নতুন গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ খসড়া চূড়ান্ত

ত্রয়োদশ নির্বাচন আয়োজনে তৎপর ইসি


১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৫৫

॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন॥
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ৬ আগস্ট সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ইসিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার পর নির্বাচন আয়োজনকারী এ সংস্থাটি তৎপরতা বাড়িয়েছে। নির্বাচনের সম্ভাব্য তফসিল সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএসএম নাসির উদ্দীনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ধারণাও দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সিইসি জানিয়েছেন, আসছে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট হবে। তিনি কোনো তারিখ ঘোষণা না করলেও ধারণা করা হচ্ছে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন দিতে প্রাথমিক বাছাইন সম্পন্ন করা হয়েছে। গত ১১ আগস্ট সোমবার কমিশন সভায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন এ অধ্যাদেশে নির্বাচন বাতিলের বিষয়ে কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এটা চূড়ান্ত হলে নির্বাচনে কোনো আসনের ভোট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ওই আসনের পুরো ভোট বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ শেষ হচ্ছে। ইভিএম বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যালটেই থাকছে ‘না ভোট’। এছাড়া বিনা ভোটে জয় ঠেকাতে একক প্রার্থীর বিপরীতে ‘না’ ভোটের বিধান চালু এবং ভোটের মাঠে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো ক্ষমতা দেওয়াসহ বেশকিছু বিষয়ে ক্ষমতা কমিশন ফিরে পেতে যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের ১১ আগস্টের বৈঠকে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২’ সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে ইসি। এখন আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর অধ্যাদেশ জারির মধ্য দিয়ে সংশোধিত এ আইন কার্যকর হবে। ফলে সরকার ঘোষিত আগামী ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ আইন প্রয়োগ করতে পারবে ইসি। ইসির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, এ খসড়া আগামী সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সরকারের সম্মতি পেলে তা সংশোধন অধ্যাদেশ নামে জারি হবে। সেইসঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের কোনো সুপারিশ থাকলে তা পরে যুক্ত করা হবে। এ ইসি বৈঠকে নতুন দল নিবন্ধনের আবেদন নিয়ে আলোচনা হয় এবং ২২টি দলের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। বাকি ১২১টি দলকে অযোগ্য বিবেচিত বলে ঘোষণা করা হয়।
ইসি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরপিওতে যেসব বিধান ফিরছে, তার সবই ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ছিল। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে অনুষ্ঠিত দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়ে এসব বিধান বাদ পড়ে। এর মধ্যে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা ইসির হাতে থাকলেও আগের কমিশনগুলো এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এবারেও এ বিধান প্রয়োগে কারও অভিযোগের জন্য ইসি অপেক্ষা করবে, নাকি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নেবে, তা স্পষ্ট নয়। এর আগে এক বা একাধিক দল জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে অন্য দলের প্রতীকে ভোট করার সুযোগ পেত। এবার সেই সুযোগ বন্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া প্রস্তাবে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১১ আগস্টের বৈঠকে আরপিও খসড়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ইসি সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
ফিরিয়ে আনা হয়েছে ‘না’ ভোট
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘না’ ভোটের বিধান ছিল সব আসনে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তা বাদ দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩টি আসনের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবারের ভোটে ‘না’ ভোটের বিধান চালুর প্রস্তাব ছিল নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনেরও। তবে এবার সব আসনে ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। শুধু যেসব আসনে একজন প্রার্থী হবেন, সেখানেই এ বিধান চালু থাকবে। এ বিষয়ে ইসির ভাষ্য হচ্ছে, যদি কোথাও একজন প্রার্থী হন, সেক্ষেত্রে বিনা ভোটে তিনি নির্বাচিত হবেন না। একজন প্রার্থী হলে তাঁকেও নির্বাচনে যেতে হবে। তাঁকে ‘না’ ভোটের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ‘না’ ভোটের বিধান ছিল। কোনো প্রার্থীকে পছন্দ না হলে ভোটার ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন। ২০০৯ সালে এই বিধান বাদ দেওয়া হয়। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন আবার না ভোটের বিধান ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করেছিল। ইসি তাদের প্রস্তাবে আংশিকভাবে ‘না’ ভোট ফিরিয়ে আনার কথা বলেছে।
যে পরিবর্তন আসছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায়
আরপিওতে ২০০১ সালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করা হয়েছিল। এই বিধান ২০০৮ সাল পর্যন্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে এটি বাদ দেওয়া হয়। আইনে সশস্ত্র বাহিনী সংজ্ঞাভুক্ত না থাকলে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বাধ্যবাধকতা থাকে না। গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের আগে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপে অনেকেই সশস্ত্র বাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছিলেন। বিদ্যমান আইনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় বলা আছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অর্থ পুলিশ বাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, আনসার বাহিনী, ব্যাটালিয়ন আনসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং কোস্টগার্ড বাহিনী। আরপিওর ৮৭ নম্বর ধারায় আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর ক্ষমতার বিষয়ে বলা আছে। এ আইন অনুযায়ী পুলিশ কর্মকর্তা না হলেও নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনরত ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার’ কোনো সদস্য ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র বা ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্বাচনী অপরাধের জন্য বা শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যেকোনো ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারেন। ইসি যেভাবে প্রস্তাব তৈরি করেছে, সেভাবে আইনে সংশোধনে এলে সশস্ত্র বাহিনীও নির্বাচনের সময় এসব ক্ষমতা পাবে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ১৩ দিন মাঠে ছিল সেনাবাহিনী। ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সেনাসদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনে সেনাবাহিনী মাঠে নামে ওই বছর ২৪ ডিসেম্বর। দায়িত্ব পালন করে পরের বছর ২ জানুয়ারি পর্যন্ত। ২০০১ সালের নির্বাচনে সেনাবাহিনী ১৫ দিন, ২০০৮ সালে ১২ দিন দায়িত্ব পালন করেছিল।
ফলাফল বাতিলের ক্ষমতা পাচ্ছে ইসি
এর আগে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত এবং বাতিল নিয়ে ইসির ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছিল। সেটা আবার পুনঃস্থাপন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবস্থা বুঝে এক বা একাধিক ভোটকেন্দ্র বা পুরো আসনে নির্বাচন স্থগিত বা ফলাফল বাতিল করতে পারবে। কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক এবং সংবাদকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীরা ভোট গণনার সময় উপস্থিত থাকতে পারবেন। তবে গণনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে। মাঝপথে বের হয়ে যাওয়া যাবে না। ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, এছাড়া আইনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তির বিধান যুক্ত করা, কোনো আসনে একাধিক প্রার্থী সমান ভোট পেলে পুনর্নির্বাচন দেওয়া, প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় নিরীক্ষার বিষয় সুনির্দিষ্ট করা (ব্যত্যয় হয়েছে মনে করলে ইসি সেগুলোই অডিট করবে), দলের অনুদান ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যাক্স রিটার্নে সেটা দেখানোর বিধান করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আরও জানান, কোনো দল নিষিদ্ধ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিল করার বিধান আছে। কিন্তু দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হলে কী হবে, তার বিধান সুনির্দিষ্ট নেই। এটি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও ভোট নিজ প্রতীকে
জোটবদ্ধ নির্বাচনের নিয়ম প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজেদের প্রতীক দিয়ে নির্বাচন করবে। অর্থাৎ দলীয় স্বাধীনতা অক্ষণ্ন থাকবে। এই বিধান সংস্কার কমিশনেরও প্রস্তাব ছিল এবং কমিশন তা মেনে নিয়েছে।’ নির্বাচনী ব্যয় প্রসঙ্গে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘প্রার্থীদের ব্যয়ের অডিটের ব্যাপারটাকে আরপিওতে আরও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। ইসি যেগুলো ব্যত্যয় থাকতে পারে, সেগুলোকেই অডিট করবে। আগে রাজনৈতিক দলগুলো ব্যক্তি পর্যায় থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ৫০ লাখ পর্যন্ত অনুদান বা ডোনেশন নিতে পারত। এটাকে দুই ক্ষেত্রেই ৫০ লাখ করা হয়েছে। তবে শর্ত থাকবে যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ট্রাানজেকশন হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যাক্স রিটার্নে এটা দেখাতে হবে।’ ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের মিথ্যাচার বা অপবাদ ছড়ানোর ব্যাপারে প্রার্থী, দল, সংস্থা, মিডিয়াসহ সবার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রভিশন করা হয়েছে।’
সুস্পষ্ট করা হয়েছে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন স্থগিতের বিধান
আরপিওতে কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন স্থগিত প্রক্রিয়া ও বিধান সুস্পষ্ট করা হয়েছে। বিদ্যমান বিধানে কেবল কোনো দল নিষিদ্ধ হলে তার নিবন্ধন স্থগিত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলে কী হবে, সেটা সুস্পষ্ট ছিল না। এখন কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলে কমিশন নিবন্ধন স্থগিত করার ক্ষমতা ব্যবহার করবে। এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিধান স্পষ্ট করে আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ বা অন্য কাউকে লক্ষ করে এ বিধান করা হয়নি। এ-সংক্রান্ত বিধান সুস্পষ্ট করা হয়েছে। আরপিওতে নতুন করে যুক্ত হওয়া অন্যান্য বিধানের মধ্যে নির্বাচন কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার শাস্তি সুস্পষ্ট করা হয়েছে। তিন কর্মদিবসে তদন্ত কমিটি গঠন ও ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি ইসিকে জানাতে হবে তিন দিনের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এসিআরে তাঁর শাস্তির বিষয়টি সংরক্ষিত থাকবে। তিনি বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তি যাতে আরপিওতেও প্রয়োগ করা যায়, এমন বিধান যুক্ত হয়েছে। এটা নানাভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে। প্রার্থীর ব্যয়সীমা আরও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। ইসি সানাউল্লাহ বলেন, কোনো দলের নিবন্ধন নাকচ হলে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে চিঠি দেওয়া হবে। আগে ইসির চিঠিতে সুনির্দিষ্ট কারণগুলোর উল্লেখ না থাকায় দলগুলো আদালতে গিয়ে নিবন্ধনের আদেশ নিয়ে আসতে পারত। এটা বন্ধ করতেই এখন থেকে সব কারণ উল্লেখ করে দেওয়া হবে। এছাড়া নিবন্ধনপ্রত্যাশী দলগুলোর জন্য গঠনতন্ত্র জমা দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ দিন সময় দেওয়ার বিধান বহাল থাকছে। এক্ষেত্রে সংস্কার কমিশন থেকে ৯০ দিনের সুপারিশ করা হলেও ইসি সেটাকে বিবেচনায় আনেনি। কেননা এতে অনেক সময় যাবে। নির্বাচনী প্রচারণায় ডিজিটাল বিলবোর্ডের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক আলো ব্যবহার করা যাবে, তবে কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না।
আচরণবিধিতে যুক্ত হয়েছে নারীর প্রতি সম্মান
নির্বাচনে নারীর প্রতি সম্মান ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধের বিষয়টি আচরণবিধিতে যুক্ত করা হয়েছে। আরও কিছু ছোট-খাটো সংশোধনী আনা হয়েছে আরপিওতে। একজন প্রার্থী কত আসনে ভোটে দাঁড়াতে পারবেন- এটা একটা রাজনৈতিক ঐকমত্যের বিষয়। এখানে ইসির কোনো অবস্থান নেই। প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও সংশোধনী আনতেও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইসি। সংসদীয় আসনের সীমানা বিন্যাসের খসড়ার ওপর ৮২টি আসন থেকে দাবি-আপত্তি পাওয়া গেছে। পরে এগুলো শুনানি করে নিষ্পত্তি করা হবে।
প্রাথমিক বাছাইয়ে পাস ২২ দল
নিবন্ধনে আগ্রহী ২২টি দলের মাঠপর্যায়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। ১৪৩টির মধ্যে ৮৪টি দল তথ্য ঘাটতি পূরণ করে জমা দেয়; ৫৯টি দল কোনো ধরনের সাড়া দেয়নি। এ ৮৪টি দলের মধ্যে ২২টি দলের তথ্য সঠিক রয়েছে বলে আপাতত বাছাইয়ে পাওয়া গেছে। এ ২২ দলের মাঠপর্যায়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। বাকি ১২১টি দল অযোগ্য বিবেচিত হয়েছে। তাদের কারণ দর্শানো নোটিশসহ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন ফেরত দেওয়া হবে। প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ দলগুলো হচ্ছেÑ আমজনতার দল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি (বিজিপি), বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), মৌলিক বাংলা, বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জনতার দল, জনতা পার্টি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-সিপিবি (এম), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-শাজাহান সিরাজ), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ বেকার সমাজ (বাবেস), বাংলাদেশ সলুশন পার্টি, জাতীয় জনতা পার্টি এবং নতুন বাংলাদেশ পার্টি।