স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় আগামী নির্বাচনে দেশপ্রেমিক শক্তিকে বিজয়ী করতে হবে : অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার


১৯ জুন ২০২৫ ১৪:১৪

গত ১৩ জুন শুক্রবার সকাল ৯টায় সাতকানিয়ার কেরানীহাট হোটেল সী ওয়ার্ল্ড কনভেনশন হলে সাতকানিয়া লোহাগাড়ার সর্বস্তরের দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় আগামী নির্বাচনে দেশপ্রেমিক শক্তিকে বিজয়ী করতে হবে। বাংলাদেশ আর কখনো বিদেশি প্রভুর কথায় চলবে না। বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের শক্তি নিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। গত ১৩ জুন শুক্রবার সকাল ৯টায় সাতকানিয়ার কেরানীহাট হোটেল সী ওয়ার্ল্ড কনভেনশন হলে সাতকানিয়া লোহাগাড়ার সর্বস্তরের দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর জননেতা আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জননেতা ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর জননেতা আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, শ্রমিক কল্যাণের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ ইসহাক।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদরুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল্লাহ, ড. হেলাল উদ্দিন মুহাম্মদ নোমান, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাকারিয়া, এডভোকেট মোহাম্মদ নাছের, সাংগঠনিক সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল হোসাইন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা কামাল উদ্দীন, নুরুল হক, মাওলানা আবুল ফয়েজ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শিবিরের সভাপতি আসিফুল্লাহ মুহাম্মাদ আরমান, লোহাগাড়া উপজেলা আমীর অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী ও সাতকানিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা কামাল উদ্দিন, সাতকানিয়া পৌরসভার আমীর অধ্যক্ষ হামিদ উদ্দীন আজাদ প্রমুখ।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের বিচার সময়ের দাবি। তিনি যেভাবে মানুষ হত্যা করেছেন, তার বিচার এ সরকারের অধীনেই হওয়া উচিত। সংস্কার প্রসঙ্গে অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, দেশের সব সেক্টরে সংস্কার প্রয়োজন। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার অবশ্যই করতে হবে। অন্যথায় আরেকটি ফ্যাসিস্ট হাসিনা তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারকে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি প্রস্তাব জানিয়েছি। যেমন স্থানীয় সরকার না থাকায় দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নানা সমস্যায় আছেন। তাই যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়া দরকার। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন করার দাবিও জানানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য করার জন্য প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পতিত হাসিনা সরকার দেশে ফ্যাসিবাদ ও কর্তৃত্ববাদ কায়েম হয়েছিল। দিল্লির তাঁবেদারি করে হাসিনা দেশ পরিচালনা করেছে। আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে বিদেশের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে।
সচেতন দেশবাসীর কাছে বলতে চাই, একটা স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি মানচিত্র পেয়েছি। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি, রাজনীতির নীতিকে হাসিনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে কোনো বিরোধীদল যায়নি, ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা যায়নি। এমনকি এরশাদও নির্বাচনে যেতে চায়নি। ভারত তাকে জোর করে নির্বাচনে পাঠিয়েছে।
এমপি প্রার্থীর নাম ঘোষণায় তিনি বলেন, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া- লোহাগাড়া) আসনের আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনের জন্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরীকে মনোনীত করা হয়েছে।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, জামায়াতের ইতিহাস ঐতিহ্য, আনুগত্য করার ক্ষেত্রে সংগঠনের অনেক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের প্রতিহিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করে মন্তব্য করা আমাদের সংগঠনের ঐতিহ্য নয়। সংগঠনের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষার্থে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে সংগঠনের সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। নিয়মতান্ত্রিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলে আল্লাহ আমাদের সহায় হবেন, আল্লাহ আমাদের বিজয় দান করবেন, ইনশাআল্লাহ।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, এ আসন সম্পর্কিত একটি বৈঠক করতে গিয়ে সাবেক আমীরে জামায়াত মকবুল আহমদ গ্রেফতার হয়েছিলেন। জাতির স্বার্থে, দীনের স্বার্থে ও সমঝোতার স্বার্থে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। সেজন্য আমীরে জামায়াত নিজের আসনও জাতির স্বার্থে ছেড়ে দিতে পারেন বলে ঘোষণা করেছেন। বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিপরীতে চলা ইসলামের সৌন্দর্য নয়। আমাদের চিন্তা-চেতনা সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা দরকার। কোনো অবস্থাতেই দ্বিমুখী আচরণ করা যাবে না। সত্যকে সত্য, ন্যায়কে ন্যায় ও অন্যায়কে অন্যায় হিসেবে ঘোষণা দেয়াই সর্বোত্তম জিহাদ। সারা দেশের জনশক্তিরা সাতকানিয়া লোহাগাড়ার কথা বললে অন্তর থেকে দোয়া করে। তাই এ সংগঠনের জনশক্তিকে ঠিক সেইভাবে নিজেদের মূল্যায়ন করে নিজেদের মানকে উন্নত করে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের এ আসনসহ সকল আসনে বিজয় দান করুন, আমীন।
মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এ আসনের জন্য সাবেক এমপি আলহাজ শাহাজাহান চৌধুরী অনেক বেশি পরিচিত। এ আসনের অতীতের সকল ত্যাগের চেয়ে আরও বেশি ত্যাগ স্বীকার করে ইতিহাস সৃষ্টি করার জন্য একটি সুন্দর বিজয়ের রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। এবারে আমাদের স্বপ্ন সম্ভাবনার বাংলাদেশ। এবারে আমাদের স্বপ্ন ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত পরাজয়। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।
মহানগরী সাবেক আমীর ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমি ইসলামী আন্দোলনের পূর্বসূরিদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। আল্লাহ তাদের এ ত্যাগকে কবুল করুন। আমরা শহীদদের এ ময়দানে সম্মিলিতভাবে কাজ করে দীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে আল্লাহর সাহায্য কামনা করছি।
অধ্যাপক আহসান উল্লাহ বলেন, আমলে সালেহ হিসেবে নিজেদের যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনে এ আসনের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। আওয়ামী লীগ যেভাবে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, এখন সংস্কার ছাড়া দেশে গণতন্ত্র ফিরে আনা অসম্ভব।
অধ্যাপক জাফর সাদেক বলেন, আমাদের আজ অগ্নিপরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমরা বছরের পর বছর ধরে সংগঠনের ভিত্তি মজবুত করার জন্য কাজ করে আসছি। আজকে নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে দিনরাত নির্বাচনের জন্য কাজ করে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, সাতকানিয়া লোহাগাড়া রক্তস্নাত ময়দান। শহীদদের এ ময়দানে সবাইকে জীবনবাজি রেখে এ আসনের প্রার্থীকে বিজয়ী করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী দল। হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও প্রতীক দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ফিরিয়ে দিয়েছে। আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির জন্য আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
গত রোববার (১৫ জুন) সকাল ১০টায় পবিত্র হজ পালন শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বাড়িতে আসার পথে সিকিরহাট, ফুলতলা বাজার ও শিরোমনি শহীদ মিনার চত্বরে স্থানীয় জামায়াত আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১০টায় ফুলতলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাস্টার মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সিকিরহাট খেয়াঘাট চত্বরে, সকাল সাড়ে ১০টায় ফুলতলা উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলীম মোল্যার সভাপতিত্বে ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এবং খানজাহান আলী থানা জামায়াতের আমীর ডা. সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটোর সভাপতিত্বে শিরোমনি শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত পৃথক পৃথক পথসভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা অফিস সেক্রেটারি মো. আশরাফুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাস্টার শেখ সিরাজুল ইসলাম, জেলা যুব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. ইউসুফ ফকির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সহ-সভাপতি মো. আল আমিন গোলদার, খানজাহান আলী থানা সেক্রেটারি গাজী মোর্শেদ মামুন, ফুলতলা উপজেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাওলানা শেখ ওবায়দুল্লাহ, সেক্রেটারি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল হাসান খাঁন, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য শেখ মো. আলাউদ্দিন, ড. মো. আজিজুল হক, মাওলানা জোবায়ের হোসেন ফাহাদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ফুলতলা উপজেলা সভাপতি আব্দুল আলিম শেখ, পেশাজীবী বিভাগের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম জমাদ্দার, ফুলতলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ আল আমিন গাজী, দামোদর ইউনিয়ন আমীর ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহমদ, সেক্রেটারি মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান, জামায়াত নেতা আব্দুল জলিল শেখ, এএইচএম শফিউল্লাহ হাজেরী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, আপনারা বিগত ৫৪ বছরে বিভিন্ন দলের শাসন দেখেছেন। সেখানে জনগণের কাক্সিক্ষত কল্যাণ সাধিত হয়নি। বিগত সরকারগুলো হত্যা, লুটপাট, দুর্নীতি, অন্যায়, অত্যাচার, অবিচারের মাধ্যমে দেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। দেশের মানুষ এখন বলতে শুরু করেছে সব দলের শাসন দেখা হয়েছে, শুধু বাকি রয়েছে ইসলামী শাসন দেখার। তাই তো আমাদের আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ডাক দিয়েছেন। একটি জনমুখী ও কল্যাণকর রাষ্ট্রের রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। যেখানে লুটপাট-দুর্নীতির মাধ্যমে দেশ তলাবিহীন ঝুড়ি হবে না, বেকারত্বের অভিশাপ কোনো যুবককে বয়ে বেড়াতে হবে না, সকল বৈষম্য দূর হবে। মানুষ সত্যিকার একটি কল্যাণ রাষ্ট্র দেখতে পাবে।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি কল্যাণকর ও গণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হলে সৎ মানুষের শাসন প্রয়োজন। আমাদের স্লোগান হলো- ‘জামায়াত আল্লাহর আইন চাই ও সৎ লোকের শাসন চাই।’ তাই আগামীর সংসদে যদি আল্লাহওয়ালা ও ইসলামপ্রিয় ১৫১ সদস্যকে নির্বাচিত করে পাঠাতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশ সত্যিকারে একটি সোনার দেশে পরিণত হবে। দেশের শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য, বস্ত্রসহ টেকসই উন্নয়ন করা হবে। একটি ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত ও বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়া হবে, যেখানে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করা হবে। যুবকদের লেখাপড়া শেষ করার সাথে সাথে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বেকার ভাতা দেয়া হবে। তাই আগামী নির্বাচনে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে সৎ, আল্লাহভীরু ও ইসলামপ্রিয় সদস্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখুন।
তিনি আরও বলেন, ২৪’র গণঅভ্যুত্থানের পর পথহারা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ার সুযোগ হয়েছে। দুই হাজার ছাত্র-জনতার শহীদ ও প্রায় ত্রিশ হাজার ছাত্র-জনতার পঙ্গুত্ববরণের মাধ্যমে নতুন স্বাধীনতা লাভ করা বাংলাদেশে আর যেন কোনো শক্তি ফ্যাসিবাদের জন্ম দিতে না পারে, বৈষম্য তৈরি করতে না পারে, অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন, দখলবাজি, চাঁদাবজি করতে না পারে, সেদিকে সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অন্যথায় আমাদের এ ছাত্র-জনতার স্বপ্ন বিলীন হয়ে যাবে।
বিগত ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এমপি থাকাকালীন সময়ে তার উন্নয়নের বর্ণনা দিয়ে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমি এমপি থাকাকালীন সময়ে ফুলতলা-ডুমুরিয়ার সন্ত্রাস নির্মূল ও সুষম উন্নয়ন করার দুটি ওয়াদা ছিলো। আমি তখন জনগণকে সাথে নিয়ে সন্ত্রাসী এ জনপদকে সন্ত্রাসমুক্ত করেছিলাম। ৫ বছরে এ বিশাল এলাকার সব উন্নয়ন করা যায় না। তবুও যতটুকু পেরেছি, চেষ্টা করেছি উন্নয়ন করার যা গত ১৫ বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। এ এলাকার সমস্যা দূরীকরণে আমি সবসময় সচেষ্ট থাকি। ইতোমধ্যে বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ শুরু করেছি। আগামী নির্বাচনে জামায়াত আমাকে আবারও এখানে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে যদি নির্বাচিত করেন, তাহলে অতীতের মতো আমার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে ফুলতলা-ডুমুরিয়ার বাস্তব সম্মত উন্নয়ন করার। বিগত সময়ে আমার হুলকুম দিয়ে যেমন একটি হারাম টাকাও আমার ভেতর ঢোকেনি, আগামীতেও হারাম কোনো অর্থ আমার হুলকুমে ঢুকবে না, ইনশাআল্লাহ। এর পূর্বে সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সিকিরহাট খেয়াঘাটে পৌঁছালে ফুলতলা উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আ. আলীম মোল্যা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।