ইসলামী জোট ভোটের চেক ক্যাশ করতে পারেনি
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৩
॥ মাহবুবুল হক ॥
আলহামদুলিল্লাহ। বহু আশান্বিত ও প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন স্বপ্নের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গত ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার।
এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের এসপিকুলেশন তথা শঙ্কা থাকলেও খুব বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা মহান আল্লাহর রহমতে সংঘটিত হয়নি। নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক নানা কারণে কিছু হতভাগ্য মানুষ হতাহত হলেও ঠিক নির্বাচনের পূর্বে বা পরে কেউ নিহত হয়নি। অবশ্য অনেকে আহত হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ বা নিকৃষ্ট যে দিকটি দিনের আলোর মতো প্রস্ফুটিত হয়েছে, তা হলো সংখ্যাহীন নারীর শরীরে নির্মমভাবে আঘাত করা। আমাদের জাতির জীবনে এ ধরনের ঘটনা সত্যি বিরল। নারীরা মায়ের জাতি, এভাবেই তারা সবসময় সম্মানিত হতো। এবার দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই আগলটি ভেঙে পড়েছে। মধ্যবয়সী মহিলা রাজনৈতিক কর্মীর গায়ে হাত তুলতে একজন ২০-২২ বছরের তরুণ রাজনৈতিক কর্মীর বাধেনি। ভবিষ্যতের জন্য এটা একটা অশনিসংকেত। যারা আহত হয়েছে, তাদের মধ্যে কিছু পুরুষ ও নারী কর্মী এখনো প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে প্রাণবন্ত ভাষণ দেওয়ার সময় বলেছেন, নির্বাচনের দিন নতুন স্বাধীনতার জন্মদিন হিসেবে সারা দিন আনন্দ-উৎসব করুন। শঙ্কাহীনভাবে যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবেন। তবে গণভোটের ব্যাপারে অবশ্যই হ্যাঁতে ভোট দেবেন, যাতে গণতন্ত্রের পথে সাবলীলভাবে চলার জন্য কোনো অসুবিধা না হয়। সেদিন তিনি খুব উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে দারুণ দারুণ কথা বলেছেন; যা দেশবাসী খুব আনন্দের সাথে গ্রহণ করেছে। যার প্রতিফলন আমরা নির্বাচনের দিন খুশি মনে উপলব্ধি করেছি।
তবে নির্বাচনের কর্মকাণ্ড উদ্বোধনের দিন তিনি যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে এ ভাষণের সাজুয্য বেশ কম ছিল। কারণ তখন তিনি বলেছিলেন, আমরা বিশ্ববাসীর সামনে এমন একটি নির্বাচন উপহার দেব, যা বহুদিনের জন্য মডেল হয়ে থাকবে। বলেছেন, আমরা অবশ্যই এবার ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল ইলেকশন দেব। বিশ্ববাসী আমাদের প্রশংসা না করে পারবেনা।
মাঝামাঝি সময়ে তিনি আরো একটি ভাষণ দিয়েছিলেন। সে ভাষণে তাঁর প্রথম দিককার সুরটা তেমনভাবে মজবুত ছিল না। তাললয় ঘটেছিল। বলেছিলেন, অবশ্যই নির্ধারিত সময়ে যথাযথভাবে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই ভাষণে শব্দের ঝংকার ছিল না। ছিল এক ধরনের দৃঢ়তা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে একজন বিশ্বমানের বাগ্মী, সেটা দেশবাসীর জানা ছিল না। নির্বাচন সংক্রান্ত তাঁর তিনটি ভাষণ দেশবাসী শুনতে পেরে নির্বাচন সম্পর্কে যে আস্থা অর্জন করেছিল, তা কিন্তু আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।
সরকারি ছুটিকে প্রলম্বিত করা হলো। যাতে সাধারণ মানুষ বিনা উপদ্রবে ও কষ্টে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভোট দিয়ে সাবলীলভাবে আবার দেশের শহর-বন্দর-নগরে ফিরে এসে কর্মে যোগ দিতে পারে।
আমাদের দুটি ঈদের সময় মানুষ যেভাবে ট্রেনের ছাদে করে মহা আনন্দের সাথে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে যায়, এবার নির্বাচনের সময় সেই একই দৃশ্য আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।
বেশকিছু অভিযোগ, অনিয়ম, ধাক্কাধাক্কি, বিশৃঙ্খলা, হাতাহাতি মারামারিসহ প্রশাসন ও পুলিশের নিষ্পৃহতাসহ যা কিছু ঘটেছে, প্রথমদিকে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলো সেসব বিষয়ে তাদের নির্বাচন শেষের বক্তব্যগুলোয় সেসব উল্লেখ না করেই দলভিত্তিক যেসব কথা বলেছেন, তার মধ্যে একটা ঐক্যের সুর আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা অনুধাবন করেছি, ডিপ স্টেটকে আমরা এখন খুব ভয় করছি। আমাদের নিজেদের দুর্বলতাগুলো যদি আমরা প্রকাশ করি, তাহলে হয়তো হিতে বিপরীত হয়ে যাবার আশঙ্কা আছে। সংশ্লিষ্ট সকল মহলের মধ্যে একটা ধৈর্য ও সহনশীলতার আবহাওয়া আমরা প্রত্যক্ষ করেছি নির্বাচনের দিনে এবং সন্ধ্যারাতে ।
কিন্তু রাত যখন বাড়তে লাগলো, নির্বাচন কমিশনের সাথে সংশ্লিষ্ট অফিসার ও কর্মচারীদের গড়িমসি, শ্লথতা এবং ঢিমেতালে অবস্থা দেখে সবাই বুঝে নিল ‘ডাল মে কুচ কালা হো গিয়া হ্যায়।’
দেখা গেল, ভোট চুরি এবার কম হলেও যথেচ্ছভাবে ভোটগণনা চুরি হয়েছে। যার ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বাঘা বাঘা প্রার্থীরা ভোটযুদ্ধে অকারণে জয়লাভ না করে পরাজিত হয়েছে।
গণনার বিষয়টি এখন সমগ্র মহল থেকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হতে নানা দিকে প্রসারিত হচ্ছে। এখন সেই পূর্বের মতো তিল থেকে তাল বা তাল থেকে তিল না হলেও বেশ বড় বড় অভিযোগ উঠছে ।
এখন পুনর্নির্বাচন ও পুনর্গণনার দাবি উঠছে, আংশিক পুনর্নির্বাচন ও পুনর্গণনার দাবি উঠছে।
অন্যদিকে অসহনশীলতা ও অধৈর্যের বিষয়গুলোও প্রশস্ত হচ্ছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নারী নির্যাতনও পূর্বের মতো শুরু হয়ে গেছে।
সমস্যা আছে। সমস্যার সমাধানও আছে। পুনর্নির্বাচন ও পুনর্গণনা তো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যেটা সম্ভব, সেটা হলো আংশিক পুনর্গণনা। এ পথে অগ্রসর হওয়া ছাড়া অন্য কোনো গত্যন্তর আছে কিনা, সেটাই এখন সংশ্লিষ্ট মহল গভীরভাবে বিবেচনা করছেন।
আশা করা যায়, এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহল ত্বরিৎ বেগে মনোযোগী হবেন।
আয়তনে ছোট হলেও বাংলাদেশ বেশ বড় দেশ। যে দেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটি বলে আমরা জানি। এই ১৮ কোটির মধ্যে প্রায় ১৩ কোটি মানুষ ভোটার। অর্থাৎ তাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এই ১৩ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৫০ ভাগ হলো নারী। যে নারীদের অধিকাংশই হলেন তথাকথিত অনগ্রসর। তাদের শিক্ষা দীক্ষা যাই থাকুক, তাদের মধ্যে রয়েছে দুই ধরনের শ্রেণি বিভাগ। এক বিভাগে আছেন শিক্ষার্থী, অপর বিভাগে আছেন কর্মজীবী। সরাসরি যারা শিক্ষার্থী, তাদের মধ্যে একটি অংশ আছে যারা বিবাহিতা। যারা সরাসরি কর্মজীবী, তাদের মধ্যেও কিছু অংশ রয়েছে শিক্ষার্থী। কর্মজীবীদের মধ্যে তাদের কেউ আমরা অন্তর্ভুক্ত করেছি যারা গৃহে অবস্থান করে সংসারের দেখভাল করেন। সরকারিভাবে তাদের কর্মজীবী ধরা না হলেও অতি শিগগির যে হবে, তাতে সন্দেহ নেই। কারণ যারা গৃহে অবস্থান করে, তারা সংসার নির্বাহ করেও সংসারের নিত্যদিনের অভাব দূর করার জন্য কিছু কাজ-কর্ম করে থাকেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতি বছর এ ধরনের মহিলাদের কাছ থেকে আয়কর ধার্য করে আদায় করার প্রয়াসও পাচ্ছে।
বর্তমান সময়ে কোনো দেশের মানুষ শুধু নিজ দেশে অবস্থান করে না। কর্মব্যাপ দেশে তারা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন। আমাদের দেশের প্রায় দেড় কোটি মানুষ দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে নিজেদের সংসারসহ দেশ বা রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে অর্থনৈতিকভাবে অবদান রেখে আসছে। এ ধরনের লোকদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। তাদের মধ্যে প্রায় ৮০ লাখ লোক আবার ভোটার। সবকিছু মিলিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, নির্বাচনের প্রার্থী, ভোটার, তাদের বন্ধ-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনসহ দেশের প্রায় ১৫ কোটি লোক গত প্রায় দুই মাস ধরে দারুণভাবে ব্যস্ত ছিলেন।
বলতে বা লিখতে আনন্দ লাগছে যে, আমাদের দেশের শিক্ষিত ও অশিক্ষিত সকল শ্রেণির পূর্ণ বয়স্ক মানুষ রাজনৈতিকভাবে খুব সচেতন। অভাবের কারণে যে মানুষটি গ্রাম থেকে শহরে ভিক্ষাবৃত্তির জীবন অতিবাহিত করে, সেও কিন্তু জীবন ও জগতের অন্য বিষয়গুলোয় অদক্ষ হলেও রাজনৈতিক বিষয়ে দারুণভাবে দক্ষ বলে পরিচিত।
যে বিষয়টি উল্লেখ করার জন্য উপরোক্ত তথ্যগুলো দিয়েছি, তা হলো নির্বাচনের বিষয়টি যে এত বড় ও বিশাল, তা বোধ হয় আমরা সঠিকভাবে এখনো অনুধাবন করতে পারছি না। এবারের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা গেল গোটা বিষয়টিকে বিভাগীয়ভাবে বিভক্ত না করা হলেও অন্তত গোটা দেশের নির্বাচন দু’ভাগে বিভক্ত করার প্রয়োজন পড়তে পারে। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান একবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ৮ দিনে ৮ বিভাগে নির্বাচন সম্পন্ন করতে। বিষয়টির তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। ফলে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা বা চিন্তাভাবনা করা হয়নি। আমাদের দেশে একটা খারাপ বিষয় হলো কোনো কারণে যদি মতান্তর হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আমরা সন্দেহ করি। সেই ব্যক্তিটি যদি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হয় তাকে আমরা এড়িয়ে চলি।
নির্বাচনের বিষয়ে বর্তমানে যে সাম্প্রতিক ব্যবস্থা রয়েছে, তা আমাদের কাছে অপ্রতুল মনে হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার ছিলেন মাত্র ৪ জন। মনিটরিং করার জন্য ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এ সংখ্যাটি নিশ্চয়ই কম। যদি এককেন্দ্রিক ব্যবস্থাই বিরাজমান রাখতে হয়, তাহলে এর যাবতীয় ব্যবস্থা রূপায়নের জন্য দ্বিগুণ জনশক্তি অবশ্যই প্রয়োজন হবে। সবসময় নতুন নতুন বিষয় সামনে আসবে। সেসব বিষয়ে প্রত্যক্ষভাবে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য ট্রাভেল করতে হবে। সেজন্য বাজেট পরিকল্পনা ইত্যাদি আরো অনেক বাড়াতে হবে। মনে হয় এবারের নির্বাচন কমিশনের সদস্যগণ কাজের চাপে বা সময়ের অভাবে খুব স্বল্প আকারে ট্যুর ট্রাভেল করেছেন।
প্রবাসের বিষয়টি দারুণভাবে প্রণিধানযোগ্য। সত্যিকার অর্থে এ বিষয়ের ওপরে আরো অনেক নজর দিতে হতো। এবার সংক্ষিপ্ত সময়ে। সংক্ষিপ্ত আয়োজনে প্রবাসিরা যে অবদান রেখেছেন, তা মোটেই ক্ষুদ্র নয়। বিদেশে চাকরি করে সময় বের করা কঠিন কাজ। তাও তারা এতটুকু করতে পেরেছেন সে কারণে নির্বাচন কমিশন অথবা সরকারের পক্ষ থেকে তাদের অবশ্যই কোনো না কোনো পুরস্কার প্রদান করা সমীচীন হবে বলে মনে করি।
এবার যে সংখ্যার ভোট এসেছে, তার চেয়ে অন্তত ১৫ গুণ প্রবাসী ভোট সংগ্রহ করা কঠিন হবে বলে মনে হয় না। যেসব দেশে ভোট গ্রহণে কোনো অসুবিধা নেই, সেসব দেশে দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশে বাধা রয়েছে এ ধরনের প্রি-কনসিভ আইডিয়া মাথায় চেপে থাকলে অগ্রসর হওয়া যাবে না। অগ্রসর হতে হলে দিনরাত ওয়েআউট খুঁজতে হবে। এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশ রক্ষণশীল নয়। কিন্তু তাদের সরকারের সাথে কথা বলার জন্য টপব্রাস পারসনের দরকার। কখনো কখনো দেখা যায় যে, আমাদের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সব সরকারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকে না। সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এবারের ভোটের ব্যাপারে কিছু কথা বলা দরকার। যেমন এনআইডি কার্ড চেক করা হয়নি। যেটা চেক করা উচিত ছিল। সামনের দিকে বিষয়টির প্রতি শক্ত মনোযোগ দিতে হবে।
ভোটের যে স্লিপটি মেমোর মতো দেয়া হয়, তার মুড়িতে পুনর্গণনার সময় চেক করতে হবে যে, বুড়ো আঙুলের ছাপ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা। অতীতে এমন ঘটনাও আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যে, একই আঙুলের ছাপ মুড়িতে পাওয়া গিয়েছে। এবারেও যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি, তা কি হলফ করে বলা যায়? গণনার সময় গণনাকারীরা স্লিপের মুড়ি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন না। ফলে জাল ভোট না হলেও জাল গণনার আশঙ্কা অনেক বেশি রয়েছে।
ভোটার স্লিপে পূর্ব থেকেই সিল দেয়া হয়েছে কিনা, সেটা ভোটারকে অবশ্যই দেখতে হবে। অর্থাৎ স্লিপে সিল ভোটারের সামনেই দিতে হবে। এক্ষেত্রে বলা যায়, শুধু অফিসার বা কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দিলে হবে না ভোটার ও পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এবার বিভিন্ন কেন্দ্রে পূর্ব থেকেই স্লিপে অতিরিক্ত পোলিং সিল দেয়া ছিল, যা জাল ভোট হওয়ার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
পোলিং এজেন্টরা অনেক সময় বিষয়টিকে অবহেলার চোখে দেখেন। অনেক সময় দেখা যায়, পোলিং এজেন্ট কেন্দ্রে অবস্থান করেন না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভোট গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যা কিনা ভেবে দেখতে হবে। যেসব প্রার্থী সঠিক পোলিং এজেন্ট দিতে অসমর্থ হওয়ার আশঙ্কা আছে, তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা দরকার। দেখা যায়, এ ধরনের প্রার্থীদের বিষয়ে নানা ধরনের ঝামেলার সৃষ্টি হয়।
কোনো কোনো সময় বাইরে লম্বা লাইন কিন্তু ভেতরে কোনো কার্যক্রম নেই। বাইরে যারা দাঁড়িয়ে থাকেন, তারা দুই ধরনের ভোটার হতে পারে। একটি হলো- এরা সংঘবদ্ধ দল, যারা সরল ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে চায়। লাইনে দাঁড়িয়ে কিছু কিছু ভোটার অস্থির হয়ে পড়ে তারা সময়ক্ষেপণ হচ্ছে দেখে শারীরিক-মানসিক কারণে ভোট প্রদান না করে চলে যায়। এ কাজগুলো যারা করে, তারা অত্যন্ত অভিজ্ঞ। বড় বড় দলগুলো এসব দুষ্কৃতকারীকে নিয়োগ করে থাকে। এ ধরনের খুঁটিনাটি অনেক বিষয় আছে, যেগুলো অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সবার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আমরা বিদেশের মতো অটোমেশনে চলে যেতে পারি। ইভিএমের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য উপযুক্ত হলে তাও পুনরায় পরখ করা যেতে পারে।
নির্বাচন কমিশনকে সবসময় অনুসন্ধানী ও কৌতূহলপ্রবণ হতে হবে। কোথায় কীভাবে কম খরচে, কমসময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়ে একনিষ্ঠভাবে উদগ্রীব থাকতে হবে।
মূল বিষয় হলো জাতীয় মনন। যে জাতি দুর্নীতিপ্রবণ অথবা যে জাতি সুনীতি বলতে কিছু বোঝে না, সেই জাতিকে সুনীতিপ্রবণ প্রার্থী উপহার দেয়া যাবে না। আমরা কথায় কথায় ফ্রি, ফেয়ার ও ক্রেডিবলসহ নানা সুন্দর সুন্দর কথা বলি। কিন্তু বাস্তবে আমাদের সাধারণ মানুষ কি ক্লিন, ক্লিয়ার ও ক্রিস্টাল নেচারের মানুষ? সত্যি কথা বলতে, গত ৫৪ বছরে অন্তত একজন মানুষ বোধ, বিশ্বাস, ঐতিহ্য-ধর্ম, জাতিসত্তা ও আত্মপরিচয় বিষয়ে সে অন্তত ৫৪ রকম হয়ে গেছে। সে ৫৪ বছর আগে ৫৪ রকম ছিল না। খুব বেশি হলে দু’রকম ছিল। কিছুটা সৎ, কিছুটা অসৎ। কিছুটা ভালো এবং কিছুটা মন্দ। কিছুটা দুনিয়াবী এবং কিছুটা আখিরাতি। এই সহজ, সরল, সাবলীল মানুষগুলো বা তাদের সন্তান-সন্ততিগুলো নানারকম হয়ে গেছে। যে ভোট দেবে আর যে ভোট গ্রহণ করবে দুজনই তো একই পথের পথিক। কে কার দোষ ধরবে। সবারই দরকার যেকোনোভাবে ধন-সম্পত্তির মালিক হওয়া। এ ধরনের একটা পরিস্থিতিতে ইসলামী জোটকে এবার এদেশের ভোটাররা এক নতুন আশায় ও উদ্দীপনায় প্রজন্মের কল্যাণের কথা ভেবে অচিন্তনীয় ও অভাবনীয়ভাবে ভোটের উপঢৌকন প্রদান করেছে। কিন্তু সেই ভোটের চেক ইসলামী জোট ক্যাশ করতে পারেনি। দোষ কার, সেটা ভাবার আগে অবশ্যই নিজেদের দোষ-ত্রুটিগুলোর খতিয়ান নিতে হবে। তবুও বিশ্বাস করতে হবে, যারা সুনীতির মধ্যে থাকবে, তারাই একদিন বিজয় লাভ করবে, ইনশাআল্লাহ।