পতিত আ’লীগের টার্গেট আসন্ন নির্বাচন ও জুলাইযোদ্ধা


১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:০৮

Sarder Abdur Rahman

॥ সরদার আবদুর রহমান ॥
দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পতিত আওয়ামী লীগের মাথা বিগড়াতে শুরু করেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তাই আসন্ন নির্বাচন এবং যাদের নেতৃত্বে জুলাই বিপ্লব সফল হয়েছে, সেই যোদ্ধাদের তারা টার্গেট করেছে। গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার একজন জুলাইযোদ্ধার ওপর হামলা চালিয়ে এ পরিকল্পনার জানান দেয় তারা।
লক্ষ করার বিষয়, আওয়ামী লীগ কেন ক্ষমতা হারালো- সে বিষয়ে তাদের নিজস্ব কোনো পর্যালোচনা নেই, আত্মসমালোচনা নেই, আত্মগ্লানি নেই, বরং উল্টো আছে হুমকি-ধমকি গুণ্ডাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। আছে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে নেয়ার উগ্রতা। পদত্যাগ করে পলায়নের পর আওয়ামী লীগ কোনো যুক্তিতেই বৈধতার দাবি করতে পারেনি। যে কারণে আসন্ন নির্বাচনেও তারা অংশ নিতে পারছে না। আর এ নির্বাচন থেকে দূরে থাকা মানে রাজনীতির মূল প্রবাহ থেকেই ছিটকে পড়া। ফলে আগামী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এজন্য নির্বাচনের বিপরীতে প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াচ্ছে তারা। যদিও অতীতে আওয়ামী লীগের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনসমূহে তাদের বিরোধীপক্ষগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা তো দেখা যায়নি, বরং তাদের ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে রাখার সবরকম কলাকৌশল অবলম্বন করে চলছিল।
অভিজ্ঞতা এ কথা বলে যে, পতিত আওয়ামী লীগ অতীতে কখনোই শান্তিবাদী দল ছিল না। সরকারে থাকলে বিরোধীদলীয় লোকদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন করে আর বিরোধীদলে থাকলে জ্বালাও-পোড়াও করে সরকার হটাতে চায়। এমনকি তারা নিজেরা বাস-ট্রাকে আগুন দিয়ে বিরোধীদের ওপর দায় চাপিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরকে নিজেদের পছন্দমতো ব্যবহার করে সেগুলোর অভ্যন্তরভাগকে একেবারে ঝাঁঝরা করে ফেলেছিল। যে কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সেই সেক্টরগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেগ পেতে হয়েছে এবং হচ্ছে।
টার্গেটে জুলাইযোদ্ধা
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে থেকেই শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে তার চিরাচরিত হিংস্রতার প্রকাশ ঘটিয়ে আসছিলেন। মানবতাবিরোধী আদালতের রায় ঘোষণার পর তার মাথা আরো বিগড়ে যায়। যেহেতু তার ক্ষমতাচ্যুতির আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল তরুণ নেতৃত্ব, সেহেতু তার টার্গেটের মানুষদের মধ্যে জুলাইযোদ্ধারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং তাদের সন্ত্রাসী তৎপরতার শিকার হতে হচ্ছে।
জুলাইযোদ্ধা ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এখন সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাদি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আন্দোলনেরও অন্যতম পরিচিত মুখ। ঘোষণা দিয়েছিলেন ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার। এ ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলার কথা। মনে রাখতে হবে ওসমান হাদি একজন ব্যক্তিমাত্র। কিন্তু দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাংস্কৃতিক চেতনার পক্ষে নৃশংসচিত্তে কথা বলার কারণে সে পুরো দেশকেই পাশে টেনে নিতে পেরেছে এবং এতে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার পথ খুলে গেছে। বাংলাদেশের মানুষের হৃদস্পন্দনের মূল সুর ধরতে পেরেছে ওসমান হাদি। সেই সুর তার আগুনঝরা বক্তব্যে প্রতিফলিত হচ্ছিল। ফলে কেবল আওয়ামী লীগ নয়, ধর্মনিরপেক্ষবাদি ও বামপন্থি মহলের তৈরি মিথ্যা বয়ানকে নড়বড়ে করে ফেলছিল। ফলে সে এ ঘরানার পুরোপুরি চক্ষুশূলে পরিণত হয়।
হাদির ওপর এ আক্রমণ কেবল সরকারকে নয়, এ সময়ের ময়দানে সক্রিয় প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, ফ্যাসিস্টদের কোনোপ্রকার সুযোগ দেয়া যাবে না। তাদের প্রধান লক্ষ্য অরাজকতা ও ভীতি ছড়িয়ে সমস্ত অর্জনকে ধূলিসাৎ করে দেয়া এবং তাদের রাজনীতির মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ না রাখা।
নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগকে আগামী বছরের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেয়া হলে দলটির লাখ লাখ সমর্থক এ নির্বাচন বয়কট করবে। এ হুমকির কোনো মূল্য দেয়া ঠিক হবে না। নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনা জানান, তার দলকে বাদ দিয়ে হওয়া নির্বাচনের মাধ্যমে যেই সরকারই হোক, তাদের সময়ে তিনি দেশে ফিরবেন না এবং তিনি ভারতেই অবস্থান করবেন।
এ নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব রয়টার্সে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে বলেছেন, ইন্টারভিউ যারা করছেন, তারা যেন কনটেন্ট ভুলে না যান। ‘এটা প্রতিষ্ঠিত যে একবিংশ শতাব্দীতে তার (শেখ হাসিনা) চেয়ে বড় খুনি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এত ভয়ানকভাবে আর কেউ করেননি। যারা হাসিনার ইন্টারভিউ করছেন- এ কনটেন্ট যেন কেউ ভুলে না যান।’
হাসিনার এ ঘৃণ্য মনোবৃত্তির প্রকাশ ঘটতে শুরু করে বিদেশে বসে তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে পতিত দলটি বিদেশের মাটিতে বসে রিমোর্ট কন্ট্রোলের মতো দেশের অভ্যন্তরে থাকা সন্ত্রাসী ক্যাডারদের ব্যবহার করছে। তার প্রথম টেস্ট হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলা। একে জুলাই অভ্যুত্থান নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত দলগুলোর নেতৃবৃন্দ। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ওসমান হাদির ওপর হামলা পূর্বপরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এর পেছনে বিরাট শক্তি কাজ করছে। তারা আরো বলছেন, ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটি হতে না দেয়া। হাদির ওপর এ আক্রমণ খুবই প্রতীকী। তারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে চায়, নির্বাচনের সব আয়োজন ভেস্তে দিতে চায়। এগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মনে হচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। তারা প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে মাঠে নেমেছে।
এটা তো জানা কথাই যে, আওয়ামী লীগের মতো হাড়ে-মজ্জায় প্রতিহিংসাপরায়ণ দল ও তাদের নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের এ অবস্থান মেনে নেবে না। তারা এখনো তাদের হা-হুঙ্কার প্রকাশ করতে পারছে, তাদের আশ্রয়-প্রশয় দেয়া দেশটির কারণে। ওপরে ওপরে ভারত যতই বলুক যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে সেজন্য তারা কিছুই করছে না। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া গুঁড়া কৃমিগুলোকে নিজেদের পেটে জায়গা করে দিয়েছে। সেখান থেকে বাংলাদেশকে অশান্ত করে রাখার কায়দা কৌশল চালিয়ে যাচ্ছে।
ফলে এটা ধরেই নিতে হবে যে, শেখ হাসিনার লাগাম টেনে ধরবে না ভারত। কিন্তু তার অস্ত্রধারী ক্যাডারদের পাকড়াও করে নির্বাচনী মাঠ নিরাপদ করতে হবে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে। আর ভারতকে মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করে নির্বাচিত সরকার গঠিত হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করলে তাতে ভারতেরও কোনো লাভ হবে না। বাংলাদেশের ভেতর কোনো অশান্তি হলে তাদের জন্যও তা অশান্তির কারণ হয়ে থাকবে।
ঐক্যের সুর
আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রত্যাশার বিপরীতে আশার দিক হলো, সরকারের এ মনোভাবের সাথে একযোগে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ। তারা বলছেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার সকল প্রচেষ্টা রুখে দিতে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে।’ ওসমান হাদির ওপর ন্যক্কারজনক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সভার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রাজনৈতিক দলগুলো। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্যে যাতে ফাটল না ধরে, সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতৃবৃন্দ। এ ব্যাপারে দলগুলো সুদৃঢ় অবস্থান নেবে বলে জানান তারা। এছাড়া নির্বাচনের আগে কঠোরভাবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এ পরিস্থিতিতে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করেন। তারা বলেন, যে কোনো অবস্থাতেই পরস্পরের প্রতি দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলতে হবে। কোনো ধরনের অপশক্তিকে আমরা বরদাশত করবো না। তারা আরো বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যতই রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরোধিতা থাকুক না কেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং জুলাইয়ের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে।’
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এ দৃষ্টিভঙ্গি ও চেতনা শেষ অবধি রক্ষা করা গেলে ষড়যন্ত্রীরা হালে পানি পাবে বলে মনে হয় না। তারা বলছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের নানা বক্তব্য একে অন্যকে দোষারোপ করার প্রবণতা বাড়িয়েছে, যার ফলে আমাদের বিরোধীরা সুযোগ পেয়েছে। আমাদের পূর্বের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ আরো বলছেন, ‘ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে আমরা একে অন্যকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছি। জাতিকে বিভক্ত করে এমন কথা আমরা কেন বলবো? সব দলকে তাদের কমিটমেন্ট ঠিক করতে হবে।’
চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে মাফিয়া ও ফ্যাসিবাদী শাসক শেখ হাসিনার পতনের পর সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো একের পর এক আঘাত আসতে থাকে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে আবার দেশে মাফিয়াতন্ত্র এবং ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বহালের জন্য। কিন্তু দেশপ্রেমিক বিপ্লবী ছাত্র-জনতা প্রতিবার রাজপথে নেমে একের পর এক প্রতিহত করেছে তাদের সেই চেষ্টা। তারপরও থেমে যায়নি দেশবিরোধী দেশি-বিদেশি শক্তির চেষ্টা ও ষড়যন্ত্র। বরং আরো বড় পরিসরে, আটঘাট বেঁধে ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা নিয়ে সামনে অগ্রসর হতে থাকে তারা। এর কারণ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর সর্বশেষ বিডিআর হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনা, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও ভারতের জড়িত থাকার ঘটনা তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে আসায় পতিত ফ্যাসিবাদী এবং তার দোসররা খুব ভালো করে বুঝে গেছে তাদের আর পালাবার পথ নেই।
এরকমভাবে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার কথা জানিয়েছেন একাধিক প্রার্থী। তাদের ভাষ্য, এভাবে চলতে থাকলে ভোটাররাও শঙ্কিত হয়ে পড়বে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে সন্ত্রাসীদের টার্গেটের শিকার হতে হবে। সরকারের উচিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রদান করা। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রার্থীদের নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়।
আগামী বছর ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচন দেশে ‘ইতিহাসের সেরা’ নির্বাচন হবে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পরদিনই রাজধানীর সড়কে প্রকাশ্যে ওসমান হাদিকে লক্ষ করে গুলি চালানো হয়। নির্বাচনের এখনো বেশকিছু সময় হাতে আছে। এ সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে পারে। এ সঙ্গে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য কেবল দলের লোকদের দায়ি করে বসে থাকলে চলবে না, এ সঙ্গে ভারতে নিরাপদে বসে থেকে এ বেআইনি কর্মকাণ্ড চালানো জন্য দেশটির ওপর নানাভাবে চাপ তৈরি করা অব্যাহত রাখতে হবে।
উপসংহার
রাজনৈতিক মহল থেকে ওসমান হাদির ওপর হামলার জন্য সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা পুরোপুরি ব্যর্থতাকে দায়ি করা হচ্ছে। তারা বলছেন, জুলাইযোদ্ধা ওসমান হাদি দুদিন ধরে তার নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সরকার। পুলিশও শতভাগ শক্তি নিয়ে কাজ করতে পারছে না। এখনো প্রশাসনে থাকা আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা কলকাঠি নাড়ছে এবং এসব ঘটনা দেখে বসে বসে হাসছে। আসন্ন নির্বাচনের একজন প্রার্থী বলেন, ‘আমরা সরকারপ্রধানকে সাক্ষাতে সরাসরি বলেছি একজন জুলাইযোদ্ধার নিরাপত্তা যেখানে হুমকিতে, সেখানে আমরা সবাই অনিরাপদ। জুলাইযোদ্ধাদের টার্গেট করা হচ্ছে। কখন যে কাকে টার্গেট করে বলা যাচ্ছে না। প্রার্থী হিসেবে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। সরকারকে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
দেশে অরাজকতা করে সন্ত্রাসীরা কীভাবে নির্বিঘ্নে সীমান্ত পাড়ি দিতে পারছে, সেই বিষয়টিও অনুসন্ধান করতে হবে।
সীমান্তের গ্রামগুলোয় নজরদারি বসাতে হবে। বিওপিগুলোকে সতর্কবার্তা দিতে হবে। সেখানে কারা এ পলায়নের কাজে সহযোগিতা করছে, সেটিও খুঁজে বের করতে হবে। আর দেশের ভেতরে কারা কারা তাদের নিরাপদ জীবনযাপনে সহায়তা করছে, সেটিও নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।