আলোকে তিমিরে

নানা ধারার মধ্যে ঐক্যের মাধ্যমে সমন্বয় ঘটাতে হবে


১০ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:২৩

॥ মাহবুবুল হক ॥
ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী গিয়েছিলাম। সাথে ছিল সাবেক ব্যাংকার ছোট ভাই ও তার ছোট সংসার। তিন ঘণ্টার জার্নি শেষ করতে দশ ঘণ্টা লেগেছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের (৫ আগস্ট ২০২৪) পর বাড়িতে যাওয়া হয়নি। কারণ ছিল বন্যার তীব্র আঘাত। আমাদের বাড়ির রাস্তাটি বিলীন হয়ে গিয়েছিল। সেটা পুনর্নির্মাণ করতে বেশ সময় লেগেছিল।
নোয়াখালীর সমাজ বরাবর বন্ধনের সমাজ। আত্মীয়-বন্ধুকেন্দ্রিক সমাজ। বন্ধুত্বের বাঁধন ইহজাগতিক কারণে মাঝে মাঝে দুর্বল হয়ে পড়লেও আত্মীয়তার জোটে কখনো বিঘ্ন ঘটেছে বলে তেমন একটা দেখা যায়নি। বাপ-চাচাদের মুখে শুনেছি, দাদা-নানাদেরকালে জমাজমি বণ্টনের কারণে মামলা-মোকদ্দমা থাকলে বাদী ও বিবাদীর দল একসাথে নৌকায় মাইজদি কোর্টে গেলে একসাথেই সালাত ও খাওয়া-দাওয়া করতো, একসাথে বাজার-সাজার করতো এবং গল্প করতে করতে একসাথেই ফিরে আসতো। চরের দিকে ব্যতিক্রম থাকলেও মূল ভূখণ্ডে এর বেশি একটা ব্যত্যয় ঘটতো না।
এখন পূর্বের মতো খাল-বিল নেই। সুন্দর ঝকঝকে পাকা রাস্তা। বাস, মাইক্রোবাস, মিনিবাসসহ টেম্পো, বেবিট্যাক্সি, ইঞ্জিনচালিত রিকশা ও সাধারণ রিকশার কোনো অভাব নেই। অবস্থাপন্ন বাদী-বিবাদীরা এখনো পূর্বের ছিলছিলা (ঐতিহ্য) বজায় রাখার চেষ্টা করেন।
একাত্তরে ডান ও ইসলামী দলের সদস্যের বাড়িতে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থীদের আশ্রয় নিতে ও পেতে দেখেছি। আবার বাহাত্তরে এবং তারপর সেক্যুলার ও বাম ঘরানার মান্যবরদের বাড়িতে বা বাসায় ভিন্নমতাবলম্বীদের আশ্রয় নিতে দেখেছি। সর্বক্ষেত্রে একই কথা, আত্মীয় হন, বন্ধু হন, কী আর করা। সম্পর্কের বিষয়টা নোয়াখালী অঞ্চলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর সুদূর প্রভাব এখনো বিস্তৃত।
আরেকটি বিষয় খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করেছি, তা হলো ভিন্ন মতাবলম্বীরাও জামাই হিসেবে শিবিরের ছেলেদের পছন্দ করে এবং ছেলের বউ হিসেবে ছাত্রী সংস্থার মেয়েদের পছন্দ করে। ছোটকালে লক্ষ্মীপুর জেলার হাজীপাড়া অঞ্চলে বসবাস করতাম। দেখতাম, অপরাধ জগতের সাথে জড়িত তাদের ছেলে-মেয়েদের কুরআন-হাদিস শেখাতো এবং অনেকেই; বিশেষ করে ছেলেদের স্কুলের পরিবর্তে মাদরাসায় ভর্তি করাতো। এসব অনেকটা স্থানীয় কৃষ্টির অন্তর্গত বিষয়। নিজে যাই করুক সন্তানরা ভালো হোক, সব মা-বাবাই চান।
এখন অন্যান্য অঞ্চলে রাজনৈতিকভাবে কতকিছু হচ্ছে, কিন্তু নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে একই মঞ্চে বসে ভিন্নমতাবলম্বীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলছেন। ঐক্যের কথা বলছেন। সংবাদপত্রে এ ধরনের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এসবই আশার কথা, উদ্দীপনার কথা। গণতন্ত্রের জন্য এসবই সোপান। অন্যকে শ্রদ্ধ করা, পরমতসহিষ্ণু হওয়া, শুধু নিজের মতের ওপর অনড় থাকলে গণতন্ত্রের দিকে এগোনো যায় না। গণতন্ত্রের জন্য ছাড় দিতে হয়, অন্যদের স্বার্থও দেখতে হয়, কিছুটা নিঃস্বার্থ হতে হয়, ত্যাগ ও কুরবানি স্বীকার করতে হয়।
বাড়ির সামনে মসজিদে ঢুকে কিছুটা অবাক হলাম। গণঅভ্যুত্থানের পূর্বে যে মসজিদ কমিটি ছিল, এখনো তাই আছে। কোনো পরিবর্তন দেখলাম না। অনেককাল থেকে আওয়ামী লীগের একজন নেতা মসজিদের সভাপতি, তিনি দিব্যি পূর্বের মতোই আছেন। আমাদের মসজিদকেন্দ্রিক সমাজ পূর্বের মতোই বিরাজমান আছে। মাদরাসার মাঠে ঈদের জামাতে যোগ দিলাম। সভাপতি সাহেব আমাকে কথা বলার অনুরোধ জানালেন। তাকে বোঝালাম, আগে বলিনি, এখনো বলবো না, গ্রামের মানুষ ভাববে আমরা এখন ক্ষমতায় আছি, সেজন্য কথা বলছি। আমাদের এখানে বলার মানুষের তো অভাব নেই। ইমাম সাহেব শুধু টাইটেল পাস নন, তিনি অনার্স-মাস্টার্স, বড় ওয়ায়েজিন, এখন বিসিএসে অংশগ্রহণের জন্য প্রচুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মুয়াজ্জিন সাহেব কুরআনে হাফেজ, কারী, টাইটেল পাস আবার জেনারেল লাইনেও গ্র্যাজুয়েট। ইমাম ও মুয়াজ্জিন সাহেব দুজনেই মাদরাসার শিক্ষক। পরিচিতজনদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে জানলাম, মসজিদ ও মাদরাসার অভিভাবক যারা আছে, তারা সেক্যুলারপন্থী হলেও পাঁচ ওয়াক্ত সালাত মসজিদেই আদায় করেন। কেউ কেউ রাজনীতির সাথে সংযুক্ত থাকলেও মসজিদ-মাদরাসার উন্নতি ও বিকাশে অবজ্ঞা বা অবহেলা করেন না। সে কারণে পরিবর্তনের কোনো প্রশ্নই ওঠেনি। অথচ গ্রামে যাওয়ার পূর্বে আমার বদ্ধমূল ধারণা ছিল, গ্রামের সকল ব্যবস্থাপনা ইতোমধ্যেই ওলট-পালট হয়ে গেছে। আমাদের সংবাদপত্র ও মিডিয়ায় গুজব আছে যে, সামাজিক নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের জায়গায় বিএনপি ও জামায়াতের কাছে চলে গেছে। হয়তো গেছে। তবে সব জায়গায় নয়।
এখন এ মুহূর্তে একই ধরনের কিছু কথা মনে পড়ে গেল। বিএনপির আমলগুলোয় আওয়ামী লীগের শীর্ষতম নেতা ওবায়দুল কাদের মাঝে মাঝে আমাদের বাড়িতে মেহমান হতেন। তাকে সাথে করে নিয়ে আসতেন আমার এক চাচাতো ভাই আজিজুল হক, যিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যমমানের ভালো চাকরি করতেন, পরিচালকও হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন ওবায়দুল কাদেরের বন্ধু ও সহপাঠী। তার ইন্তেকালের পর আমাদের বাড়িতে কাদের সাহেব আর আসেননি।
আওয়ামী লীগের আমলগুলোয় ব্যারিস্টার মওদুদ কবিরহাট এলাকায় আসতেন। কোনো অসুবিধা ফিল করলে ব্যাংকার এল. আর চৌধুরীকে ফোন করতেন (৯১), তিনি মূলত আওয়ামী লীগের মান্যবর। ১৯৫৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি প্রথম এ এলাকায় এনেছিলেন। পরবর্তী সফরে শেখ সাহেব তার বাসায় মেহমানও হয়েছিলেন। একজন সমাজ দরদি মানুষ হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতিমান। জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের নিয়ে তিনি এলাকায় ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে সেই সেন্টারের মাধ্যমে তিনি মসজিদ, মাদরাসা, কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষা-সংস্কৃতির উন্নতি ও বিকাশে প্রভূত উন্নতি বিধান করেছেন। মওদুদ সাহেব আনন্দের সাথে তার আতিথিয়তা গ্রহণ করতেন। তার জীবনসঙ্গী হাসনা মওদুদও হয়তো নিরাপত্তার কারণে আওয়ামী ঘরানার পীর সাহেবের বাড়িতে মাঝে মাঝে অতিথি হতেন।
এখানে এসব কেন বললাম। বললাম এ কারণে যে, দেশ, জাতি, দল বড় নয়, বড় হলো মানুষ। পৃথিবীতে দেশ, জাতি, দল ও মানুষ পুরস্কৃত হলেও আখিরাতে মানুষ ও জিন ছাড়া কেউ পুরস্কৃত হবে না। পৃথিবীতে সবাই শাস্তি পাবে, কিন্তু আখিরাতে জিন ও মানুষ ছাড়া কেউ শাস্তি পাবে না। দুনিয়ার জীবনকে তো জীবন বলা হয়নি, বলা হয়েছে খেল-তামাশা, খেলাধুলা ও পরীক্ষার জায়গা। ক্ষণিকের জন্য অস্থায়ী স্থান বা অস্থায়ী জায়গা। মানুষ ও জিনের মূল স্থায়ী জীবন হলো জান্নাত বা জাহান্নাম। ভালো মানুষ হলে জান্নাতের স্থায়ী বাসিন্দা হবে আর খারাপ মানুষ হলে অনন্তকাল জাহান্নমের আগুনে পুড়তে থাকবে।
যারা স্থান, কাল, পাত্র, ভূগোল, ইতিহাস, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষকে ভালোবাসতে পারেন, তারাই উত্তম মানুষ। তারাই শ্রেষ্ঠ মানুষ। এখানেও কথা থেকে যায়। শুধু ভালোবাসলেই উত্তম মানুষ হওয়া যাবে না। যাদের আমরা ভালোবাসবো, তাদের অবশ্যই জান্নাতি মানুষ হতে হবে। যদি তারা জান্নাতি মানুষ না হন, জাহান্নামে যাওয়ার মানুষ হন, তাহলে তাদের জান্নাতি মানুষ বানানোর চেষ্টা ও সাধনা করতে হবে। সেই সাধনা আপনার-আমার ইচ্ছামতো করা যাবে না। করতে হবে মহান সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা অনুযায়ী। পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করে মহান আল্লাহ সব শেষে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। এ মানুষকে বলা হয়েছে আশরাফুল মাখলুকাত। অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা বলে। সৃষ্টি সেরা মানুষকে তিনি তার প্রতিনিধি বানিয়েছেন। এ প্রতিনিধির দায়িত্ব হলো আল্লাহর সৃষ্টিসমূহকে আল্লাহর পক্ষ থেকে লালন-পালন করা। লালন-পালন করতে হলে কিছু শিক্ষা, কিছু প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হয়। সেই প্রয়োজন মহান আল্লাহ পূরণ করেছেন কিছু কিতাব ও নবী-রাসূলদের দ্বারা। কিতাবগুলো তিনি আসমান থেকে ছেপে ছেপে দুনিয়ায় পাঠাননি। তাঁর বার্তাবাহক জিবরাইলের মাধ্যমে রাসূলদের কাছে তিনি সেসব পৌঁছেছেন। মহান আল্লাহ সর্বজ্ঞ। তিনি জানতেন মানুষের কাছে শিক্ষক হিসেবে উত্তম মানুষ তথা তাঁর উত্তম প্রতিনিধিকে পাঠাতে হবে। যেখানে তিনি নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন সেই নবী বা রাসূল ভিন্ন অঞ্চলের ছিলেন না। স্ব-জাতির লোকেরা তাদের নবী-রাসূলদের (আ.) চিনতেন-জানতেন। কিন্তু তাই বলে তারা সকল নবী ও রাসূলকে আনন্দের সাথে আহলান-সাহলান করেছেন বলে বর্ণনা মহান আল্লাহর কিতাবগুলোতে বা মানুষের সৃষ্ট ইতিহাসে পাওয়া যায় না। যা হোক, আমরা এখানে সৃষ্টির কাহিনী বলতে বসিনি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টির সেরা জীব মানুষকে স্ব-মহিমায় সমুজ্জ্বল করা। মহান আল্লাহ তায়ালা নিজেই বলেছেন, মানুষের জন্য সব সৃষ্টি করা হয়েছে। দেশ, জাতি বা কোনো দলকে উচ্চকিত করার জন্য মহান আল্লাহর তেমন কোনো ঘোষণা কুরআনে নেই। মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই, উঁচ-নিচু নেই। যিনি আল্লাহ ও নবী-রাসূলদের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন ও কর্ম নির্ধারণ করে আল্লাহর খাঁটি বান্দা ও প্রতিনিধি হওয়ার ভাগ্য অর্জন করেছেন। তিনি উন্নত মানুষ। কার কত ধন-সম্পদ আছে, তিনি কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেছেন বা কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, শিক্ষা-দীক্ষার কত সনদ তার কাছে আছে, আল্লাহ তায়ালা দেখবেন না, দেখবেন তার সময়কার নবী-রাসূল ও নবী-রাসূলদের মতো তাকওয়াসম্পন্ন মানুষকে অনুসরণে তিনি নিজেকে তৈরি করেছেন কিনা। তিনি ভালো মানুষ, তিনি সৎ, তিনি যোগ্য, তিনি আত্মীয়-স্বজনকে পছন্দ করেন, তিনি দানবীর, তিনি কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী, মানবতার কল্যাণে তার অবদান রয়েছে এসবের মধ্যে উন্নত মানুষের সব রূপরেখা নেই। তিনি হক্কুল্লা ও হক্কুল আবদের প্রতীক, এটাই মহান আল্লাহর কাছে বিবেচ্য বিষয়। এ ধরনের মানুষই মহান আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে দুনিয়াকে সুখময়-শান্তিময় ও স্বস্তিময় রাখবে এবং আখিরাতের জীবনকে মুক্তিময় করার অভিলাসী হবে। এদিক থেকে বিবেচনা করলে মহান আল্লাহর প্রতিনিধিতুল্য মানুষের কাজ শুধু পরিবার, সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্রের জন্য নয়, সব সৃষ্টির জন্য। মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে দুই জাতিতে বিভক্ত করেছেন বা দুই দলে বিভক্ত করেছেন। একদল হলো আল্লাহর দল, আরেক দল হলো শয়তানের ‘দল’। একদল হলো দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য, আরেক দল হলো শুধু দুনিয়ার জন্য। যারা শুধু দুনিয়ার কথাই ভাবে। দুনিয়ার উন্নতি ও সমৃদ্ধির কথাই ভাবে, তারাই হলো সেক্যুলার। যারা ইহকাল ও পরকালের কথা ভাবে, চিন্তা করে, কাজ করে, তারাই হলো আল্লাহপন্থী, কিতাবপন্থী, আখিরাতপন্থী, রাসূলপন্থী এবং এককথায় তারা ইসলামপন্থী। ইসলাম আলাদা কোনো ধর্ম নয়, মহান আল্লাহর উদ্ভাবন ও তাঁর অস্তিত্বের সাথে এর সম্পর্ক।
সব কথা এখানে বলা গেল না, আকার-ইঙ্গিতে বলার চেষ্টা করলাম। যে নির্বাচনেই হোক না কেন, ভালো মানুষের প্রয়োজন হবে। সব দলকেই ভালো প্রার্থী দিতে হবে। ভালোর সঙ্গে ভালোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। যিনি সবচেয়ে ভালো, অর্থাৎ উত্তম মানুষ তিনি বিজয়ী হবেনÑ এমন নির্বাচনই সর্বকালে সম্পন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল, কিন্তু হতভাগা এ দেশে তা কখনো সম্পন্ন হয়নি। এবার আমাদের দেশে সে নির্বাচনের মহাসুযোগ এসেছে। সে সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। অন্তত সকল দলকে অঙ্গীকার করতে হবেÑ আর আমরা জেনেশুনে খারাপ লোক মনোনয়ন দেব না। নির্বাচনের সকল খরচ যদি সরকার বহন করে, তাহলে সততার দিকে অনেক দূর আমরা অগ্রসর এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করে বেশকিছু ধারা লক্ষ করলাম। সবকিছু এখানে আলোচনার সুযোগ নেই। বিএনপি এবং তাদের জোটের অধিকাংশ ভোটার ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন দাবি করছে। দল-মত নির্বিশেষে ভালো মানুষের একাংশ বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে ক্ষমতায় বসিয়ে রাখতে চাচ্ছে। কেউ বলছে ৫ বছর, কেউ বলছে ১০ বছর। তারা এখন নির্বাচন চাচ্ছে না। তারা ঈদের মাঠে বাসস্ট্যান্ড, রাস্তাঘাটে ড. ইউনূসের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে। এ দ্বন্দ্ব আন্তঃদলের মধ্যে নয়, নিজ নিজ দলের মধ্যে। উপর্যুক্ত দুটি ধারার সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে সংস্কারবাদী ধারা। যারা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তারা চাচ্ছেন একটা বড় ধরনের সংস্কার হোক। যারা দেশ, জাতি ও মানুষকে রসাতলে নিয়ে গেছে, তাদের বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা হোক। অন্তত এ দুটি বড় কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন হোক।
গণঅভ্যুত্থান জাত নবীন দল বিচার ও শাস্তির পর নির্বাচন চাচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নির্মূল চাচ্ছে। দাবি করছে এবং সোচ্চারে বলছে এসব যদি না করা হয়, তাহলে অভ্যুত্থান বা বিপ্লব ব্যর্থ হয়ে যাবে।
এদিকে হাটে-বাজারে দেখতে পেলাম, মানুষ বসে বসে মোবাইলে প্রকাশিত নির্বাচনের জরিপগুলো বিশ্লেষণ করছে। মানুষ উৎসাহের সাথে সেসব শোনার চেষ্টা করছে, জানার চেষ্টা করছে। জরিপে যে সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে, তাতে এবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে আছে। অধিকাংশই খবর দিচ্ছে বিএনপির থেকে জামায়াত এগিয়ে আছে। সালাতের পর মসজিদের বারান্দায় বসে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মুসল্লিগণ ভাগে ভাগে বসে জরিপের আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছে। জরিপে জামায়াত এগিয়ে আছে দেখে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করছে। নির্বাচনের বিষয়ে জামায়াত গণসংযোগ করছে, দেখা গেল। তারা বলছেন, নির্বাচন যখনই হোক, আমরা ইনশাআল্লাহ অংশগ্রহণ করবো। আমরা সর্বস্তরের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। তবে দলগতভাবে আমরা এখনই নির্বাচন চাই না। আমরা সংস্কার চাই। সংস্কারের পর নির্বাচন চাই।
একটি নির্বাচনের জন্য অনেক ধারা থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। ঐক্যের মাধ্যমে সমন্বয় ঘটাতে হবে।
লেখক : কবি কলামিস্ট।