সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

আমরা দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করব


১২ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৩

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা চাই জাতীয় সংসদ দেশ ও জনগণের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা পালন করুক। ইতোমধ্যেই আমরা ঘোষণা করেছিÑ আমরা দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করব। সব ব্যাপারে বিরোধিতা নয়, আবার না বুঝেও কোনো সহযোগিতা নয়। দেশ ও জাতির কল্যাণে সরকারি দলের গৃহীত সব সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে আমাদের সমর্থন থাকবে, সহযোগিতা থাকবে। কিন্তু দেশ ও জাতির ক্ষতি হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নিলে আমাদের দায়িত্ব সেভাবেই পালন করবÑ প্রথমে আমরা ভুল ধরিয়ে দেব, সংশোধনের সুযোগ দেব, পরামর্শ দেব। যদি দেখি পরামর্শে কাজ হচ্ছে না, প্রতিবাদ করব। প্রতিবাদে যদি কাজ না হয়, তাহলে জনগণের পক্ষে আমরা শক্ত হয়ে দাঁড়াব।
জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম ব্লকের ৯ম তলায় বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিরোধীদলীয় সংসদীয় দলের সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এমপি, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এবং জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসের নবনির্বাচিত সংস সদস্যরা।
প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি প্রমুখ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে অর্ডিন্যান্সের কারণ এ নির্বাচন। একই অর্ডিন্যান্স বলেছে, দুটি নির্বাচন একই দিন হবে। একটা সংস্কার বিষয়ে জনগণের মতামত গণভোট। আরেকটা সংসদ নির্বাচন হয়েছে। ফলাফল যেটা হয়েছে, সেটা আপনারা দেখেছেন। আমরা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এ ফলাফল মেনে নিয়েছি। দুটি ফলাফলই মেনে নিয়েছি। একটি থেকে আরেকটিকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। একটি আরেকটির সম্পূরক। বরং প্রথম ফাংশন শুরু হবে এ নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। এ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তারাই আবার সংসদ সদস্য হিসেবে ফাংশন করবেন। এজন্যই ঐতিহাসিক এ অর্ডিন্যান্সকে সম্মান করে আমরা প্রথম দিনই দুটি শপথ নিয়েছি। প্রথম শপথ হয়েছে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বিতীয় শপথ হয়েছে সংসদ সদস্য হিসেবে। আমরা দুটি শপথ নিয়েছি, দুই জায়গায়ই স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত সরকারি দল প্রথম শপথটিই নেয়নি। তিনি আরো বলেন, আমরা আশা করি, সরকার জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা ধারণ করে সরকার তার কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
ডেপুটি স্পিকার-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সরকারি দল তাদের সাথে কথা বলেছে, যোগাযোগ করছে। এজন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে বলেন, আমরা চাই জুলাই সনদ পুরোটা বাস্তবায়ন হোক। তার আলোকে বিরোধীদলের যতটুকু পাওনা, আমরা ততটুকুই চাই- এর বেশি চাই না।
সাংবাদিকদের সাথে কথা প্রসঙ্গে জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, স্বৈরাচারের দোসর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংসদে ভাষণ দেওয়ার অধিকার নেই। গত ১১ মার্চ বুধবার দুপুরে সংসদের বিরোধীদলের এমপিদের নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি কেন তাকে দিয়ে সংসদে ভাষণ দেয়াচ্ছে, সেটা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি; আগামীকাল (১২ মার্চ) আপনারা জানতে পারবেন। সংসদে ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে তিনি বলেন, অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে বিরোধীদলের একটি আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাব আসার পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির সংসদ সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। আসন্ন সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলের নোটিশ, মুলতবি প্রস্তাব ও সাধারণ আলোচনার বিষয়বস্তু কী হবে, তা নিয়েও বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।