ছড়া কবিতা


৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৫০

গলদ নাই
রফিক মুহাম্মদ

জ্ঞানের বড়াই করে যে জন
তার মতো কেউ বলদ নাই
সব কিছুতে ভেজাল আছে
বিসমিল্লাতে গলদ নাই।
খোদার নামে করলে শুরু
লাভ ছাড়াতো ক্ষতি নাই
তার করুণা ছাড়া কারো
নাজাত পাওয়ার গতি নাই।
আল-কুরানের বাণী ছাড়া
নাইরে হিরা মতি নাই।
আল্লাহ ছাড়া আর তো কেহ
মহান অধিপতি নাই।

বাঘের মাসি
আব্দুল কাদের

গোঁফে চেনা যায় প্রাণীর গুণ
বনের রাজা বাঘ,
লোকালয়ে প্রবেশে তার
রয়েছে হাঁকডাক।
বিড়ালের বাস লোকালয়ে
মুখে আছে গোঁফ,
বাঘের মতো চেহারা তার
ওঠা ছোট্ট গোঁফ।
জেল হাজতের মতো জু-তে
আটক-খাঁচায় রয়,
তবুও দর্শনার্থী দেখতে এসে
করে মনে ভয়।
মুখ-চেহারা একই রকম
থাকলে হবে কী,
সত্যিকারে আছে অমিল
কাজে ভিন্ন ঘি।
পরের হিসাব কে-না করে
কে থাকে খুব সুখ,
প্রকৃতিতে যে যার স্থানে
থাকি না ঠিক দুখ।

অমনোযোগী ছাত্র
সাইদুল ইসলাম সাইদ

যতই বোঝাক মাস্টার তারে
অমুক পারে তমুক পারে
তাহার মাথায় থাকে না
ইংরেজি আর বাংলা বলো
কিছুর বুদ্ধি পাকে না।

উদাসীন সে বলছে সবাই
বাবা বলে করব জবাই
বয়স তাহার কমছে কি
গণিত নাকি বুঝে সে কম
মাথায় তাহার জমছে কি?

সমাজ বিজ্ঞান টেনেটুনে
মোবাইল কিংবা গুগল গুণে
লোকের মুখে শুনতে পাই
দুধ ডিমে আর ফল খাওয়াছি
এটাই তাহার ফলস ভাই?

নৈতিক শিক্ষা পারবে বলে
নিজের ধর্মের ছায়া তলে
নামাজ রোজা পড়ছে কই?
দিনে দিনে খারাপ হচ্ছে
পড়ছে না সে কোন বই।

চাঁদের বুড়ি
শেখ সালমান শাহী

ঐ চাঁদের বুড়ি দাদি আমার
লিখলাম চিঠি তাঁর নামে,
পিউন ছাড়া পাঠিয়ে দিলাম
হাওয়া শূন্য খোলা খামে।

কেমন আছো ওখানেই তুমি
করছো কীরে সময় পার,
আমি পুতেনী পিচ্চি ছিলাম
মনে কি আছে তোমার?

স্বপ্ন দেখলাম তোমার কাছে
আছি বসে আপন মিলে,
হাসি ঠাট্টা করতেই দুইজনে
সকাল এলো রাত চলে।

খরা
নার্গিস আক্তার

ধরার বুকে খরা
নিত্যনতুন চলা।
বৃষ্টি আসে বৃষ্টি যায়
মেঘগুলো হারিয়ে যায়।

ধরার বুকে খরা
নিত্যনতুন চড়া।
কালো মেঘের ফাঁকে
শিলা বৃষ্টি থাকে।

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
মেঘের আজ বিয়ে
আয় বৃষ্টি আয়রে
মেঘ যাবে গাঁয়ে।

 

খলসে মাছের বিয়ে
মুকুল হোসেন

খলসে মাছে বিয়ের সাজে
পড়েছে লাল শাড়ি,
কাজী সেজে বোয়াল মাছে
আঁচড় কাটে দাড়ি।

বরের সাজে কৈ মাছে আজ
বিয়ে পড়ান কাজী,
লজ্জাতে লাল খলসে মাছে
বিয়ে বুঝি আজি?

বিয়ের কথা শুনলে টাকি
মনটা ভীষণ ভারী,
ইচ্ছে ছিল বিয়ে করে
আনবে খলসে বাড়ি।

টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে
বাজে সানাই সুরে
তাক-ধিনা-ধিন পুঁটি নাচে
টাকি বহু দূরে।

হেমন্তটা এলো রে
শাহীন খান

শিশির ঝরে মিষ্টি সুরে, উদাস হলো এ মন তো
পাকা ধানের খবর নিয়ে, আসলো দেশে হেমন্ত।

ডাকছে পাখি আপন মনে, উড়ে বেড়ায় পতঙ্গ
মিহি বাতাস এই না ক্ষণে, কাটছে গরম আতঙ্ক!

চাষি বউয়ের মুখে হাসি, সুখের দোলা হৃদয়পুরে
কৃষান ভাইয়ার এমন দিনে, ফুর্তি জাগে পরানজুড়ে!

দূরে বাজে বাঁশের বাঁশি, পথিক সকল পথ যে ভোলে
খোকন সোনা চাঁদের কণা, ঘুমিয়ে পড়ে বোনের কোলে।

খেজুর গাছে দিচ্ছে অঢেল, মিষ্টি মধুর রস যে আহা
চিতই পিঠা ভাপা পিঠা খেয়ে বলি মারহাবা!

নবান্নেরই সাড়া পড়ে তোমার আমার পাড়া- গাঁয়ে
উদাস পরান ছন্দগানে চলে সে তো গাছের ছায়ে।

দিনের মেয়াদ কমতে থাকে রাতে নামে শীত যে ভাই
লেপের উমে স্বপ্ন ঘোরে কল্পলোকে হাওয়া খাই।

এমনি করে মন রাঙিয়ে হেমন্তটা এলো রে সকল বাধা দুঃখ ব্যথা দূরে সরে গেলো রে!

 

সময়ের বাংলাদেশ
ফরিদ আহমদ ফরাজী

গর্ব করি স্বদেশ আমার, স্বাধীন বাংলাদেশ
শ্যামল-সবুজ সোনায় মোড়া শান্ত পরিবেশ।
উগ্রতা নেই, বক্রতা নেই নতুন প্রজন্মের
ভালোবাসায় সিক্ত তারা সকল মানুষের।

রক্তভূমি রক্ষা করি সাহস করি চাষ
এদেশ আমার এদেশ তোমার সবার বসবাস।
মাতৃভূমির ভাগ্যাকাশে মেঘের আনাগোনা
সূর্যসন্তান জেগে আছে, কোটি মানব সোনা।

স্রষ্টার সৃষ্টি সব জাতিতে সমান হারে পায়
সূর্যের তাপে জ্বলে পুড়ে, শান্তি বটের ছায়
এক কাতারে বাংলাদেশি হিন্দু মুসলমান
অভেদ জাতি মিলেমিশে, গাই স্বদেশি গান।

জাগছে আলো ভাগছে কালো, জনরোষে তাই-
ও পাহাড়ি একটি কথা তোমাদের শোনাই
স্বদেশ প্রেমের গান গেয়ে যাও নচেৎ কপাল পুড়বে
স্বার্থ হাসিল করে ওরা ডাস্টবিনেতে ছুড়বে।

দীনের আলোয় দেশ নিরাপদ সব জনতায় মানে
ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে তাইতো ডেকে আনে।
দীনের আলো জ্বাললে পাবে দো- জাহানে মুক্তি
কথার কথা নয়কো এটি আল-কুরআনের যুক্তি।

দুর্নীতি আর চাঁদাবাজি রুখতে হবে আজ
রক্তমাটি গায়ে মেখে দীনের সাজে সাজ।
বাংলাদেশি বীরের জাতি হার মানে না কভু
ন্যায়ের পথে লড়বে মরবে শির নোয়ায় না তবু।

আমার বাবা
মাহমুদা সিদ্দিকা

আমার বাবা সবার সেরা
দিগি¦জয়ী সৈনিক
নামাজ পড়েন পাঁচ ওয়াক্ত
সহি ভাবে দৈনিক।

মানুষ গড়ার মহান পেশায়
বাবার জীবন কাটে
ফজর পড়ে চোখটা রাখেন
কুরআন হাদিস পাঠে।

দীনদারি আর পরহেজগারি
বাবার সকল কাজে
মধুর সূরের আজান দিতেন
সকাল দুপুর সাঝে।

নামাজ পড়ো
কুলসুম বিবি

নামাজ পড়ো ওহে মুমিন
নামাজের নেই ছাড়
পরকালের কঠিন দিনে
কেমনে হবে পার।

রবের আদেশ পালন করলে
দয়া পাবে তাঁর
ফরজ নফল আমল করে
ঈমান কর সার।

মালিক যেদিন ডাকবে তোমায়
ওই-না গোরের পাড়
নামাজ সেদিন সাথে যাবে
কেউ যাবে না আর।

বাড়ি গাড়ি টাকা কড়ি
সব-ই হবে পর
নামাজ পড়ো ওহে মুমিন
জান্নাত হবে ঘর।

বৃষ্টি
মো. হায়দার আলি শান্ত

মেঘেরো কষ্ট আছে
মেঘেরো বেদনা আছে
সে কখনো গাহে
বিরহ বেদনার গান।
সে কখনো গাহে
স্বর্গীয় প্রেমের গান
কষ্ট আর বেদনা
মহাভারী হলে
অনুতাপে বজ্র ঘটায়
কেঁদে অশ্রু ঝরায়।
রিমঝিম বরষা
ঝরে আসে ভুবনে।
অশ্রু ধারা দেখে
আমরা বলি বৃষ্টি
বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টি।
কত বেদনাবিধুর
মুষলধারায় ঝরে
মহাক্রন্দন গান।

আমরা চলবো
আবুল খায়ের বুলবুল

আমরা চলবো দীপ্তপথে
কাঁপবে গিরি জমিন
ঝড় টর্নেডো দূর করিবেন
রাব্বুল আলামিন॥

আমাদের ঐ মুষ্টি দু’হাত
উঠবে উঁচিয়ে
সেই তাপেরই দাহে যাবে
সূর্য গলিয়ে
দুখের রাত যে ঠিক পোহাবে
আল্লাহুম্মা আমিন॥

দুর্নীতিবাজ অত্যাচারীর
থাকবে না মসনদ
আমজনতার আসবে রায়ে
রহমের সংসদ
সন্ত্রাস ভাঙতে সাহস দিবেন
রাব্বুল আলামিন॥

ডুমুরের ফুল
ইকবাল হোসেন ইমন

ছোট্ট খোকার রোগ হয়েছে
ফল দেখলে ফুল চায়,
এইটা নিয়ে মহাবিরক্ত
তার বাপ ও মায়।

জাম দেখলে তাকে দিতে হবে
এনে জামের ফুল,
আম দেখলেও নয়কো ক্ষমা
চাইবে তার মুকুল।

না দিলে করে কান্নাকাটি
চেঁচামেচি শোরগোল,
থালা, গ্লাস, ফুলদানি সব
ভেঙে গণ্ডগোল।

একদিন হটাৎ পড়লো চোখে
ছোট্ট ফল ডুমুর,
তারপরে তার বাপ-মা আর
পায় না খুঁজে কূল।

মিষ্টি রসের পিঠা
খন্দকার জাহাঙ্গীর হুসাইন

টুপটুপটুপ শিশির ফোঁটা
ভিজিয়ে দেয় ঘাস,
খেজুর গাছের ডগায় ডগায়
মিষ্টি রসের চাষ।

সকালবেলা উঠোন-চুলোয়
নরম রোদের গায়,
বানায় পিঠা মিঠা মিঠা
জনমদুঃখী মায়।

মায়ের হাতের পিঠার মতো
হয় না পিঠা কারো,
তৃপ্তি ভরে খাই পিঠা রোজ
মন খেতে চায় আরো।

 

হেমন্তের মোহনীয় রূপ
শারমিন নাহার ঝর্ণা

হেমন্ত যে এলো আবার রোদটা লাগে মিঠে,
মজা করে খাবে সবাই নতুন ধানের পিঠে।
সারি সারি খেজুর গাছে রসের হাঁড়ি ঝুলছে
শিশিরভেজা মাঠের বুকে ফলসগুলো দুলছে।

গাছে গাছে মিষ্টি সুরে পাখিরা গায় গান,
হিমেল হাওয়া বইছে গায়ে জুড়ায় সবার প্রাণ।
পুকুর জলে ফুটে আছে শাপলা ফুলের মেলা,
লাউয়ের ফুলে মৌমাছিরা এসে করে খেলা।

উঠোনজুড়ে নতুন ধানের পালা সারি সারি,
পিঠাপুলির সুবাস ভাসে সবার বাড়ি বাড়ি।
নতুন ফলস পেয়ে চাষির মুখে মিষ্টি হাসি,
নদীর ধারে আপন মনে রাখাল বাজায় বাঁশি।

শীতের পিঠা
রাহেলা আক্তার

কুয়াশার চাদর মুড়িয়ে
এলো রে শীতের ভোর ;
ভাপা, পুলির ধুম লেগেছে
চৌদিকে পড়ছে শৌর।

হরেক রকম শীতের পিঠা
মায়ে আমার ভাজে;
খেজুর রসে গরম পায়েস
রাঁধেন মাঝে মাঝে।

হরেক স্বাদের পিঠা খেতে
দারুণ মজা লাগে,
মনটা আমার বেজায় ভারী
কম পড়িলে ভাগে।

পিঠা খেতে ভালোবাসি
আসলে শীতের সকাল;
বিস্বাদ লাগে পিঠা আবার
বর্ষণ আসলে অকাল।

শীত এসেছে
পি এম শরিফুল ইসলাম

শীত এসেছে আমার গাঁয়ে
স্নিগ্ধ সবুজ পাতায়;
শীত এসেছে কুমড়ো ফুলের
ভেজা হলুদ খাতায়।
শীত এসেছে প্রভাত ক্ষণে
হরেক রকম ফুলে;
শীত এসেছে শিশিরভেজা
দূর্বাঘাসের চুলে।

শীত এসেছে আমার বাড়ির
সবুজ আঙিনায়;
শীত এসেছে নদীর তীরে
ফেরা ডিঙি নায়।
শীত এসেছে লাউ ফুলেতে,
সবুজ ধানের ক্ষেতে;
শীত এসেছে, তাই তো হাসে
শীত-ফুলেরা মেতে।

শীত এসেছে কুয়াশাতে,
গ্রাম যে গেছে ছেয়ে;
শীত এসেছে কুয়াশারই
শীতল চাদর বেয়ে।