ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন জামায়াতে ইসলামীর ১৬২ আসন জয়যোগ্য
সোনার বাংলা অনলাইন
২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৪
২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৪
বাংলাদেশের আসন্ন ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামির ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক তৎপরতা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা ভারতের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম মানি কন্ট্রোল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জামায়াত এবার দেশজুড়ে ছড়ানো উপস্থিতির পরিবর্তে নির্দিষ্ট ১৬২টি সংসদীয় আসনে জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে একটি সুপরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক কৌশল বাস্তবায়ন করছে। মানি কন্ট্রোলের প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াতের নীতিনির্ধারক মহল ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনের ফলাফল, সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ জরিপ এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে তাদের নির্বাচনী লক্ষ্য পুনর্নির্ধারণ করেছে। এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই দলটি ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬২টি আসনকে ‘বাস্তবসম্মত ও জয়যোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বাকি আসনগুলোতে সাংগঠনিক ও আর্থিক বিনিয়োগ সীমিত রাখা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামায়াতের এই কৌশলের পেছনে অন্যতম প্রধান শক্তি হলো তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা। দলটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত আসনগুলোর প্রতিটিতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী কার্যক্রমেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মানি কন্ট্রোল জানায়, শহরাঞ্চল, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায়, জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয়। নারী ও ছাত্র সংগঠনগুলো মাঠপর্যায়ে ভোটার জরিপ, উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনের দিন সংগঠিত অংশগ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছে। প্রবাসী ভোটারদের ডাকযোগে ভোটে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও দলটির কৌশলের অংশ বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই সম্ভাব্য উত্থান ভারতের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ। বাংলাদেশে জামায়াত-প্রভাবিত বা জামায়াত-নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলে তার প্রভাব ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় পড়তে পারে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। ঢিলেঢালা সীমান্ত ব্যবস্থা, অতীতের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং সীমান্তপারের চলাচল পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, মালদা ও নদিয়ার মতো জেলাগুলোকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতির প্রভাব আসাম ও ত্রিপুরা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ভারতীয় গোয়েন্দা মহলের ধারণার কথা উল্লেখ করা হয়। এদিকে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই পরিস্থিতি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিরোধী রাজনৈতিক জোটের ভেতরের বিভাজন এবং নির্বাচনী কৌশলে ঐক্যের অভাব জামায়াতের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মানি কন্ট্রোলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।