স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে যানজটে আটকে থাকা

তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী


২০ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৪৫

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানী ঢাকা এখন চলাচলের জন্য অনেকটাই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে যানজট। এ যানজটের কারণে কর্মজীবী ও অন্যান্য সেবা গ্রহীতারা যথাসময়ে কার্যসম্পাদন করতে পারছেন না। ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কগুলো ছাড়াও গলি রাস্তাগুলোয়ও এখন যানবাহনের জট লেগে থাকে। বাস চলাচলের ১০ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করতে ঘণ্টাও পার হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে পায়ে হেঁটে চলার গতি আর বাস চলার গতি একই হয়ে যায়। ফলে একদিকে যাত্রীরা যেমন বিরক্ত; অন্যদিকে দৈনিক চুক্তিতে বাসভাড়া নিয়ে যারা যাত্রী পরিবহন করেন, তারাও ক্ষুব্ধ। কারণ পর্যাপ্ত ট্রিপ (একাধিকবার যাতায়াত) দিতে না পারলে অনেক সময় ভাড়ার টাকাও তুলতে পারেন না পরিবহন শ্রমিকরা। ফলে উভয়পক্ষই নাখোশ।
রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজট কবে কমবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। একটা গাড়ির সঙ্গে আরেকটা গাড়ির ছুঁইছুঁই অবস্থা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজটের কবলে পড়ে ভোগান্তি বাড়ছে সড়কে চলাচলকারীদের। কোথায় যানজট নেই? রাজধানীর ধানমন্ডি, শাহবাগ, পল্টন, সায়েন্সল্যাব, বাংলামোটর, কাকরাইল, কারওয়ান বাজার, মৌচাক, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়কগুলোয় সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত যানজটের তীব্রতা বিদ্যমান থাকে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, সকাল থেকেই রাজধানীর কাকরাইল, পল্টন, গুলিস্তান ও আশপাশের সড়কগুলোয় যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এমন যানজটের তীব্রতা লক্ষ করা যাচ্ছে। যানজটে অহসায় যাত্রীরাও বিরক্ত। তাদের ভাষ্য, ঢাকায় এখন ট্রাফিক জ্যামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকাটাই যেন স্বাভাবিক। এ শহরে কয়েকঘণ্টা ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকা একটা সাধারণ নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নীলাচল পরিবহনের একজন শ্রমিকের ভাষ্য, চিটাগাং রোড থেকে আমাদের বাস নিয়ে পাটুরিয়া পর্যন্ত যেতে হয়। কিন্তু গুলিস্তান থেকে গাবতলী পার হতেই সময় লেগে যায় দুই ঘণ্টারও বেশি। সারা দিনে একবার গিয়ে আসতেই সময় শেষ হয়ে যায়। এমন হলে আমাদের পারিশ্রমিকও থাকে না। প্রায় সময় লোকসান গুনতে হয়।
স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান বা এসটিপির হিসাব অনুযায়ী, ঢাকায় ১৫ ভাগ যাত্রী দখল করে আছেন মোট সড়কের ৭০ ভাগ। বর্তমানে ঢাকায় কমবেশি ১৫ ভাগ যাত্রী প্রাইভেট গাড়িতে যাতায়াত করেন। এ প্রাইভেট কারের দখলে থাকে ৭০ ভাগেরও বেশি রাস্তা। বাকি ৮৫ ভাগ যাত্রী অন্য কোনো ধরনের গণপরিবহন ব্যবহার করেন। অর্থাৎ তারা গণপরিবহন সড়কের মাত্র ৩০ ভাগ এলাকা ব্যবহারের সুযোগ পান। এছাড়া অনেক ফুটপাত এখনো দখলমুক্ত না হওয়ায় এবং নগরীতে রিকশার সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে এমন যানজট। মূল সড়কগুলোয় এসব ছোট যানবাহন ধীরগতিতে চলায় যানজট আরও বাড়িয়ে দেয়।
ঢাকার যানজট কমাতে মোটরসাইকেলসহ ছোট ছোট যানবাহন নিবন্ধন বন্ধ করাসহ বেশ কিছু সুপারিশ জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সমিতির অন্য সুপারিশগুলো হলো- উন্নত সিটি বাসের ব্যবস্থা করা, বাস রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে বাসের জন্য প্রাধিকার লেনের ব্যবস্থা করা; ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক করিডোর থেকে প্যাডেলচালিত রিকশা, ইজিবাইকসহ ধীরগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করা; ফুটপাত দখলমুক্ত করা, ফুটপাতে স্বাচ্ছন্দ্যে পদচারী যাতায়াতের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনে সড়কের মিডিয়ানে উড়াল ফুটপাত তৈরি করা; ট্রাফিক সিগন্যাল ডিজিটাল করা, আইন লঙ্ঘনের জন্য ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিষ্টেম উন্নত বিশ্বের মতো ক্যামেরা পদ্ধতি চালু করা। জরিমানার অর্থ পরিবহন মালিক-চালকের ব্যাংক হিসাব থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করা; প্রধান সড়কে বাইক পার্কিং, লোডিং, আনলোডিং বন্ধ করা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করা এবং যত্রতত্র হাত তুলে রাস্তা পারাপার বন্ধ করে জেব্রা-ক্রসিং, ফুটওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।