নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী


১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৪৭

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের নিত্যপণ্যের বাজার ক্রমেই অস্থিরতার দিকে এগোচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বাজারের দিকে নজর রাখছে কিনা সেই প্রশ্নে দেখা দিয়েছে ক্রেতাসাধারণের মধ্যে। এখন বাজার পরিস্থিতি স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী সিন্ডিকেটে ভেঙে যাওয়ায় বাজার কিছুদিন শান্ত ছিল। কিন্তু বাজার এখন আর শান্ত নেই। অদৃশ্য ছায়ার ছোবলে অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে নিত্যপণ্যের বাজার। সব ধরনের সবজির দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে দাম বাড়ছে বলে অজুহাত হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো কারণ ছাড়াই বেড়েছে ডিম ও পেঁয়াজের দাম। সরকার বা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এ মূল্যবৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।
বাজারে খবর নিয়ে জানা গেছে, বেশকিছু সবজির কেজি ১০০ টাকার ঘর ছাড়িয়েছে। বেগুন ও শসার দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। গাজর ১২০, টমেটো ১৪০ থেকে ১৫০ ও করলা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মরিচের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। সবজি বিক্রেতাদের কমন বক্তব্য, টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শাকসবজি নষ্ট হয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। ফলে দামও বেড়েছে।
বাজারে এক কেজি পেঁয়াজের দাম গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা থাকলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। অনেক জায়গায় এর দাম আরও বেশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি বছর কৃষকের ঘরে থাকা অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে। ফার্মের মুরগির ডিমের দামও ডজনপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ থেকে দাঁড়িয়েছে ১৫০ টাকা, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ১১৫ থেকে ১২৫ টাকা। দাম বেড়েছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগিরও। এখন ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায়। তবে ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকায়। অন্য মাছ যেমন বোয়াল, কোরাল, আইড়, পাবদা ও শিংয়ের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।
এদিকে বাজার পরিস্থিতি সামলাতে গত ১০ আগস্ট রোববার থেকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্যা (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ কার্যক্রম চলবে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভোক্তা ভোজ্যতেল দুই লিটার ২৩০ টাকা, চিনি এক কেজি ৮০ টাকা এবং মসুর ডাল দুই কেজি ১৪০ টাকায় নিতে পারবেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চার মাস কমার পর জুলাইয়ে আবারও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানায়, জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ, আর সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্ষা ও বন্যার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার বাজার মনিটরিংয়ে কঠোর না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বাণিজ্য, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে।