সঠিক সময়ে টিকা না দেয়ায় হামে শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে


১৪ মে ২০২৬ ১০:১৬

॥ হামিম উল কবির ॥
হঠাৎ হামে প্রায় তিনশ’ শিশুকে হারালো বাংলাদেশ এবং আরো আক্রান্ত হয়েছে প্রচুর। সময়মতো শিশুদের হামের টিকা দিতে পারলে প্রতিরোধযোগ্য এ রোগটি থেকে শিশুদের রক্ষা করা যেত। চিকিৎসকরা বলছেন, বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব হতে শুরু করেছে ২০২১ সাল থেকেই। কিন্তু তখনকার সরকার বিষয়টি আমলেই নেয়নি। ফলে বর্তমানে রোগটি বাংলাদেশে প্রায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, বিষয়টি তখনকার সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কিংবা ইউনিসেফ অবগত ছিল। কিন্তু সরকার ব্যবস্থা না নেয়ায় তারাও এ বিষয়ে সরব হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গত ৯ মে শনিবার পর্যন্ত ২৯১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হাম অথবা হাম সন্দেহে। এত শিশুর মৃত্যু হলেও স্বাস্থ্য অধিদফতর গত ৯ মে পর্যন্ত ৬১ শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করেছে যে এরা হামের সংক্রমণেই মারা গেছে। ১৫ মার্চ থেকে ৯ মে পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৯৭৯ শিশু এবং হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ৪৭ হাজার ৬৫৬ শিশু। দেশে প্রতিদিনই হামে অথবা হাম সন্দেহে এক থেকে দেড় হাজার শিশু আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, হামের টিকার স্টক ফুরিয়ে যাওয়ায় এতগুলো শিশু ঝরে গেছে এবং এ মৃত্যুর মিছিল বড় হচ্ছে। বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সারা দেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়স পর্যন্ত এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেয়ার টার্গেট নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যেই এক কোটি ৭৬ লাখ শিশুকে টিকা দেয়া হয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও ওই বয়সী শহরে বাস করা শিশুদের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ টিকা নেয়া থেকে বাদ পড়ে গেছে এবং গ্রামে বাদ পড়েছে ১৫ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সব শিশুর মধ্যে প্রতিরোধ ব্যবস্থা (হার্ড ইমিউনিটি) অর্জন করতে হলে ৯৫ শতাংশের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। ইতোমধ্যে ৯ মাস বয়সী শিশুদের ৯১ শতাংশ এবং ১৫ মাস বয়সী শিশুদের ৮১ শতাংশকে টিকা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে গত ৯ মে শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন যে, হামের টিকা সঠিক সময়ে কেন সংগ্রহ করা গেল না, এ বিষয়ে একটি তদন্ত চলমান আছে। তদন্তের কাজ শেষ হলে সবাইকে জানানো হবে যে কেন, কোন পরিস্থিতিতে এবং কার দায়ে দেশে টিকা আসেনি। তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের কাছে হামের পর্যাপ্ত টিকা আছে। এখন থেকে হামের টিকা দেয়া চলমান থাকবে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাব চন্দ্র বিশ্বাসও বলেন, দেশে পর্যাপ্ত হামের টিকার মজুদ আছে। টিকা ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে শিশুদের হামের টিকা দেয়া হবে। তিনি জানান, হাম হলে শিশুরা নিউমোনিয়ায় ভোগে এবং নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় গাইডলাইন দেয়া হয়েছে যে সর্বত্রই চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিতে পারেন। সেই গাইডলাইনে কখন কী ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে এবং কখন শিশুকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা থেকে জেলা অথবা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করতে হবে, তা উল্লেখ আছে। টিকার ব্যাপারে বিশিষ্ট টিকা বিজ্ঞানী ড. ফিরদৌসী কাদরির নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে, তারা সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন।
হামে আক্রান্ত হলে কী ঘটে?
হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাস। এটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায়। একটি হাম আক্রান্ত শিশু ৯ থেকে ১০ শিশুকে (কেউ কেউ ১৮টির কথা বলেন) সংক্রমিত করতে পারে। হামের টিকার ঘাটতি হওয়ায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে শিশুদের টিকা দেয়া হচ্ছিল না। টিকা না পাওয়া অথবা অসম্পূর্ণ ডোজ নেয়া শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। অপুষ্টিতে থাকা শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, এরাই বেশি আক্রান্ত হয় হামসহ অন্যান্য রোগে। রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হাম ভাইরাসটি নিজে যতটা না মারাত্মক এর জটিলতাগুলো বেশি বিপজ্জনক। হাম আক্রান্ত হলে শিশুরা নিউমোনিয়ায়ও আক্রান্ত হয় এবং এই নিউমোনিয়াই মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ। এছাড়া হাম হলে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতা দেখা দেয়। একই সাথে শিশুরা মস্তিষ্কের সংক্রমণ-এনসেফালাইটিসেও ভুগতে পারে। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না হলে মৃত্যু হতে পারে। দেরিতে হাসপাতালে নেয়া, গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকা এবং উপযুক্ত হাসপাতালে আসতে দেরি করায় রোগের মাত্রা বাড়ে এবং মৃত্যু হতে পারে। তিনি জানান, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে হামের টিকা দেয়া হলে এই সমস্যাটি হতে পারতো না। যে শিশুরা ৬ মাস বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ পান করতে পারেনি, সেই শিশুরা হামে বেশি ভুগছে। হাম হলে শিশুর শরীরে ভিটামিন ‘এ’র পরিমাণ কমে যায়, প্রোটিনের মাত্রার ক্ষয় হয়। ফলে শিশুদের অবস্থা আরো খারাপ হয়। হামে আক্রান্ত শিশু স্কুলে অন্যান্য শিশুর সাথে সমানভাবে অংশ নিতে পারে না।’
শুধু বাংলাদেশে নয়, উন্নত দেশেও হামের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে
এবার যুক্তরাজ্য, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত ও অনুন্নত দেশেও হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। ২০২৫ সালে কানাডা ও যুক্তরাজ্য এবং ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র হামের ক্ষেত্রে মেজর এলিমিনেশন স্টেটাস হারিয়েছে অর্থাৎ এই দেশগুলো হাম প্রতিরোধ এবং হামকে তাদের দেশ নির্মূল থেকে করতে পারার যে সার্টিফিকেট পেয়েছিল, তা হারিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ডোনেশন (অনুদান) প্রত্যাহার করে। দরিদ্র দেশগুলো হামসহ অন্যান্য মারাত্মক রোগের টিকা কিনতে পারেনি। ফলে হামসহ অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। অন্যান্য দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ঘটলেও বাংলাদেশের মতো এতো শিশুর মৃত্যু সেসব দেশে হয়নি। বাংলাদেশে ২০২১ সাল থেকেই হামে আক্রান্ত বাড়তে শুরু করেছে, কিন্তু তখনকার সরকার সেই তথ্য গোপন করেছে। বিশেষ ক্যাম্পেইন করেনি বলে বর্তমান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে বলেছেন।
ভাইরাস সম্বন্ধে যা জানা যায়
হাম একটি অতি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। ‘মরবিলি ভাইরাস’ দিয়ে ছড়ানো এই রোগটিতে আক্রান্ত হলে আক্রান্তের হাঁচি-কাশি থেকে বাতাসের মাধ্যমে অতিদ্রুত ছড়ায়। উচ্চতাপমাত্রার জ্বর, কাশির সাথে লালচে র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি সৃষ্টি করে থাকে। এটা শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। কিন্তু টিকা না নেয়া যেকোনো বয়সীদের আক্রান্ত করতে পারে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বয়স্কদের আক্রান্ত করে না। জ্বর হলে ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে তাপমাত্রা। কাশির সাথে নাক দিয়ে পানির মতো পড়তে পারে। জ্বরের সাথে র‌্যাশ (লাল রঙের ফুসকুড়ি) হতে পারে। জ্বরের ৩ থেকে ৪ দিন পর মুখের ভেতর সাদা দাগ (এটাকে কপলিট স্পট বলে) দেখা যায়, পরে মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে র‌্যাশ ছড়িয়ে পড়তে পারে। চোখ দিয়ে পানি পড়ার সাথে সাথে চোখ লাল হতে পারে। আলোতে অস্বস্তিও অনুভূত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি এবং কথা বলার মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসে হামের ভাইরাস ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে এবং অপরকে আক্রান্ত করতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এবং তারা ব্যবহার করেছে, এমন স্থান স্পর্শ করার পর নাক-মুখে হাত দিলে দ্রুত সেই ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারে।
কী কী জটিলতা হতে পারে
অপুষ্টির শিকার ব্যক্তিদের হাম থেকে নিউমোনিয়া হতে পারে। একই সাথে মারাত্মক ডায়রিয়া হতে পারে। ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে দ্রুত খনিজ পদার্থ বের হয়ে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় না আনা হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ভিটামিন ‘এ’র অভাবে চোখের সংক্রমণ হতে পারে এবং অন্ধ হয়ে যেতে পারে। হাম হলে এর বিরুদ্ধে কোনো ওষুধ নেই। শরীরে যে প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে, তা থেকেই মুক্তি পেতে পারে আক্রান্ত শিশু বা ব্যক্তি। তবে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা যখন যে সমস্যা শরীরে দেখা দেয়, তা দেখে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। সেজন্য অবশ্যই আক্রান্তকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। মারাত্মক লক্ষণ দেখা দিলে কোনো অবস্থাতেই বাড়িতে রাখা যাবে না। বাড়িতে থাকলে অবশ্যই নির্দিষ্ট জায়গায় বা ঘরে আইসোলেশনে (বিচ্ছিন্ন) থাকতে হবে। আইসোলেশন না হলে অন্যদের আক্রান্ত করতে পারে। বিশেষ করে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হতে পারে। হামে আক্রান্ত শিশু বা ব্যক্তির শরীরে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে প্যারাসিটামল খাইয়ে তাপমাত্রা কমিয়ে রাখতে হবে। প্যারাসিটামলের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না থাকলে ঘন ঘন শরীর মুছিয়ে দিতে হবে। সর্বক্ষেত্রেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।
কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?
সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায় হলো- শিশু বয়সে হামের টিকা নেয়া। প্রথমে ৯ মাস বয়সে এবং পরে ১৫ মাস বয়সে দুটি টিকা নিতে হবে। এছাড়া সার্বিক প্রয়োজনে সরকার হামের টিকার ক্যাম্পেইন করলে সেই টিকাগুলো নিতে হবে। এতে শিশুর কোনো ক্ষতি হবে না। তাছাড়া শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হলে শিশুর মধ্যে হামের প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার হয়। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে এক লাখ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিটের (আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে দুই লাখ আইইউ’র ভিটামিন ‘এ’ খাওয়াতে হবে। ভিটামিন ‘এ’ হামসহ অন্যান্য রোগপ্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে।
বাংলাদেশের শিশুরা কেন সঠিক সময়ে হামের টিকা পেল না?
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ই হামের টিকার একটি চালান আসে এবং সর্বশেষ হামের চালান আসে চলতি বছরের গত ১৩ মার্চ। কিন্তু সেই টিকা মাঠে পৌঁছাতে পারেনি। কারণ তখন অপারেশন প্ল্যান ছিল না। টিকা মাঠে পৌঁছে দেয়ার জন্য গাড়ির তেল খরচ ছিল না। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে টিকাদানকারীরা ধর্মঘটে ছিলেন। কারণ তাদের চাকরি থাকলেও বেতন ছিল না। ফলে তারা কাজ করেননি। এছাড়া এর আগে বাংলাদেশ সরকার হামের টিকা সংগ্রহ করতো ইউনিসেফের মাধ্যমে কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে এই পদ্ধতি বন্ধ করে উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) চালু করে। এই পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘসূত্রতা, জটিলতা ও অবশেষে সঠিক সময়ে টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ইউনিসেফ আগেই সতর্ক করেছিল এই পরিবর্তনে টিকা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে। আন্তর্জাতিক সংস্থার সেই সতর্কতা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে গুরুত্ব পায়নি। ফলে নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে গেলে এর কিছুদিন পরই দেশে হাম-রুবেলার টিকার স্টক ফুরিয়ে যায় এবং সময়মতো নতুন চালান আনতেও পারেনি। টিকা না থাকায় নিয়মিত অনেক শিশু নির্ধারিত ডোজ পায়নি, মোট টিকা কাভারেজ নিচে নেমে যায়। বর্তমান সরকার আবার ইউনিসেফের মাধ্যমে হামের টিকা আনতে শুরু করেছে এবং জরুরি ক্যাম্পেইন চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারীর বক্তব্য
এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, ইপিআইয়ের নিয়মিত কর্মসূচিতে হামের টিকাসহ ৪টি টিকা সম্পূর্ণ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে কেনা হয়। অন্য টিকাগুলোর ক্ষেত্রে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনের (গ্যাভি) পাশাপাশি সরকার আংশিক মূল্য পরিশোধ করে থাকে। গ্যাভি শুধুমাত্র নতুন টিকা শুরু করা এবং ক্যাম্পেইনের টিকার সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করে। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বিধি অনুযায়ী সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে কেনার ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট এ্যাক্ট ২০০৬ অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা আছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইপিআই’র জন্য টিকা কেনার অনুমতির অনুরোধ উপস্থাপনের প্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি সরকারি সংগ্রহ আইনের ৬৮(১) উল্লেখ করে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন বা জনস্বার্থে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সরাসরি সংগ্রহের পদ্ধতিতে (ডিপিএম) টিকা কেনার অনুমোদন দেয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য টিকা ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করে। দীর্ঘদিন যাবত চলমান কর্মসূচির জন্যে প্রয়োজনীয় টিকা ক্রয়ে পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠে সরকারের নিজস্ব সামর্থ্য অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে নভেম্বর মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রায় ৪১৯ কোটি টাকার টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে ডিপিএম পদ্ধতিতে সংগ্রহের জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির কাছে পাঠানো হয় এবং অনুমোদিত হয়। ভবিষ্যতে ইপিআই’র টিকা কেনার ক্ষেত্রে উপযুক্ত আইন ও স্বচ্ছ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত, বিধায় সেই বিষয়ে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একটা আদেশ জারি করা হয় কিন্তু তা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে প্রয়োগ করা হয়নি। আবারো স্পষ্ট উল্লেখ করতে চাই যে, ইপিআই’র কোনো টিকাই এখন পর্যন্ত উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে (ওটিএম) কেনা হয়নি; এমনকি কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি।