ইসলামী ব্যাংক বেদখল এবং নুনের যত গুণ


১১ জুন ২০২৬ ১০:১৪

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদে বিরোধীদল জনগণের কণ্ঠস্বর। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষের প্রত্যেক সরকার কান পেতে থাকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে সেই কণ্ঠস্বর শুনে, গণপ্রত্যাশা বাস্তবায়নে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে। এর বিপরীত ঘটনা ঘটে উত্তর কোরিয়ার কিম জং এর দেশে। সেখানে তিতা কথা বলা নিষেধ। মিঠা কথার বন্যায় অন্যায় ঢেকে রাখাই তাদের লক্ষ্য।
দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন চলছে। বাজেট অধিবেশন নামে খ্যাত এ সংসদে প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী দেশের কোটি কোটি মানুষের আস্থার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক। হাসিনার আমলে এস আলমের লুটপাটে ধ্বংসের মুখ থেকে ফিরে আসা ব্যাংকটিকে সরকারে থাকা এস আলম-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী আবার বাঘের মুখে তুলে দেয়ার আয়োজন করেছে। এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সারা দেশ উত্তাল। ‘এস আলম-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ’ জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ স্তব্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছেন, মিডিয়ার কল্যাণে জনগণ অবগত।
গত ৯ জুন মঙ্গলবার গ্রাহকের কণ্ঠর হিসেবে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী এই নোটিশ দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। এ প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য শুনে দেশের মরমী কবি লালন ফকিরের বিখ্যাত ও রহস্যময় দুটি পঙক্তি মনে বারবার পড়ছে, ‘ঝিয়ের পেটে মায়ের জন্ম/তারে তোমরা বলবে কী?’
কারণ এ কথা কারো অজানা নয় শুধু ইসলামী ব্যাংক কেন, কোনো ব্যাংক, ব্যবসা ও সেবা প্রতিষ্ঠানই কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। তবে এ কথা সত্য দেশের প্রত্যেক সচেতন নাগরিকেরই রাজনৈতিক পরিচয় আছে। রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে ব্যাংক, বিমার মতো কোনো আর্থিক অথবা অন্য কোনো সেবা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কিংবা শেয়ার তার থাকতে পারবে না- দেশে এমন কোনো অবাস্তব বা ‘হবু চন্দ্র রাজা, দেশের গবু চন্দ্র মন্ত্রী’র আইন নেই।
এত কথা বলার কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘দখল করা ব্যাংক বেদখল হয়ে যাবে এই যাতনা আমরা বুঝি’! এর মানে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘনিষ্ঠজনরা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সাথে নয়, দখলের সাথে জড়িত’। সেলুকাস, সত্যি বিচিত্র এ দেশ! মানে ডাকাতের হাত থেকে নিজের সম্পদ উদ্ধার করাকে স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, ‘দখল’/‘বেদেখল’। এখানে আর একটি কথা বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনোদিন দাবি করেনি, ইসলামী ব্যাংক এ দলের। তবে হ্যাঁ, এ ব্যাংক গঠনে যাঁরা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দর্শনের সমর্থক। ইসলামী আদর্শের পক্ষে ইসলামী দলের সমর্থকরা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তার মানে এই নয়, ব্যাংকটি ঐ দলের। ঢাকা ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠা সদস্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তাই বলে এটি কি বিএনপির ব্যাংক? এমন আরো উদাহরণ দেয়া যাবে। কিন্তু পাঠকদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটিয়ে লাভ নেই। কারণ প্রত্যেকটি ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে যারা আছেন, তারা সবাই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি যে, ‘অসত্য বক্তব্য এবং ডাকাতের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন, এতে দেশবাসী শঙ্কিত, কারণ কবে দেশটাই না ডাকাতি হয় যায়?
কবে না দেশটাই ডাকাতি হয়ে যায়
ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার তথা মালিকদের পণবন্দি করে হাসিনা এস আলমের মাধ্যমে কীভাবে ইসলামী ব্যাংকের দখল নিয়েছিলো, তা কারো অজানা নয়। বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সাময়িকী The Economist (দ্য ইকোনমিস্ট) পত্রিকাটি শিরোনাম করেছিলো, The government initiates a coup at Bangladesh’s biggest bank.
২০১৭ সালের এপ্রিল এবং ২০১৯ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত দুটি বিশেষ প্রতিবেদনে পত্রিকাটি ইসলামী ব্যাংক দখল এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। প্রতিবেদনগুলোয় মূলত যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তা হলোÑ ১. রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে দখল সরকারের ভূমিকা: দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার ইসলামী ব্যাংকের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পর্দার আড়ালে এই অভ্যুত্থানের সূত্রপাত করে। ২. এস আলম গ্রুপের উত্থান: ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় নাটকীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হয়। ৩. ব্যাংকের আর্থিক সূচকের পতন ঋণ কেলেঙ্কারি: ২০১৭ সালের এই ‘বোর্ডরুম ক্যু’-এর পর থেকেই ব্যাংকের সুশাসন ভেঙে পড়ে। রাজনৈতিক ও করপোরেট প্রভাব খাটিয়ে বেনামি এবং অনিয়মিত ঋণ বিতরণের মহোৎসব শুরু হয়। ৪. ব্যবসায়িক বিপর্যয়: দখলের আগে ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে কম খেলাপি ঋণ (NPL) এবং সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনকারী ব্যাংকগুলোর একটি ছিল। কিন্তু নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তনের পর ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। ৫. আন্তর্জাতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর প্রভাব দ্য ইকোনমিস্ট উল্লেখ করে, এই জবরদখলের কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যায়। ফলে জেদ্দাভিত্তিক দাতা সংস্থা ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (IDB) ইসলামী ব্যাংকে থাকা তাদের শেয়ারের পরিমাণ ৭.৫% থেকে কমিয়ে ২.১%-এ নামিয়ে আনে। অর্থনীতিবিদদের বরাতে সাময়িকীটি সতর্ক করেছিল যে, এ ঘটনা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সম্পত্তির নিরাপত্তার ওপর একটি বড় ধাক্কা ছিল। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ইসলামী ব্যাংকের এই বিতর্কিত দখল এবং ঋণ কেলেঙ্কারির সার্বিক চিত্র নিয়ে বর্তমানেও দেশের ব্যাংকিং খাত ও জাতীয় সংসদে তীব্র আলোচনা চলছে।
উল্লেখিত প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করে বিশ্লেষকরা সবাই একমত এস আলম তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনী ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংকটি বেদখল করেছিলেন। অথচ জাতীয় সংসদে বসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘শেয়ারহোল্ডার শেয়ারহোল্ডারই’। মানে তারা চুরি ডাকাতি প্রতারণা যাই করে শেয়ারহোল্ডার হোন না? কবি রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘আমি শুনে হাসি আঁখিজলে ভাসি/এই ছিল মোর ঘটে/তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মূলত অন্যায় ও অবৈধ উপায়ে অর্জিত শেয়ারের মালিকদেরও সম্পদ জব্দ এবং লুটেরাদের বিচার ও শাস্তি বদলে পুরস্কৃত করার কথা বলছেন। কিন্তু ব্যাংক আইনে কী আছে?
ব্যাংক কোম্পানি আইন
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাত, আমানতকারী বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ব্যাংককে যেকোনো বিষয়ে বাধ্যতামূলক দিকনির্দেশনা দেওয়ার পূর্ণ আইনি ক্ষমতা রাখে। এক্ষেত্রে কি এই আইন মানা হয়েছে? আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কি এই পরিবর্তন? যদি তাই হবে, তবে আমানতকারীরা কেন রাস্তায় প্রতিবাদ জানাচ্ছেন? প্রতিদিন টাকা তোলার জন্য কেন ব্যাংকে ভিড় করছে? কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল সহায়তা কামনা করছে ইসলামী ব্যাংক?
সব কথার শেষ কথা, যাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, সেই মো. খুরশীদ আলম এমন একজন ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও এস আলমের সাথে লুটপাটের অভিযোগ আছে। যিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হাসিনার সাথে সাথে নিজেও পালিয়েছিলেন। তাকে ফিরিয়ে আনার মানে, ‘ডাল মে ক্যুস কালা হ্যায়।’
সালাহউদ্দিন কেন এস আমলের পক্ষে
নুন খাইলে তার গুণ গাইতে হয়। তবে নুন কার কাছে থেকে খাচ্ছি তা না জেনে খাইলে, হাইপ্রেসারে মৃত্যু ঝুঁকি আছে- এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।
সালাহউদ্দিন এস আলমের নুন খেয়েছেন। নিন্দুকরা বলে এখনো .. ব্যাহত আছে। এ প্রসঙ্গে দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি সোহরাব হাসানের লেখা থেকে তুলে ধরা হলো, আওয়ামী লীগ সরকারের যতজন ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ছিলেন, তাদের মধ্যে ১ নম্বরে ছিলেন এস আলম। আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় নেওয়ার পর বিভিন্ন খাতে তার লুটপাটের কাহিনী বের হতে থাকে। আটটি ব্যাংকের মালিকানা ছিল এই গ্রুপের। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকের ধারণা ছিল, এস আলমের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দহরম-মহরম বেশি থাকায় বিএনপির নেতারা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন। কিন্তু সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো দুটি ঘটনায়। প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, এস আলমের মালিকানাধীন গাড়িতে চড়ে নিজ এলাকায় গিয়ে সংবর্ধনা নিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। ঢাকা থেকে তিনি বিমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর দলের নেতা-কর্মীদের গাড়িবহরের সঙ্গে পেকুয়ায় পৌঁছান তিনি।.. কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদের গাড়িবহর পেকুয়ায় পৌঁছানোর বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এরকম একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যে গাড়িতে (জিপ) চড়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজার থেকে পেকুয়ায় আসেন, সেটির নম্বর চট্ট-মেট্রো ঘ-১১-১৫৩৩। এটি মিতসুবিশির স্টেশন ওয়াগন ব্র্যান্ডের জিপ। তিনি সামনে সিটে বসে হাত নেড়ে আশপাশের লোকজনকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এস আলমের গাড়িতে চড়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে এলে সালাহউদ্দিন আহমেদ দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু দুঃখ প্রকাশ করলেও তিনি রেহাই পাননি। দলের পক্ষ থেকে তাকে শোকজ করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন আছে, এস আলমের সঙ্গে বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০১৫ সালে সরকার বিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে সালেহউদ্দিন যে বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন, সেটি এস আলমের মালিকানাধীন একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের। পরে সেই বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে পাওয়া যায় বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মেঘালয়ে। সেখানে তাকে সাড়ে ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়। সালাউদ্দিন দেশে ফেরার পর এস আলম গ্রুপ ও ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাকে বাসায় গিয়ে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। চট্টগ্রামের একটি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ১১ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় দখল করতে এস আলম গ্রুপের পক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম ওরফে নয়নকে ভাড়া করার কাজটি হয় আকিজ উদ্দিনের তত্ত্বাবধায়নে। আকিজউদ্দিন এস আলমের পিএস ছিলেন। পরে তিনি ইসলামী ব্যাংকের ডিএমডি হন। (চট্টগ্রাম প্রতিদিন, ২৮ আগস্ট, ২০২৪)। এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের (মাসুদ) মেয়ের শ্বশুর মীর গ্রুপের আবদুস সালাম বিএনপির নেতা এনামুল হক এনামের মামাতো ভাই। কালুর ঘাটে যে ওয়্যার হাউস থেকে গাড়িগুলো বের হয়েছিল, সেটি মীর গ্রুপের। …বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলম গ্রুপের সম্পদ বিক্রি করে ঋণের টাকা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার সম্পদ না কেনার জন্যও জনগণের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু এস আলমের ঋণের পরিমান ব্যাংকের কাছে বন্ধক দেওয়া সম্পদের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে সম্পদ বিক্রি করলে কিছু টাকা উঠতে পারে। পুরো টাকা আসবে না।… রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে এস আলম যেসব প্রতিষ্ঠান দখল করেছিলেন, ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সেসব প্রতিষ্ঠান ভঙ্গুর হয়ে পড়লেও অনেক কর্মকর্তা তার অন্যায় সুবিধার অংশীদার ছিলেন এবং দেশে-বিদেশে সম্পদ গড়েছেন। এস আলমের পাশাপাশি তাদের সম্পদেরও হিসাব নেওয়া জরুরি বলে মনে করি। সোহরাব হাসানের দীর্ঘ লেখা থেকে অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো। বিস্তারিত জানতে আগ্রহীরা, প্রথম আলো ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ প্রকাশিত এস আলম তখন কার এখন কার?’ শিরোনামে প্রকাশিত লেখাটি পড়তে পারেন। তাছাড়া দেশ বিদেশের আরো অনেক প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় এমন অনেক অনেক প্রামাণ্য দলিল আছে। সেদিকে দৃষ্টিপাত করলে তিক্ত রায়ের- নুনের কত গুণ ঠিকই টের পাবেন সম্মানিত পাঠকরা