কবি-সাহিত্যিকদের মূল্যায়ন
১৫ মে ২০২৬ ২১:১৯
॥ কাজী আবুল কাসেম রতন ॥
সাহিত্য মানবজীবনের প্রতিচ্ছবি, বাস্তব জীবনের দর্শনস্বরূপ, আর যারা মানবজীবনের এই প্রতিচ্ছবি অংকন করেন, তারাই হলেন সাহিত্যিক। একজন সাহিত্যিক জাতিকে সুদক্ষভাবে গড়ে তুলতে এমনকি একটি জাতিকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য একজন সাহিত্যিকই রাখতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। যেকোনো দেশের জন্য সাহিত্যিকের গুরুত্ব খুব বেশি। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশেও সাহিত্যিক কোনো ভৌগোলিক সীমারেখায় বন্দি করা যায় না। বাংলার সাহিত্যিকরা সাহিত্যের মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে যেভাবে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জয় করে বিশ্বের দরবারে সর্বপ্রথম বাংলার মুখ উপস্থাপন করেন। ঠিক তেমনি কাজী নজরুল ইসলামও বাংলা সাহিত্যকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করেছেন।
অর্থাৎ বাংলাদেশের কবি-সহিত্যিকরাই বাংলাদেশের পরিচয়কে সম্মুখে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ জয়ের পেছনেও রয়েছে বাংলার কবি-সাহিত্যিকদের অবিস্মরণীয় অবদান। তারা সাহিত্যের মাধ্যমে নির্যাতন মেহনতি মানুষের সংগ্রাম ও বিদ্রোহকে প্রস্ফুটিত করতে পেরেছিলেন।
আমাদের দেশের সাহিত্যিকরা সর্বদা চির অবহেলিত, তাদের হয় না সঠিক মূল্যায়ন। এসব সাহিত্যিকদের যথা উপযুক্ত মূল্যায়নের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের উন্নয়ন করা সম্ভব, তাদের সঠিক মূল্যায়নের জন্য এ দেশের সংবিধানে থাকতে হবে তাদের দৃপ্ত পদচারণা। তারা পাবে সঠিক রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন। অনেক সাহিত্যিকই তাদের অমূল্য সৃষ্টির সঠিক মূল্যায়ন পরিলক্ষিত করতে পারে না। কিন্তু সাহিত্যিকদের সাহিত্য উপকরণের স্বীকৃতি দেয়া একান্ত প্রয়োজন। আমাদের দেশে শিক্ষা, বিনোদন, খেলাধুলায় যেভাবে রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন করা হয়, যেভাবে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে উৎসাহসহ নানারকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তা কবি-সাহিত্যিক উন্নয়নে পৃথক মন্ত্রণালয় দিয়ে যেভাবে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে অথচ সাহিত্যের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। সাহিত্যির উন্নয়নে সরকারিভাবে সাহিত্য বোর্ড ও সাহিত্যবিষয়ক মন্ত্রণালয় গড়ে তুলে কবি সাহিত্যিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করা আবশ্যক। প্রত্যেক কবি-সাহিত্যিককে তাদের লেখার জন্য সম্মানী এবং ভালো লেখার জন্য বাৎসরিক পুরস্কারসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়া একান্ত প্রয়োজন কারণ কবি সাহিত্যিকদের পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে যেকোন দেশ তাদের সঠিক উন্নতি করতে সক্ষম হবে।
আজকাল প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় চোখ দিয়ে দেখা যায় কবি-সাহিত্যিকদের লেখা লেখকরা তাদের লেখার মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগণকে নানা বিষয়ের ওপর জ্ঞান দিয়ে থাকেন, শিক্ষা স্বাস্থ্যে, সমাজ ও দেশের নানা বিষয়ের ওপর তাদের লেখা পড়ে মানুষ যেমন জ্ঞান ধারণ করেছেন, তেমনি নিজেকে একজন আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে প্রমাণ করতে সক্ষম হচ্ছেন। ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের ভালোভাবে গড়ে তোলার জন্য শিশুবিষয়ক নানা লেখা লেখকরা তাদের লেখায় লিখে থাকেন, শিশুদের জ্ঞান বিকাশে লেখকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এমন অবস্থায় সরকারের উচিত সাহিত্য মন্ত্রণালয় ও সাহিত্য বোর্ড নির্মাণ করে কবি সাহিত্যিকদের মূল্যায়ন করা। তাদের লেখার সম্মানীসহ বাৎসরিক পুরস্কারের ব্যবস্থা করা, এতে করে রবীন্দ্রনাথের মতো, কাজী নজরুলের মতো আরো বিদ্রোহী লেখক জন্ম নেবে এই দেশে।
লেখক : ছড়াকার ও কলাম লেখক, রসুলপুর, নবীনগর, বি-বাড়িয়া।