো সময় চলে যাব। বড় কাজ করার সুযোগ তো আমাদের তেমন নেই। আমি তাকে অনুরোধ করেছিÑ অন্তত একটি দিন আপনি শিশু একাডেমিতে কাটান। যারা শিশু বিষয়ে অভিজ্ঞ-প্রাজ্ঞ, তাদের সাথে কথা বলুন। তাদের কথা শুনুন। মেহমান হিসেবে উপস্থিত যারা ছিলেন, তাদের পরিচয় করে দিয়ে অনুরোধ করেছি- এখন যারা আরো আছেন, তাদের নিয়ে আপনি মন্ত্রণালয়ে একদিন বসুন। ইনশাআল্লাহ অনেক কাজ হয়ে যাবে। আপনাকে খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না। অনেক ধরনের চিন্তাভাবনা করাই আছে। সেখান থেকে যতটুকু আপনাদের পক্ষে সম্ভব, ততটুকুই আপনারা করার চেষ্টা করুন। ছোটদের পারফরম্যান্সে তিনি খুব খুশি হচ্ছিলেন এবং বড়দের কথায় উদ্বেলিত হচ্ছিলেন। বলছিলেন, এ দেশের একজন তরুণ যদি এত বড় কাজ করতে পারে, তাহলে সম্মিলিতভাবে অনেক বড় কাজ করার সম্ভাবনা তো আমাদের রয়েছে।
তিনি তার প্রধান অতিথির ভাষণে নিজের ছোটবেলার কথা, সেকালের নিয়ন্ত্রিত যাপিত জীবনের কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, স্কুল থেকে এসে আমরা কুরআন শিক্ষাসহ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ের সাথে সংযুক্ত হতাম। আবার সন্ধ্যা হলে স্কুলের পাঠে মনোযোগ দিতাম। সে কারণে নীতি-নৈতিকতার পাঠ আমরা ঘরেই শিখে ফেলার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। আমাদের সমাজে অতীতের সেই কাঠামো এখন আর সেভাবে নেই। যেভাবে হোক, নীতি-নৈতিকতা অবলম্বন করেই আমাদের বড় হতে হবে। একটা সুন্দর পৃথিবী গড়তে হবে। বাংলাদেশকে শিশুবান্ধব দেশ বানাতে হবে। এ পর্যায়ে তিনি ২০২৪-এর গণআন্দোলনে যেসব শিশু-কিশোর হতাহত হয়েছে, তাদের কথা বিগলিত কণ্ঠে বার বার উচ্চারণ করেছেন এবং এ বিষয়ে বর্তমান সরকার যথাবিহিত কাজ করার চেষ্টা করছেন। তিনি আরো বলেছেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে এত শিশু হতাহত হওয়ার নজির এদেশে আর নেই।
খুব গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছেন, সবকিছু আমরা করতে পারব- যদি আমরা একতাবদ্ধ হই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিশু একাডেমিতে শুধু মধ্যবিত্ত শ্রেণির ছেলেমেয়েরাই আসবে, সেটা ঠিক হবে না। সবাই যেন আসে, সে ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। জেলায় জেলায় শিশু একাডেমি আছে, সেখানে পথশিশুরা আসবে, প্রান্তিক শিশুরা আসবে, বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের শিশুরা আসবে। কারণ আমাদের দেশটি বহুজাতির দেশ। সুতরাং সব শিশুকেই সকল সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।
এখন আমাদের কথায় আসি। শিশু একাডেমি অধিদপ্তর করার দাবি তুলেছেন কেউ কেউ। তবে অধিকাংশ বক্তাই শিশু একাডেমির নিশ্চল অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন শিশু একাডেমিকে বহুমাত্রিক প্রতিষ্ঠান রূপান্তর করার।
বসে বসে ভাবছিলাম, গোটা পৃথিবীটা মহান আল্লাহর। পৃথিবীর একপাশে ভূমিষ্ঠসহ সকল শিশুকে নিশ্চিহ্ন করার যুদ্ধ চলছে। গত দুই বছরে প্রায় ৫০ হাজার শিশুকে টার্গেট করে ফিলিস্তিনে হত্যা করা হয়েছে। কারণ এ শিশুরা বড় হলে ইসরাইলবিরোধী হবে এবং তারা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করবে। ইতোপূর্বে যুদ্ধ-বিগ্রহের বা মনুষ্যকৃত অপকর্মে শিশুমৃত্যু ঘটেছে, কিন্তু একেবারে টার্গেট করে শিশু হত্যার উৎসব কখনো এভাবে হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। যুদ্ধবিরতি হচ্ছে, কিন্তু এ বিরতির মধ্যও শিশু হত্যা থেমে নেই, চলছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, হতভাগ্য শিশুদের জন্য বিশ্ববাসী যে ত্রাণ প্রেরণ করছে; অর্থাৎ বেঁচে থাকার জন্য যে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী শিশুদের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে না। এসব নিয়ে কথা হচ্ছে, দেনদরবার হচ্ছে, কিন্তু জাতিসংঘসহ কারো উদ্যোগই সফল হচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে গাজা বা ফিলিস্তিনে অল্প কয়েক মাসে সেখানকার শিশুরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
আফ্রিকার কয়েকটি দেশে বেশ কয়েক বছর ধরে দুর্ভিক্ষ ও গৃহযুদ্ধ অবস্থান করায় অনবরত শিশুরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। তাদের হাড্ডিসার শরীর আমরা দেখছি, কিন্তু খুব কিছু করতে পারছি না।
এদিকে উন্নত দেশগুলো থেকে, বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা ও ইদানীং জাপান থেকে প্রবাসী ও অভিবাসীদের বিতাড়নের নব্য পাঁয়তারা চলছে। অভিবাসী বা প্রবাসীদের মধ্যে স্বল্প আয়ের লোকের সংখ্যাই বেশি। তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবার জন্য বেআইনিভাবে অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। দেশে ফিরে যাবার জন্য এদের কোনো অবস্থা বা ব্যবস্থা নেই। আবার তারা উদ্বাস্তু হবে। সেই উদ্বাস্তু শিবির কারা পরিচালনা করবে, তার কোনো তথ্য-উপাত্ত আমাদের জানা নেই। এখন যারা উদ্বাস্তুশিবির পরিচালনা করে, তারাই তো ইতোপূর্বে উদবাস্তুদের অভিবাসী বা প্রবাসী বানিয়েছে। তারা কোন মুখে উদ্বাস্তু বা শরণার্থীদের দেখভাল করবে। আরো দুঃখজনক বিষয় হলো- যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ অভিবাসী ও প্রবাসীদের নির্মূল করার প্রধান উদ্যোক্তা তারা নিজেরাই তো নিজের দেশে আদিবাসী নয়, তারা অভিবাসী। আজকে যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, তাদের পূর্বপুরুষ জীবনধারণসহ নানা কারণে এদেশে অভিবাসী হয়েছে। এই জেনুইন অভিবাসীরাই এখন অভিবাসী ও প্রবাসীদের তাড়াতে চাচ্ছে। নতুন করে অভিবাসী গ্রহণ করতে চাচ্ছে না। তারা লাখ লাখ লোকের মিছিল, সমাবেশ ইত্যাদির আয়োজন করছে। এর চেয়ে দুঃখজনক বিষয় আর কী হতে পারে।
এ নির্মম, নিষ্ঠুর, অমানবিক শয়তানি প্রয়াস এতটাই উচ্চকিত হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে থেকেও প্রবাসীদের বিতাড়নের অপচেষ্টা চলছে। অন্য দেশের কথা যদি আমরা বাদ দিই, তাহলে বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যাই তো প্রায় দেড় কোটি। আমাদের জনসংখ্যা এতটাই স্ফীত হয়েছে যে, এ মুহূর্তে আমাদের আরো অন্তত সাড়ে তিন কোটি মানুষকে বিদেশে পাঠাতে হবে। সেই পরিস্থিতিতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে যদি আমাদের প্রবাসীদের ফিরিয়ে আনতে হয়, তাহলে আমাদের আর্থিক পরিস্থিতিসহ জাতীয় অর্থনীতি কোন পর্যায়ে নেমে যাবে, তা সকলের বোধগম্য। অনেক পরিসংখ্যান বা হিসাব-নিকাশের প্রয়োজন নেই।
আমাদের দেশের সব শিশু সঠিক সময়ে সঠিক শিক্ষা লাভ করতে পারে না। সঠিকভাবে আশ্রয় পায় না। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পায় না। অর্থাৎ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা পায় না। সে কারণে শিশু মৃত্যুর হারও কম নয়। অপুষ্টির বিষয় তো চিরন্তন। স্কুল, মাদরাসায় ভর্তি হলেও প্রতি বছর তারা ড্রপিংয়ে চলে যায়। মাঝে ড্রপিং কমেছিল। এনজিওরা এ বিষয়ে এগিয়ে এসেছিল। যারা স্কুল ছাড়তে বাধ্য হতো, তাদের এনজিওরা বিনা বেতনে শিক্ষা প্রদান করার ব্যবস্থা গ্রহণ করত। সে বিষয়টি এখন অনেকটাই স্থগিতের পথে। দরিদ্র জনগোষ্ঠী বাধ্য হয়ে ছেলেমেয়েদের মাদরাসায় ভর্তি গ্রহণ করত, সেখানেও এখন ব্যয়ভার অনেক বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানোর কারণে এখানেও ড্রপিং শুরু হয়ে গেছে। তাছাড়া মাদরাসাগুলো সরকারি নিয়মকানুনের মধ্যে নেই। সিলেবাসের ঠিক নেই। সঠিক শিক্ষকের অভাব। সংবাদপত্রে মাঝে মাঝে খবর প্রকাশিত হচ্ছে যে, শিক্ষকরা অল্প সময়ে মাদরাসায় অবস্থান করেন। তারা মাদরাসা ছাড়াও অন্যান্য ফলপ্রসু অর্থ-সম্পদ আয়ের পথে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষকরা থাকেন না, অপরদিকে ছাত্ররাও উপস্থিতির বিষয়ে দারুণভাবে অমনোযোগী হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের বিষয়টিও এখানে প্রণিধানযোগ্য। স্বাভাবিকভাবে পড়ালেখার পরিস্থিতি নিম্নগামী হচ্ছে।
শিশুদের জন্য আদর্শ শিক্ষকের অভাব বহুকাল ধরেই অনুভূত হচ্ছে। এর কোনো প্রতিকার নেই। যেকোনো স্বল্প শিক্ষিত ও শিক্ষিত লোক শিক্ষা পেশায় প্রবেশ বা অনুপ্রবেশ করতে পারছে। এতে শিশুদের শিক্ষাজীবন সঠিকভাবে সমুন্নত হতে পারছে না। একসময় শিক্ষাক্ষেত্রে অবকাঠামো ছিল না। এখন তা আছে। দুর্নীতির প্রচণ্ড চাপ সত্ত্বেও স্কুল-মাদরাসার ঘর-দুয়ার রয়েছে। কিন্তু যেটা নেই, সেটা হলো যথাযথ ও আদর্শ শিক্ষকের অভাব এবং দেশের কোনো অঞ্চলে ছাত্র-ছাত্রীরও অভাব রয়েছে। এ অভাব দূর করার জন্য দেশব্যাপী মহা উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের শিক্ষিত মা-বাবাকে যদি আমরা শিক্ষার দিকে টানতে পারি, অর্থাৎ শিক্ষকদের উপযুক্ত বেতনভাতা ও সম্মান প্রদান করতে পারি, তাহলে কিছুটা হলেও এ অভাব আমরা দূর করতে পারব। প্রয়োজনে মডেল স্কুল বা মাদরাসা তৈরির জন্য বিদেশ থেকে আমরা শিক্ষক নিয়ে আসতে পারি। সাময়িক বা অনিবার্য প্রয়োজনে এ কাজটি করতে কোনো অসুবিধা থাকার কথা নয়।
শিশু শিক্ষায় রাজনীতি একদম হারাম করে দিতে হবে। শিশু শিক্ষার সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তি যেন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না হতে পারেন, আইনকানুন ও বিধিবিধানের মাধ্যমে সে বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে হবে।
উন্নত বিশ্বে শিশুদের হাতে ফার্স্টফুড, চকলেট, চিপস, সফট ড্রিংকস এবং মোবাইল না দেয়ার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে বাড়ছে। এ বিষয়ে আমরা সচেতন হতে পারছি না।
বর্তমান সরকার জীবনের সকল ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য কাজ করছে। শুধু কাজের উদ্যোগ নেয়নি শিক্ষাক্ষেত্রে। অর্থাৎ শিক্ষা সংস্কার এত বিরাট ও বিশাল যে সংকটকালীন সরকার এ বিষয়ে হাত দিতে সাহস করেনি। এটাও আমাদের জন্য এক ধরনের দুর্ভাগ্য।