লাখকোটি টাকার নতুন ঋণের চাপ

আয় নেই, ব্যয় বাড়াচ্ছে সরকার


১৭ মার্চ ২০২৬ ১০:৫৫

॥ উসমান ফারুক ॥
অর্থনীতির পুরনো প্রবাদ আয় বুঝে ব্যয় করো। এর বিপরীতে হলেই ঋণ করে ঘি খাওয়ার মতো দশা হয়। শেষ বেলায় ঋণ পরিশোধ করতে সর্বস্ব হারাতে হয় গৃহস্থকে। রাষ্ট্র পরিচালনায়ও সরকারকে অর্থনীতির সেই নীতিশাস্ত্র মানতে হয়। পৃথিবীর সব অর্থনীতির দেশই তা মেনে চলে। কিন্তু সেই নীতির বাইরে গিয়ে এবার খরচ বাড়িয়ে চলেছে সরকার। তাতে নতুন করে দুটি খাতেই কমপক্ষে ৬৮ হাজার কোটি টাকা লাগবে। যার পুরোটাই ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হবে। খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তা লাখকোটি ছাড়িয়ে যাবে। যেখানে ৬০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হওয়ায় পুরোটাই ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়েছে সরকারকে। অথচ বাংলাদেশের অর্থনীতি গত ১৭ বছরের দুঃশাসন ও লুটপাটে যে ভঙ্গুর অবস্থায় চলে গেছে, সেখান থেকে টেনে তোলাই দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জেরে উত্তাল হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি এমনিতেই চরম ঝুঁকিতে চলে গেছে। অর্থনীতিতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে। ঠিক সেই মুহুর্তে সতর্ক না হয়ে নতুন করে খরচ বাড়ানোর উদ্যোগ অর্থনীতিকে আরো তলানিতে নিয়ে যাবে। বাস্তবতা হলো অর্থ সংকট এমন অবস্থায় গিয়েছে যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কাক্সিক্ষত কর আদায় করতে না পেরে বারবার সময় বাড়িয়ে চলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তুলতে প্রয়োজন আর্থিক কৃচ্ছ্রসাধন। জুলাই অভ্যুত্থানে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি টেনে তুলতে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প স্থগিত, রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া চলমান কিছু প্রকল্পে সাময়িক অর্থের জোগান না দেওয়া ও আবশ্যক ছাড়া নতুন প্রকল্প না নিয়ে এডিপির (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) আকার কমিয়ে এনেছিল। রাজস্ব আদায়ে তথৈবচ হওয়ায় ব্যাংক ঋণ করে চলতে হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া অনেক ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শক্তিশালী অবস্থানে যায় খরচ সাশ্রয় করে। এখনো রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার। তার আগেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এ অতিরিক্ত অর্থের উৎস কী হবে, তা ঠিক করা হয়নি।
দ্রুত অর্থ পেতে সরকারকে ফের ব্যাংকমুখী হতে হবে আওয়ামী লীগ সরকারের মতো। এতে অর্থনীতিতে মহামন্দা দেখা দিয়ে মূল্যস্ফীতি আরো বেড়ে যাবে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমে যাবে। ব্যাংকগুলো নিশ্চিত আয় করতে পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে সরকারকে ঋণ দিতে শুরু করবে। তাতে পতন ঘটবে বাজারে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণ যাবে কম। অর্থ সংকটে ডলারের বিপরীতে মান হারাবে টাকা। তাতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারি বৈদেশিক দায় মেটাতে হিমশিম খাবে সরকারি ব্যাংকগুলো। এর ফলে অর্থব্যবস্থায় নতুন করে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। দিক হারিয়ে ফেলা অর্থনীতিতে যুক্ত হবে নতুন সমস্যা।
দৈনিক ব্যয় মেটাতেই ঋণ করছে সরকার
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে রেখে যায় এক ভঙ্গুর অর্থনীতি। সেই অর্থনীতিকে টেনে তুলে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু বাদ সাধে রাজস্ব আদায়ের মতো নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। শেষ পর্যায়ে ব্যাংকমুখী হয়ে হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ধার করে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি জোট। দায়িত্ব নেয়ার সময়েও ধার করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে হয়। এরকম পরিস্থিতিতে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে লাখকোটি টাকার প্রকল্প।
এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখনো রাজস্ব ঘাটতি হচ্ছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। সেই টাকা পূরণ করতে ব্যাংকিং খাত থেকেই পুরোটা ঋণ নেয় সরকার। বর্তমানে ব্যাংক খাতে সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পেস্কেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করে যায়নি। রাজনৈতিক সরকারের ওপর ভার দিয়ে এ খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা রেখে যায়। সেই অর্থ দিয়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করার কথা। কিন্তু অর্থ সংকট দেখা দেওয়ায় সেই বরাদ্দের টাকা দিয়ে সরকার ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও সুদ ব্যয় মেটাচ্ছে। এতে ঝুলে গেছে নতুন বেতন স্কেল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যেখানে অর্থের সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে, সেখানে সরকার নতুন খরচের তালিকা করছে। এভাবে করলে তো সংকট আরো বাড়বে। সামনের দিনে রাজস্ব আদায় যতটুকু বাড়বে, তা তো নতুন কোনো খাত বা অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। তখন নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হবে না ধরে নেওয়া যায়। এতে সরকারি চাকরিজীবীরা ক্ষুব্ধ হবে।
তিন খাতেই নতুন ঋণ লাখকোটি টাকা
রাজস্ব আদায় কাক্সিক্ষত না হওয়ায় আওয়ামী লীগের ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্র্তী সরকারও শেষ দিকে এসে ঋণ নিতে হয়। এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের সাত মাসে রাজস্ব আদায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতির ৬০ হাজার কোটি টাকার পুরোটাই ঋণ করতে হয়েছে ব্যাংক খাত থেকে। অন্যদিকে টাকার সংকটে এডিপি বাস্তবায়নের হার কমে হয় ২০ শতাংশ।
বর্তমানে এডিপির আকার ও আমলাদের বেতন ভাতা পরিশোধে কর-জিডিপি আদায় হওয়া উচিত ১৫ শতাংশ, সেখানে হচ্ছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। চার মাসে ৫০ হাজার পরিবারকে ৩৯ কোটি টাকা খরচ হবে। এই বর্ধিত টাকার পুরোটাই সরকারকে ঋণ করতে হবে বর্তমান রাজস্ব চিত্রে।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে উপকারভোগীর সংখ্যা ২ কোটিতে উন্নীত করা হবে। শুধু প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে দিতে সরকারকে প্রতি বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এর বাইরে টাকা বিতরণ, ব্যক্তি বাছাই ও পরিচালন ব্যয় রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িতদের ব্যয় ধরলে তাতে আরো খরচ যোগ হবে।
এছাড়া কৃষি কার্ডের পেছনে প্রথম পর্যায়ে শুধু ৯ জেলায় খরচ হবে ১০৮ কোটি টাকা। সারা দেশে বাস্তবায়িত হলে তাতে খরচ দাঁড়াতে পারে ৭৫৬ কোটি টাকার ওপরে। এর সঙ্গে সারা দেশে খাল খননের কাজে সরকারের ব্যয়ের পরিমাণ কতো হবে তা এখনো ঠিক করতে পারেনি সরকার। শুধু এই দুই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতি বছরে সরকারের অতিরিক্ত ৬৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। সেই পরিমাণ যোগ করলে খরচের পরিমাণ লাখো কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে, যা এডিপির অর্ধেক। বিশাল এই অর্থের জোগান করবে কীভাবে, তার কোনো পরিকল্পনা জানায়নি সরকার।
নতুন করে এ অর্থের সংস্থান করতে ব্যাংকমুখীই হতে হবে সরকারকে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যদি সরকার এই টাকার ঋণ না নেয়, তাহলে এডিপি থেকে কাটছাঁট করতে হবে। তাতে উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমে যাবে। এতে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে যাবে।
বিদেশি ঋণের সুযোগ কম
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থ ব্যবস্থার মূলনীতিই হচ্ছে তুলনামূলক কম সুদে ঋণ করে টাকার চাহিদা মেটানো। এতে সুদ ব্যয় কমে যায়। সুদ ব্যয় বেড়ে গেলে অর্থনীতির শৃঙ্খলা ভেঙে যাবে। সেই নীতিতে চললে, আগে সরকারকে নতুন কর অর্থের সংস্থান করতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এক অধ্যাপক বলেন, এই বাহুল্য ব্যয় মেটাতে সরকারের আয় বাড়ানোর উপায় হলো দুটি-রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও দেশি-বিদেশি ঋণ করা। চাইলেই হুট করে রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ খুব একটা নেই। সরকার চাইলে করহার বাড়াতে পারে। এতে যে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে- করদাতার বিক্ষুব্ধ হবেন তার ধকল নতুন সরকার নিতে চাইবে না।
এভাবে প্রথম সুযোগটি সরকারের কাছে আপাতত নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন দ্বিতীয় উপায়ে সরকারকে যেতে হবে বাধ্য হয়ে। সেটি হলো ব্যাংক ঋণ। সহজলভ্য ও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসবে না কোথাও থেকে। সেটিই সরকার করবে। তাতে বেসরকারি খাত সংকুচিত হয়ে যাবে। ব্যাংকগুলো সরকারকে ঋণ দেবে কারণ সরকার খেলাপি হবে না। নানা কৌশলে বেসরকারি খাতকে ঋণ দিতে নিরুৎসাহিত হবে।
এর মধ্যেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালীরা ব্যাংকের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ঋণ নেবে। যেমনটি তারা করে থাকে। এতেও উদ্যোক্তাদের কাছে একটি বার্তা যাবে যে, শুধু চাইলেই ব্যাংক ঋণ পাওয়া যায় না। শক্তি থাকা লাগে। তা হলো তো ব্যাংক খাতে সুশাসনের যে আলোচনা চলছে, তা বাধাগ্রস্ত হবে। ব্যাংকের ওপর প্রভাব তৈরিকারী নতুন গোষ্ঠীর আবির্ভাব হবে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক।
দেশের অর্থনীতিতে যে অলিগার্ক তৈরি হয়েছিল, তারা এখন জুলাই অভ্যুত্থানের পর পালাতক। এতদিন তারাই ব্যাংক ঋণসহ পুরো অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক ছিল। নিজেদের স্বার্থেই পুরো অর্থনীতিকে ব্যবহার করেছে। হঠাৎ তারা উধাও হওয়ায় বড় ঋণপ্রবাহ কমে গেছে। চাহিদাও না থাকায় বেসরকারি খাতে এখন অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে অনেক ব্যাংকের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বতর্মানে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে রয়েছে। এটি গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিদেশি কোনো সংস্থা সরকারের এই খাতে ঋণ দিতে চাইবে না জানিয়ে এক অর্থনীতিবিদ বলেন, দারিদ্র্যবিমোচন ও কর্মসংস্থানের টেকসই খাতে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ঋণ দেয়। সাহায্য কোনো টেকসই সমাধান না। উৎপাদনে এর কোনো ভূমিকা নেই। দুর্ভিক্ষ বা মন্দার সময়ে সাহয্য যেটা আসে তা পুরোটাই ফ্রি। এখানে তো সেরকম পরিস্থিতি নেই। তাই সরকার ব্যাংক ঋণের দিকেই যাবে।
দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যাংকের এক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এখন নীতি সুদহার ১০ শতাংশ। বাণিজ্যিক ঋণ ১৪ শতাংশের ঘরে। সরকার ঋণ নিলে সুদহার আরো বেড়ে যাবে। সবাই সরকারকেই ঋণ দিতে চাইবে। কারণ হচ্ছে সরকারের ঋণ নিরাপদ। কেনো খেলাপি হয় না। ব্যবসায়ীরা ঋণ নিতে আসলে ব্যাংক বেশি সুদ দাবি করবে। কারণ তার তো টাকা খাটানোর জায়গা আছে। এখন যে বেশি দিবে তাকেই ঋণ দেবে। এতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। তাতে ব্যবসার খরচ বেড়ে যাবে। এখন তো ব্যবসায়ীরা সুদহার কমানোর দাবি করছেন। তা আর হবে না।
সরকারি ঋণ বেড়ে গেলে ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নিতে শুরু করবে বলে মনে করেন পুঁজিবাজারের এক বিশ্লেষক। তিনি বলেন, সরকারি ঋণ নিরাপদ হওয়ায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে এনে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করবে। বছর শেষে যেখানে নিশ্চিত আয় ব্যাংক তো সেখানেই যাবে। তাতে তারল্য সংকট দেখা দেবে পুঁজিবাজারে।
বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে চলমান পুরনো সমস্যার মধ্যে নতুন চাপ যুক্ত হবে। দেশিয় উৎস থেকে ঋণ না নিলে সরকারকে বিদেশি উৎস থেকে বাজেট সহায়তার অংশ হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নিতে হবে। তাতে বিদেশি ঋণের পরিমাণ আরো বেড়ে গিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য আরো ঝুঁকিতে পড়বে। তখন মূল্যস্ফীতি আরো বেড়ে যাবে। রিজার্ভ কমে গিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতিকে চরম পর্যায়ের ঝুঁকিতে ফেলবে। ভঙ্গুর অর্থনীতিতে আগে টেনে তুলে মূলধারায় নিয়ে আসার পর সামাজিক কর্মসূচি খাতে ব্যয় বাড়াতে পারতো সরকার। বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে রাজস্ব আদায় বেড়ে যেত। সেখান থেকে অর্থের জোগান আসতো। অন্যথায় বিদ্যমান সামাজিক প্রকল্প কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওয়াতা বাড়িয়ে নিতে পারতো সরকার। এটি করলে এডিপির খরচ সামান্য বাড়িয়ে একসঙ্গে দুটি কাজ করতে পারতো সরকার। প্রান্তিক মানুষ সরকারের উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত হতে পারতো, আবার সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়ে যেত। কিন্তু সেটি না করায় লাখ কোটি টাকার নতুন ঋণের জাঁতাকলে পড়তে পারে ঝুঁকিতে থাকা অর্থনীতি।