ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

খুলনায় কোন্দলে বিএনপি, শক্ত অবস্থানে জামায়াত


৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:১৩

এস এ মুকুল, খুলনা : মাত্র আড়াই মাস পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে অধিকাংশ সংসদীয় আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে কাজ করছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে দলের সবুজ সংকেত পেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারও শুরু করেছেন। ভোটের মাঠের নিয়ন্ত্রক হিসেবে জামায়াতে ইসলামী প্রচারে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। মাঠে আছে এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, সিপিবি, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। তবে মাঠে বিভিন্ন দলের প্রার্থী থাকলেও খুলনা মহানগর ও জেলার ৬টি আসনের হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাচ্ছে। ৬টি আসনেই শক্ত অবস্থানে আছে জামায়াত। কিন্তু বিএনপি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে করছে সময় পার। একক প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের গণসংযোগ সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে।
নির্বাচনী আসনগুলো ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রচার এবং জনসম্পৃক্ততার দিক থেকে খুলনা-৫, খুলনা-৬, খুলনা-২, খুলনা-৩ ও খুলনা-৪ আসনে এগিয়ে রয়েছে জামায়াতের একক মনোনীত প্রার্থীরা। অন্যদিকে খুলনা-১ আসনে বিএনপি কোন্দলে এখনো তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। জামায়াতসহ অন্য দলগুলো তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। খুলনার ৬টি আসনে বিএনপির এখনো চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রত্যাশী ৩০ জনের অধিক। যদিও একাধিক গ্রুপে বিভক্ত দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন চরমে। ইতোমধ্যেই একাধিক আসনে প্রার্থিতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।
খুলনা-১ : বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসন। দাকোপ উপজেলায় ৯টি ও বটিয়াঘাটায় ৭টি ইউনিয়ন এবং চালনা পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনটি হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথামার্ধেই হতে যাচ্ছে- এমন খবরে পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে সবখানেই চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সামাজিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। প্রচারে রয়েছে বিএনপির একাধিক নেতা। জয়লাভে আশাবাদী জামায়াতে ইসলামী। তবে অন্য কোনো দলের নির্বাচনী তৎপরতা এখনো তেমন চোখে পড়েনি। খুলনা জেলা নির্বাচন অফিসের চলতি বছরের মার্চ মাসের তথ্য মতে, এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩ হাজার ৪৪৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৮৪, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬০ ও হিজড়া ভোটার ৩ জন। আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের কোনো প্রার্থী থাকছে না। যে কারণে এ আসনে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম আওয়ামী লীগের এ দুর্গটি হাতছাড়া হবে। এ আসনে অতীতে নির্বাচনে অতীতে অংশ নেওয়া খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান তৎপর রয়েছেন। আহ্বায়ক পদ হারিয়ে তিনি কিছুটা চাপে থাকলেও নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয়। সাবেক ছাত্রদল নেতা জিয়াউর রহমান পাপুলও বেশ সক্রিয় প্রচারণায়। দলটি গত ৩ নভেম্বর সারা দেশে সম্ভাব্য ২৩৭ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও এ আসনে কারো নাম ঘোষণা করেনি। অন্যদিকে এ আসনে বটিয়াঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমীর শেখ মো. আবু ইউসুফকে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলের হাইকমান্ড। তিনিও এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খুলনা জেলার সহ-সভাপতি মাওলানা আবু সাঈদ। খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান বলেন, দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে ওই এলাকায় আমি কাজ করছি। তখন বিএনপির নাম বলতে মানুষ ভয় পেত। আমার প্রচেষ্টায় দাকোপ-বটিয়াঘাটায় দল আজ সংগঠিত। আমার এ প্রচেষ্টা দল মূল্যায়ন করবে।
বটিয়াঘাটা উপজেলা জামায়াতে আমীর মাওলানা শেখ মো. আবু ইউসুফ বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগের দুর্গখ্যাত এ আসনের মানুষ তাদের ভালোভাবেই গ্রহণ করেছে। তারা মনে করেন, জনগণ জামায়াতকে ভোট দেবে। কেননা ৫ আগস্টের পর জামায়াতের নেতাকর্মীরা কোথাও ভাঙচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজিতে জড়িত হয়নি। এর মধ্যে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দাকোপে সফর করেছেন। এ সফরের মাধ্যমে নেতাকর্মী ও জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জে গণসংযোগ করছেন, সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে তিনি জানান। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা জেলার সহ-সভাপতি মাওলানা আবু সাঈদ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, তাদের প্রস্তুতি ভালো। এককভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। সম্প্রতি শায়েখে চরমোনাই মুফতি ফয়জুল করিম এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে গেছেন।
খুলনা-২ : খুলনা-২ আসন সোনাডাঙ্গা ও খুলনা সদর থানা নিয়ে গঠিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে সকাল থেকে রাত অবধি লিফলেট বিতরণ, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। বিএনপির তিন নেতা ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ছাড়া মাঠে আর কাউকে দেখা মিলছে না। এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৭ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯২১, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৬ ও হিজড়া ভোটার ৭ জন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মাত্র ৪ বার এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। বিগত দিনে এ আসনে বিএনপিরই প্রাধান্য ছিল বেশি।
বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, খুলনা-২ আসনকে ভিআইপি আসন বলা হয়ে থাকে। কারণ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেছিলেন। এছাড়া সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অথবা তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান এবার এ আসনে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন।
এ আসন থেকে প্রার্থী করা হয়েছে ১/১১ কুশীলবখ্যাত সংস্কারপন্থি বহিষ্কৃত নেতা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তবে বিএনপির স্থানীয় নেতারা নজরুল ইসলাম মঞ্জুর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আবেদন করেছেন কেন্দ্রে। এটা নিয়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। তবে মনোনয়ন পেতে এখনো আশাবাদী জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর সভাপতি মাওলানা মুফতি আমানুল্লাহ ও খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. শহীদুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল সকাল থেকে রাত অবধি লিফলেট বিতরণ, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের খুলনা মহানগর সহ-সভাপতি ফয়সাল শেখ। তবে এ আসনটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি-এনসিপি) ও জাতীয় পার্টির কোনো নির্বাচনী তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে না। ঘরে-বাইরে তুমুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় পর ২০২১ সালে খুলনা বিএনপি থেকে বাদ পড়লেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন শেষে তার এমন পরিণতি মানতে পারেননি বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে খুলনা-২ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালকে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে দল। কেসিসি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগরী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন তিনি।
এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, নির্বাচনে দুই ধরনের কাজ করতে হয়। নমিনেশন দেওয়ার পরে এক ধরনের কাজ। তফসিল ঘোষণা করার পরে আর এক ধরনের কাজ। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গণসংযোগ করা। ঘোষণার পর ১৬টি ওয়ার্ডে আমরা নির্বাচনী গণসংযোগ করেছি। মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে যাচ্ছি, সাংগঠনিক কার্যক্রম মজবুত করা এবং সংগঠনকে গতিশীল করছি। এজন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় সাংগঠনিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। নির্বাচনী লিফলেট, উঠান বৈঠক, ভোটার সমাবেশ, ভোট কেন্দ্র প্রতিনিধি সমাবেশ ও গণসংযোগ করছি জোরেসোরে। খুলনা মহানগরীর নির্বাচনী হিসাব নিকাশ পাল্টে গেছে। নগরবাসি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে, বলেন তিনি।
খুলনা-৩ : খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত খুলনা-৩ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের মাঠ চষছেন সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। তারা নিজ নিজ এলাকায় লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক, ভোটকেন্দ্র প্রতিনিধি সমাবেশ ও গণসংযোগ বাড়িয়েছেন। শিল্পাঞ্চলখ্যাত এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নজর বন্ধ শিল্প-কলকারখানার শ্রমিকদের দিকে। গণসংযোগে তারা বন্ধ শিল্পকল কারখানা চালুসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এ আসনে নির্বাচনের মাঠে জামায়াতের প্রার্থীর প্রচার চোখে পড়ার মতো। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৩, নারী ভোটার ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৩০ ও হিজড়া ভোটার ৫ জন।
খুলনা-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম এবং নাগরিক পার্টি থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ এস এম আরিফুর রহমান মিঠু। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল ও খেলাফত মজলিসের এফএম হারুন-অর-রশীদকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থী যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জনি। দিনক্ষণ ঠিক না হলেও আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করাসহ নানামুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন তিনি। প্রতিদিনই এলাকার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন মাহফুজুর রহমান। অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে খুলনা-৩ আসনে কাজ করার জন্য আমাকে বলা হয়েছে। সে হিসেবে কাজ শুরু করেছি। মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের হাওয়া দেখছি। মানুষ এবার ইসলামের পক্ষের মানুষকে দেখতে চায়। আমরা মানুষের অনুভূতিকে মূল্যায়ন করছি। ইনশাল্লাহ আমরা আশাবাদী মানুষের এ অনুভূতি ধরে রাখতে পারলে জয়ী হতে পারবো।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল বলেন, আমি যদি নির্বাচিত হই, ইনশাআল্লাহ সাধ্য অনুযায়ী কাজ করব। বন্ধ শিল্পকর কারখানা চালু করব। মৃত শিল্পাঞ্চল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করব। যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জনি বলেন, আমিসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী তিন আসন থেকে গণঅধিকার পরিষদ থেকে মনোনয়ন চাইবে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমি তার পক্ষে কাজ করব। আমি টুকটাক প্রচার করছি।
খুলনা-৪ : রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। নির্বাচনে বিএনপির তিন হেভিওয়েট নেতা মনোনয়ন পাওয়ার আশার দৌড়ঝাঁপ শুরু করলেও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আজিজুল বারি হেলাল। অপরদিকে আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের একক প্রার্থী নির্দিষ্ট হয়েই আছে। এ নেতারা নির্বাচনী এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার লাগানো শুরু করেছেন। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছেন তাদের অনুসারীরা। সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশল বিনিময় ও শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নিজ অবস্থান তুলে ধরছেন কেউ কেউ। তবে এ আসনে ভোটের মাঠে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তথ্য মতে, এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৬ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৪৮, নারী ভোটার ১ লাখ ৮২ হাজার ৬৪৮ ও হিজড়া ভোটার ২ জন। বিএনপির একাধিক নেতা মনোনয়নের প্রত্যাশায় তৎপর ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ মল্লিক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শরীফ শাহ কামাল তাজ। এদের মধ্যে হামলা মামলার ঘটনা ঘটেই চলছে।
এ আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী খুলনা জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একক প্রার্থী রয়েছেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ। আর খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন এবারও প্রার্থী হবেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী খুলনা জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর এ আসনের জামায়াত-ছাত্রশিবিরের নেতারা নতুন করে উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় কার্যালয় চালু করেছেন। প্রতিদিন নির্বাচনী এলাকায় সভা সমাবেশ করছেন। বিতরণ করছেন লিফলেট ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চালাচ্ছেন গণসংযোগ। তিনি বলেন, আসনভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ঊঠান বৈঠক হচ্ছে। গণসংযোগ চলছে। সাধারণ মানুষ ইসলামের সাথে আছে জামায়াতে ইসলামীর সাথে আছে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
খেলাফত মজলিসের যে কয়টি আসনে নির্বাচনের জোরালো দাবি তুলেছে, তার মধ্যে খুলনা-৪ অন্যতম। এ আসনে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন নির্বাচন করবেন। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি দেশে এবং বিদেশে ইসলামবিরোধী সকল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, নির্বাচনের জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আমার প্রস্তুতিও রয়েছে। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।
খুলনা-৫ : খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি এবং ফুলতলা উপজেলার ৪টি মোট ১৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে এ বছর বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠে-ময়দানে নির্বাচনী গণসংযোগ, ওয়ার্ড সভা, উঠান বৈঠক, ভোটার সমাবেশ, প্রতিনিধি সমাবেশ ও মহিলা সমাবেশসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করছে। এ আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী হলেও বিএনপির রয়েছে একাধিক প্রার্থী। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন ও খেলাফত মজলিসের একজন রয়েছে একজন করে। তারা হলেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জামায়াত মনোনীত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়নপ্রত্যাশী খুলনা-২ আসনের সাবেক এমপি ও বিসিবির সাবেক সভাপতি বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী আসগর লবি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি শফি মোহাম্মদ খাঁন, হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডুমুরিয়া উপজেলা সহ-সভাপতি মাওলানা মুফতি আব্দুস সালাম, রিকশা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা জেলা সহ-সভাপতি ও ডুমুরিয়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুফতি আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার এবং দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুল জব্বার আযমী। খুলনা-৫ আসনের (ডুমুরিয়া, ফুলতলা ও গিলাতলা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা) এবারের মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭০৩ জন। ভোটকেন্দ্র ১৫০টি এবং বুথ ৭৮২টি। দ্বাদশ নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ২৬৯ জন। এর মধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৯ হাজার ৪৮১ জন। ফুলতলা উপজেলায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৮৮জন। এ দুই উপজেলায় মোট হিন্দু ভোট প্রায় ৮৫ হাজার।
খুলনা-৫ আসনে আওয়ামী লীগের দাপট খর্ব করে ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সাংগঠনিক শক্ত ভিত্তি বাড়তি শক্তি জোগাচ্ছে নির্বাচনী প্রচারে। ইতোমধ্যে দুই দফা দলের আমীর মানবিক রাজনীতিক ডা. শফিকুর রহমান এসেছেন খুলনায়। জনতার ঢল নামা জনসভায় জামায়াতের প্রার্থীদের জন্য ভোটারদের সমর্থন চেয়েছেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ সরকারের ১৫ বছরের প্রায় সাড়ে ৭ বছর আমি কারাগারেই ছিলাম। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময়ও আমি কারাগারে ছিলাম। ৬ আগস্ট বের হয়ে আমি সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্যাসিস্ট সরকারের ধ্বংস করা অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়াসহ দেশের গুণগত ও কল্যাণমুখী পরিবর্তনে দেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছি। জনগণ আমাদের এ কল্যাণমুখী রাজনীতি গ্রহণ করেছে। দীর্ঘ কারাবাসের ভিতরও যখনই একটু সময় পেয়েছি তখনই ফুলতলা-ডুমুরিয়ার জনগণের মানুষের মাঝে ছুটে এসেছি। খোঁজখবর নিয়েছি এবং সাধ্যমতো তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আসন্ন নির্বাচনে দল আমাকে ফুলতলা-ডুমুরিয়ার প্রার্থী হিসেবে আবারও মনোনয়ন দিয়েছে।
এদিকে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থীকে মোকাবিলার জন্য মো. আলী আজগর লবীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। ৫ আগস্টের পরে এ আসনে গণসংযোগ শুরু করেন যুবদলের জেলা শাখার আহ্বায়ক ইবাদুল হক রুবায়েদ। স্থানীয় বাসিন্দা না হওয়া সত্ত্বেও প্রথমে অঙ্গ দলের, পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা তার সাথে নামেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শফি মোহাম্মদ খান তার অনুসারীদের নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেছিলেন। বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন শফি। এরপর দলের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে প্রায় ১৭ বছর সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালনসহ খুলনার রাজনীতিতে সরব হন আলী আসগর লবী। এখন তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থীকে মোকাবেলায় এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন।
খুলনা-৬ : খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ১০টি এবং কয়রা উপজেলার ৭টি মোট ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসন। বিশ্বের বৃহত্তম ‘ম্যানগ্রোভ’ বন সুন্দরবন সংলগ্ন যা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের একটি দুর্যোগকবলিত জনপদ। এলাকাটিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর, ঠিক তেমনি রয়েছে এক ভয়াবহ জীবন-সংকট। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে এর অবস্থান হওয়ায় সিডর, আইলা, আম্ফানের মতো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বার বার আঘাতে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা দীর্ঘকাল ধরে হুমকির মুখে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর এ অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক নেতারা এ এলাকাটিকে ‘নতুন আঙিনায়’ সাজানোর অঙ্গীকার নিয়ে ভোটের মাঠে গণসংযোগ করছেন। সকল রাজনৈতিক নেতার প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রে এখন একটাই ‘টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা’। সাথে সাথে দুর্যোগকবলিত এ অঞ্চের সংগ্রামী জনগোষ্ঠী অপেক্ষার প্রহর গুনছে কবে স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত হবে এই অবহেলিত জনপদটি। এ আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৮ হাজার ৫৬২ জন। এর মধ্যে পাইকগাছা উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার এবং কয়রা উপজেলায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০। যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭১ জন এবং নারী ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫৭ জন। হিন্দু ভোটার সংখ্যা ৯৪ হাজার ৬১৩। এছাড়া আসনটিতে একজন হিজড়া ভোটার রয়েছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা গণসংযোগে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। খুলনা-৬ আসনে নির্বাচনী এলাকাটি জামায়াতের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। রাতের ভোটে, বিনাভোটে, ডামি ভোটে, দীর্ঘ দিন এ আসনটি স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। অপরদিকে বিএনপির একাধিক প্রার্থী ধানের ‘শীষ প্রতীক’ পেতে মরিয়া হয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। ইসলামী আন্দোলন এককভাবে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী নিশ্চিত করেছে। আর জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী ঘোষণা করতে না পারলেও তৎপরতা চালাচ্ছেন অনেকেই।
সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এ আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। এ আসন থেকে অতীতে দুবার জামায়াতের সাবেক কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস জিতেছেন। ফলে সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই শক্তিশালী। সাথে যোগ হয়েছে প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের অবিরাম নির্বাচনী তৎপরতা। এখানে জামায়াতের স্বস্তি যতটা, বিএনপির অস্বস্তি ঠিক ততটাই। সর্বোচ্চসংখ্যক প্রার্থীর ছড়াছড়ি এখানে। এদিকে বিএনপি থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত ও বিতর্কিত সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি। যদিও বর্তমানে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে তার দল। তার বাড়ি আসনের মধ্যে না হওয়ায় কয়রা-পাইকগাছার স্থানীয় নেতাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ রয়েছে। উল্লেখ্য, এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পির বাড়ি খুলনার রূপসা উপজেলায়। এখনো চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার আশায় রয়েছেন প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ম›ন্টু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও কয়রা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এম জুবায়ের আহমেদ। তবে স্থানীয় সব প্রার্থীকে ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন জাতীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতায় দুই পরিচিত মুখ। জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজেতে নেতৃত্ব দেওয়া জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক আমিরুল ইসলাম কাগজী এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বিএসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন। পেশাগত কারণে ঢাকায় অবস্থান করলেও প্রায়ই এলাকায় আসছেন তারা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একক প্রার্থী খুলনা জেলার সহ-সভাপতি হাফেজ মোহাম্মদ আসাদুল্যাহ আল গালিব। এনসিপির হয়ে লড়তে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও জেলার সদস্য সচিব সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি, এনসিপি খুলনা জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক এডভোকেট মাফতুন আহমেদ ও বৈষম্যবিরোধীর আরেক নেতা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বলও এলাকায় গণসংযোগ করছেন। এ আসনে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বেশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। ইসলামী রাজনীতির সাথে প্রায় পাঁচ দশক ধরে সম্পৃক্ত এ প্রবীণ নেতা স্বৈরাচারী সরকারের রোষানলে পড়ে বার বার কারাবরণ করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, যা এলাকায় তাকে এক ভিন্ন পরিচিতি দিয়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জামায়াত-শিবির এক ভিন্ন কৌশল নিয়ে মাঠে সক্রিয় হয়েছে। তারা সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করে নতুন করে প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডে দলীয় কার্যালয় চালু করেছে। নির্বাচন সামনে রেখে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রতিদিন নির্বাচনী এলাকায় সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগ করছেন। প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে লিফলেট, স্টিকার বিতরণ চলছে এবং রাস্তার মোড়ে মোড়ে, হাট-বাজারে বড় আকারের প্যানা ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রচার চলছে।