সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
২৫ আগস্ট ২০২৬ ২০:৫২
এবার দাবি নিয়ে রাস্তায় ভারতের ‘জেনারেশন আলফা’
ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুর জেলার ভাটপুরওয়া সামুহি গ্রামের শিক্ষার্থীরা নতুন স্কুল ভবন নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ভবন নির্মাণের দাবিতে গত শনিবার (২২ আগস্ট) তারা স্কুলের বাইরে অবস্থান নেয় এবং দাবি পূরণে কোনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে না ফেরার ঘোষণা দেয়। যমুনা নদীর তীরবর্তী ওই গ্রামের শিক্ষার্থীরা স্কুল ভবনের সামনে বসে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করে। তাদের অভিযোগ, নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টি আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। অনলাইন মাধ্যমেও বিষয়টি একাধিকবার তুলে ধরা হয়েছিল বলে তারা জানায়। বিক্ষোভ চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রিয়াঙ্কা তিওয়ারি শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকে। বিক্ষোভে কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে ভারতের জাতীয় পতাকাও দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুল ভবনের একটি অংশ আগে ভেঙে ফেলা হয়েছিল। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য সীমিতসংখ্যক কক্ষে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এতে পর্যাপ্ত ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। স্কুল অবকাঠামো নিয়ে এই বিক্ষোভকে উত্তর প্রদেশে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক কয়েকটি আন্দোলনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে হামিরপুরে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার রাস্তার দাবিতে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায়। লখনৌতে প্রায় ২৫০ ছাত্রী শিক্ষক সংকট ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধার দাবিতে বিক্ষোভ করে। উন্নাওয়েও দুই শতাধিক শিক্ষার্থী সড়কে অবস্থান নিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতে সাধারণভাবে জেনারেশন আলফা বলতে সাম্প্রতিক প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের বোঝানো হয়। উত্তরপ্রদেশের এসব ঘটনায় তারা শিক্ষা, অবকাঠামো ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সরাসরি নিজেদের দাবি তুলে ধরছেÑযা রাজ্যের স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যাকেও সামনে আনছে। ভাটপুরওয়া সামুহির শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত কী ফল দেবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে তাদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি নিরাপদ ও পর্যাপ্ত স্কুল ভবনের দাবিটি স্থানীয় প্রশাসনের সামনে আরও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।
পর্তুগালে জনসমক্ষে নিকাব নিষিদ্ধ
পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ পুরোপুরি ঢেকে রাখা বা পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি করে এমন পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও জোসে সেগুরো নতুন আইনটি অনুমোদন করার পর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। আইন ভঙ্গ করলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ১৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ‘বোরকা আইন’ নামে পরিচিত এই আইনে জনসমক্ষে এমন পোশাক পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা মুখ আড়াল করে বা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি করে। তবে স্বাস্থ্য, পেশাগত, শিল্পকলা, বিনোদন, আবহাওয়া ও নিরাপত্তার কারণে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে। উপাসনালয়, কূটনৈতিক ও কনস্যুলার স্থাপনা এবং উড়োজাহাজেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। আইনে কোনো ব্যক্তিকে লিঙ্গ, ধর্ম, বয়স বা বংশগত পরিচয়ের কারণে মুখ ঢাকতে বাধ্য করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ আইনটি শুধু মুখঢাকা পোশাক পরার বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়; কাউকে জোর করে মুখ ঢাকতেও বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো আইনটি অনুমোদনের সময় বলেন, মুখ মানুষের পরিচয় ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর মতে, মুখ খোলা রাখা পর্তুগিজ সমাজে পারস্পরিক আস্থা ও সামাজিক সহাবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আইনটি নিয়ে পর্তুগালে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ডানপন্থী চেগা পার্টির উদ্যোগে বিষয়টি পার্লামেন্টে আসে এবং পরে সংশোধিত প্রস্তাবটি জুলাইয়ে অনুমোদিত হয়। ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোট ও ডানঘেঁষা দলগুলো এর পক্ষে ভোট দিলেও সোশ্যালিস্ট পার্টি, লিভ্রে, পর্তুগিজ কমিউনিস্ট পার্টি ও অন্যান্য বামপন্থী দল এর বিরোধিতা করে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, আইনটি বিশেষ করে মুসলিম নারীদের ওপর অসম প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর ফলে ইসলামোফোবিয়া ও বৈষম্য বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেউ কেউ আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। পর্তুগালের আইনটি প্রথমে চেগার প্রস্তাব হিসেবে আলোচনায় এলেও পার্লামেন্টে অনুমোদনের আগে এতে বেশকিছু পরিবর্তন আনা হয়। চূড়ান্ত আইনে নির্দিষ্ট ধর্মীয় পোশাকের নাম না নিয়ে মুখ আড়াল করে এমন পোশাকের ওপর সাধারণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে আইনটি সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্য করছে এমন অভিযোগ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন আইনে জরিমানার মাত্রা পরিস্থিতি ও দায়ের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। অসাবধানতাবশত আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা তুলনামূলকভাবে কম, আর ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তা সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত যেতে পারে। কারও ওপর জোর করে মুখ ঢাকার পোশাক চাপিয়ে দেওয়ার জন্য আলাদা শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। পর্তুগালের এই পদক্ষেপ ইউরোপে জনসমক্ষে মুখঢাকা পোশাক নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধের ধারাবাহিকতায় নতুন সংযোজন। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশেও বিভিন্ন মাত্রায় মুখঢাকা পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে দেশভেদে এসব আইনের আওতা, কারণ ও ব্যতিক্রম ভিন্ন। দ্য টেলিগ্রাফ।
ভারতে চলন্ত ট্রেনে মাদরাসা ছাত্রের দাড়ি ধরে টানাহেঁচড়া করে হেনস্তা
ভারতের উত্তরপ্রদেশে চলন্ত ট্রেনে দারুল উলুম দেওবন্দের এক মাদরাসা ছাত্রকে নির্মমভাবে মারধর, সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ এবং জোরপূর্বক মদ খাওয়ানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একদল বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মুনতাজির মিরাটের সারধনা এলাকার দেওলি খেড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাহারানপুর জেলার বিখ্যাত ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’-এর ছাত্র। গত শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় মিরাট ক্যান্টনমেন্ট থেকে দেওবন্দগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে দৌরালা ও সাকৌটি স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, মুনতাজিরের দাড়ি এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাক দেখে কোচে মদপানরত ১০-১২ জনের একটি বখাটে গ্রুপ তাকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। অভিযোগ মতে, হামলাকারীরা মুনতাজিরের দাড়ি ধরে টানাহেঁচড়া করে, সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ দেয় এবং তাকে জোর করে মদ গেলাতে চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। আত্মরক্ষার্থে মুনতাজির অন্য কোচে যাওয়ার চেষ্টা করলে যুবকরা তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। দুজন যুবক তাকে চলন্ত ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করে। আক্রান্ত ছাত্রের চিৎকার শুনে ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। অভিযুক্তরা সাকৌটি স্টেশনে নেমে যাওয়ার সময় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। খাতৌলি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ সাকৌটি ও খাতৌলি স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও রেলওয়ে আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। চলন্ত ট্রেনে উন্মুক্ত মদপান ও জঘন্য নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও সেখানে রেলওয়ে পুলিশ বা আরপিএফের কোনো উপস্থিতি না থাকায় রেল নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার খবর পেয়ে মিম (এআইএমআইএম)-এর জেলা সভাপতি ইমরান কাসমি সমর্থকদের নিয়ে খাতৌলি থানায় উপস্থিত হন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। সিয়াসত ডেইলি।
বিরোধপূর্ণ দ্বীপে রাশিয়ার মহড়া ক্ষুব্ধ জাপান
রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত সফরের ঠিক পরপরই জাপান-দাবিকৃত বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জের কাছে সামরিক মহড়া ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়া। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে মস্কো এবং টোকিওর মধ্যে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধ ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে। রাশিয়াভিত্তিক প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বিতর্কিত কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ (জাপানে যা ‘উত্তর ভূখণ্ড’ নামে পরিচিত) সংলগ্ন এলাকা থেকে পরমাণু চালিত সাবমেরিন, মিসাইল ক্রুজার এবং ভূমিতে স্থাপিত ‘বাস্টিয়ন’ কোস্টাল ডিফেন্স সিস্টেম থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়। মহড়ায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের সমুদ্র লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই পুতিন বিতর্কিত ইতুরুপ (জাপানি নাম এতোরোফু) দ্বীপ পরিদর্শন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে সোভিয়েত ইউনিয়নের মাধ্যমে দ্বীপটি দখলের পর সেখানে পুতিনের এই সফর জাপানকে ব্যাপকভাবে ক্ষুব্ধ করে। রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘চারটি উত্তর ভূখণ্ডে রাশিয়ার এই সামরিক শক্তিবৃদ্ধি জাপানের অবস্থানকে সরাসরি লঙ্ঘন করে এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর থেকে এই চার দ্বীপের মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে রাশিয়া এবং জাপানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। তাস।
মিয়ানমারে বৌদ্ধবিহারে বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত
মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের একটি বৌদ্ধ বিহারে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় একটি বিরোধী সংগঠন ও এক বাসিন্দা। গত ২১ আগস্ট শুক্রবার মিয়াং টাউনশিপের সোয়েল লে ওহ গ্রামে এ হামলা হয়। গ্রামটি দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালে থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংগঠন সিডিএসওএমের তথ্যানুযায়ী, একটি যুদ্ধবিমান বিহার প্রাঙ্গণ লক্ষ করে বোমা হামলা চালায়। স্থানীয় এক বাসিন্দা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, যুদ্ধবিমানটি প্রায় ১৫ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বোমা ফেলে। সে সময় বৌদ্ধদের বর্ষাবাস উপলক্ষে বিহার ও আশপাশের এলাকায় ১০০ জনের বেশি মানুষ অবস্থান করছিলেন। হামলায় নিহত ১৪ জনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই বাসিন্দাও। স্থানীয় বিরোধী সংগঠন ও বাসিন্দাদের তথ্যানুযায়ী, হামলায় বিহার প্রাঙ্গণে থাকা লোকজনের পাশাপাশি আশপাশের একটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। হামলার বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে সামরিক বাহিনী দাবি করে আসছে, তারা কেবল বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালায় এবং বেসামরিক মানুষকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগত ও রাজনৈতিক সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। সাগাইং অঞ্চল দেশটির সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা ইন্ডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার (আইআইএমএম) সম্প্রতি জানিয়েছে, দেশটিতে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এতে বিরোধী পক্ষের বক্তব্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করা হয়েছে। মিয়ানমারের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। সামরিক বাহিনী ও বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর লড়াইয়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বেসামরিক মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নতুন এই বিমান হামলার ঘটনাও দেশটির চলমান সংঘাতের মানবিক মূল্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। আল-জাজিরা।
ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের কবর ও আশ্রয়স্থল
গাজার ২০ বছর বয়সী ওমর আল-সাওহি যখন তার বাবা ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মাদকে দাফন করতে জেইতুন কবরস্থানে যান, যিনি ইসরাইলি বাহিনীর নির্ধারিত সামরিক এলাকা ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছে গুলিতে নিহত হয়েছিলেন, ওমর দেখতে পান যে, জায়গার তীব্র অভাবে কবরস্থানগুলো ভরে যাওয়ায় কবরগুলো একটি অপরটির সাথে গাদাগাদি করে রয়েছে। যুদ্ধ ও তীব্র স্থান সংকটে কবরস্থানগুলোও চাপে ভেঙে পড়ছে এবং নতুন কবরের জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। ওমর আল-জাজিরাকে বলেন, ‘সেখানে বালুর পাহাড় ছিল, আর তার নিচে মানুষদের দাফন করা হয়েছিল। কবর বলতে ছিল শুধু একটি পাথর, যার ওপর শহীদের নাম লেখা এক টুকরো কাগজ রাখা। যুদ্ধের আগে যেমন কবর তৈরি ও যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হতো, এখন তা করার সুযোগ নেই।’ আল-জাজিরা।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান